ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখার উপায়
আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত পাঠক বৃন্দ, বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আর এই স্মার্ট ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে রয়েছে বিস্তারিত আলোচনা। স্মার্ট ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখার উপায় গুলো সম্পর্কে সবাইকে জানতে হবে। কারণ স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তাহলে চলুন মূল আলোচনা অর্থাৎ স্মার্ট ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখার উপায় গুলো সম্পর্কে আপনাদেরকে অবগত করা যাক।আমরা আমাদের ব্যবহারের ভুলের কারণে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসটি খুব দ্রুত আমাদের অজান্তে নষ্ট করে ফেলি। এই প্রতিবেদনের মধ্যে আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দেব কিভাবে আপনার হাতে থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসটি অর্থাৎ আপনার ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন অক্ষত অবস্থায় রাখতে পারবেন। এই জন্য পুরো আর্টিকেল টি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।
আমাদের প্রত্যেকেরই হাতে থাকা স্মার্টফোনের ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে। এই নির্দিষ্ট করা মেয়াদ বা সময়কাল সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ব্যবহারের ধরনের উপর। হ্যাঁ, এটা সত্য। কারণ আমাদের বেপরোয়া ভাবে ব্যবহার করার কারণে আমাদের মূল্যবান স্মার্টফোন টির ব্যাটারি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আমরা অনেকেই আছি যারা ফোন চার্জে বসিয়ে রেখে গেম খেলতে পছন্দ করি। ফোনের ব্যাটারির জন্য এটি একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এইসব বিষয়বস্তুগুলো আমাদের কাছে ছোটখাটো মনে হলেও ফোনের ব্যাটারির উপর এটি বাজে ভাবে প্রভাব ফেলে।ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে বলতে গেলে সর্বপ্রথম আসি ফোনের চার্জিং এর বিষয়ে।
ফোন চার্জ করার ক্ষেত্রে- আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন শতকরা ৯৯ % মানুষ স্মার্টফোন চার্জ করার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে অবগত নন। বেশিরভাগ মানুষ একটি কাজে অভ্যস্ত আর সেটি হচ্ছে তারা সারাদিন একটানা ফোন ব্যবহার করে এবং রাতে ঘুমানোর ঠিক আগ মুহূর্তে ফোন চার্জে বসিয়ে রেখে ঘুমিয়ে যায়। এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন চার্জার হতে আলাদা করে। ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘ দিন ভালো রাখার জন্য আপনাকে এই বদ অভ্যাসটি আজকেই ত্যাগ করতে হবে।
হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। আপনার এই বদ অভ্যাসটির কারণে আপনার হাতের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসটি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আপনি এখন নিশ্চয়ই ভাবতে পারেন যে বর্তমান সময়ের আপডেট স্মার্ট ফোনগুলোতে খুব সুন্দর একটি সিস্টেম চালু করা আছে। আর সেটা হচ্ছে ফোনের ব্যাটারি 100% ফুল চার্জ হয়ে গেলে ফোন নিজে থেকেই চার্জ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। অতএব আপনার মনে এখন প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে সারারাত ফোন চার্জে থাকলে অসুবিধাটা কোথায়। আজ্ঞে হ্যাঁ অসুবিধা রয়েছে।
আপনার ধারণা অনুযায়ী আপনি সঠিক কিন্তু এখানে একটি ঘটনা অনবরত ঘটতে থাকে আর সেটি হচ্ছে আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন আপনি যখন 100% ফোনের ব্যাটারি ফুল চার্জ করে বাসা থেকে বের হন তখন ফোন বিন্দুমাত্র ব্যবহার না করলেও দেখবেন ফোনের ব্যাটারি 100% থেকে 99 অথবা 98% হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ কি হচ্ছে আপনার স্মার্টফোনটি সবসময় চালু অবস্থায় থাকে। এবং এর ভিতরে বিভিন্ন কার্যক্রম চলতে থাকে।
ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন অ্যাপস গুলো রানিং থাকে। যেমন আপনার ফোনের ডাটা কানেকশন অথবা ওয়াইফাই কানেকশন অন থাকে। আপনার ফোনের অটো ব্রাইটনেস মোড অন থাকে। আপনার ফোনের লোকেশন বাটন অন থাকে। এই ধরনের আরো ছোটখাটো বিভিন্ন কার্যক্রম আপনার ফোনের অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে চলমান অবস্থায় থাকে। আর মূলত এইসব কারণে আপনার ফোনের ব্যাটারি কখনোই 100% চার্জ থেকে যায় না। এটি ধীরে ধীরে অনবরত কমতে থাকে আপনি একেবারে ব্যবহার না করলেও।
তাহলে মূল আলোচনা ছিল আমাদের, ফোন সারারাত চার্জে বসিয়ে না রাখা। ওপরের আলোচনার মাধ্যমে এতক্ষণ আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন যে কেন ফোন সারারাত চার্জে বসিয়ে রাখা উচিত নয়। কারণ হচ্ছে যখন ফোনে 100% চার্জ হয়ে যাবে তারপর ফোন চার্জ নেওয়া বন্ধ করে দেবে ঠিকই। কিন্তু যখন ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন অ্যাপস গুলো এবং অপশন গুলো রানিং অবস্থায় থাকবে তখন ঠিকই ফোনের অভ্যন্তরীনে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান থাকবে যার কারণে ব্যাটারির চার্জও কমতে থাকবে। আর যখনই ফোনের চার্জ 100% থেকে 99% হবে তখন ফোন আবার চার্জ নেওয়া শুরু করবে। কারণ আপনি ফোন চার্জে বসিয়ে রেখেছেন। আর এই প্রক্রিয়া সারারাত চলতে থাকবে। এবং আপনার ফোনের ব্যাটারির মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নতুন ফোন কিনে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে- আপনাদেরকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি বাজার থেকে নতুন কোন ফোন কিনেই সাথে সাথে ব্যবহার করা শুরু করে দিবেন না। কারণ ফ্যাক্টরিতে সেটা তৈরি হওয়ার পর ডিভাইসটিতে কিছু পরিমাণ চার্জ করা থাকে। এটি আপনি একটি ফোনের দোকান থেকে নতুন ফোন কিনে আনবক্স করলেই দেখতে পাবেন ফোনে কিছু পরিমাণ চার্জ রয়েছে। অনেকেই একটি বড় ভুল করে থাকে আর তা হলো এই সামান্য পরিমাণ চার্জ নিয়ে ফোনকে চালানো শুরু করে।
যতক্ষণ না সেই চার্জটুকু শেষ হয় তখন পর্যন্ত ফোন চার্জে বসায় না। আপনাদেরকে অবগত করার ক্ষেত্রে জানিয়ে রাখে এরকম ভুল আপনারা কখনোই করবেন না। যেহেতু ফোনটি তৈরি হওয়ার পর আপনার হাতে প্রথম অন হয়েছে। একটি ফোন প্রথম চালু করার পরে নতুন করে সকল সেটিংস সেটআপ করার পরে সর্ব প্রথম কাজ হবে ফোনকে ১০০% ফুল চার্জ করে নেওয়া এবং তার পর ব্যবহার করা। নচেৎ ফোনের ব্যাটারির উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। অতএব একটি নতুন ফোন ব্যবহার করা শুরু করার আগে তাকে অবশ্যই ১০০% চার্জ করে তারপরে ব্যবহার করা শুরু করবেন।
ফোন রিস্টার্ট করার ক্ষেত্রে- আপনাদেরকে অবগত করার ক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি ফোন এমন একটি ডিভাইস যা কেনার পর থেকে আমরা সাধারণত দিনরাত 24 ঘন্টা চালু অবস্থাতেই রাখি। আমরা স্বেচ্ছায় কিছুক্ষণের জন্যও সেটিকে শাটডাউন-অফ করে রাখি না। কিন্তু তথ্যসূত্র অনুযায়ী এবং স্মার্টফোন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ফোন কিছুক্ষণের জন্য পাওয়ার অফ করে রাখা উচিত। এতে করে ফোনের অনেক অসুবিধার সমাধান হয়। ব্যাটারির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
আপনি প্রতিদিন কিছুক্ষণের জন্য ফোন পাওয়ার অফ করে না রাখতে পারলেও কয়েকদিন পর পর এই কাজটি করুন। তাহলে আপনার ফোনের হার্ডওয়্যার এবং ব্যাটারি দুটোই সুস্থ থাকবে এবং দীর্ঘায়ু হবে।
ফোনের চার্জারের ব্যাপারে- আপনাদেরকে অবগত করার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় জানিয়ে রাখি, আর সেটা হচ্ছে ফোনের নিজস্ব চার্জার দিয়ে ফোন চার্জ করা। আপনারা কখনোই একটি কোম্পানির ফোনের চার্জার দিয়ে আরেকটি ফোন কোম্পানির ফোন চার্জ করবেন না। এমনকি একই কোম্পানির ফোন হলেও ভিন্ন ভিন্ন ফোনের মডেল সহ সেই মডেলের ফোনের সঙ্গে নিজস্ব চার্জারও দেওয়া থাকে। অর্থাৎ আপনি বাজার থেকে ফোন কেনার সময় সেই ফোনের সঙ্গে যে চার্জার দেওয়া থাকবে কেবলমাত্র সেই চার্জার দিয়ে আপনার ফোনটি চার্জ করবেন।
কারণ প্রতিটি ফোন অনুযায়ী তাদের নির্দিষ্ট ব্যাটারি ক্যাপাসিটি দেওয়া হয়ে থাকে। এবং সেই ক্যাপাসিটি অনুযায়ী সেই স্মার্ট ফোনের সাথে একটি করে চার্জারও দেওয়া থাকে। এর মানে হচ্ছে আপনাকে সেই চার্জার দিয়েই উক্ত ফোনটি চার্জ করতে হবে। কারণ একমাত্র সেই চার্জারটি উক্ত ফোনের সাথে এডজাস্ট করা আছে। আপনি যদি আপনার ক্রয় কৃত ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন অক্ষত অবস্থায় রাখতে চান তাহলে শুধুমাত্র ফোনের সঙ্গে দেয়া চার্জার দিয়েই আপনার ফোনটি চার্জ করুন।
বিভিন্ন ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার করার ক্ষেত্রে- আপনাদেরকে অবগত করার উদ্দেশ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়ে রাখি সেটি হচ্ছে, বর্তমান সময় বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট চার্জার আমরা লক্ষ্য করে থাকি। এই ফাস্ট চার্জার গুলোর কাজ হচ্ছে মূলত স্বল্প সময়ে ফোনকে দ্রুত চার্জ করে ফেলা। এ ধরনের ফাস্ট চার্জার গুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এই ধরনের ফাস্ট চার্জার গুলো আপনার ফোনের ব্যাটারির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে থাকে। কিভাবে চলুন আপনাদেরকে একটু বুঝিয়ে বলা যাক।
ধরুন আপনি একটি ফোন ব্যবহার করছেন। এবং আপনার ফোনের নিজস্ব চার্জার দিয়ে চার্জ করলে ফুল চার্জ হতে অনেক সময় লেগে যায়। এখন আপনার মনে হতে পারে আপনার ফোনের চার্জার হয়তো ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এবং আপনি আপনার ফোনকে দ্রুত চার্জ করার জন্য বাজার থেকে একটি ভালো কোম্পানির ফাস্ট চার্জার কিনে ব্যবহার করা শুরু করতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে যা হবে আপনার কয়েকটি তো সেই ফাস্ট চার্জারটি আপনার ফোনের সঙ্গে ম্যাচিং না করাই আপনার ফোনের মাদারবোর্ড এর চার্জিং আইসি এবং ফোনের ব্যাটারি দুটো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার করার সুবিধা একটাই যে সেটি আপনার ফোনকে দ্রুত চার্জ করে ফেলবে কিন্তু পক্ষান্তরের অসুবিধা অনেক বড়। এর পরিণাম স্বরূপ আপনার ফোন একসময় ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। সার্জেন ব্যবহার করার ফলে আপনার ফোনের ব্যাটারি কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাবে। এবং ব্যাটারির দীর্ঘক্ষন চার্জ ধারন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
ফোন চার্জে বসিয়ে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে- আপনাদেরকে অবগত করার উদ্দেশ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়ে রাখি যে আপনারা কখনোই চার্জে দেওয়া অবস্থায় ফোন চালাবেন না। অনেকের মধ্যে এই অভ্যাসটি লক্ষ্য করা যায় যে চার্জে দেওয়া অবস্থায় ফোনে গেম খেলে অথবা অনলাইন ব্রাউজ করে। ফোন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ফোন চার্জে দেওয়া অবস্থায় যদি ফোন ব্যবহার করা হয় তাহলে ফোনের ব্যাটারির উপর অনেক চাপ পড়ে।
এতে করে ব্যাটারির ক্ষতিসাধন হয় এবং তার সাথে সাথে পুরো ফোনের ওপরেই চাপ পড়ে।চার্জে দিয়ে ফোন ব্যবহার করলে ফোন দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহার করলে ফোনের মাদারবোর্ড এর উপর চাপ পড়ে এবং ফোনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। এর ফলে ফোনে বিভিন্ন ধরনের হ্যাং করতে পারে অথবা ল্যাকিং এর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিভিন্ন অ্যাপস বন্ধ করার ক্ষেত্রে- একটি স্মার্টফোনের ভিতরে অনেকগুলো অ্যাপস আমরা লক্ষ্য করে থাকি এর মধ্যে হাতে গুনে কয়েকটি অ্যাপস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগলেও বাকিগুলো আমাদের কোন প্রয়োজনে আসে না। এই অ্যাপসগুলোকে মূলত আনইনস্টল অথবা ডিজেবল করে রাখা উচিত। সব সময় প্রয়োজনীয় অ্যাপস গুলি রেখে বাকিগুলি ডিজেবল করে রাখা উচিত। কারণ ফোনে যখন অনেকগুলো অ্যাপস একসাথে রানিং অবস্থায় থাকে তখন ফোনের ব্যাটারি ব্যাপক ক্ষয় হতে থাকে।
অনেক সময় আমরা আমাদের ব্যবহারকৃত অ্যাপগুলিও ঠিকমতো বন্ধ করতে ভুলে যায়। অর্থাৎ কোন অ্যাপ্লিকেশন অন করলে আমরা শর্টকাটে হোমে ফিরে আসি। এবং ফলাফলস্বরূপ সেই অ্যাপটি রানিং অবস্থায় থেকে যায়। ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে এরকমটা করা যাবে না। আপনি যে অ্যাপ ওপেন করবেন সেই অ্যাপটির কার্য সম্পন্ন হলে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে ক্লিয়ার করে দিবেন। আপনি আপনার ফোনের অটো ব্রাইটনেস মোড কখনো চালু অবস্থায় রাখবেন না।
ফোনের রোটেশন মোড অন করে রাখবেন না। ফোনের লোকেশন অন করে রাখবেন না। ফোনে কোন অ্যাপ্লিকেশন মিনিমাইজ করে রাখবেন না। এক কথায় ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে যেন কোন কিছু চলমান অবস্থায় না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে সকল সেটিংস বন্ধ করে শুধু আপনার প্রয়োজনীয় দরকারি অ্যাপস গুলো ওপেন করে রাখুন। এতে আপনার ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন শক্তিশালী থাকবে।
চার্জে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়- আপনাদেরকে অবগত করার উদ্দেশ্যে বলে রাখি আপনারা অবশ্যই ফোনকে যখন তখন চার্জে বসিয়ে দেবেন না। ফোনকে চার্জ করার একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। ফোনকে চার্জ করার ওপর কিন্তু ফোনের ব্যাটারির আয়ুষ্কাল নির্ভর করে। অনেকেই আছে যারা সময় পেলেই ফোনকে চার্জে বসিয়ে দেয় অর্থাৎ যখন তখন ফোন চার্জ করে থাকা। অনেকেই আছেন যারা ফোনের অর্ধেক চার্জ শেষ হলেই ফোন চার্জে বসিয়ে দেয়। আবার অনেকেই আছে ৮০% হলেই ফোন চার্জে বসিয়ে দেয়। এরকম ভুল কখনোই করা যাবে না।
আবার অনেকে রয়েছে যারা ফোনের ব্যাটারি একদম ০% অবস্থায় চলে গেলে এবং বন্ধ হয়ে গেলে তবেই ফোনকে চার্জে বসিয়ে থাকে। এ ধরনের সকল কাজ গুলো বর্জনীয়। এই বিষয়টি বিশেষজ্ঞরা মাথায় রেখে ফোনে একটি সুন্দর সিস্টেম ইনস্টল করে দিয়েছে। আর সেটি হচ্ছে ফোনের লো ব্যাটারী ওয়ার্নিং। হ্যাঁ ফোনের এই লো ব্যাটারি ওয়ার্নিং এর মানে হচ্ছে হচ্ছে ফোন আপনাকে নিজে থেকে বলে দিচ্ছে যে এখন তাকে চার্জে দেওয়ার সময়।
অর্থাৎ এখন থেকে আপনি যতক্ষণ না আপনার ফোনের লো ব্যাটারী ওয়ার্নিং দেখতে পাবেন ততক্ষণ ফোনকে চার্জে দিবেন না। কারণ বর্তমান সময়ের ব্যাটারিগুলো অনেক অত্যাধুনিক লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। এবং এই ব্যাটারিগুলোকে দীর্ঘদিন সুস্থভাবে ব্যবহার করার জন্য যথাসময়ে চার্জ দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। একটি কথা সবসময় মনে রাখতে হবে যে আপনার ব্যবহারকৃত ডিভাইসটির আয়ুষ্কাল আপনার ব্যবহারের উপরে উপরে নির্ভর করে।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url