চুল পড়া বন্ধ করার উপায় - চুল পড়ার কারণ - চুলের যত্নে

চুল আমাদের সৌন্দর্যতার অন্যতম একটি অংশ। এই প্রতিবেদনে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলো। উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমান যুগে নারী পুরুষ উভয় চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন। এই চুল পড়া বন্ধ করার উপায় সম্পর্কে জানতে এই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। এখানে কিছু উপায় উল্লেখ করা আছে যেগুলো অবলম্বন করে আপনি চুল পড়া বন্ধ করার উপায় সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।
চুল পড়া বন্ধ করার উপায় - চুল পড়ার কারণ - চুলের যত্নে
চুল ঝরে পড়ার সমস্যা কোন বিশেষ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে না। এটি নারী, পুরুষ, যুবক, বৃদ্ধ, সব ধরনের মানুষেরই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি বেশি হয়ে থাকে। কারণ পুরুষেরা বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে কাটায়। পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি চুলের যত্ন করে থাকে। তাই পুরুষদের চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটু বেশি।

বর্তমান সময় খুব অল্প বয়সেই চুল ঝরে পড়া একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর অকালে চুল ঝরে পড়ে মাথায় টাক দেখা দিলে এটি একদিকে যেমন লজ্জার বিষয় অন্যদিকে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস কমে যায় । অল্প বয়সে টাক পড়ে যাওয়া ব্যক্তিকে হাসির পাত্র বানিয়ে তোলে। তাহলে এখন প্রশ্ন হতে পারে এই চুল পড়া বন্ধ করার উপায় কি।

হ্যাঁ অবশ্যই চুল পড়া বন্ধ করার  উপায় রয়েছে। তার আগে চুল পড়ার কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং চুলের যত্নে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। মনে রাখতে হবে চুল পড়ার বিষয়বস্তু নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করলে চুল পড়ার হার আরো বেড়ে যাবে। তাই জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটিয়ে কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে।

তবে অনেকেরই আছে এরকম যে জিনগত কারণে বংশগতভাবেই চুল ঝরে পড়ে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই জরুরি। তবে অস্বাভাবিক চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে চুলের যত্নে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করতে পারেন। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেওয়া যাক চুল পড়া বন্ধ করার উপায় উপায় গুলো কি কি???

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম কাজ হবে যদি আপনার স্বাভাবিক মাত্রায় ঝরে পড়তে থাকে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব আপনার মাথা মুন্ডন করে ফেলা উচিত। অর্থাৎ আঞ্চলিক ভাষায় যেটাকে ন্যাড়া হওয়া বলে। এই পদ্ধতিতে পুরো মাথার চুল চেঁচে ফেলতে হয়। অথবা চুলের আকার জিরো সাইজ করে কেটে ফেলতে হয়। চুল পড়ার সময় চুল একেবারে ছোট করে কেটে ফেললে চুলের মজবুতি বৃদ্ধি পায়। চুল পড়ার মাত্রা একেবারে কমে যায় এবং বন্ধ হয়ে আসে।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে চুল পড়ার সমস্যা সমাধান করতে আপনি ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলের গোড়ায় ব্যবহার করতে পারেন। কারণ ভিটামিন এই মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে যার ফলে চুলের ফলিকল উৎপাদন হতে থাকে। ডাক্তাররা চুলের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। এটি চুলকে অনেক ভাবে পুষ্টি যোগায়।

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন আপনার দৈনন্দিন জীবনে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটলে অথবা শরীরে প্রোটিন মিনারেলসের ঘাটতি দেখা দিলে চুল পড়া সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। এই জন্য চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে খাদ্য তালিকায় মাছ মাংস , চর্বিযুক্ত খাবার, সোয়াসহ প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখতে হবে। এই জাতীয় খাবার গুলো চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুলের স্বাস্থ্যকর উন্নতি ঘটায়।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে চুলের যত্নে নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা অত্যাবশ্যকীয়। চুল পড়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে চুলের গোড়ায় জমে থাকা ময়লা। এজন্য নিয়মিত মাথা পরিষ্কার রাখা আবশ্যক। মাথার অপরিষ্কার থাকলে বিভিন্ন ধরনের খুশির সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং মাথার তাকে সংক্রমনের আশঙ্কা তৈরি হয়। মাথার ত্বক ময়লা অবস্থায় থাকলে চুলের গোড়ায় ঠিকমতো অক্সিজেন পৌঁছাতে পারেনা যেটা চুল ড্যামেজ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে চুলের যত্নে কখনো ভেজা চুল চিরুনি দিয়ে অথবা যে কোন জিনিস দিয়ে আঁচড়ানো উচিত নয়। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে এটি একটি অন্যতম উপায়। কারণ হচ্ছে ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া অতিরিক্ত নরম থাকে। এ সময় চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর ফলে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে ক্ষতিগ্রস্ত চুলটি ঝরে পড়ে। অনেকেই ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়াতে পছন্দ ্করে। কিন্তু এটি অনেকেই জানে না যে চুল পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানো। তাই ছেলেমেয়ে উভয়ের এই কাজটি বর্জন করা উচিত। চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়ে তারপরে ধীরে ধীরে যত্ন সহকারে চুলে চিরুনি চালানো উচিত।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে বাসায় কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করে চুল পড়া বন্ধ করা যেতে পারে। যেমন পেঁয়াজ রসুন অথবা আদার রস এক্ষেত্রে ভালো কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এই উপাদান গুলোর রস মাথার ত্বকে ব্যবহার করলে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে এই উপাদান গুলোকে ভালোভাবে বেটে নিয়ে রস মাথার তাকে ভালোভাবে মেসেজ করতে হয় তারপর সারা রাত রেখে দিয়ে সকালে ভালোভাবে মাথায় পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলতে হয়। এইভাবে টানা এক সপ্তাহ এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করলে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।

গবেষকদের মতে আরো একটি বিষয় হচ্ছে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিলে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হঠাৎ করে চুল পড়ার অসুবিধা দেখা দিলে বুঝে নিতে হবে আপনার শরীরে হয়তো পানি শূন্যতা হচ্ছে। দৈনিক অন্ততপক্ষে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা অবশ্যই দরকার। শরীরের অতিরিক্ত পানি শূন্যতার কারণে চুল পড়ে যায়।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে গবেষণায় দেখা গিয়েছে চুল পড়ার সমস্যা সমাধান করতে গ্রীন টি দারুন ভূমিকা পালন করে গ্রিন টি চুলে ব্যবহার করার ফলে চুল পড়ার সমস্যা দূর হয়। এজন্য যা করতে হবে এক কাপ পরিমাণ পানিতে দুইটি গ্রিন টি ব্যাগ মিশিয়ে নিতে হবে, তারপর মিশ্রণটি ঠান্ডা করে চুলের আগা থেকে করা পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে, এবং এক থেকে দুই ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে টানা এক সপ্তাহ ব্যবহার করে ফলাফল দেখতে হবে।

চুল পড়ার কারণ এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে মাথার ত্বক অধিকাংশ সময় অতিরিক্ত তৈলাক্ত অবস্থায় থাকা। সবসময় মনে রাখতে হবে মাথা অতিরিক্ত তৈলাক্ত অবস্থায় থাকলে চুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেকের মনে এই ভুল ধারণাটি সব সময়ের জন্য রয়ে গেছে যে সব সময় মাথায় তেল দিয়ে রাখলে হয়তো চুল ভালো থাকবে। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। মাথা সব সময় তৈলাক্ত অবস্থায় রাখলে চুল ড্যামেজ হয়ে যায়। চুলে তেল মালিশ করা অবশ্যই প্রয়োজন তবে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে চুল নষ্ট হয়ে যায়। মাথা তৈলাক্ত অবস্থায় থাকলে মাথার ত্বকে ময়লা বেশি জমে যার ফলে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। আর এ জন্য মূলত চুল পড়ে যায়।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম প্রয়োজনীয় উপায় হচ্ছে চুলে অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করা। কারণ অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করার ফলে চুল ড্যামেজ হয়ে যায়। এখানে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে হয়তো চুল ভালো থাকবে। কিন্তু অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়। কারণ এতে মাথার ত্বকের ন্যাচারাল পি এইচ এর উপর প্রভাব পড়ে। আমাদের দেশে একটি বিশাল সংখ্যক মানুষ অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারের ফলে অকালে চুল ঝরে পড়ার জলজ্যান্ত প্রমাণ হিসেবে রয়ে গেছে। মাথা পরিষ্কার রাখতে শ্যামপুর ব্যবহার অবশ্যই দরকার রয়েছে, তবে অতিরিক্ত কোন কিছুই সঠিক প্রমাণিত হয় না।

গবেষকদের মতে ধূমপান ও মদ্যপানের মত বিভিন্ন নেশা যত দ্রব্য সেবন করার ফলস্বরূপ চুল ঝরে পড়তে পারে। আর ধূমপান করলে মাথার ত্বকে রক্তের প্রবাহ কমে যায়। অতিরিক্ত নেশা জাতির দ্রব্য সেবন করলে চুলের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

ফুল পড়া বন্ধ করতে জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। দৈনিক অন্ততপক্ষে কিছু কিছু করে হলেও এক্সারসাইজ প্র্যাকটিস করতে হবে। যেমন দিনে অন্তত ৪০ মিনিট হাটাহাটি করতে হবে। সাইকেল চালানো অথবা সাঁতার কাটার মতন ব্যায়ামগুলো দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় অভ্যাস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্সারসাইজের ফলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে, মন প্রফুল্ল থাকে, শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে অনেক ভালো অনুভূতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেসের মাত্রা কমে যায়। এবং এগুলোর ফলে ধীরে ধীরে চুল পড়া কমে আসে।

ওপরে উল্লিখিত চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলো ঠিকমতো অনুসরণ করলে চুল পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে হ্যাঁ এসব চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলো কোনটি যদি কাজে না আসে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অবশ্যই অত্যাবশ্যকীয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়

comment url