কোষ্ঠকাঠিন্য ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বন্ধুরা আজকে আপনারা এই পোস্টটির মাধ্যমে জানতে পারবেন কোষ্ঠকাঠিন্য ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। আপনারা যারা ইসবগুলের ভুসি রাতে খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানেন না তারা অবশ্যই আমাদের এই পোস্টটি পড়ে জেনে নিবেন।
কোষ্ঠকাঠিন্য ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম
প্রিয় বন্ধুরা শরীর ও মন সুস্থ রাখার জন্য আপনারা সকলে ইসবগুলের ভুষি খেয়ে থাকেন আপনারা যারা ইসবগুলের ভুষি কখন কিভাবে খেলে কোন রোগের কাজে আসে সেই সকল নিয়ম সম্পর্কে জানেন না আপনারা অবশ্যই এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। তো চলুন বন্ধুরা আমরা এই পোস্টটি পুরোপুরি পড়ার মাধ্যমে জেনে নেই।

ভূমিকা

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আপনারা সকলেই ভালো ও সুস্থ আছেন। আমাদের আজকের আর্টিকেল ইসবগুলের ভুষি সম্পর্কে। আপনারা অনেকেই ইসবগুলের ভুষির সাথে পরিচিত, আবার অনেকে চিনেন না।আজকে ইসবগুলের ভুষির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করবো যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম।
আরো পড়ুন 
রাতে ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম, খালি পেটে ইসবহুলের ভূষি খাওয়ার নিয়ম, বাচ্চাদের ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করবো।আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন।‘গুল্ম’ জাতীয় গাছকে ইসবগুল বলে। ইসবগুল ‘গুল্ম’ গাছে ছোট ফুল ফুটে , পাপড়ি সূক্ষ হয়।এই ভুষির বীজের খোসা আছে। ইসবগুল গাছের উচ্চতা প্রায় দেড়-দুই ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

এদের ফল দুইকোষ বিশিষ্ট, ৭-৮ মিলিমিটার লম্বা হয় এবং ফলের ভিতরে ৩ মিলিমিটার লম্বা বীজ থাকে। বীজ দেখতে অনেকটা নৌকার মতো এবং এর খোসায় পিচ্ছিল হয়ে থাকে । ইসবগুল এটা এক ধরনের রবিশস্য ।এটি হেমন্তকালে বীজ বপন করে চাষ করে থাকে ।এবং ইসবগুল চৈত্র মাসে ফসল তোলা হয়। ইসবগুলকে উপমহাদেশের প্রায় সবাই পরিচিত। 

ইসবগুলের নানাবিধ উপকারিতা সম্পর্কেও আমরা ওয়াকিবহাল। ইসবগুলের নামের সাথে ‘গুল’ আছে বলে অনেকে ভাবে, হয়তো কোনো ক্ষুদ্র ফুলের সূক্ষ্ম পাপড়ি হবে, বাস্তবে এর সম্পর্ক ফুলের সঙ্গে নয়, বীজের সঙ্গে জরজরিত। বলতে গেলে বীজের খোসার সঙ্গে, যাকে আমরা ইসবগুলের ভুষি বলে থাকি।বিদেশি বাজারে এটা সিলিয়াম হাস্ক নামে পরিচিত। 

 গ্রীক ‘সিলা’ অর্থ হলো এক ধরনের মাছি,বা ডানাহীন ফ্লি-মাছি। ইসবগুলের বীজ দেখতে আকারে অবয়বে অনেকটা ফ্লি-মাছির মতো হয় বলে মত দেখতে বলে অনেকে জানিয়েছেন এবং সেই জন্য ইংরেজিতে নাম রাখা হয়েছে। এই শব্দটা ছাড়ছে শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ ঘোরার কান। এই ভুসির খোসাগুলো সাধারণ চোখে খুব ছোট ছোট দেখায়।

এবং আপনি যখন এটা কাছে নিয়ে দেখবেন বা আতস কাঁচ নিয়ে দেখবেন তখন দেখবেন এগুলা ঘোড়ার কানের মত দেখতে। ।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জানলেন ইসবগুল সম্পর্কে। আশা করি আপনারা ধারনা পেয়েছেন।আরো জানতে আমাদের পরবর্তী পাঠে আলোচনা পড়ুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা ইতিমধ্যে ইসবগুল সম্পর্কে জেনেছেন।এখন আলোচনা করবো কোষ্ঠকাঠিন্য ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন। ইসবগুলের ভুসি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।এটি সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে।প্রতিদিন দিনে দুইবার ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎকরা। 
আরো পড়ুন 
আপনারা যেকোনো দুইবেলা খাবার খাওয়ার পর ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন।দুইবেলা খাওয়া সবচেয়ে উত্তম। ইসবগুলের ভুসি খেয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি অথাৎ ২ লিটার পানি খেতে হবে,না খাওয়ার ফলে গলনালি এবং অন্ত্রের মুখ আটকে যেতে পারে বা পরিপাকতন্ত্রে খাবারের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।ঘুমানোর ঠিক আগে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া উচিত নয়। 

 এতে করে ঘুমের সময় বৃহদান্ত্রের মুখ ভুসি জমে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘অবস্ট্রাকশন’ বলে ধারনা করে।আপনারা জেনে থাকবেন হয়তো কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে পাইলসের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকরা পাইলস রোগীদের সারা বছর ইসবগুলের শরবত খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন । এটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

এটি ৫ থেকে ১০ গ্রাম ইসবগুল এক কাপ হালকা ঠান্ডা বা হালকা গরম পানিতে আধঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে।এরপর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিংবা সকালে খালি পেটে খেয়ে নিলে উপকার পাওয়া যায়।কিন্তু সকালে খালি পেটে এটি খাওয়ার অভ্যাসে আরোও বেশি কার্যকরী হওয়ার সুযোগ পায় শরীরে। যা কয়েকটি রোগের প্রতিরোধী হিসেবে শরীরের রক্ষা করে। 

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জানলেন কোষ্ঠকাঠিন্য ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম। আশা করি াপনারা সঠিক তথ্য পাবেন। আরো জানতে আমাদের পরবর্তী আলোচনা মনোযোগ দিয়ে পরবেন। আশা করি আপনার উপকারে আসবে।

ইসবগুলের ভুসি রাতে খাওয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা অনেকেই যখন তখন ইসবগুল খেয়ে থাকেন। এটা উচিত নয়। ইসবগুল খাওয়ার কিছু নিয়ম ও সময় আছে। এ নিয়ম অনুযায়ী চলতে জবে নয়তো শরীরের ক্ষতি দেখা দেয়। আমরা এখন আলোচনা করবো ইসবগুলের ভুসি রাতে খাওয়ার নিয়ম। আপনারা অনেকেই রাতে ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম জানেন না,তাদের জন্য আমাদের এই আর্টিকেলটি।

আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন।দিনে এক থেকে দুই চা চামচ পর্যন্ত ইসবগুল খেতে পারবেন তবে রাতে খেলে দ্বিগুণ উপকার পাবেন।আপনারা একটি পাত্রে ২৪০ মিলিলিটার পানি, অর্থাৎ এক গ্লাস পানির মধ্যে ইসবহুল খুব ভালো করে এটি মিলিয়ে নিয়ে খেতে পারেন।ইসবগুল একধরনের ডায়েটারি ফাইবার।যার কিছু পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকে , কিছু হয় না।

এটি খেলে অন্ত্রের ভেতরে থাকাকালীন ইসবগুলের ভুসি প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে থাকে। ইসবগুল কোনো কিছুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিষ তৈরি করে না এবং অন্ত্রের দেয়াল পিচ্ছিল করে দেয়।এটা কার্যকারিতার জন্য অন্ত্র থেকে পানি শোষণ করে।তাই আপনারা রাতে দুই চা-চামচ ভুসি, পানি বা দুধে গুলিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই খেয়ে ফেলতে পারেন। 

এটি দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে বাইরে থেকেই পানি শোষণ করে নেবে,ফলে কার্যকারিতাও কমে যাবে।আপনাদের যাদের অতিরিক্ত ওজন, তারা ওজন কমানোর জন্য ২ চামচ ইসবগুল ২৪০ মিলিলিটার পানি ও ১-২ চামচ লেবুর রস দিয়ে মিশিয়ে সকালে বা রাতে খালি পেটে খেতে পারেন। এর ফলে বেশ খানিকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ইসবগুল খাদ্যনালি পরিষ্কার করে ও শরীরে চর্বি কমাতে সহায়তা করে। 

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জানলেন ইসবগুলের ভুসি রাতে খাওয়ার নিয়ম। আশা করি আমাদের নিয়ম অনুযায়ী আপনারা রাতে ইসবগুল খেলে ভালো ফলাফল পাবেন। আশা করি আমাদের আলোচনাটি আপনার ভালো লেগেছে।ইসবগুল ভুষি সম্পর্কে আরো জানতে পরবর্তী পাঠে আলোচনা পড়ুন।

খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয়

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা ইতিমধ্যে ইসবগুল খাওয়ার সম্পর্কে বিভিন্ন দিক আলোচনা করেছি,ইতিমধ্যে আপনারা তা জানতে পেরেছেন।এখন আমরা আলোচনা করবো খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে। আপনারা অনেকেই এ বিষয়ে ধারনা নেই,তারা এ পাঠের মাধ্যমে জেনে নিতে পারবেন।দয়া করে সম্পূর্ণ আলোচনাটি পরবেন।
আরো পড়ুন 
অনেক ব্যায়ামবিদ রোগীর জন্য চিকিৎসকরা খাদ্যতালিকায় এই ইসবগুল ভুষি রাখার পরামর্শ দেন। এটি শুধু ওজন কমানোর জন্যই উপকারি নয়, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে লেবুপানি খেলে মিলবে নানা রোগের উপকার। গবেষনায় জানা গেছে বহু অসুখ দূরে রাখে এই ইসবগুল ।লেবুতে রয়েছে পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান। 

এই উপাদানটি স্থূলতা প্রতিরোধ করে ও অতিরিক্ত ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে থাকে।কিডনি পাথর প্রতিরোধ ও নির্গত করার জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় তাই খালি পেটে লেবুপানি সাথে ইসবগুল ভুষি পান করতে হবে। পাশাপাশি এতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পাথর বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী। 

সাইট্রেট, সাইট্রিক অ্যাসিডের একটি উপাদান, যা প্রস্রাবের অম্লত্ব হ্রাস করে থাকে । এমনকি এই ইসবগুল খেলে ছোট পাথর ভেঙ্গে ফেলতেও সহায়তা করতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে প্রতিদিন সকালে ইসবগুল খাবেন।ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম পানিতে লেবুর রসের সাথে ইসবগুল মিশিয়ে পান করলে পাচনতন্ত্র সতেজ থাকবে।

ইসবগুল আমাশয় রোগের জীবাণু নষ্ট করতে পারে না। তবে আমাশয়ের জীবাণু পেট থেকে বের করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।তাই আপনারা সকালে খালি পেটে ইসবগুল ভুষি খেতে পারেন।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জানলেন খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে। আশা করি আপনারা সঠিক জানতে পেরেছেন।আরো জানতে আমাদের পরবর্তী পাঠের আলোচনা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

বাচ্চাদের ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি উপরিউক্ত আলোচনা আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরছেন।ইতিমধ্যে আমারা ইসবগুল ভুষি সম্পর্কে বিভিন্ন দিক আলোচনা করেছি।আপনারা সেখান থেকে অনেক তথ্য জানতে পেরেছেন।আমরা এখন আলোচনা করবো বাচ্চাদের ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। আপনারা অনেকেই এ বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করে থাকেন।

তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি।চলুন বন্ধুরা শুরু করা যাক। আপনারা জেনে থাকবেন যে,তিনদিন পরপর শিশু শক্ত মলত্যাগ করলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়।অনেক শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য হলে তাদের পেটে ব্যথা হয়, পেট মোচড়ায় ফলে শিশু কান্নাকাটি করে, মলত্যাগে কষ্ট বোধ করায় মলত্যাগ করতে চায় না সেসব বাচ্চার জন্য ইসবগুল খাওয়ার পরামর্শ দেন। 

হাইপোথাইরয়ডিজম, সেরেব্রাল পালসি এ ধরনের অসুখ থেকে থাকলেও কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাদের জন্য চিকিৎসকরা ইসবগুল ভুষি খাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রথমত ৬ মাস অবধি শিশুকে মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার দেওয়া যাবে না।এবং শিশুর মলত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা যাবে না বা বকাঝকা করা যাবে না। এতে ভীত হয়ে শিশু পায়খানা চেপে রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়বে।

আঁশযুক্ত খাবার শিশুকে দিতে হবে। যেমন শাকসবজি, ফল ইত্যাদি।একটু বেশি বয়সের শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে সাবুদানা, ইসবগুলের ভুসি ইত্যাদি খাইয়ে দেখা যেতে পারে।শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ে মলত্যাগে উৎসাহ দিতে হবে।শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাতে হবে। যেসব শিশু টিনজাত দুধ খায় তাদের অতিরিক্ত ঘন দুধ বা অতিরিক্ত পাতলা দুধ খাওয়ানো যাবে না। 

নির্দেশনা অনুযায়ী খাওয়াতে হবে।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জানলেন বাচ্চাদের ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। আশা করি আপনারা বাচ্চাদের ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।আপনারা বচ্চাদের বেশি ইসবগুল খাওয়ানো থেকে দূরে থাকবেন। চিকিসৎকের পরামর্শ অনুযায়ী আপনারা বাচ্চাদের ইসবগুল খাওয়াবেন।

আমরা ইসবগুল সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো।আশা করি আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন।

ইসবগুলের ভুসি খেলে কি মোটা হওয়া যায়

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আপনারা সুস্থ আছেন। ইতিমধ্যে আমরা ইসবগুল ভুষি সম্পর্কে আলোচনা করেছি।আপনারা ইসবগুল সম্পর্কে ধারনা পেয়েছেন।ইসবগুল আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী।অনেকে বলে থাকেন ইসবগুলের ভুসি খেলে কি মোটা হওয়া যায়? আসুন বন্ধুরা আজকে আমরা জানবো ইসবগুল খেলে মোটা হতে পারবেন কিনা! আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন। 
আরো পড়ুন 
ইসুবগুল ভুষি কমবেশি সবাই পরিচিত। এই খাবার একটি দ্রবণীয় ফাইবার, যা প্লান্টাগো ওভাটার গাছের বীজের ভুসি থেকে পাওয়া যায়। এই ইসবগুল সাধারণভাবে ব্যবহৃত রেচক এবংকোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও এই ভুসিটি হার্ট এবং পেটের জ্বালাপোড়া ভাব দূর করতে বেশ উপকারী। এই ভূসিটি বাজারে অনেক সময় ভূসিদানা।

অনেক সময় পাউডার আবার অনেক সময় ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যায়।। সারা বিশ্বের মানুষ এটি একটি খাদ্যতালিকাগত পরিপূরক হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। এই ইসবগুল সাধারনত শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে বেশি ইসবগুল খেলে শরীরের মেদ বেড়ে যায়, এতে শরীরের ও বিভিন্ন ক্ষতি দেখা দেয়। তাই অতিরিক্ত ইসবগুল না খাওয়ায় শরীরের জন্য ভালো। 

আপনারা মোটা হওয়ার আশায় বেশি ইসবগুল খাবেন না,এতে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। আপনারা যদি ইসুবগুলের ভুসি পানিতে ভিজিয়ে খান তবে তা আকারে দশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে থাকে । এতে বারবার ক্ষুধা লাগা বন্ধ হয়। আপনার ওজন বৃদ্ধি ও হবেনা।প্রিয় বন্ধুরা আপনারা জানলেন ইসবগুলের ভুসি খেলে কি মোটা হওয়া যায় সে সম্পর্কে। 

আশ্ করি আপনারা সকলেই বুঝতে পেরেছেন।আপনারা মোটা হওয়ার আশায় বেশি ইসবগুল খাবেন না, এতে নিজেই নিজের মারাত্মক ক্ষতি করবেন।নিয়ম করে খাবেন এতে শরীর সুস্থ থাকবে। আশা করি আপনারা আলোচনাটি বুঝতে পেরেছেন।এবং যারা এ সম্পর্কে জানেন না তাদের শেয়ার করে জানিয়ে দিতে পারেন। আমাদের পরবর্তী পাঠে আলোচনা পড়ুন।

ইসবগুলের ভুষি কতদিন খাওয়া যায়

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আপনারা ইতিমধ্যে উপরিক্ত আলোচনা মনোযোগ দিয়ে পরছেন। ইসবগু সম্পর্কে বিভিন্ন দিক আলোচনা করেছি।আপনারা ইসবগুল সম্পর্কে অনেক ধারনা ও উপকারীতা সম্পর্কে জেনেছেন।আমরা এখন আলোচনা করবো ইসবগুলের ভুষি কতদিন খাওয়া যায়? আপনারা অনেকেই জানেন না ইসবগুল কতদিন রেখো খাওয়া যায়, চলুন জেনে নিন। 

ইসবগুলের ভুসি গুড়ো করে অনেক দিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। এই ইসুবগুলের ভুষি পরিমিত পরিমাণে খেলে কোন ধরনের খারাপ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। যাদের পাকস্থলীতে টানটান ভাব সৃষ্টি হয়ে থাকে তারা ইসুবগুলের ভুষি খাওয়া থেকে বিরত থাকলে ভালো হয়।।এই ইসুবগুলির ভুসি খাওয়ার ফলে যদি এলার্জির সমস্যা সৃষ্টি হয়।

তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।যাদের অন্ত্রে রোগ বা সমস্যা রয়েছে তাদের ইসুবগুলের ভুষি না খাওয়াই ভালো। কিছুদিন ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের ওজন অনেক কমে যেতে পারে তাই একটানা কখনোই ইসুবগুলের ভুষি এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের বেশি খাওয়া যাবে না।

প্রাপ্তবয়স্করা তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর নির্ভর করে দিনে একবার বা দুবার ইসুবগুলের ভুসি খেতে পারেন। এএক গ্লাস পানির সঙ্গে এবং এর সাথে ফলের রস এবং ইসবগুলের ভুষি মিশিয়ে খেতে পারবেন। এই ভুসিটি খাবারের পরপর খেলে সবচেয়ে ভালো হবে। এবং আপনার শারীরিক সমস্যা যদি হয়ে থাকে এবং আপনি অনেকদিন থেকে যদি শারীরিক কোন সমস্যায় ভোগেন।

তবে ইসুবগুল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।আপনারা ইসবগুলের ভুসি গুড়ো করে একটি পাত্রে অনেক দিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। এতে নষ্ট হবে না।প্রিয় বন্ধুরা ইসবগুলের ভুষি কতদিন খাওয়া যায়? সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি আশা করি।

আপনারা জানতে পেরেছেন।আপনারা এ পদ্ধতিতে ইসবগুল সংরক্ষণ করে রাখবেন। আশা করি আমাদের আলোচনা আপনাদের ভালো লাগবে।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা ইতিমধ্যে আমরা ইসবগুল সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় উপরিউক্ত আলোচনা করেছি।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।অনেক অজানা তথ্য সম্পর্কে আপনাদের জানিয়েছি এখান থেকে আপনারা অনেক কিছু জানতে পারবেন।ইসবগুল সিলিয়াম হিসেবে পরিচিত।এটি বাইরের দেশে এবং এ সিলিয়াম আসলে একটি সিড থেকে আসে। এবং যেটি দুটি ফরমে পাওয়া যায়। 
আরো পড়ুন 
একটি হচ্ছে হাস্ক আরেকটি হচ্ছে পাউডার গুড়ো।ইসবগুল যখন হাস্ক ফরমে খাচ্ছেন, বাজার থেকে যেটি নরমালি নিয়ে আসেন, সেটি অর্গানিক । কারণ এটি আসলে জাস্ট ক্লিনিং প্রসেস করা হয় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে শুকিয়ে এটিকে জাস্ট জারে ভরা হয়।ইসবগুলের ভুসি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে। 

এতে উপস্থিত অদ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের মল নরম করে দেয়।আমাদের অন্ত্রে একধরনের স্তর তৈরি হয়। যা কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দান করে।ইসবগুলের ভুসিতে রয়েছে জিলাটিন নামক একটি উপাদান। যা দেহে গ্লুকোজের শোষণ ও ভাঙার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ওজন কমাতে খেতে পারেন ইসুবগুলের ভুষি।

জ্বালাপোড়া ও মাথা ঘোরানো রোগে আখের গুড়ের সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি মিলিয়ে সকাল-বিকাল এক সপ্তাহ খেলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া রোজায় সুস্থ থাকতে ইফতারে খেতে পারেন ইসবগুলের ভুসির শরবত।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আপনারা ইসবগুল সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।আমাদের পরবর্তী কন্টেন্ট পেতে আমাদের সাথে থাকুন। সবাই সুস্থ ও ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়

comment url