শীতকালে কিভাবে শিশুর পরিপূর্ণ যত্ন নিবেন জানুন
চলছে শীতকাল।আপনার বাসায় কি ছোট বাচ্চা রয়েছে? এই শীতে কি আপনার বাচ্চার পরিপূর্ণ যত্ন নিতে পারছেন? শীতকাল আসলেই যাদের নবযতক বাচ্চা রয়েছে সে সকল বাবা মায়েরা চিন্তিত হয়ে পড়েন।হওয়াটাই স্বাভাবিক।কারণ এরকম আবহাওয়াই বাচ্চারা বেশি রোগাক্রান্ত হয়।তবে ভয়ের কোন কারণ নাই।চিন্তিত না হয়ে বরং সচেতন হওয়া ভালো।আজকের এই প্রতিবেদনে বেশ কিছু তথ্যসূত্র অনুযায়ী আপনাদেরকে জানিয়ে দেব শীতকালে কিভাবে আপনার বাচ্চার পরিপূর্ণ যত্ন নিতে পারবেন সে সম্পর্কে।শীতকালে শিশুদেরকে একটু বাড়তি যত্নে রাখতে হয়।আর এই বাড়তি যত্ন নিতে যে সকম নিয়ম গুলো মেনে চলতে হবে তা নিয়েই মূলত আলোচনা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।আপনি যদি শীতে আপনার শিশুর যত্নে চুল পরিমান কমতি না রাখতে চান তাহলে পুরো আর্টিকেল টি মনযোগ সহকারে পড়ুন এবং আমাদেরকে আপনার মতামত জানিয়ে দিন।উক্ত আর্টিকেল পড়ার মাধ্যমে আপনি শীতকালে বাচ্চার যত্ন নেয়ার অনেক নিয়ম-কানুন শিখতে পারবেন।চলুন তাহলে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।
পেইজ সূচিপত্রঃ- শিতকালে কিভাবে শিশুর পরিপূর্ণ যত্ন নিবেন জানুন
- শীতকালে কিভাবে শিশুর পরিপূর্ণ যত্ন নিবো?
- শীতকালে শিশুর যত্নে এই ১০ টি তেল মাখান
- শিশুর ত্বকের যত্নে তেল নাকি লোশান মাখাবেন
- শীতকালে নবজাতকের পরিপূর্ণ যত্ন নিতে পড়ুন
শীতকালে কিভাবে শিশুর পরিপূর্ণ যত্ন নিবো?
শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকার কারণে কম বেশি সবারই একটু বাড়তি সাবধানতা এবং যত্নের প্রয়োজন পড়ে। যেহেতু শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকে তাই এই সময় রোগ ব্যাধির প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগা জ্বর সর্দি কাশি ইত্যাদি শীতকালের অতি সাধারণ রূপ। আমরা জানি শীতকালে বিশেষ করে শিশুদেরকে এবং বয়স্কদেরকে একটু বাড়তি যত্ন নিতে হয়। প্রতিবেদনের এই ধাপে আমরা আপনাদেরকে বলে দেব শীতকালে কিভাবে আপনার শিশুর পরিপূর্ণ যত্ন নিতে পারবেন।চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক।
নবজাতক শিশুর কথা আসলে সর্বপ্রথম মাথায় আসে তার শরীর মালিশের কথা। নবজাতক অবস্থায় শিশুর শরীর প্রচুর পরিমাণে মালিশ করতে হয়। এতে করে শিশুর সুন্দর শরীর গঠনে অনেক কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে শিশুর শরীর মালিশ করতে যেকোনো ধরনের ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করবেন না। বাজার থেকে ভালো কোম্পানির বেবি অয়েল, বডি ওয়াশ, বেবি শ্যাম্পু, বেবি লোশন এগুলো ব্যবহার করতে হবে। সব থেকে ভালো হয় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
শিশুকে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এবং সব থেকে বড় কথা শিশুকে একটি গরম উষ্ণ ঘরে রাখতে হবে। আপনারা শীতকালে নবজাতক শিশুকে বাইরে বের করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ বাইরের অতিরিক্ত ঠান্ডা তাপমাত্রা নবজাতকের ক্ষতি করতে পারে। নবজাতকের সামান্য অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যথাসম্ভব নবজাতককে উষ্ণ রাখার চেষ্টা করতে হবে।
শীতকালে শিশুর চুল কেটে ফেলা উচিত নয়। গবেষকদের মতে শিশুর চুল তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে। শীতকালে শিশুর বেশিরভাগ সময় মায়ের শরীরের সাথে জড়িয়ে রাখুন। কারণ একটি বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পর সব থেকে বেশি সময় তার মায়ের কাছে থাকে। এজন্য গবেষকদের মধ্যে শিশুকে বিশেষ করে শীতকালে মায়ের কোলে ঘেষে রাখা উচিত। এতে শিশু উষ্ণ অবস্থায় থাকবে।
শিশুকে ঘন ঘন মায়ের দুধ পান করতে হবে। কারণ নবজাতক অবস্থায় শিশুর শরীর গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। শিশুকে মায়ের বুকের দুধ ব্যতীত অন্য দুধ পান করানো উচিত নয়। কারণ গবেষকদের মধ্যে মায়ের বুকের দুধ বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
একটি শিশু বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে থাকে। গবেষকদের মধ্যে একটি শিশুর 14 থেকে 16 ঘন্টা আরামের ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ ডাক্তার পরামর্শ দিয়ে থাকে শিশুকে সকালের সূর্যের প্রথম হালকা আচে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ধরে রাখুন।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শীতকালে শিশুকে যতদূর সম্ভব ঘরের বাইরে বের করবেন না। এবং শিশুকে যে ঘরে রাখা হবে সেই ঘরের দরজা জানালা খুলবেন না। দরজা জানালা বন্ধ করে সব সময় ঘরের মধ্যে একটু উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করে রাখুন। এতে শিশুকে ঠান্ডা লাগার ভয় থাকবে না।
শিশুকে নরম এবং গরম পোশাকে মুড়িয়ে রাখুন। ডাক্তারদের পরামর্শ শিশুর জন্য আরামদায়ক নরম পোশাক ব্যবহার করা উত্তম। অতিরিক্ত শীতকালে শিশুর মাথা সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের টুপি ব্যবহার করুন।
শিশুকে যেকোনো ধরনের তেল ব্যবহার হতে সতর্কতা অবলম্বন করুন।তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তেল অথবা বডি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শিশুকে গোসল করানোর পর সমস্ত শরীরে বডি লোশন অথবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মশ্চারাইজার ভালোভাবে পুরো শরীর মেসেজ করতে হবে।
শিশুর জন্য ভালো মানের ডাইপার ব্যবহার করুন। শিশুর ডাইপার ব্যবহারের ক্ষেত্রে জিক সমৃদ্ধ ক্রিম শিশুর ত্বকে ব্যবহার করুন। কিছুক্ষণ পর পর ডাইপার চেক করুন। ডাইপার ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবর্তন করে ফেলুন।
শীতকালে শিশুদের জন্য একটু বাড়তি যত্নের প্রয়োজন পড়ে। এই বাড়তি যত্ন নিতে আপনাকে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেমন শীতকালে শিশুকে মোটেই ঠান্ডা খাবার খেতে দেওয়া যাবে না। আপনার শিশুকে বেশি বেশি তরল পুষ্টকর খাবারগুলো খাওয়ান।
ছয় মাসের অধিক বয়সি বাচ্চাদেরকে কমলালেবুর রস অথবা বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে এতে করে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আর শিশুদেরকে জীবনের শুরুর দিক থেকেই অধিক পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।
শীতে শিশুর যত্নে সবসময় হাত মোজা পা মোজা এবং মাথার টুপি ব্যবহার করুন। বাচ্চারা অধিকাংশ সময় এগুলো খুলে ফেলতে চায় কিন্তু তবুও এগুলো পরিয়ে রাখতে হবে। এতে করে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকবে না।
শীতকালে শিশুর যত্নে এই ১০ টি তেল মাখান
শিশুর ত্বকের যত্নে তেল নাকি লোশান মাখাবেন
শীতকালে নবজাতকের পরিপূর্ণ যত্ন নিতে পড়ুন
নবজাতক বলতে একটি শিশুর জন্ম নেওয়ার দিন থেকে শুরু করে পরের ৪০ দিন বয়স পর্যন্ত নবজাতক বলা হয়। গবেষকদের মধ্যে নবজাতক অবস্থায় একটি শিশুর সবথেকে বেশি যত্নের প্রয়োজন পড়ে। নবজাতকের পরিপূর্ণ যত্ন নিতে শীতকাল একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শীতকাল নবজাতকের জন্য হুমকি স্বরূপ। শীতকালে আপনার সামান্য ভুলের কারণে আপনার নবজাতকের ক্ষতি হতে পারে। শীতকালে নবজাতকের জন্য বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। নবজাতকের জন্য বিশেষ করে শীতকালে আপনাদেরকে যে সকল নিয়ম-কানুন গুলো মেনে চলা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেছি। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url