ফ্রিল্যান্সিং শিখার সহজ উপায় - ফ্রিল্যান্সং কিভাবে শিখবো
আজকে আপনাদেরকে ফ্রিল্যান্সিং শিখার সহজ উপায় গুলো সম্পর্কে জানিয়ে দিব।
ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষের তেমন একটা ধারণা নেই।তবে আপনাদেরকে
জানিয়ে রাখি ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে অনলাইন থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ইনকাম
করা সম্ভব।এই প্রতিবেদনের মধ্যে আপনাদেরকে জানিয়ে দেব যে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং
শিখে আপনি অনলাইন থেকে খুব সহজে ইনকাম করতে পারবেন।
আপনারা যারা ফ্রিল্যান্সিং শিখে অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জন করতে চান তারা শেষ
পর্যন্ত প্রতিবেদনটি পড়ুন। কারণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শিখে প্রতি মাসে লক্ষ
লক্ষ টাকা ইনকাম করা যায়। আমার বিশ্বাস আপনারা যারা ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু
করতে চান তারা সঠিক গাইডলাইন পেলে নিশ্চয়ই ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শিখতে
পারবেন। চলুন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সহজ উপায় গুলো এবং ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে
শিখবেন সে সম্পর্কে আপনাদেরকে জানিয়ে দেয়।
পেইজ সূচিপত্রঃ- ফ্রিল্যান্সিং শিখার সহজ উপায় - ফ্রিল্যান্সং কিভাবে শিখবো
- ফ্রিল্যান্সিং কি
- ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয় সাইট গুলো কি কি
- ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন কাজ নতুনদের জন্য সহজ হবে
- ফ্রিল্যান্সিং জগতে কোন কাজের চাহিদা বেশি
- মোবাইল দিয়ে কি ফ্রিল্যান্সিং করা যায়
- ফ্রিল্যান্সিং করতে কি কি প্রয়োজন
- ফ্রিল্যান্সিং শিখতে কত টাকা লাগে
- ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখতে পারবো
- ফ্রিল্যান্সিং শিখার সহজ উপায় গুলো কি কি
ফ্রিল্যান্সিং কি
ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এমন একটি মুক্ত পেশা যেখানে আপনাকে কেউ হুকুম দেয়ার কেউ
থাকে না। এখানে আপনি কারো অধীনস্ত নন। আপনার ইচ্ছামত কাজ করবেন এমনকি আপনার ঘরে
বসে কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারেন।ঘরে বসে বিভিন্য ধরনের কাজকাম করে মাসে লক্ষ
লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।যেটা বাংলাদেশের বড় বড় সরকারী চাকুরী
জীবিদের স্যালারীর থেকেও বেশি।
ফ্রিল্যান্সিং কাজে আপনাকে কারো অধীনে থেকে কাউকে জবাবদিহিতা করা লাগে না।
এখানে আপনি আপনার কাজের বস। আপনি আপনার খেয়াল খুশি মত যে কোন সময়
কাজ করতে পারবেন। এটা করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট কোন স্থানে যেতে হবেনা। আপনার
কাজের জায়গা (অফিস) হতে পারে আপনার নিজের বাসা অথবা আপনার বেডরুম। এক কথায়
প্রকাশ করলে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি মুক্ত পেশা
ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয় সাইট গুলো কি কি
আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে ফ্রিল্যান্সিং কি। অতএব এই প্রেগন্যান্সিংয়ের কাজ
করার জন্য বিভিন্ন জনপ্রিয় সাইট রয়েছে। আপনাদেরকে এই ধাপে ফ্রিল্যান্সিং কাজ
করার বেশ কিছু জনপ্রিয় সাইট গুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেব।নিচে তালিকার
মধ্যে যে সকল সাইটগুলো উল্লেখ করা আছে সেই সাইটগুলোতে আপনি বিভিন্ন ধরনের
কাজ করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। অতএব চলুন ফিন্যান্সিংয়ের
জনপ্রিয় সাইট গুলোর একটি তালিকা দেখে নি।
ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য একটি জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে (fiverr.com)
ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয় সাইট গুলোর মধ্যে আরেকটি হচ্ছে(upwork.com)
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার আরো একটি সাইট হচ্ছে (99Designs.com) ফ্রিল্যান্সিং
শেখার আরো একটি সাইট হচ্ছে (freelancer.com) ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার আরো একটি
জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে (guru.com) ফ্রিল্যান্সিং কাজের আরও একটি জনপ্রিয় সাইট
হচ্ছে (peopleperhour.com) ফ্রিল্যান্সিং কাজের আরো একটি সাইট হচ্ছে
(Toptal.com) ফ্রিল্যান্সিং কাজের আরো একটি সাইট হচ্ছে (speedlancer.com)
ফ্রিল্যান্সিং এর আরো একটি সাইট হচ্ছে (Flexjobs.com)
ফ্রিল্যান্সিং কাজের সাইট গুলোর মধ্যে আরও একটি সাইট হচ্ছে (simplyhired.com)
ফ্রিল্যান্সিং কাজের আরও একটি সাইট হচ্ছে (belancer.com) ফ্রিল্যান্সিং কাজের
আরো একটি সাইট হচ্ছে (truelancer.com) ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার
জন্য আরও একটি সাইট হচ্ছে (problogger.com) ফ্রিল্যান্সিং কাজের আরও একটি
সাইট হচ্ছে (behance.net) ফ্রিল্যান্সিং কাজের আরও একটি সাইট হচ্ছে
(kajkey.com) ফ্রিল্যান্সিং কাজের আরও একটি সাইট হচ্ছে (scripted.com) ।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন কাজ নতুনদের জন্য সহজ হবে
প্রতিবেদনের এই ধাপে আপনাদেরকে জানিয়ে দেবো ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন কাজ
নতুনদের জন্য সহজ হবে। যারা ফ্রিল্যান্সিং কাজ শুরু করতে চান অর্থাৎ
বিগেনাররা কিভাবে নতুন বছর ২০২৪ সালে খুব সহজে উপায়ে ফ্রিল্যান্সিং এর
কাজ শুরু করতে পারবেন সে সম্পর্কে জানিয়ে দেব। এখানে নতুন যারা
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চান তাদের জন্য বেশ কয়েকটি সহজ কাজ নিয়ে আলোচনা
করা হয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন
কাজগুলো নতুনদের জন্য সহজ হবে।
আমরা অনেকেই জানিনা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের মধ্যে কোন কোন কাজগুলো নতুনদের
সহজ হতে পারে। অনেকেই আছে যারা নতুন করে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখতে চান
কিন্তু সঠিক গাইড লাইন অথবা জ্ঞানের অভাবে অনেক বড় বড় কঠিন কাজ বেছে নেয়।
এক্ষেত্রে যা হয় নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ একটি
বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ নতুন অবস্থায় ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে
চাইলে ছোট ছোট সহজ কাজগুলো থেকে শুরু করতে হবে। নচেৎ ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ
আপনার কাছে ঝামেলা অথবা বিরক্তিকর হতে পারে। আর এরকমটা হলে ফ্রিল্যান্সিং
জগতে আপনি সফল হতে পারবেন না।
নতুনদের উদ্দেশ্যে এখানে আমরা কিছু সহজ কাজগুলোর নাম উপস্থাপন করেছি।
বিগেনারা এই সকল কাজগুলোর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শুরু করতে
পারেন। আর নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে একটি খুব সহজ জাত কাজ
হচ্ছে ডাটা এন্ট্রির এর কাজ। এটি এমন একটি কাজ যা খুব সহজেই শেখা যায়
এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইনকাম শুরু করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে
আরেকটি কাজ হল এসইও করা। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আরো একটি সহজ কাজ
হচ্ছে লোগো ডিজাইনিং করা। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আরও একটি সহজ কাজ
হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ।
ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আর একটি সহজ কাজ হচ্ছে ব্লগিং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
এর কাজ। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আরো একটি কাজ হচ্ছে টি শার্ট
ডিজাইনিং করার কাজ। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আরও একটি সহজ কাজ হচ্ছে কপি
পেস্ট রাইটিং এর কাজ। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আরও একটি সহজ কাজ হচ্ছে
কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আরও একটি সহজ কাজ হচ্ছে
ফটো এডিটিং এর কাজ। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আরও একটি সহজ কাজ
হচ্ছে ভয়েস আর্টিস্ট এর কাজ।
উপরের আলোচনায় যে কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সে সকল কাজগুলো ১৫ বছর
বয়স থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বে যে কোন বয়সের মানুষ খুব সহজেই শিখে ফেলতে পারবে।
উপরের উল্লেখিত কাজগুলোর মধ্যে যে কোন কাজ স্বল্প সময়ে ট্রেনিং করার মাধ্যমে
শিখে নেওয়া সম্ভব। এবং এই কাজগুলো শিখে খুব কম সময়ের মধ্যে দ্রুত ইনকাম
শুরু করা সম্ভব। অথবা আপনারা যারা নতুন করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শুরু
করতে চান তারা উপরের কাজগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে সেটার উপর
দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিং জগতে কোন কাজের চাহিদা বেশি
আপনাদেরকে জানিয়ে দেবো ফ্রিল্যান্সিং জগতে কোন কাজে চাহিদা সবথেকে বেশি সে
সম্পর্কে। ফ্রিল্যান্সিং জগতে বিভিন্ন রকম কাজ রয়েছে। এত শত কাজের ভিড়ে এমন
কিছু কাজ রয়েছে যা বেশ চাহিদা সম্পন্ন এবং এই কাজগুলো একই সাথে প্রয়োজনীয়
এবং গুরুত্বপূর্ণ। অতএব চলুন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং জগতের কোন কাজের চাহিদা
বেশি সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে একটি হচ্ছে ব্লগিং (blogging)। ফ্রিল্যান্সিং
জগতে ব্লগিং এমন একটি কাজ যেখানে খুব সহজেই কম সময়ে দ্রুত অর্থ উপার্জন
করা যায়। ব্লগিং বলতে বোঝায় বিভিন্ন ধরনের ব্লগ পোস্ট লেখার মাধ্যমে টাকা
ইনকাম করা।যদি আপনার একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট থাকে আর আপনি সেখানে দৈনিক
আর্টিকেল লিখে পোস্ট করেন তাহলে সেই আর্টিকেল গুলো বিভিন্ন ধরনের
মানুষ পড়বে এবং সেখান আপনি বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে
পারবেন।
ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আরও একটি কাজ হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল
মার্কেটিং এর কাজ মূলত কোন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বুষ্টআপ করা। অর্থাৎ সেই
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বিভিন্ন ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বাড়িয়ে তোলা।
ফ্রিল্যান্সিং জগতে ডিজিটাল মার্কেটিং কাজের ব্যাপক বিস্তার রয়েছে। কারণ
বর্তমানে সবকিছু ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতিতে চলছে। অতএব ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে
আপনি অল্প সময়ে অধিক আয় করতে পারবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং কাজের মধ্যে বিভিন্ন
ধরনের কাজে রয়েছে যেমন, facebook মার্কেটিং-ইউটিউব মার্কেটিং-সোশ্যাল মিডিয়া
মার্কেটিং-ইমেইল মার্কেটিং-লিংকডিন মার্কেটিং এবং আর ইত্যাদি।
ফ্রিল্যান্সিং এর আরো একটি কাজ রয়েছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ। ওয়েব
ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করে আয় প্রতি ঘন্টায় ১৫ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করা
সম্ভব। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ হচ্ছে মূলত বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ তৈরি করা।
বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং করা ইত্যাদি।
ফ্রিল্যান্সিং কাজের এর মধ্যে আরও একটি কাজ হল এসইও করা। আপনি seo এর কাজ শিখে
বেশ ভালো মনের অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এখানে আপনার কাজ হবে মূলত বিভিন্ন
ধরনের ওয়েবসাইট অথবা প্রোফাইলে অথবা বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল এসইও করে
দেওয়া। আপনি যদি একজন ভালো মনের এসইও ক্রিয়েটর হয়ে থাকেন তাহলে মানুষ
আপনাকে হায়ার করবে তাদের ওয়েবসাইট অথবা তাদের প্রোফাইল এসইও করে দেওয়ার
জন্য। এসইও করতে হয় মূলত অনলাইনে বিভিন্ন জিনিস কে একটি ভালো পর্যায়
অথবা র্যাংকিং এর ফার্স্ট পর্যায়ে যাওয়ার জন্য।
ফ্রিল্যান্সিং এর আরো একটি কাজ হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং করা। গ্রাফিক ডিজাইনের
কাজগুলো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন ব্যানার পোস্টার ম্যাগাজিন টেম্পলেট অথবা
বইয়ের কভার এবং আরো ইত্যাদি এ ধরনের জিনিসপত্রগুলো গ্রাফিক্সের মাধ্যমে
ডিজাইনিং করা। গ্রাফিক্স ডিজাইনিং কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আপনি যদি একজন
ভালো মনের গ্রাফিক্স ডিজাইন হয়ে থাকেন তাহলে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম
করা আপনার কাছে কোন বড় বিষয় নয়।
ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আরো একটি কাজ হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর
কাজ। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ অতি সহজ। এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মানে
হচ্ছে একটি পণ্যের প্রচার প্রসারণ ঘটানো। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে
আপনার কাছে একটি ভালো মানের ফেসবুক পেজ থাকলেও হবে। ধরুন আপনার একটি ফেসবুক পেজ
আছে এবং সেখানে খুব ভালো মনের ফলোয়ার রয়েছে। এখন আপনি আপনার পেইজে
যেকোনো কোম্পানির পণ্যের পরিষেবা প্রচার করার মাধ্যমে আপনি সেই
কোম্পানি থেকে কমিশন এর মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্সিং কাজের ভিতরে এ ধরনের কাজের মত আরো হাজারো ধরনের কাজ করে
আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।
মোবাইল দিয়ে কি ফ্রিল্যান্সিং করা যায়
হ্যাঁ, অবশ্যই মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করা যায়।
ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে যা মোবাইল এর মাধ্যমে করা
যায়। তবে ফ্রিল্যান্সিং কাজের সিংহভাগ কাজ করার জন্য কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ
প্রয়োজন হয়। প্রতিবেদনের এই ধাপে আমরা আপনাদেরকে বলে দেবো ফ্রিল্যান্সিং এর
কোন কোন কাজ গুলো আপনি মোবাইলের মাধ্যমে করতে পারবেন। অতএব চলুন তাহলে জেনে
নেওয়া যাক।
মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে আপনি আর্টিকেল রাইটিং এর কাজ করতে
পারেন। বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটের জন্য আপনি মোবাইলের মাধ্যমে আর্টিকেল লিখে
টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এখানে আপনাকে যা করতে হবে প্রথমে কোন একটি
ওয়েবসাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে এবং সেই ওয়েবসাইটে
আর্টিকেল লেখার জন্য আপনাকে নিযুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে একটি
ভাল মনের আর্টিকেল হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। তারপর আপনি যে কোন ওয়েবসাইটে
আর্টিকেল রাইটিং এর জব করে অর্থ উপার্যন করতে পারবেন।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েটিং এর কাজ করতে
পারেন। ফ্রিল্যান্সিং জগতে বিভিন্ন ধরনের একাউন্ট ক্রিয়েটিং এর কাজ পাওয়া
যায় যেখানে জিমেইল একাউন্ট ক্রিয়েট করা অথবা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অথবা লিংকডিন
অথবা প্রিন্টারেস্ট অথবা এই ধরনের বিভিন্ন জনপ্রিয় সাইট গুলোর অ্যাকাউন্ট
ক্রিয়েটিং এর কাজগুলো আপনি করতে পারেন।
এখানে আমরা মোবাইল ফোন দিয়ে করা যায় এমন কয়েকটি কাজের বর্ণনা দিয়েছি।
কিন্তু এই কয়েকটি কাজের বাইরেও আরো বেশ কিছু কাজে রয়েছে যা মোবাইল ফোনের
মাধ্যমে করে বহু সংখ্যক মানুষ অর্থ উপার্জন করছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য
বিপুলসংখ্যক মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করে লক্ষ
লক্ষ টাকা ইনকাম করতে সক্ষম হয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং করতে কি কি প্রয়োজন
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যে ফ্রিল্যান্সিং করতে কি কি প্রয়োজন পড়ে।? যারা
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শুরু করতে চায় তাদের মনে প্রায় প্রশ্ন জাগে যে
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য কি কি প্রয়োজন পড়ে। প্রতিবেদনের এই ধাপে
আপনাদেরকে জানিয়ে দেবো যে ফ্রিল্যান্সিং করতে কি কি প্রয়োজন। তাহলে চলুন
জেনে নেওয়া যাক।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার দরকার পড়বে একটি
কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ। আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ চালানোর
বেসিক ধারণা থাকতে হবে। আপনাকে কম্পিউটারের বেসিক অপারেশন সম্পর্কে অবগত
থাকতে হবে। যেমন ধরেন বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোসফট এক্সেল এর কাজ, পাওয়ার
পয়েন্ট এর কাজ অথবা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর কাজ অথবা বিভিন্ন ধরনের
সফটওয়্যার ইনস্টল আনইন্সটল করার বিভিন্ন ধরনের ফাইল ওপেন করা এ ধরনের টুকটাক
কাজগুলো জেনে থাকা অবশ্যক।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার জন্য দ্বিতীয়ত আপনার ইন্টারনেট সংযোগ থাকা
অত্যাবশ্যকীয়। আপনি যেখানে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করবেন সেই কম্পিউটারে
ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার জন্য আপনাকে ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
কারণ ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে অধিকাংশই বাইরের বিভিন্ন দেশের বায়ারদের
সাথে যোগাযোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে আপনি ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী না হলে বাইরে
দেশের বাইরে সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না। অতএব ইংরেজিতে আপনাকে দক্ষতা অর্জন
করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার জন্য আপনাকে সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা থাকতে
হবে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং কাজের জগতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
আপনি এমন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন যে সমস্যাগুলো আপনাকেই সমাধান করতে
হবে। এমত অবস্থায় আপনাকে শান্ত থেকে সমস্যা সমাধান করতে হয়। অতএব
ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য আপনার সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা থাকতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকা প্রয়োজন। কারণ
ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি কাজ যেখানে আত্মবিশ্বাস না থাকলে আপনি এই জগতে সফলতা
পাবেন না। আপনাকে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। এমন হতে পারে যে আপনার
নির্বাচন করা কাজটি আপনার কাছে মনে হচ্ছে আপনি করতে পারবেন অথবা আপনার দ্বারা
হবে না কিন্তু সকল চিন্তা-ভাবনা অপেক্ষা করে আপনাকে এগিয়ে যেতে
হবে এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং শিখতে কত টাকা লাগে
ফ্রিল্যান্সিং কাজের কথা শুনলে অনেকে এরকম প্রশ্ন করে থাকে যে
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শিখতে কত টাকা লাগে। আপনাদেরকে অবগত করার উদ্দেশ্যে
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়ে রাখি যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য খুব বেশি
অর্থের প্রয়োজন পড়ে না। আজ্ঞে হ্যাঁ, বর্তমান সময় মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার
টাকার মধ্যে আপনি একটি ভালো মানের আইটি কোম্পানি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখতে পারেন।
আপনি আপনার বাসস্থানের আশেপাশে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন বিভিন্ন ধরনের আইটি
সেন্টার ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন ধরনের কোর্স করিয়ে থাকে। এবং বর্তমান সময়
২০২৪ সালের এই সময়টাতে যদি আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন তাহলে আপনি
বিপুলসংখ্যক এরকম আইটি প্রতিষ্ঠান দেখতে পাবেন যারা খুব
অল্প টাকার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কোর্স করিয়ে থাকে। তবে আপনার
উচিত হবে যে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স না করা। কারণ আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি
বিভিন্ন ধরনের ধোঁকাবাজ রয়েছে যারা নিজেকে অনেক বড় ফ্রিল্যান্সার দাবি
করে এবং এরাই মূলত বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট ফ্রিল্যান্সিং সেন্টার খুলে বসে
থাকে।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে আপনি
প্রতারণার শিকার হতে পারেন এবং আপনার পরিশোধ করা অর্থ জলে যেতে পারে। অতএব
আপনাকে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে ভালো কোন আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার কোর্স
করা উচিত যদি সেখানে একটু বেশি টাকা লাগে তবুও।
ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখতে পারবো
ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে
ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখতে পারবো। আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি ফ্রিল্যান্সিং
শেখা খুব বেশি কঠিন কিছু নয়। ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখতে পারবো এই বিষয়ে
যদি বলতে হয় তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে মানসিকভাবে দৃঢ় হতে হবে। আপনাকে
ইংরেজির উপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শেখার জন্য
আপনাকে ধৈর্যশীল হতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শেখার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার
জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রয়োজন সেগুলো প্রথমে ব্যবস্থা করতে
হবে। এবং একটি কমপ্লিট সেটাপ তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে একটি
কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কিনতে হবে। তারপর আপনি যেখানে ফ্রিল্যান্সিংয়ের
কাজ করবেন সেই জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এভাবেই যখন আপনার
একটি পরিপূর্ণ সেটাপ তৈরি হবে তারপর আপনাকে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে আপনার
বাড়ির আশেপাশে কোন আইটি ট্রেনিং সেন্টার হয়েছে কিনা।
আপনাকে একটি ভালো আইটি ট্রেনিং সেন্টার খুঁজে বের করতে হবে এবং আপনার
দক্ষতা অনুযায়ী একটি কাজ বেছে নিয়ে সে কাজের উপর প্রশিক্ষণ শুরু করতে হবে।
এবং আপনার পুরো মন মানসিকতা দিয়ে মনোযোগের সাথে সেই কাজের উপরে দক্ষতা অর্জন
করতে হবে। আর এভাবেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্সিং শিখার সহজ উপায় গুলো কি কি
ফ্রিল্যান্সিং শিখার সহজ উপায় গুলো সম্পর্কে বলতে গেলে আপনাদের কে
জানিয়ে রাখি যদি আপনারা ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখতে চান তাহলে প্রথমে
আপনাদেরকে অনুসন্ধান করে বের করতে হবে যে ফ্রিল্যান্সিং জগতে কোন কাজগুলোর
চাহিদা সবথেকে বেশি। ফ্রিল্যান্সিং শিখার সহজ উপায় গুলো নিয়ে বলতে গেলে
সর্বপ্রথম আপনাকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে কোন কাজটা আপনার কাছে সহজ বলে মনে
হয়। এবং সেই কাজের উপর আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং শেখার আরো একটি সহজ উপায় হচ্ছে যদি আপনার পরিচিত
আত্মীয় অথবা এমন কোন রিলেটিভ বড় ভাই অথবা বোন অথবা এমন কেউ যার সাথে
আপনার পরিচয় রয়েছে এবং সে একজন ফ্রিল্যান্সার। এরকম কারো শরণাপন্ন হয়ে আপনি
খুব সহজেই বিনামূল্যে একদম ফ্রিতে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শেখার সহজ উপায় গুলোর মধ্যে আরো একটি উপায় রয়েছে আর
তা হচ্ছে বর্তমান সময়ে ইউটিউবে বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কাজ শেখার ফ্রি
ভিডিও গুলো আমরা দেখতে পাই। এই ধরনের ফ্রি ভিডিওগুলো দেখে আপনি নানা ধরনের কাজ
শিখে ফেলতে পারেন। আপনাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়ে রাখি আর তা হচ্ছে
বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শেখা কোন বড় বিষয় নয়। আপনি
যদি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য নিজেকে শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেন
তাহলে আপনি নিজেই নিজের জন্য একশ একটা পথ বের করতে পারবেন।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url