জৈব সার বানানোর পদ্ধতি - গোবর দিয়ে জৈব সার তৈরির পদ্ধতি

হ্যালো প্রিয় পাঠক বন্ধুগণ আপনাদের কাছে আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থিত করা হয়েছে, বিষয়টি হচ্ছে, জৈব সার বানানোর পদ্ধতি। জমিতে চাষ করার সময় জৈব সার অনেক উপকারে একটি সার বলে থাকে অনেকেই কিন্তু এরশার বানানোর নিয়ম কি এবং কি কি উপাদান দ্বারা এ সার তৈরি করা হয় তা এবং জৈব সারের সুবিধা ও অসুবিধা জানাবো এই পোস্টে। 
জৈব সার বানানোর পদ্ধতি
প্রিয় বন্ধু আপনি কি জৈব সার বানানোর জন্য আগ্রহী। জৈব সার বানানোর জন্য অনলাইনে এসে বিভিন্ন জায়গায় সার্চ করে যাচ্ছেন কিন্তু ফলাফল পাচ্ছেন না। তো বন্ধুরা আজ আপনারা সঠিক জায়গায় এসেছেন কারণ আজকে আপনাদেরকে সঠিক পদ্ধতি এবং নিয়মে জানাই দেয়া হবে জৈব সার বানানোর নিয়ম। চলুন বন্ধুরা সেগুলোর নিচে রয়েছে সেগুলো পড়ে আসা যাক।

ভূমিকা

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আপনারা ভালো ও সুস্থ আছেন। আমাদের আজকের আর্টিকেল হলো জৈব সার সম্পর্কে। জৈব সারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করবো,যেমন জৈব সার বানানোর পদ্ধতি, জৈব সারের সুবিধা ও অসুবিধা, জৈব সার কত প্রকার,জৈব সার তৈরি করার নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করবো।
আরো পড়ুন 
আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন। কার্বন সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ভাবে উৎপন্ন তাকে জৈব সার বলে।এটি এমন একটি উপাদান যা মাটি ও উদ্ভিদের পুষ্টি সরবরাহ ও বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। খনিজ উৎস, সকল প্রাণীর বজ্য, তরল কম্পোস্ট ইত্যাদি জৈব সারের মধ্যে রয়েছে। আবার গুয়ানো উদ্ভিদ যেমন-কম্পোস্ট ,বায়োসলিডএছাড়াও বিভিন্ন অজৈব বা অরাসায়নিক সার আছে। 

এসব অজৈব সার কৃষি ক্ষেত মেনে চলে ব্যাবহার করা হয়। বানিজ্যিক কৃষি খাতে ও ব্যবহার করা যেতে পারে।যেসব সার কোনো জীবের দেহ থেকে প্রাপ্ত হয় অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রানীর ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া যায় তাকো জৈব সার বলে। যেমন উদাহরণস্বরূপ:গোবর সার, খৈল,সবুজ সার ইত্যাদি।উদ্ভিদ বা গাছের প্রায় সব খাদ্য উপাদানই জৈব সারে থাকে।

গোবর মিশ্রণটি জমিতে প্রয়োগ করতে ব্যবহার করে।জৈব সার মাটির গভীরতা থেকে পুষ্টি উপাদান এনে চাষে সহায়তা করে।এবং পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে।বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরনের মাধ্যমে মাটিকে সবুজ সার এবং ফসফরাস থাকে।এটি সমৃদ্ধ করার জন্য এক ধরনের লুগুমিনাস আবরণ ফসল,উৎপাদন করা যায়।

সাধারণভাবে বলা যায় যে, জৈব সারের পুষ্টিগুণ বেশি মিশ্রিত থাকে।এটি উদ্ভিদের জন্য খুব কম সহজলভ্য হয়ে থাকে । কিন্তু এটি অদ্রবণীয় নাইট্রোজেন ধারণকারী ধীর-নিঃসরণীয় সার হিসাবে পছন্দনীয় হতে পারে। জৈব সার মাটিতে ভৌত এবং জৈবিক পুষ্টি সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ায় এবং , অতিরিক্ত সারপ্রয়োগের দ্বারা সংঘটিত ঝুঁকি হ্রাস করে।

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আপনারা জৈব সার সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং ধারনা পেয়েছেন।আমরা পরবর্তী পাঠে জৈব সার সম্পর্কে আরো কিছু দিক আলোচনা করবো আশা করি আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন।

জৈব সার বানানোর পদ্ধতি

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা ইতিমধ্যে জৈব সার কি সো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।জৈব সার মূলত প্রাকৃতিক সার।আমরা এখন আলোচনা করবো জৈব সার বানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে। আপনারা অনেকেই এই পদ্ধতি জানেন না। এই পাঠের মাধ্যমে আপনারা জেনে নিতে পারেন। চলুন শুরু করা যাক। জৈব সার তৈরি হয়-গোবর,মুরগীর বিষ্ঠা,সরিষার খৈল,আখের ছোবরা।
আরো পড়ুন 
ছাই,হারের গুড়ো,বিভিন্ন গাছগাছালির সবুজ সার,কচুরিপানা ইত্যাদি দিয়ে জৈব সার বানানো যায়।গোবর ও সরিষার খৈল দিয়ে জৈব সার বেশি ব্যাবহার করা হয়। বানানোর পদ্ধতি জেনে নিন,গোয়াল ঘর থেকে গোবর সংরক্ষণ করে রাখুন।গোবর ঘরের ১.৫ মিটার চওড়া, ৩ মিটার লম্বা ও ১মিটার গভীর গর্ত তৈরী করে রাখবেন। গোবরের পরিমাণ বুঝে গর্ত ছোট, বড় বা একাধিক গর্ত করতে পারেন। 

গর্তের তলা ভালোভাবে পিটিয়ে সেখানে খড়/কাঁকর/বালি বিছিয়ে নিবেন,যাতে পানি সহজে শুষে নিতে পারে এবং গর্তের তলা এবং চারপাশে গোবর দিয়ে ভালভাবে লেপে নিতে পারেন। গর্তের চারিদিকেই তলদেশের দিকে একটু ঢালু রাখতে হবে এবং গর্তের উপরে চারপাশে উঁচু করে রাখতে হবে যেন বর্ষার পানি গর্তে যেতে না পারে।প্রায় দেড় মাস পর সারের গাদা ওলটপালট করে দিতে হবে। 

যদি গাদা শুকিয়ে যায় তবে গো-চনা দিয়ে ভিজিয়ে দিবেন। এছাড়া গো-চনাও একটি উৎকৃষ্ট সার।আপনারা গোবরের সাথে টিআসপি সার ব্যবহার করতে পারেন এতে জৈব সারের মান ভালো হয়। গোবরের গাদার প্রতি টনের জন্য ১৫-২০ কেজি টিএসপি ব্যবহার করতে পারবেন। রোদে গোবর যেন শুকিয়ে না যায় আবার বৃষ্টিতে ধুয়ে না যায় সে জন্য গাদার ওপরে চালা দিয়ে দিবেন।

আপনারা খড়, খেজুর পাতা কিংবা তালপাতা দিয়ে কম খরচে এই চালা তৈরী করতে পারেন।এইভাবে গোবর সংরক্ষণের ২ মাসের মধ্যেই গোবর পচে উত্তম মানের সার তৈরী হয় হয়।এবং পরবর্তীতে জমিতে ব্যবহার করার উপযোগী হয়ে ওঠে। জৈব সার ব্যবহার করে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভশীলতা কমিয়ে আনুন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ করুন।

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জৈব সার বানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারলেন।গ্রামের মানুষ ফসলে জৈব সার বেশি ব্যাবহার করে।ওতে ফসল ও ভালো হয়।আরো জানতে পরবর্তী পাঠের আলোচনা পড়ুন।

জৈব সারের সুবিধা ও অসুবিধা

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা ইতিমধ্যে জৈব সার কি ও জৈব সার বানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছি।আশা করি আপনারা সকলেই বুঝতে পেরেছেন।এখন আমরা জৈব সারের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করবো।আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন। জৈব সারের সুবিধা ও অসুবিধা দু'দিকেই রয়েছে। জেনে নিন জৈব সারের সুবিধা -
  1. জৈব সার সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে সার ব্যবহার করলে উদ্ভিদ বৃদ্ধি পায়।
  2. সার ব্যবস্থাপনা ফসলের ফলন বৃদ্ধির সকল কারণকে প্রভাবিত করে থাকে সুষম বা জৈব সার।
  3. বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের ফসল উৎপাদিত হয়।
  4. জৈব সার ফসলে ব্যাবহার করলে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হয়।
  5. সুষম সার ব্যবস্থাপনা উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  6. জৈব সার ব্যাবহারে উদ্ভিদের শিকড়ের বিকাশে সহায়তা করে এবং ফুল ও ফলের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
  7. জৈব সারের অসুবিধা-
  8. জৈব সার বেশি দিন মাটির উপরিভাগে থাকে না।
  9. জৈব সার ব্যাবহারে সেচের পর এটি পানির সাথে মিশে মাটির নিচে চলে যায়। যার কারণে গাছপালাগুলো বেশি পুষ্টি পায় না।
  10. মাটিতে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া এবং অণুজীবের জন্যও মারাত্মক প্রমাণিত হয় এই জৈব সারে।
  11. জৈব সারের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটিতে ক্ষতিকর করে তুলে।
  12. জৈব সার ব্যাবহারে রাসায়নিকের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
কৃষক ফসলের ফলন বাড়াতে সার ব্যবহার করে।বলা হয়েছে যে, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার ব্যবহারকারী দেশ। জৈব ও অজৈব সার দ্রুত পানিতে দ্রবীভূত হয় এবং উদ্ভিদের পুষ্টির অভাব পূরণ করে।এর উপকারীতা ও অপকারীতা দু দিকই রয়েছে। প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জৈব সারের সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে জানলেন।আশা করি আপনাদের আলোচনাটি আপনাদের ভালো লাগবে।

জৈব সার কত প্রকার

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা ফসল ভালো হওয়ার জন্য জৈব সার ব্যাবহার করে থাকি।তবে বিভিন্ন ধরনের জৈব সার তৈরি করা যায়। যা ফসল উৎপাদন করতে সাহায্য করে। আপনারা অনেকেই জানেন না জৈব সার কত প্রকার? আমাদের এই পাঠে জৈব সার কত প্রকার ও কিকি তা সম্পর্কে আলোচনা করবো।আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন। প্রধানত জৈব সার ৪ প্রকার।
যেমন-
  • গোবর সার: মানব ও প্রাণীর থেকে গোবর ও সার, হাঁস-মুরগির গোবর, গুয়ানো এবং রেশম কীট বালু ইত্যাদির মাধ্যমে গোবর সার তৈরি করা যায়।
  • কম্পোস্টিং: কম্পোস্ট, কম্পোস্টিং, স্ট্র এবং বায়োগ্যাস সার।
  • সবুজ সার: গাছপালা থেকে তৈরি হয় সবুজ সার এবং বন্য সবুজ সার সহ।
  • বিবিধ সার: পিট এবং হিউমিক অ্যাসিড সার, তেল খাবার সার, মাটি সার এবং সামুদ্রিক সার সহ।
তৈরীকৃত জৈব সারে বিভিন্ন পদার্থ মাটির গঠন, উর্বরতা, বায়ু চলাচলের ক্ষমতা এবং জল ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। উদ্ভিদ বা গাছপালাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে, জৈব সারে যেমন নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ রয়েছে । তাছাড়া বিভিন্ন গৌণ উপাদানও এবং অণুজীবও থাকে জৈব সারে।কৃষির জন্য জৈব সারের ওপর কৃষকদের অনেক নির্ভরতা বাড়ছে। 

এই জৈব সার ব্যবহার করে কৃষকেরা কম খরচে জমি থেকে বেশি উৎপাদন করতে পারছেন। এর পাশাপাশি বাড়ছে খামারের মাটির সার ক্ষমতাও। এবং এগুলো পরিবেশের জন্যও উপকারী। উর্বর থাকার জন্য এক গ্রাম মাটিতে প্রায় দুই থেকে তিন বিলিয়ন অণুজীবের প্রয়োজনহয়। যার পরিমাণ রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সারে বেশি পাওয়া যায়।

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা ইতিমধ্যে আপনারা জৈব সার কত প্রকার ও কি কি তা জানতে পেরেছেন।আশা করি আপনারা আমাদের মাধ্যমে সঠিক তথ্য পাবেন। জৈব সার সম্পর্কে আরো কিছু বিস্তারিত দিক আলোচনা করবো আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।আমাদের পরবর্তী পাঠের আলোচনাটি মনোযোগ দিয়ে পরবেন।

তরল জৈব সার তৈরির নিয়ম

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আপনারা আমাদের আর্টিােলটি মনোযোগ দিয়ে পরছেন।ইতিমধ্যে আমরা জৈব সার সম্পর্কে বিভিন্ন দিক আলোচনা করে এসেছি।আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে।আমরা এখন আলোচনা করবো তরল জৈব সার তৈরির নিয়ম সম্পর্কে। আপনারা যারা তরল জৈব সার তৈরি করতে পারেন না তারা আমদের এই পাঠের আলোচনার মাধমে জেনে নিতে পারবেন।

জেনে নিন যেভাবে তরল জৈব সার তৈরি করে,প্রথমত দুটি উপাদান ব্যবহার করতে হবে। সেগুলো হলো- সরষের খোল আর গোবর সার। আপনাকে এগুলো সমপরিমাণে নিতে হবে।এটিতে বিভিন্ন উপাদানে যেমন-নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম ছাড়াও, কিছু মাইক্রোমধ্যে আছে।তারপর তৃতীয় উপাদানটি নিতে হবে।

তা হলো- চা পাতা, চা বানানোর পর পাতা ফেলে না দিয়ে সংগ্রহ করে রাখতে হবে।এটিতে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের তুলনায় নাইট্রোজেন বেশি থাকে।উপরিক্ত তিনটি উপাদান 2.5 লিটার জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর এই পাত্রটির মুখ ভালোভাবে এটে বন্ধ করে রাখবেন। দশ থেকে বারো দিন এভাবে মুখ বন্ধ অবস্থায় রাখবেন।১০-১২দিন পর পাত্রের বন্ধ মুখটি খুলবেন। 

তারপর তরলটি ছেঁকে নিয়ে আরো কিছুটা জলের সাথে মিশিয়ে নিবেন,মিশিয়ে নিয়ে গাছের গোড়ায় দিতে হবে। পরিমান মতো আড়াই লিটার তরল সার, পাঁচ লিটার জলে মেশাতে হবে। মাসে দুইবার করে ব্যবহার করলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। আপনারা জানেন যে গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি মূল উপাদান আছে তা হলো - নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও ফসফরাস।

তৈরিকৃত মিশ্রণটিতে নাইট্রোজেন ও পটাশিয়াম সঠিক পরিমাণে পাওয়া যাবে।তবে ফসফরাসের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। ফসফরাসের সবচেয়ে ভালো জৈব উপাদান হলো- হাড় গুঁড়ো, এতে কিছু পরিমান ক্যালসিয়ামও থাকে। গাছের মাটি তৈরি করার সময় মাটির মিশ্রনের অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।গাছ লাগানোর পর পরই এই তরল সারটি ব্যবহার করলে।

অন্য কোনো প্রকার রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না। এবং নিয়ম করে ব্যাহার করলে আপনার গাছ সুস্থ সবল থাকবে, সুন্দর ফুল ও ফল উপহার দেবে।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা তরল জৈব সার তৈরির নিয়ম সম্পর্কে আলোচনাটি আপনাতের কেমন লেগেছে তা অবশ্যই জানাবেন।এবং অন্যদের জানার সুযোগ করে দেবেন।

রাসায়নিক সার ব্যবহারের কুফল

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আমরা ইতিমধ্যে জৈব সার সম্পর্কে বিভিন্ন দিক আলোচনা করেছি।জৈব সার আমাদের ভালো ফসল উৎপাদন করে সাহায্য করে থাকে। তেমনি রাসায়নিক সার ও ফসলের জন্য ব্যাবহার করা হয়। তবে রাসায়নিক সারের কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। আমরা এখন জানবো রাসায়নিক সার ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে। আপনারা দয়া করে মনোযোগ দিয়ে পরবেন।
আরো পড়ুন 
সাধারণত খাদ্য উৎপাদন বা কৃষি জীবনে প্রযোজ্য কীটনাশক এবং খাদ্য পুষ্টিকর দ্রব্যে কে রাসায়নিক সার বলা হয়। তবে এর দ্বারা ফসলের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।রাসায়নিক সার ব্যাবহারের কয়েকটি কুফল হলো-
  1. ব্যবহার মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মাটি পরিত্যাক ও জমে থাকে।
  2. এর ব্যবহার ফসলের স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর। রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে প্রচুর পরিমাণে টকসিন উদ্ভিদগুলির ভিতর চলে যায়।
  3. রাসায়নিক সারটি পরিবেশের জন্য অনেক ক্ষতিকর এটি এ ধরনের রাসায়নিক পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষতিকর পরিবেশ তৈরি করে থাকে।
  4. সার পানিতে ভাসমান হয়ে কৃষি ফসলে দূর্নীতি এবং জীবাণু বিস্ফোরণ উত্পন্ন করতে পারে।
  5. আরও একটি সমস্যা হলো এটি মাটির জৈব কার্বন ব্যবস্থাপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সারের ব্যবহারের কারণে জমিতে খাদ বা নাইট্রোজেন স্তর বেড়ে যেতে পারে।
রাসায়নিক পদ্ধতিতে ডাই-নাইট্রোজেন অণু ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় রাসায়নিক সার। গাছপালা সারের ব্যবহারে অর্ধেক নাইট্রোজেন ব্যবহার করে থাকে আর বাকি অর্ধেক নানা ধরনের বিক্রিয়াক্ষম নাইট্রোজেন অণুতে রূপান্তরিত হয়ে মাটি, পানি ও বাতাসে মিশে যায়। এতে দিন দিন বিক্রিয়াক্ষম নাইট্রোজেন বাড়তে থাকে।

এবংপরিবেশ দূষণের নতুন মাত্রার নাইট্রোজেন দূষণ হয়।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা জানলেন রাসায়নিক সার ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে। আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে।আপনারা ফসল বা গাছপালা বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার এড়িয়ে চলবেন। আশা করি আপনাদের আলোচনাটি জানতে ও বুঝতে পেরেছেন।আরো জানতে পরবর্তী পাঠের আলোচনাটি পড়ুন।

গোবর দিয়ে জৈব সার তৈরির পদ্ধতি

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা ইতিমধ্যে আমরা জৈব সার তৈরি করার বিভিন্ন নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করেছি।বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জেনেছি। জৈব সার তৈরির জন্য গোবর ও সরিষার খৈল বেশি উপকারী। আমরা এখন আলোচনা করবো গোবর দিয়ে জৈব সার তৈরির পদ্ধতি।দয়া করে আপনারা মনোযোগ দিয়ে পরবেন।আপনারা প্রথমে গোয়াল ঘরের কাছাকাছি সামান্য উঁচু স্থান।

বেছে নিয়ে ১.৫ মিটার চওড়া, ৩ মিটার লম্বা ও ১মিটার গভীর গর্ত তৈরি করবেন। আপনাদের গরু ছাগলের গোবরের পরিমাণ বুঝে গর্ত ছোট, বড় বা একাধিক গর্ত ও করতে পারেন।গর্তের চারদিকে তলদেশের দিকে একটু ঢালু রাখবেন এবং গর্তের উপরে চারপাশে আইল দিয়ে উঁচু করে রাখবেন যাতে বর্ষার পানি গর্তে যেতে না পারে।

তারপর গর্তটিকে কয়েকটি ভাগেভাগ করে কয়েক দিনে এক একটি অংশ ভরে পুরো গর্ত ভরাট করে রাখবেন।গর্তে গোবর রাখার ফাঁকে ফাঁকে পুকুর বা ডোবার তলার মিহি মাটি দিতে পারেন, এতে স্তর আঁটসাট হয় এবং সার গ্যাস হয়ে উবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। দেড় মাস পর সারের গাদা ওলটপালট করে দিবেন।এতে যদি গাদা শুকিয়ে যায়।

তবে গোমূত্র দিয়ে ভিজিয়ে দিবেন কারণ, গোমূত্রও একটি উৎকৃষ্ট সার।গোবরের গাদার প্রতি টনের জন্য ১৫ থেকে ২০ কেজি টিএসপি ব্যবহার করতে পারেন।রোদে যেন গোবর শুকিয়ে না যায় আবার বৃষ্টিতে ধুয়ে না যায় সে জন্য গাদার ওপরে চালা দিয়েদিন। খড়, খেজুর পাতা কিংবা তালপাতা দিয়ে কম খরচে এই চালা তৈরি করতে পারেন। 

২ মাস সংরক্ষনের মধ্যেই গোবর পচে উত্তম মানের সার তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জমিতে ব্যবহার করার উপযোগী হয়। জৈব সার ব্যবহার করে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভশীলতা কমিয়ে আনুন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট হন।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা গোবর দিয়ে জৈব সার তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারলেন। আশা করি আপনারা সহজেই বুঝতে পেরেছেন।

গ্রামের মানুষরা এ সম্পর্কে বেশি জানে এবং তারা গোবর এইভাবে রেখে করে সার তৈরি করে।আশা করি আপনারা গোবর থেকে সহজেই জৈব সার তৈরি করতে পারবেন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আপনারা আমাদের আজকের আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পরছেন। ইতিমধ্যে আমরা যেমন জৈব সার বানানোর পদ্ধতি, জৈব সারের সুবিধা ও অসুবিধা, জৈব সার কত প্রকার,জৈব সার তৈরি করার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করেছি।জৈব সার আমরা দৈনন্দিন কাজে গাছপালার জন্য বেশি ব্যাবহার করে থাকি।
আরো পড়ুন 
এটি গাছের অনেক উপকার করে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে জৈব সার তৈরি করা যায়। জৈব সার ছাড়া ও বিভিন্ন সার রয়েছে যেমন রাসায়নিক সার। রাসায়নিক সার ব্যাবহার করে ও ফসলের উন্নতি হয় তবে এর অপকারিতা ও রয়েছে। আমরা ফসলের জন্য বিভিন্ন জৈব ও অজৈব সার ব্যাবহার করে থাকি।সারা বিশ্বে সারের ব্যাবহার করা হয়। জৈব ও অজৈব সারের চাহিদা অনেক বেশি। 

আমাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পেতে মাটিতে জৈব সার দিয়ে ফসল ফলানোর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে জৈব সার দিয়ে ফসল ফলানোর প্রকৃক্রিয়া জনপ্রিয় হচ্ছে।জমির মাটির গঠন ও গুণাগুণ ঠিক রাখতে হলে জৈব সার ব্যবহার করে মাটিকে উৎপাদনক্ষম করতে হচ্ছে। তাই বলা যায় যে, জৈব সার তৈরি ও সংরক্ষণের ব্যাপারে কৃষকদের যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

কৃষকদের নিজস্ব শ্রম ও গৃহস্থলী কাজকর্ম থেকে পাওয়া যায় খড়কুটা লতাপাতা, কচুরিপানা, ছাই ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা। এছাড়া গরুর গোবর, বাড়িঘর ঝাড়ু দেয়া আবর্জনা ইত্যাদি পচিয়ে বা সংরক্ষণ করে প্রত্যেক কৃষক বাড়িতে ছোটখাটো একটি সার কারখানা গড়ে তুলতে পারে।জৈব সার ব্যবহারেমাটির উৎপাদিকাশক্তি যেমন ঠিক থাকবে ঠিক থাকবে।

অন্যদিকে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা হ্রাস পাবে।জৈব চাষের আওতায়, মাটির উর্বরতার জন্য উপযুক্ত ফসল এবং জৈব সার ও জৈব সার প্রয়োগের পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত।প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করি আপনাদের আলোচনাটি আপনাদের ভালো লেগেছে।

আপনারা এই পাঠের মাধ্যমে জানতে ও শিখতে পারবেন এবং অন্যদের কাছে শেয়ার করে জানার সুযোগ করে দেবেন। আমাদের পরবর্তী কন্টেন্ট পেতে আমাদের সাথে থাকুন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়

comment url