বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ - বৃষ্টির পানির অপকারিতা
এখানে বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ এই বিষয়ে বিজ্ঞান কি বলছে এর ওপর ভিত্তি করে তথ্য-উপাত্ত্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে বিশাল সংখ্যাক মানুষের মনে একই প্রশ্ন বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ এই নিয়ে। কারণ বর্তমান বিশ্বের চলমান (ইকো সিস্টেমের) অবস্থা দেখে বৃষ্টির পানি উপর ভরসা করা যায় না। বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ এ বিষয়ে লেখা এই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়লেই জানতে পারবেন।👇👇
একসময় বৃষ্টির পানিকে পানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং বিশুদ্ধ পানি হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পৃথিবীর ইকোসিস্টেমের উপর অনেক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। আর এর জন্য দায়ী মূলত আমরা। বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ এই প্রতিবেদনে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।👇👇
👆👆বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ - বৃষ্টির পানির অপকারিতা ব্লগপোষ্ট। তথ্যচিত্রঃ সংগৃহীত
আমরা আমাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রকৃতিকে নষ্ট করছি প্রতিনিয়তই। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে চলার পথে মূল বাধা হচ্ছে মানবজাতি। আমরা প্রকৃতিকে প্রতিনিয়তই বিভিন্নভাবে বিনষ্ট করছি। আমরা আমাদের ভোগ-বিলাসের উৎস খুঁজে পাই প্রকৃতি থেকে। কিন্তু প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে আমরা সামান্যতম বিবেচনা করি না। বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ এই বিষয়ে আরো জানতে পড়া চালিয়ে যান 👇👇
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিত্য ব্যবহার্য অধিকাংশ প্রসাধনী জিনিসপত্রের ফলে প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এইভাবেই আমরা আজকে বৃষ্টির পানিতে নষ্ট করে ফেলেছি। হ্যাঁ, বৃষ্টির পানি নষ্ট হওয়ার পেছনের দায়ী কেবল মানুষ। যেই পানে এক সময় পান করার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপদ এবং বিশুদ্ধ হিসেবে ধরা হতো সেই পানিতে আজকে (পিএফএএস) এর মত রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া যাচ্ছে।👇👇
গবেষকদের মতে পৃথিবীর সর্ব প্রান্তের বৃষ্টির পানিতে এই ক্ষতিকর (পিএফএএস) এই রাসায়নিক পদার্থটি পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। গবেষকদের মতে এই রাসায়নিক পদার্থটি বৃষ্টির পানির মধ্যে যেই মাত্রায় পাওয়া যাচ্ছে তার ফলস্বরুপ বৃষ্টির পানি পান করার জন্য আর নিরাপদ নয়।
👆👆বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ - বৃষ্টির পানির অপকারিতা ব্লগপোষ্ট। তথ্যচিত্রঃ সংগৃহীত
বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ - বৃষ্টির পানির অপকারিতা জানতে পুরোটা পড়ুন👇
বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সুইডেনের রাজধানীর স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গবেষণা সাপেক্ষে এই মন্তব্যটি উপস্থাপন করেছেন। তাদের মধ্যে পৃথিবীর সর্বপ্রান্তের বৃষ্টির পানি অনিরাপদ এবং পানের অযোগ্য হয়ে উঠেছে।
(পিএফএএস) এটিকে একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা সহজে বিনষ্ট হয় না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকার প্যাকেজিং, শ্যাম্পু , মেকআপ এ ধরনের প্রসাধনীতে উক্ত রাসায়নিক পদার্থটি পাওয়া গিয়েছিল। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিত্য ব্যবহার্য এসব উপাদানের মধ্যে দিয়ে এই রাসায়নিক পদার্থটি পানি এবং বাতাসের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ - বৃষ্টির পানির অপকারিতা জানতে আরো পড়ুন নিচে👇
বৃষ্টির পানি পানের অযোগ্য এই নিয়ে বিস্তারিত একটি গবেষণা কার্য সম্পন্ন করেছেন সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। পরে আন্তর্জাতিক সাময়িকি এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স এন্ড টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টে এই সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রকাশ করা হয়। (D: ইয়ান কাসিনোস) সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এই গবেষণা দলে ছিলেন।
(D: ইয়ান কাসিনোস) উক্ত গবেষণা পত্রে লিখেছেন যে "আমরা বৃষ্টির পানিতে যেই মাত্রায় (পিএফএএস) নির্ধারণ করেছি সেই অনুসারে পৃথিবীর কোন অঞ্চলের পানিই আর পানের জন্য নিরাপদ নয়।"
গবেষকরা ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন বৃষ্টির পানির এই গবেষণার জন্য। (D: ইয়ান কাসিনোস) বলেন যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি সুপেয় পানের জন্য যে দিকনির্দেশনা দিয়েছে
বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ - বৃষ্টির পানির অপকারিতা জানতে আরো পড়ুন নিচে👇
সেই অনুসারে দেখা যায় তিব্বত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কোন অঞ্চলের পানিই আর, বিশুদ্ধ অথবা পানের যোগ্য নেই। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির দেওয়া পানযোগ্য পানের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী সেই পানির (পিএফএএস) এর যে মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার চেয়ে (পিএফএএস) এর মাত্রা ১৪ গুণ বেশি রয়েছে এই দুই অঞ্চলের বৃষ্টির পানিতে।
গবেষকদের মতে (পিএফএএস) এমন একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ যেটা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই (পিএফএএস) এর ফলে শিশুদেরকে প্রদান করা টিকাও ঠিক মত কাজ করতে পারে না। এছাড়াও এর ফলে আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন, নারীর গর্ভধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া, বয়স অনুসারে শিশুদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার বাধাগ্রস্থ হওয়া, মানব শরীরে কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি হওয়া এবং বিভিন্ন ক্যান্সার জনিত রোগের জন্য দায়ী এই রাসায়নিক পদার্থটি।
বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ - বৃষ্টির পানির অপকারিতা জানতে আরো পড়ুন নিচে👇
সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক (D: ইয়ান কাসিনোস) বলেন (পিএফএএস) বর্তমানে অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং সব জায়গায় এটি বিস্তার লাভ করেছে। এই (পিএফএএস) এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যেটা পাকস্থলীতে একবার প্রবেশ করলে সেটা আর সহজে শরীর থেকে বের হয় না।
বর্তমানে আমরা আমাদের চারপাশের পরিবেশের উপর নজর দিলে দেখতে পাবো প্রকৃতিকে আমরা বিভিন্নভাবে নোংরা করে থাকি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিত্য ব্যবহার্য বিভিন্ন দ্রব্যের ফলে প্রকৃতির ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। যেমন আমরা প্লাস্টিক ব্যবহার করে ফেলে দেই এই প্লাস্টিক মাটি দূষণ করছে। গবেষকদের মতে প্লাস্টিক পচতে প্রায় ৩০০ বছর সময় লাগে। এবং কাচ মাটিতে পচতে প্রায় 500 বছর সময় লেগে যায়।
বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ - বৃষ্টির পানির অপকারিতা জানতে আরো পড়ুন নিচে👇
আমরা আরো বিভিন্নভাবে মাটি দূষণ করে থাকি। মানুষের তৈরি বিভিন্ন মোটর গাড়ির কালো ধোঁয়া পরিবেশের বায়ু দূষণ ঘটায়। একদিকে আমরা যেরকম বায়ু দূষণ ঘটাচ্ছি অপরদিকে আবার গাছ কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছি। গাছ এমন একটি জিনিস যা প্রকৃতির প্রতিটি জীবন্ত জীবের বেঁচে থাকার উৎস।
এই গাছ প্রকৃতি থেকে ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে আমাদেরকে অতীব প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্যাস প্রদান করে থাকে। এই অক্সিজেন হচ্ছে অমূল্য একটি সম্পদ। অক্সিজেন না থাকলে পৃথিবীতে কোন প্রাণীর অস্তিত্ব টিকে থাকা অসম্ভব। ব্যাপক পরিসরে গাছ কাটার ফলে ঠিকমতো বৃষ্টি হয় না।
বৃষ্টির পানি পান করা কি নিরাপদ - বৃষ্টির পানির অপকারিতা জানতে আরো পড়ুন নিচে👇
মানবসৃষ্ট অসংখ্য অসংখ্য কারণ রয়েছে যা বৃষ্টির পানি বিষাক্ত হওয়ার পেছনের দায়ী। আমরা আমাদের কলকারখানার বর্জ্যের লাইন বিভিন্ন নদী-নালা-খাল বিলের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছি। যার ফলে কলকারখানা গুলোর বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ গুলো নদী নালাখাল বিলের পানির সাথে গিয়ে মিশছে যার ফলে পানি দূষিত হচ্ছে।
এখন এই পানি আমাদের পানের অযোগ্য তো অবশ্যই একই সাথে এই পানি থেকে সংগ্রহ করা মাছ আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করার বিপরীতে আমাদের জন্য বিষ হিসেবে কাজ করবে। এবং এই পানিগুলো পরবর্তীতে প্রাকৃতিক নিয়মে রিসাইকেল হয়ে বৃষ্টির পানিতে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং আমাদের উপরই ঝরে পড়ছে।
পরিশেষে সর্বক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে দেখা যায় অন্ধবিশ্বাসী হয়ে বৃষ্টির পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পান করা ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু বৃষ্টির পানি পান করার ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলাই উত্তম।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url