প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন সম্পর্কেই মূলত আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু। এই আলোচনায় আরো থাকছে প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। যা আপনার বা আপনার পরিচিত কারো জন্য উপকারী একটি বিষয় হতে পারে। তাই আজকের পোস্টটির সাথে থাকুন এবং সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন এর সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্য আপনি জানতে পারেন।
প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
প্রতিবন্ধী কথাটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। তবে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন সম্পর্কে হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। তাহলে চলুন আজকের পোষ্টের মাধ্যমে এর বিস্তারিত তথ্য আমরা আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করি। আশা করি আপনারা আমাদের আজকের পোষ্টের সাথেই থাকবেন।

ভূমিকা

প্রতিবন্ধী ভাতা হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাজসেবামূলক কার্যক্রম। এটি মূলত প্রতিবন্ধীদের জন্যই সরকার কর্তৃক কার্যকর করা হয়েছে। তাই বলা চলে এটি প্রতিবন্ধী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবনে বিশেষ একটি ভূমিকা পালন করে। আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা জানব প্রতিবন্ধী কি, প্রতিবন্ধী কয় প্রকার, প্রতিবন্ধী ভাতা কি, প্রতিবন্ধী ভাতার উদ্দেশ্য, প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন, প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার নিয়ম, প্রতিবন্ধী ভাতা কত সালে চালু হয়, প্রতিবন্ধী ভাতা কয় মাস পর পর দেয়, প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা ২০২৪ এ বিষয়ের সম্পূর্ণ তথ্য।

প্রতিবন্ধী কি

শাব্দিক অর্থের দিক থেকে দেখতে গেলে প্রতিবন্ধী শব্দের অর্থ দাঁড়ায় বাধা প্রাপ্ত। তবে সাধারণত প্রতিবন্ধী বলতে আমরা বুঝি কোন মানুষের শারীরিক এবং মানসিক অক্ষমতাকে। অর্থাৎ এটি এমন একটি অবস্থা যা মানুষের শারীরিক ত্রুটি এবং মানসিকভাবে বুদ্ধিহীনতা প্রকাশ করে থাকে।

আবার এভাবেও বলা যায় যে, যাদের শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টিশক্তি, বাকশক্তি, পদ সঞ্চালন, বোধগম্যতা বা বুদ্ধিহীনতা অথবা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করার মত শারীরিক সক্ষমতা নেই বা বুদ্ধিমত্তা নেই তাদেরকে প্রতিবন্ধী বলে। এবং সহজ ভাষায় বলা যায়, দৈনন্দিন জীবনের যে সকল কাজকর্ম থাকে সে সকল কাজকর্ম না করতে পারাটাই হচ্ছে প্রতিবন্ধীকতা এবং যারা এ সকল রোগকে আক্রান্ত তাদেরকে বলা হয় প্রতিবন্ধী।

প্রতিবন্ধী কয় প্রকার

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন সম্পর্কে জানার আগে চলুন জেনে নেই প্রতিবন্ধি কয় প্রকার। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলে থাকে। প্রতিবন্ধী বিভিন্ন প্রকারের আছে, যা আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। এটি এমন একটি বিষয় যা মানব সমাজের উন্নতি এবং উন্নয়নে বিরুপ প্রভাব ফেলে। প্রতিবন্ধী বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে বা বিভিন্ন ভাবে বিভক্ত হতে পারে। প্রকারভেদের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীকতাকে বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কারণ এবং ধরন অনুযায়ী চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-

  • মানসিক প্রতিবন্ধী
  • শারীরিক প্রতিবন্ধী
  • সামাজিক প্রতিবন্ধী
  • অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধী

মানসিক প্রতিবন্ধীঃ মনোবিকারের কারণে যেটি ঘটে তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী বলে। এর মধ্যে অতিরিক্ত চিন্তা, মনোবিকার এবং মানসিক সমস্যার জন্য প্রতিবন্ধী হতে পারে।

শারীরিক প্রতিবন্ধীঃ যা শারীরিক অসুস্থতার জন্য ঘটে। এর মধ্যে অতিরিক্ত শ্রম, অসুস্থতা এবং বিভিন্ন অবস্থার সমস্যা থাকতে পারে।

সামাজিক প্রতিবন্ধীঃ এটি সাধারণত সামাজিক সম্পর্কের সমস্যার জন্য ঘটে। এর মধ্যে সামাজিক আলোচনা, সামাজিক অবস্থা এবং সামাজিক বিশেষতা থাকতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধীঃ এটি সাধারণত অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ঘটে থাকে। নিঃস্ব, ভিক্ষুক, ভবঘুরে এরা সব অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধীর আওতাভুক্ত।
প্রতিবন্ধীর প্রকারভেদের মধ্যে ধরন অনুযায়ী প্রতিবন্ধীর যে ধরণ গুলো আছে তা ১২ ধরনের সনাক্ত করা হয়েছে। নিম্নে এর ধরন গুলো দেয়া হলো।

  • বাক প্রতিবন্ধী
  • দৃষ্টি প্রতিবন্ধী
  • শ্রবণ প্রতিবন্ধি
  • শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী
  • বুদ্ধি প্রতিবন্ধী
  • অটিজম বা অটিজমস স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস
  • শারীরিক প্রতিবন্ধী
  • মানসিক প্রতিবন্ধী
  • ডাউন সিনড্রোম
  • সেরিব্রাল পলসি
  • অন্যান্য প্রতিবন্ধী
  • বহুমাতৃক প্রতিবন্ধী

প্রতিবন্ধী বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকলে এটি জীবনে বেশ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনা থাকা প্রয়োজন। আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন প্রদান করা উচিত।

প্রতিবন্ধী ভাতা কি

প্রতিবন্ধী ভাতা হল এমন একটি অর্থনৈতিক সুযোগ যা, সরকার বা সংস্থার মাধ্যমে সাধারণত অসহায় মানুষকে প্রদান করা হয়ে থাকে। অন্যভাবে বলা যায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের তরফ থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য করা একটি সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচিকে প্রতিবন্ধী ভাতা বলে। বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে সহজ করার উদ্দেশ্যে ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের অর্থ বছর থেকেই এই প্রতিবন্ধী ভাতার কার্যক্রমটি শুরু করা হয়েছিল।

শুরুর দিকে খুব অল্প সংখ্যক ব্যক্তি এই প্রতিবন্ধীর ভাতার অন্তরভুক্ত হয়েছিলেন। যদি আবার বর্তমানে অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২৪ অর্থ বছরে এই প্রতিবন্ধী ভাতার আওতাভুক্ত হয়েছেন প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষ। যেহেতু এই ভাতাটি শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সেহেতু এই প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা কেবলমাত্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই গ্রহণ করতে বা ভোগ করতে পারবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা কেবল মাত্র একটি সাধারণ প্রয়োজনীয়তা নয়, বরং এটি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে সাহায্য করে এবং তাদের মানবিক অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতন করে থাকে। সমাজের সাথে সমর্থন এবং সহায়তা প্রদান করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ভাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রতিবন্ধী ভাতার উদ্দেশ্য

প্রতিবন্ধী ভাতা সরকারের দ্বারা প্রদান করা হয় যাতে করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের জীবনযাপনের জন্য অর্থ পায়। তাদের প্রতিবন্ধীতা দূর করার জন্য এই ভাতা অতীব প্রয়োজন।

  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক এবং সামাজিক উন্নয়ন
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রদত্ত সংবিধানিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করা
  • সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আওতায় আনয়ন
  • জরিপের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান করা
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি আইনগত নিরাপত্তা প্রদান করা
  • কর্তৃপক্ষ দ্বারা বাছাইকৃত সুনিদৃষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা প্রদান করা
  • জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ।

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন

প্রতিবন্ধী ভাতা হচ্ছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন যাপনকে সহজ করার লক্ষ্যে বা উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক নেয়া একটি উদ্যোগ। সরকার কর্তৃক নেয়া এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে বা এই ভাতা পেতে হলে সর্বপ্রথম যা করতে হবে তা হচ্ছে আবেদন। অর্থাৎ এই টাকা পেতে হলে সর্বপ্রথম আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম এবং শর্তাবলী অনুসরণ করতে হবে। এই আবেদন করার জন্য প্রথমেই কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা তথ্য এবং দলিলসমূহ সংগ্রহ করতে হবে।

সাথেই সরকারি অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিবন্ধী ভাতা এপ্লিকেশন ফর্মটি অবশ্যই সম্পূর্ণ সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। এই আবেদনটি সঠিকভাবে পূরণ করা এবং সঠিক সময়ে জমা দেওয়া উচিত। কারণ এই ভাতাটি সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন যাপনের জন্য এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ যা প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার।

তাই কোন ভুল না করেই সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই তথ্যগুলি সরকারি কর্তৃপক্ষের নিকট সময়মতো জমা দিতে হবে। যদিও বা বর্তমান সময়ে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন অনলাইনের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। এবং এটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য খুব সহজ একটি প্রক্রিয়া। আমরা আজকের এই পোস্টে প্রতিবন্ধী ভাতার অনলাইন আবেদন কিভাবে করতে হয় তার সম্পর্কেও আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রতিবন্ধী ভাতা কত সালে চালু হয়

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার গড় হিসেবে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে আছে প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও আর সব সুস্থ মানুষদের মত সম অধিকার ও সম মর্যাদা পাওয়া উচিৎ। যদিও বা সরকার এর বিষয়ে পূর্ব থেকেই সচেতন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের আইন অনুযায়ী ১৫,১৭,২০ এবং ২৯ অনুচ্ছেদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে অন্যান্য নাগরিকদের মত করে সমসুযোগ এবং সমঅধিকার প্রদান করা হয়েছে।

২০০৫ থেকে ২০০৬ অর্থ বছর হতে দায়-দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি পরিবর্তন করা হয়। শুরুর দিকে মাসিক ২০০ টাকা হারে জনপ্রতি ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয় প্রায় ১,০৪,১৬৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কে। ২০০৮ থেকে ৯ অর্থ বছরের প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধাভোগকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল প্রায় দুই লক্ষ জন। এবং এই ভাতার জন্য বরাদ্দকৃত বাৎসরিক অর্থ ছিল প্রায় ৬০ কোটি টাকা, মাথাপিছু ২৫০ টাকা করে মাসিক ভাতার হারে।

২০০৯ থেকে ১০ অর্থবছরের সুবিধা ভোগ কারীর সংখ্যা এসে দাঁড়ালো প্রায় ২ লক্ষ ৮৬ হাজার জনে, যার মাসিক ভাতার হার ৩০০ টাকায় পরিণত হয় এবং বার্ষিক বরাদ্দকৃত টাকার সংখ্যা ৯৩.৬০ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০১০ থেকে ১১ অর্থবছরে সুবিধা ভোগ কারীর সংখ্যা হলো ২ লক্ষ ৮৬ হাজার জন। এ সময় মাসিক ভাতা জন প্রতি প্রায় ৩০০ টাকা হারে সারা বছরের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দাঁড়ায় প্রায় ১০২.৯৬ কোটি।

২০১৮ থেকে ২০১৯ সালে প্রায় ১০ লক্ষ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কে মাথাপিছু ৭০০ টাকা করে মাসিক ভাতা যার বার্ষিক বরাদ্দকৃত টাকা হিসেবে ৮৪০.০০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ অর্থবছরে সুবিধা ভোগকারী সংখ্যা এসে দাঁড়ায় প্রায় ২৯.০০ লক্ষ্যতে। যার মাসিক ভাতার হার মাথাপিছু প্রায় ৮৫০ টাকা।

প্রতিবন্ধী ভাতার অনলাইন আবেদন

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন এখন অনলাইনে করার কারণে অনেক সুবিধা এবং সহজতা পাওয়া যায়। প্রতিবন্ধীদের প্রয়োজনীয় তথ্য এবং নথি সঠিকভাবে প্রদান করে তারা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। এটি তাদের সময় এবং শ্রম দুটি সংরক্ষণ করে এবং তাদের জীবনকে সহজ করে। তবে অনলাইনে ফরম পূরণের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে বা সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন রকম ভুল ভ্রান্তি না হয়ে যায়। কারণ ভুল তথ্য প্রদান করলে সেই আবেদন গ্রহণযোগ্যতা পায় না। তাই খুব সতর্কতার সাথে প্রতিটি ধাপ এর তথ্যগুলো সঠিকভাবে দিতে হবে। নিম্নে এই অনলাইন ফর্ম এর কি কি ধাপ পূরণ করতে হতে পারে তার কিছুটা ধারণা দেয়া হলো।

  • সর্বপ্রথম আপনাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ওয়েবসাইটটিতে গিয়ে লগ ইন করতে হবে।
  • লগইন করা হলে দ্বিতীয় ধাপে আপনাকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে আবেদন ফরমটি পূরণ করতে হবে।
  • অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয় পত্র বা সুবর্ণ নাগরিক কার্ড দিয়ে আপনাকে আবেদনটি করতে হবে।
  • সঠিকভাবে আবেদনটি করার পর প্রতিবন্ধী ভাতার ফর্মের আবেদন ফরমটির ডাউনলোড এবং প্রিন্ট আউট করে নিতে হবে।
  • এরপর স্থানীয় চেয়ারম্যান অথবা পৌরসভার কাউন্সিলর এর স্বাক্ষর সহ সুপারিশকৃত কাগজপত্র উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে বা পৌরসভায় নিয়ে যেতে হবে।
  • স্বাক্ষরকৃত কাগজ সহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র একত্রে জমা দিতে হবে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে বা পৌরসভায়।
  • নিজ মোবাইল ফোন অথবা কম্পিউটার থেকেও এই সুবিধা গ্রহণ করে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
  • খেয়াল রাখতে হবে অনলাইনে আবেদনের সময় যেন কোনরকম ভুল ত্রুটি না হয়।
  • প্রয়োজনে ফরম পূরণ হয়ে যাওয়ার পর সাবমিট করার আগে আবারো একবার চেক করে নিবেন।
  • জেনে রাখা প্রয়োজন যে মাঝে মাঝে সার্ভারে কোন প্রকার সমস্যা হলে ফরম পূরণের ক্ষেত্রে একটু ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে, "সাময়িকভাবে অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত" অথবা "সিস্টেম উন্নয়নের কাজ চলছে" এমন ধরনের লেখা কম্পিউটারে প্রদর্শিত হয়।

অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করার সুবিধা এবং সহজতা একটি মানবিক পদক্ষেপ যা দেশের দুর্বল ও অস্বাভাবিক শরণার্থীদের জন্য সহায়ক। এটি তাদের জীবনে একটি পরিবর্তন এনে দেয় এবং তাদের মানবিক অধিকার ও স্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়। তাই, প্রতিবন্ধীদের জন্য অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার নিয়ম

প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার। এই ভাতা পাওয়ার নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করা উচিত যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের অধিকার পেতে পারে এবং সমাজে সম্মান পেতে পারে। এই ভাতা পাওয়ার নিয়ম অনুসরণ করার জন্য প্রথমেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির যোগ্যতা নির্ধারণ করা উচিত। সরকারী নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির যোগ্যতা অনুসারে ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়াও, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির যোগ্যতা নির্ধারণে সঠিক তথ্য ও প্রমাণপত্র প্রদান করা উচিত।

প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদন করা হলে আবেদনের প্রিন্ট ফটোকপি করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক অথবা আপনি যদি পৌরসভার বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে পৌরসভার মেয়রের স্বাক্ষর নিয়ে আবেদন পত্রটি আপনাকে উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এরপর উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে আবেদন পত্রটি মনজুর হয়ে আসলে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আপনি প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা কয় মাস পর পর দেয়

সাধারণত প্রতিবন্ধী ভাতা আমাদের সমাজের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সরকার কর্তৃক এই ভাতা প্রদানের কারণে প্রতিবন্ধীদের আর্থিক এবং মানসিক দুর্বলতা কমতে সহায়তা হয়। প্রতিবন্ধী ভাতা প্রায় তিন মাস পর পর দেওয়া হয়ে থাকে। যদি বছরের হিসাব করতে হয় তাহলে বলা যায়, প্রতি বছরে প্রায় চার মাস দেওয়া হয়ে থাকে এই প্রতিবন্ধী ভাতা।

এই ভাতা তিন মাস পর পর আপনাকে বিকাশ অথবা নগদের মাধ্যমে আপনার মোবাইল নাম্বারে প্রদান করা হবে। অর্থাৎ তিন মাস পর পর আপনার মোবাইল ফোনে এই টাকার মেসেজ পাবেন এবং তার পরই আপনার মোবাইলে উক্ত ভাতার টাকা চলে আসবে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা নেওয়ার জন্য আপনাকে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা ২০২৪

প্রতিবন্ধী ভাতা তাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ যারা সার্বিকভাবে এবং মানসিকভাবে অক্ষম এবং কোনোভাবেই আয় করতে পারেনা। এই ভাতা মূলত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম ভূমিকা পালন করে থাকে। চলতি বছরের বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর নিকট বি-স্ক্যান এর পক্ষ থেকে শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার কথা ভেবে প্রায় সাতটির মত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।

সরকার কর্তৃক প্রতিবন্ধীদের সামাজিক সুরক্ষার জন্য আগামী ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাত্রার ভিত্তিতে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা প্রদানের জন্য টাকা প্রস্তাবে বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। যদিও বা বর্তমানে মাথাপিছু ৮৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হয়ে থাকে। তাছাড়াও সরকার প্রায় তিন লাখ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দ করেছে মাসিক হিসাবে ২০০০ টাকা।

লেখকের মন্তব্য

আশা করি উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত সব ধরনের তথ্য জানতে পেরেছেন। আজকের পোস্ট সম্পর্কে আপনার যদি কোন মতামত থাকে বা কোন মন্তব্য থেকে থাকে তাহলে আমাদের পোষ্টের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন। এবং আমাদের এই পোষ্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে, আপনার আশেপাশের সকলকে বেশি বেশি শেয়ার করে সবাইকে প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়

comment url