জমজমের পানি কেন দাঁড়িয়ে খেতে হয়?
আপনারা অনেকেই জানেন জমজম কূপ। যা মহান আল্লাহতালা এর নির্দেশে সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক হাজরা হজ করতে গিয়ে এই কূপের পানি নিয়ে আসে কিন্তু এমন সময় অনেক লোকজন রয়েছে যারা সার্চ দিয়ে জানতে চান,জমজমের পানি খাওয়ার নিয়ম জমজমের পানি সম্পর্কে হাদিস। আজকের এই পোস্টে এইগুলো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে আশা করা যায় আপনি সেটা পড়বেন।
প্রিয় বন্ধুরা আপনারা কি জমজম কূপের পানি খাওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন জায়গায় সার্চ করে যাচ্ছেন এবং চিন্তিত রয়েছেন। তাহলে বন্ধুরা আর চিন্তা করতে হবে না কারণ আজকের এই পোস্ট আপনাদেরকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সবকিছু সঠিক তথ্যে জানিয়ে দেয়া হবে। তো বন্ধুরা চলুন দেরি না করে আমরা সেগুলো পড়ে আসি।
ভূমিকা
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম,আশা করি আপনারা সকলেই সুস্থ ও ভালো আছেন।আমাদের আজকের আর্টিকেলটি হলো জমজমের পানি। আপনারা অনেকেই জমজমের পানি খাওয়ার নিয়ম,জমজমের পানি সম্পর্কে হাদিস, এটি কীভাবে খাওয়া যায় তা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।আমরা আজকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো,জমজম কূপ এক ধরনের কুয়া।
আরো পড়ুন
জমজম কূপ মক্কায় মসজিদুল হারামের অভ্যন্তরে অবস্থিত।জমজম কূপ কাবা থেকে ২০মিটার পূর্বে অবস্থিত।ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী বলা যায় যে, ইবরাহিম নবী তার স্ত্রী হাজেরা ও তার শিশুপুত্র ইসমাঈলকে মরুভূমিতে রেখে আসার পর ইসমাইলের পায়ের আঘাতে এর সৃষ্টি হয়। আগত সব লোকেরা এখান থেকে পানি পান করে থাকেন।
পাঁচ হাজার বছর ধরে এখান থেকে একটানা পানি পাওয়া যাচ্ছে, একারণে জমজমের কুয়োকে বিশ্বের প্রাচীনতম সক্রীয় কূপ বলে আখ্যায়িত করা হয়। জমজম কূপের পানি পৃথিবীর সকল পানির চেয়ে উত্তম। কাবা ঘরের ফজিলতের সঙ্গে জমজম কূপের মাহাত্ম্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত।ইবরাহিম (আ:) এর ইতিহাসের সজ্ঞে জমজমের বর্ননা করা হয়েছে।
এই জমজম কূপ মূলত মহান আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ কুদরতের নিদর্শন। লাখ লাখ মানুষ মক্কায় হজ ও উমরা করতে গিয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ টন পানি পান করে ও বাড়ি নিয়ে যায়। তবু্ও কখন ও পানির স্বল্পতা দেখা যায়নি। বস্তুত একথা দিবালোকের ন্যায় সত্য যে, জমজম কূপ মানুষের জন্য বিশেষ করে হাজিদের জন্য আল্লাহর এক অপূর্ব নেয়ামত ও বরকতময় উপহার।
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা সকলেই বিশেষ করে মুসলিম জাতি জমজমের পানি সম্পর্কে জানেন।আমরা পরবর্তী পাঠে জমজম পানি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করবো।আপনারা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।
জমজমের পানি খাওয়ার নিয়ম
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা কমবেশি সবাই জমজম কূপের পানি খেয়েছি।অনেকে জমজমের পানি খাওয়ার কি নিয়ম রয়েছে সম্পর্কে জানেন না।আজকে আপনাদের জানাবো জমজমের পানি খাওয়ার নিয়ম।আপনারা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। পানি পানকারী ব্যক্তির জন্য সুন্নত হলো পুরোপুরিভাবে পরিতৃপ্ত হয়ে জমজমের পানি পান করা।
জমজমের পানি পানের কিছু নিয়ম উল্লেখ আছে। যেমন- কিবলামুখী হয়ে পানি পান করা,পানি পান করার পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা, তিন শ্বাসে জমজমের পানি পান করা, পরিতৃপ্ত হওয়া, পানি পান করা শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা ইত্যাদি। জমজমের পানি পান করার সময় একটি দোয়া পড়তে হয়।আমরা পূর্বের মনীষীদের বা নবীদের জীবন কাহিনি পরে জানতে পেরেছি।
যারা জমজমের পানি পানের সময় বিভিন্ন দোয়া করতেন। দোয়া পড়ে পানি পান করলে অনেক ফজিলত রয়েছে। আমাদের রাসুল (সাঃ) জমজমের পানি পান করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন। তাই জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করাকে উত্তম মনে করা হয়,তবে এভাবে জমজমের পানি পান করা জরুরি নয়।
তবে বলা যায় যে, স্বাভাবিক অবস্থায় অন্যান্য পানি দাঁড়িয়ে পান করাকে মাকরূহে তানজিহী বলা হয়।কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পানি পান করাতে নিষেধ করেছেন। বসে পানি পান করার নির্দেশ দিয়েছেন।রাসূল( সা)নিজে এবং তার কিছু সাহাবিদের নিয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করা সম্পর্কিত হাদীস পাওয়া যায়।
যা প্রমাণ করে দাঁড়িয়ে পানি পান করা হারাম বা মাকরূহে তাহরীমি নয়। হযরত ইবনে আব্বাস( রা.)থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আপনারা জমজমের পানি খাওয়ার উপায় সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। এই নিয়ম অনুসরন করে।
আপনারা জমজমের পানি পান করতে পারেন।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা জমজমের পানি সম্পর্কে আমরা আরো কিছু দিক আলোচনা করবো,আপনারা আলোচনাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।
জমজমের পানি সম্পর্কে হাদিস
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা ইতিমধ্যে জমজমের পানি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করেছি।এখন যে বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করবো তা হলো জমজমের পানি সম্পর্কে হাদিস।চলুন বন্ধুরা এ সম্পর্কে জানা যাক জমজমের পানি সম্পর্কে হাদিস।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি যেকোনো ব্যাক্তি তার যেকোনো নিয়ত করে পানি পান করতে পারবে,এবং তার সেই নিয়ত পূরণ হবে।
আপনারা যদি জমজমের পানি রোগমুক্তির জন্য পান করেন, তাহলে আল্লাহ তায়ালা আপনাদের সুস্থতা দান করবেন।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি তোমরা পিপাসা মেটানোর জন্য জমজমের পানি পান করো, তাহলে আল্লাহ তোমার পিপাসা দূর করবে। আরো বলেন যে,যদি তুমি ক্ষুধা দূর করার উদ্দেশ্যে তা পান করো তাহলে, আল্লাহ তোমার ক্ষুধা দূর করে তৃপ্তি দান করবে।
জমজম কূপটি জিবরাইল (আ.)-এর পায়ের গোড়ালির আঘাতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পানীয় হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন। তাই জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করাকে উত্তম মনে করা হয়।জমজমের পানি দাড়িয়ে এবং তিন শ্বাসে পান করা সুন্নাহ।জমজমের পানি পান করার সময় নিম্নের দোয়াটি পাঠ করতে হয়-
اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا, وَرِزْقًا وَاسِعًا, وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ.
(حديث ضعيف/ رواه الدارقطنى وعبد الرزاق والحاكم عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا مَوْقُوْفًا)
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস'আলুকা ইলমান নাফি'আ, ওয়ারিজকান ওয়াসিয়া, ওয়াশিফা'আন মিন কুল্লি দা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট কল্যাণকর জ্ঞান, প্রশস্থ রিযিক এবং যাবতীয় রোহ থেকে আরোগ্য কামনা করিতেছি। (দারা কুতনী, আব্দুর রাজ্জাক ও হাকেম, বর্ণনায় ইবেনে আব্বাস)জমজম কুপের পানি আল্লাহর রহমতস্বরুপ। হযরত ইসমাইল ও তার মা’কে যখন আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আঃ ) নির্জন মরুভুমিতে পরিত্যাগ করেন।
তখন তার পায়ের আঘাতে জমজম কুপের উৎপত্তি হয়।মা হাজেরা কুপের চারপাশে চারটি পাথর দিয়ে সিমানা দিয়ে দেন তা না হলে সারা পৃথিবীতে জমজম কুপ ছড়িয়ে পড়ত।প্রিয় বন্ধুরা আশা করি এটি আপনাদের ভালো লেগেছে।
জমজমের পানি কতদিন রাখা যায়
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা সকলেই জমজমের পানি খেয়েছি। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন জমজমের পানি কতদিন রাখা যায়।আমরা এ সম্পর্কে আজকে আপনাদের জানাবো,আপনারা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। জমজম কূপের পানি যতই ব্যবহার করা হোক তা কখনও শেষ হয় না।জমজমের পানি বর্তমানে প্রতিদিন মেশিনের মাধ্যমে লাখ লাখ লিটার পানি তোলা হচ্ছে।
আরো পড়ুন
কিন্তু কোনো ঘাটতি পড়ছে না। অথচ প্রতিদিন এ পরিমাণ পানি পৃথিবীর অন্য কোনো কূপ থেকে তুললে নিশ্চয়ই সে কূপের পানি শেষ হয়ে যেত,এটি দীর্ঘ দিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। দুনিয়ার বুকে জমজমের পানি অনেক বরকতময়। যেকোনো ব্যাক্তি পানি পান করে শান্তি লাভ করে , শারীরিক সক্ষমতা ও বরকতময় হয়,জমজমের পানি তৃষ্ণা মেটায় ও ক্ষুধা দূর করে।
কোনো ওষুধ ব্যবহার করা ছাড়াই জমজমের পানি অনেকদিন বিশুদ্ধ অবস্থায় রাখা যায়। অথচ সাধারণ পানি অনেকদিন রাখলে খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে। অনেক মানুষ ফ্রিজ রেখে দীর্ঘদিন ধরে জমজমের পানি সংরক্ষণ করে থাকেন।বর্তমানে মাতাফের সংস্কার করা ভবনে বেসিন সিস্টেমের মাধ্যমে হট কোল্ড এবং ঠাণ্ডা পানির কল লাগানো আছে,যেটা স্বাস্থ্যের পক্ষে তৃপ্তিসহ পান করবে।
তাওয়াফ থেকে ফিরলে স্বাভাবিকভাবেই পানির চাহিদা সৃষ্টি হয়। তখন আল্লাহ তায়ালার হুকুম পানি পান করা। এভাবে পরম করুণাময় আল্লাহ বান্দার স্বভাবের চাহিদাকে ইবাদত বানিয়ে দিয়েছেন।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন যে জমজমের পানি কতদিন রাখা যায়।আপনারা দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন,কোনো কেমিক্যাল ছাড়াই।
তবে লক্ষ রাকতে হবে জমজমের পানি অযথা কারনে জানো নষ্ট না হয়।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আমাদের আলোচনাটি পড়ে জমজমের পানি সম্পর্কে ধারনা পেয়েছেন।আমরা আরো দিক আলোচনা করবো,আশা করি আমাদের আলোচনাটি আপনাদের ভালো লাগবে।
জমজমের পানি খাওয়ার উপকারিতা
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা সকলেই কমবেশি জমজমের পানি খেয়েছি। অনেকেই জমজমের পানি খাওয়ার উপকারিতা জানেন না।আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য,জেনে নিন জমজমের পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। বহুগুণে সমৃদ্ধ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া বরকতময় নেয়ামতের জমজমের পানি,হজ ও ওমরায় অংশগ্রহণকারীরা।
এবং জমজমের এ পানি পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভব্য ব্যক্তিদের জন্য এ পানি পানের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী তৃপ্তি সহকারে জমজমের পানি পান করা ঈমানের বহিঃপ্রকাশ। হাদিসে জমজমের পানির গুণাগুণ ও উপকারিতার বিষয়টি প্রমানিত,তেমনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ও প্রমাণিত।
জমজমের পানির একটি বিশেষ উপকারিতা আছে। এ পানি পানে নিয়ত অনুযায়ী উপকারিতা পায় মুমিন ব্যাক্তিরা। হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, জমজমের পানি যে উপকার পাওয়ার আশায় পান করা হবে, তা অর্জিত হবে বা সে উপকার পাওয়া যাবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি তোমরা পিপাসা মেটানোর জন্য জমজমের পানি পান করো, তাহলে আল্লাহ তোমার পিপাসা দূর করবে। আরো বলেন যে,যদি তুমি ক্ষুধা দূর করার উদ্দেশ্যে তা পান করো তাহলে, আল্লাহ তোমার ক্ষুধা দূর করে তৃপ্তি দান করবে।প্রত্যেকটি মুমিন মুসলমানের উচিত, জমজমের পানি পানের বিশেষ উপকারিতা পেতে যথাযথ সম্মান ও দোয়ার সঙ্গে পান করা।
মনের একনিষ্ঠ নিয়ত পূরণে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনায় এ পানি পান করা অতি প্রয়োজন।আল্লাহ তাআলা সকল মুসলিম জাতিকে জমজের পানি পান করে যাবতীয় বরকত ও উপকারিতা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। মুনাফেকির আচরণ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন,হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন।
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জমজমের পানি খাওয়ার কি কি উপকারিতা সম্পর্কে জানলেন।আশা করি আপনারা এর উপকারিতা সম্পর্কে ধারনা পেয়েছেন।আমাদের পরবর্তী পাঠের আলোচনাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।
জমজমের পানির সাথে পানি মিশিয়ে
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা জমজম কূপের পানি সম্পর্কে ইতিমধ্যে অনেক ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করেছি।আশা করি উপরিউক্ত পরে আপনারা ধারনা আসতে পেরেছেন।জমজমের পানি যেকোনো নিয়ত করে শুধু পানি খেয়ে থাকেন।আজকে আমরা আলোচনা করবো জমজমের পানির সাথে পানি মিশিয়ে খাওয়া যায় কিনা তা সম্পর্কে,চলুন শুরু করা যাক।
আরো পড়ুন
জমজমের পানির সঙ্গে অন্য পানি মেশানোর কোনো নির্দেশনা নেই। রাসুল (সা.) সাহাবায়ে কেরাম করছেন এমন সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না যে জমজমের সাথে পানি মিশিয়ে খেতে হবে। জমজমের পানির অনেক ফজিলত রয়েছে,সুতরাং প্রয়োজনে অল্প পান করতে হবে।লোকদের যতটুকু সম্ভব ততটুকু জমজমের পানি ব্যাবহার করতে হবে,এর অপব্যাবহার করা যাবেনা।
'
/জম;ইলজমজমের মধ্যে পানি মিশিয়ে দিলে এটা মূলত সাব্যস্ত হয়না। এটা আমাদের ব্যক্তিগত গবেষণা বা কেউ নিজে গবেষণা করে এটা আবিষ্কার করেছেন। এতে জমজমের পানির যে মর্যাদা সেটা যেমন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তেমনি জমজমের পানির যেই ফজিলত রয়েছে সেই ফজিলতটাও তিনি লাভ করতে পারবে না,জমজমের পানি অবিমিশ্রিতভাবে পান করা উত্তম।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা সাহাবায়ে কেরাম কখনো এর সাথে অন্য পানি মিশিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যায় না।যদিও তৎকালীন মক্কা থেকে দূরে অবস্থানকারীদের জন্য জমজমের পানি সংগ্রহ করা সহজ ছিল না।তিনি আরো বলেন, যদি জমজম পানির সাথে অন্য পানি মিশানো হয়,তাহলে তার উপকারিতা ও ফজিলত ততটুকু কমে যাবে যতটুকু অতিরিক্ত পানি মেশানো হয়েছে।
এককভাবে কেবল জমজম পানি পান করা উত্তম। যদি তা অন্য পানির সাথে মেশানো হয় তাহলে যতটুকু জমজম অবশিষ্ট থাকবে ততটুকুর হুকুম অবশিষ্ট থাকবে এবং তা দ্বারা চিকিৎসা করা যাবে যদিও তাতে নির্ভেজাল পানির তুলনা উপকারিতা কম হবে।সুতরাং জমজমের পানিতে সাধারণ পানি না মেশানোই ভালো,বরং পানি কম থাকলে অল্প অল্প করে পান করবেন।
এতেই উপকার হবে ইনশাআল্লাহ।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জমজমের পানির সাথে পানি মিশিয়ে খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানলেন।আশা করি আমার আলোচনাটি আপনারা সহজভাবে বুঝতে পেরেছেন।
জমজমের পানি কেন দাঁড়িয়ে খেতে হয়
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা জানি যে জমজম কূপের পানি দাঁড়িয়ে খেতে হয়। তবে অনেকেই জানেন না জমজমের পানি কেন দাঁড়িয়ে খেতে হয়। চলুন জেনে নিন জমজমের পানি কেন দাঁড়িয়ে খেতে হয় সে সম্পর্কে।হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) জমজম কূপের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন বলে সাধারণত আমরাও দাঁড়িয়েই জমজমের পানি পান করে থাকি।
অনেকেই জমজমের পানি বসে পান করাকে মারাত্মক পাপের কাজ বলে মনে করে থাকেন।তবে এটির কোনো নির্দেশ নেই,বসে অথবা দাড়িয়ে খেতে পারেন।বস্তুত জমজমের পানি সাধারণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে-বসে দু’ভাবেই পান করা জায়েয। ভীড় না থাকলে দাঁড়িয়ে জমজম পান করা জায়েয নেই- এ কথা ঠিক নয়,জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করাকে উত্তম মনে করা হয়।
তবে এভাবে জমজমের পানি পান করা জরুরি নয়।তবে বলা যায় যে, স্বাভাবিক অবস্থায় অন্যান্য পানি দাঁড়িয়ে পান করাকে মাকরূহে তানজিহী বলা হয়।কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পানি পান করাতে নিষেধ করেছেন। বসে পানি পান করার নির্দেশ দিয়েছেন।রাসূল( সা)নিজে এবং তার কিছু সাহাবিদের নিয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করা সম্পর্কিত হাদীস পাওয়া যায়।
যা প্রমাণ করে দাঁড়িয়ে পানি পান করা হারাম বা মাকরূহে তাহরীমি নয়।প্রিয় বন্ধুরা আপনারা জমজমের পানি কেন খেতে হয় দাঁড়িয়ে সে সম্পর্কে জানতে পারবেন আমাদের পাঠের মাধ্যমে। জমজমের পানি যে দাঁড়িয়েই খেতে হবে এর কোনো নির্দেশ নেই। তাই আপনারা দাঁড়িয়ে বা বসে যেকোনো অবস্থায় খেতে পারবেন।আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি জমজমের পানি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনারা জানতে পেরেছেন।এছাড়া ও জমজমপানির কিছু দিক উপরিউক্ত আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা সম্পূর্ণ আলোচনাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। এই জমজম কূপ মক্কায় মসজিদুল হারামের অভ্যন্তরে অবস্থিত।জমজম কূপ মূলত মহান আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ কুদরতের নিদর্শন বলা যায়।
আরো পড়ুন
লাখ লাখ মানুষ মক্কায় হজ ও উমরা করতে গিয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ টন পানি পান করে ও বাড়ি নিয়ে যায়। তবু্ও কখন ও পানির স্বল্পতা দেখা যায়নি,বস্তুত একথা দিবালোকের ন্যায় সত্য যে, জমজম কূপ মানুষের জন্য বিশেষ করে হাজিদের জন্য আল্লাহর এক অপূর্ব নেয়ামত ও বরকতময় উপহার। জমজমের পানি অনেক বরকতময়।
যেকোনো ব্যাক্তি পানি পান করে শান্তি লাভ করে , শারীরিক সক্ষমতা ও বরকতময় হয়।জমজমের পানি তৃষ্ণা মেটায় ও ক্ষুধা দূর করে।কোনো ওষুধ ব্যবহার করা ছাড়াই জমজমের পানি অনেকদিন বিশুদ্ধ অবস্থায় রাখা যায়। অথচ সাধারণ পানি অনেকদিন রাখলে খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে।জমজমের পানি অবিমিশ্রিতভাবে পান করা উত্তম।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা সাহাবায়ে কেরাম কখনো এর সাথে অন্য পানি মিশিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যায় না।যদিও তৎকালীন মক্কা থেকে দূরে অবস্থানকারীদের জন্য জমজমের পানি সংগ্রহ করা সহজ ছিল না।তিনি আরো বলেন, যদি জমজম পানির সাথে অন্য পানি মিশানো হয়,তাহলে তার উপকারিতা ও ফজিলত ততটুকু কমে যাবে যতটুকু অতিরিক্ত পানি মেশানো হয়েছে।
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আমাদের সম্পূর্ণ আলোচনাটি মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন।আশা করি এটা পড়ে আপনাদের অনেক অজানা তথ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন,অন্যদের জানার সুযোগ করে দেবেন।ভালো লাগলে অবশ্যই জানাবেন।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url