অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি এই বিষয়েই থাকছে আমাদের আজকের মূল আলোচনা। সাথেই থাকছে অলিভ অয়েল তেল ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত সকল বিষয়বস্তু। যা আপনাদের জন্য অনেক উপকারী সাব্যস্ত হতে পারে। তাই সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং আমাদের সাথে থাকুন যেন নতুন নতুন তথ্য নিয়ে আমরা আপনার সাথে থাকতে পারি।
অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
অলিভ অয়েল তেল সম্পর্কে হয়তো আমরা অনেকেই জানি তবে অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি তা হয়তো অনেকেরই অজানা। বিভিন্ন ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত অলিভ অয়েল নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি বয়সের ছাপ দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভূমিকা

অলিভ অয়েল তেল মূলত একটি উত্তম এবং পুষ্টিকর তেল। এটি অনেক গুণাবলী সম্পন্ন একটি তেল যা মানুষের অনেক সমস্যার সমাধান ঘটাতে সক্ষম। আজকের পোষ্টের বিস্তারিত আলোচনায় আমরা জানবো - অলিভ অয়েল তেল কি, অলিভ অয়েল তেলের পুষ্টিগুণ, আসল অলিভ অয়েল চেনার উপায়, অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি, অলিভ অয়েল তেলের দাম কত, ত্বকের জন্য কোন অলিভ অয়েল ভালো, অলিভ অয়েল তেল ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্য।

অলিভ অয়েল তেল কি

অলিভ অয়েল মূলত জলপাই গাছের জলপাই ফলের মধ্যে থাকা একটি প্রাকৃতিক তেল। অলিভ অয়েল তেল হচ্ছে সেই তেল যাকে বাংলায় বলা হয় জলপাইয়ের তেল। এটি মূলত জলপাই থেকেই পাওয়া যায়। পাকা জলপাই ফলের মাংসের অংশ থেকে তেল বের করা হয়ে থাকে। সাধারণত জলপাই তেলের রং হলুদ অথবা সোনালী রঙের হয়ে থাকে।

এবং যদি জলপাইয়ে কিছুটা কাঁচা ভাব থেকে থাকে তাহলে সেটা থেকে প্রাপ্ত তেলে একটু সবুজ রংয়ের আভা থাকে। হরেক গুণে গুণান্বিত এই জলপাই তেল। এতে রয়েছে অনেক উপকারী হাই লেভেল কোলেস্টেরল এইচ ডি এল। এই তেল সাধারণত পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই পাওয়া যায়। অর্থাৎ যেখানে জলপাই গাছ আছে সেখানেই এই তেল পাওয়া যাবে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জলপাই তেলের সরবরাহ হয়ে থাকে ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলি থেকে।

অলিভ অয়েল তেলের পুষ্টিগুণ

অলিভ অয়েল তেল প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তেল। অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি তা সবার জানা খুবই প্রয়োজন তার আগে জানতে হবে এর পুষ্টিগণ সম্পর্কে। এই তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে অধিক পরিমাণে যা শরীরের অক্সিডেটিভ চাপ কমায় এবং দীর্ঘদিন যাবত থাকা রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। সাধারণত প্রতি এক টেবিল চামচ (প্রায় ১৪ গ্রাম) অলিভ অয়েলে যে সকল পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা নিম্নরূপ।

  • ভিটামিন ই - দৈনিক চাহিদার ১৩%
  • ফাইবার - ০ গ্রাম
  • প্রোটিন - ০ গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট - ০ গ্রাম
  • ভিটামিন কে - দৈনিক চাহিদার ৭%
  • ক্যালোরি ১১৯ কিলোজুল
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাট - মোট ক্যালরির ১৪%
  • পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট - ১১%
  • মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট - মোট ক্যালরির ৭৩% মোট ক্যালরির (বেশিরভাগ পরিমাণ ওলিক এসিড)

আসল অলিভ অয়েল চেনার উপায়

জলপাই তেল যদি খাঁটি পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে রান্নার কাজেও এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন রকম ঔষধি রূপচর্চা, চুল চর্চা ইত্যাদিতেও ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে আপনারা হয়তো অনেকেই আসল অলিভ অয়েল এবং নকল অলিভ অয়েল এর মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে অবগত নন। এই কারণে হয়তো আপনাকে নকল অলিভ অয়েল কিনে ঠকতেও হয়েছে। এমন ভাবে যেন আবার ঠকতে না হয় সেজন্য আপনাদের কোনটি আসল অলিভ অয়েল তার সম্পর্কে অবগত হতে হবে। তাহলে চলুন এবার জানা যাক আসল অলিভ অয়েল চেনার কিছু উপায় সম্পর্কে। নিম্নে আসল এবং নকল অলিভ অয়েল চেনার উপায় সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

  • আসল অলিভ অয়েল এর মেয়াদ ২ বছর থাকে তবে ১৮ মাসের মধ্যেই ব্যবহার করে শেষ করতে বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ বোতলের গায়ে দু'বছর মেয়াদ লেখা থাকলেও তার আগেই ব্যবহার করে ফেলতে হবে এমন লেখা থাকবে।
  • আসল অলিভ অয়েল এর দাম সব সময় একটু বেশি হয়ে থাকে।
  • আসল অলিভ অয়েলে এক ধরনের তাজা সুগন্ধ পাওয়া যাবে।
  • আসল অলিভ অয়েল ঠান্ডা জায়গায় রাখলে ঘনত্বটা তুলনামূলক ভাবে বেশি থাকে।
  • আসল অলিভ অয়েল সাধারণত কাঁচের বোতলে প্যাকেজিং করা হয়ে থাকে।
  • ফ্রিজে রেখেও এর আসল এবং নকল পরীক্ষা করা সম্ভব। দুই ঘন্টার জন্য একটি পাত্রে অলিভ অয়েল ঢেলে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। ২ ঘণ্টা পর যদি তেলটি হালকা জমে যায় বা অনেক ঘন হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে এটি আসল তেল। কারণ নকল তেল জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে যায়।

অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি

অলিভ অয়েল একটি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ভেষজ হিসেবেও পরিচিত। এর রয়েছে অনেক ধরনের উপকারিতা। আদিকাল থেকে বর্তমান যুগেও জনপ্রিয়তা হারায়নি অলিভ অয়েলের। বরং দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে প্রতিটি মানুষের কাছে। অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি তার সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ঃ প্রাচীন সময় থেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রতিকার হিসেবে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একে এমন একটি তেল যে আমাদেরকে অনেক উপকারিতা প্রদান করে থাকে। মানব দেহের পরিপাকতন্ত্রকে অলিভ অয়েল তেল উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে থাকে, যার কারণে কোলোনের মধ্য দিয়ে খাবার খুব সুন্দরভাবে চলাচল করতে পারে। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ নির্মূল হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ অন্যান্য রোগের মতোই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও অলিভ অয়েল তেলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিছু গবেষণার মোতাবেক অলিভ অয়েল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নানান ভাবে সাহায্য করে এবং রক্তে থাকা চিনির মাত্রা কমাতে অনেক বেশী মাত্রায় সাহায্য করে থাকে।

পাকস্থলীর সুস্থতায়ঃ পাকস্থলীর সুস্থতার কথা আসলেও অলিভ অয়েলের অনেক বেশি কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়। অলিভ অয়েলে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলো অর্থাৎ ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ৬ ফ্যাটি এসিড, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এটি পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে এবং সাথেই পাচনতন্ত্র সহ সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটিয়ে থাকে।

স্নায়ু কোষের সুরক্ষায়ঃ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পরিচিত রোগ হচ্ছে 'নিউরো ডিজেনারেটিভ' রোগ যা স্নায়ু ক্ষয় হওয়ার কারনে হয়ে থাকে। এ সকল রোগে আক্রান্ত রোগীদের মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা কর্ম ক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে শুরু করে। পরীক্ষায় দেখা গেছে অলিভ অয়েলে রয়েছে নিউরো প্রটেকটিভ ক্ষমতা যার কারনে এটি স্নায়ু কোষকে প্রটেক্ট করে থাকে। তাই বলা যায় স্নায়ু কোষের সুরক্ষায় বা এর লক্ষণ উপশমের জন্য এই তেল অনেক কার্যকরী।

ত্বকের সুরক্ষায়ঃ রূপচর্চার ক্ষেত্রেও অলিভ অয়েলের উপকারিতার একটি বিশেষ প্রভাব রয়েছে। ত্বকের সুরক্ষার জন্য এই তেল নানান ভাবে বা নিয়মে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি বিশেষ করে ত্বক উজ্জ্বল করতে, ত্বকের মশ্চারাইজিং করতে, বলিরেখা দূর করতে, ব্রণ বা মেস্তার মতো সমস্যার সমাধান করতে, অ্যান্টি এজিং প্রপার্টিজ হিসেবে, ঠোঁটকে কমল ও মসৃণ করতে, ঠোটফাটা দূর করতে, গোড়ালির ফাটা দূর করতে, ত্বককে বাহ্যিকভাবে পুষ্টি প্রদান করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

নখের যত্নেঃ রূপচর্চার ক্ষেত্রে ত্বকের সাথে নখের জন্য অলিভ অয়েল তেল প্রশংসিত। নখের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য অটুট রাখতে অনেক জায়গায় এই তেলের ব্যবহার হয়ে থাকে। তাছাড়াও নখের ফেটে যাওয়া, ভেঙে যাওয়া অথবা নখে হলদেটে হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে নিয়মিত অলিভ অয়েল তেল দিয়ে নখে ম্যাসাজ করলে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

চুলের যত্নেঃ সর্বগুণে গুণান্বিত এই অলিভ অয়েল তেলটি চুলের জন্য মারাত্মকভাবে উপকারী। এটি চুলের পড়ে যাওয়া, ফেটে যাওয়া রোধ করে চুলকে সতেজ এবং ঝলমলে করে তোলে। নিয়ম বেঁধে যদি এই তেল খাওয়া এবং চুলে লাগানো হয় তবে এ সকল উপকারিতা আপনিও পেতে পারেন।

হৃদপিন্ডের সুস্থতায়ঃ অলিভ অয়েলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ অনেকাংশে কম হওয়ায় এবং মনোআনসেচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকায় দেহে খারাপ ফ্যাটের পরিমাণ বাড়তে পারে না। যার কারণে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, কোলেস্টরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাই বলা যায়, অলিভ অয়েল তেলে থাকা পুষ্টি উপাদান শরীরে ক্ষতিকর কলেস্টরেলকে বাড়তে না দিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

দ্রুত বয়স বৃদ্ধি এড়াতেঃ অলিভ অয়েলে থাকা ভিটামিন, চর্বি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সমূহ ত্বককে স্বাস্থ্যকর করে তোলে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে তোকে মশ্চারাইজ করে। যার ফলস্বরূপ ত্বকের বার্ধক্যের লক্ষণ গুলি হ্রাস পায়। অর্থাৎ থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বাকি সকল পুষ্টি উপাদান গুলি দ্রুত বয়স বৃদ্ধি এড়াতে অনেক সাহায্য করে থাকে।

অলিভ অয়েল তেলের দাম কত

রূপচর্চা, চুল চর্চা থেকে শুরু করে রান্নার কাজেও ব্যবহৃত এই জনপ্রিয় অলিভ অয়েল তেলটির দাম সম্পর্কে অনেকই জানেনা। ত্বকে ব্যবহারের জন্য যদি Orchid olive oil কিনতে হয় তবে 250ml এর দাম পড়বে প্রায় ২৫০ টাকা মাত্র। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল এক লিটার তেলের দাম ১১৫০ থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে বাজারে যে সকল সাধারণ অলিভ অয়েল পাওয়া যায় তার এক লিটারের মূল্য পড়বে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।

যদি রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য তেল নিতে হয় সে ক্ষেত্রে এক লিটার অলিভ অয়েল তেলের মূল্য পড়বে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। তবে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল অথবা বাসো অলিভ অয়েল ব্যবহার করা সবচাইতে ভালো। আবার যদি বাস অলিভ অয়েল এর দাম জানতে চাই সে ক্ষেত্রে প্রতি এক লিটার তেলের মূল্য পড়বে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত।

ত্বকের জন্য কোন অলিভ অয়েল ভালো

অলিভ অয়েল অনেক পুষ্টিকর একটি তেল এবং পুষ্টি সবার জন্যই। তাই এই তেলটি ছোট বড় সকলেই নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে পারবেন। শুধুমাত্র ব্যবহারের পূর্বে জেনে নিতে হবে যে, কোন অলিভ অয়েলটি আমাদের ত্বকের জন্য ভালো। তাহলে আসুন নিম্নোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা জেনে নেই ত্বকের জন্য কোন অলিভ অয়েল ভালো হবে।

রিফাইন্ড অলিভ অয়েলঃ অলিভ অয়েলকে যখন রিফাইন্ড করা হয় তখন তার মধ্যে থাকা আঠালো ভাবটি কমে যায়। যার কারণে অনেক সময় ভার্জিন অলিভ অয়েল এই রিফাইন্ডকৃত অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়। এই তেলের অন্যান্য পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকলেও এটিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণটি অনেকাংশে কমই যায়। এই তেল চেনার উপায় হচ্ছে, এই তেল গাড়ো হলুদ রংয়ের হয়ে থাকে।

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলঃ সর্ব প্রথম জলপাই থেকে যে তেল বের করা হয় সাধারণত সেটিকেই এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বলা হয়ে থাকে। এই তেলে আলাদাভাবে বাড়তি স্বাদ বা গন্ধ কখনোই ব্যবহার করা হয় না। তাই এই তেলে এসিডের মাত্রাও (মাত্র ০.৮ শতাংশ) থাকে অনেক কম। এই তেল চেনার উপায় হচ্ছে, এই তেল মূলত হালকা সবুজ রঙের হয়ে থাকে।

ভার্জিন অলিভ অয়েলঃ সাধারণত এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের প্রায় সব পুষ্টিগুনই ভার্জিন অলিভ অয়েলে থেকে থাকে। শুধুমাত্র এই তেলে এসিডের মাত্রাটি কিছু অংশে বেড়ে যায়। এই তেল চেনার উপায় হচ্ছে, এই তেল হালকা হলুদ রঙের হয়ে থাকে।

আনফিল্টার্ড অলিভ অয়েলঃ এই ক্ষেত্রে অলিভ অয়েলকে কোন ভাবেই পরিশোধিত বা রিফাইন্ড করা হয় না। তাই কিছু কিছু সময় জলপাই এর কিছুটা অংশ এই তেলের সাথে পাওয়া যায়। জলপাইয়ের কিছু অংশ এই তেলের ভিতরে থাকার কারণে দীর্ঘকাল ব্যবহার করা যায় না। এই তেল চেনার উপায় হচ্ছে, এই তেল ঘোলাটে হয়ে থাকে এবং এর বোতলের নিচের দিকে গাদের মতো করে তেল জমে থাকে।

অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি তা যারা জানে তারা এই তেলকে মহৌষধ বলে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্সট্রা ভার্জিন আলিভ অয়েলকেই সব থেকে সেরা বলে দাবি করা হয়েছে। কারণ অলিভ অয়েলের পুষ্টি গুনের বিভিন্ন পরীক্ষায় অন্যান্য অলিভ অয়েলের তুলনাতে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভয়েলে অনেক পুষ্টিগুণ পাওয়া গেছে।

অলিভ অয়েল তেল ব্যবহারের নিয়ম

এতক্ষণ আমরা অলিভ অয়েল সম্পর্কে বিস্তারিত অনেক তথ্য জেনেছি এখন জানবো অলিভ অয়েল তেল ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে। এটি অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি ভোজ্য তেল কিন্তু শুধু পুষ্টিগুণ জানলে হবে না জানতে হবে এর ব্যবহার করার পদ্ধতি। নিম্নে এটি ব্যবহার করার নিয়ম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

  • ত্বকে পুষ্টি যোগাতে গোসলের পর ভেজা ত্বকে অলিভ অয়েল লাগালে ত্বক সহজেই তেল শুষে নেয় এবং সাথেই পুষ্টিও পায়।
  • ত্বককে কোমল ও মসৃণ করতে হলে রাত্রে ঘুমানোর আগে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে তারপর সামান্য একটু অলিভ অয়েল মুখে, গলায় এবং হাতে পায়ে লাগিয়ে নিতে হবে।
  • প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে অলিভ অয়েল বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই শ্যাম্পু করার অন্ততপক্ষে ১৫ মিনিট আগে মাথার ত্বকে এবং চুলে অলিভ অয়েল হালকা গরম করে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে হবে। এতে করে চুল হবে ঝলমলে এবং চুলের আগা ফাটার সমস্যা ও কমবে।
  • ডার্ক সার্কেলের সমস্যা দূর করতে অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল আঙ্গুলের আগাতে নিয়ে চোখের চারপাশে আলতোভাবে অন্ততপক্ষে ১৫ মিনিট পর্যন্ত মাসাজ করতে হবে। ১৫ মিনিট পর তুলা ভিজিয়ে চোখ মুছে নিতে হবে।
  • ঠোটের স্ক্রাব হিসেবে এবং ঠোঁটফাটা কমানোর জন্য এক চা চামচ অলিভ অয়েল এর সাথে পাতিলেবুর রস অল্প পরিমানে নিয়ে বড় দানার চিনি মিশিয়ে ঠোঁটে লাগানোর জন্য স্ক্রাব তৈরি করা যায়।

লেখকের মন্তব্য

উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই আপনারা জানতে পেরেছেন যে, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং ভোজ্য তেল হিসেবে অলিভ অয়েল একটি স্বাস্থ্যকর এবং অনেক উপকারী তেল। আমাদের আজকের এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন। এবং আমাদের এই পোস্টটি আপনার পরিবার, প্রিয়জন ও বন্ধু মহলে শেয়ার করার মাধ্যমে আশে পাশের মানুষদেরকেও অলিভ অয়েলের উপকারিতা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়

comment url