অনিদ্রা দূর করার উপায় - অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়
অনিদ্রা বর্তমান সময়ের একটি মারাত্বক অসুখে পরিনত হয়েছে।অনেকেই অনিদ্রা দূর
করার উপায়, অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় জানতে চান। অনিদ্রা দূর করার
উপায় অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় জন্য পুরো আলোচনা পড়ুন।চলুন আর কথা
না বাড়িয়ে অনিদ্রা দূর করার উপায় অথবা অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় গুলো
জেনে নেওয়া যাক।
অনিদ্রা দূর করার উপায় ব্লগপোষ্ট। ছবি সংগৃহীতঃ- 👆👆👆👆
অনিদ্রা একটি গুরুতর রোগ। এই রোগের চিকিৎসা জরুরী। বিশেষজ্ঞদের মতে যদি সঠিক মাত্রায় ঘুম না হয় তাহলে একটি মানুষ ক্রমাগত শারীরিক
ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হবে।যার ফলসরূপ একটি সুন্দর জীবন বিপর্যয়গ্রস্থ হতে
পারে।
পেইজ সূচিপত্রঃ- অনিদ্রা দূর করার উপায় - অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়
- কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়
- অনিদ্রা দূর করার ব্যায়াম
- অনিদ্রা দূর করার ঘরোয়া উপায়
- রাতে ঘুম না হলে করনীয়
- অনিদ্রা দূর করার উপায়
- কি খেলে ঘুম বেশি হয়
- রাতে ঘুম না হলে কি কি সমস্যা হয়
কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়
শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাবে ঘুমের সমস্যা দেখ দিতে পারে।মানব শরীরে ঘুমের
প্রক্রিয়াকে সঠিক রাখতে মেলাটোনিন প্রয়োজন। অনিদ্রার কারণে ভিটামিন ডি
মেলাটনিন ক্ষরণ করে।ঘুম না আসার ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন
বি৬।
ঘুম না আসার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব। কারণ
ভিটামিন ডি শরীরকে রেস্ট নিতে সাহায্য করে। আর ঘুম শরীরের জন্য খুবই
প্রয়োজন।
সঠিকভাবে ঘুম আসার জন্য নিয়মিত ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খেতে হবে। ভিটামিন ডি
এর সাথে সাথে ভিটামিন b6 এর অভাব থাকলেও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ভিটামিন বি৬
খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিটামিন।
শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি৬ থাকা উচিত। কারণ ভিটামিন বি৬ এর মাত্রা কমে
গেলে মেলাটোনিন ও সেরোটোনিন কম নিঃসরণ হয়। আর এই দুটি হচ্ছে ঘুমের জন্য
প্রধান হরমোন। এ দুটি হরমোন শরীরকে ঠিকমতো কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই পাঁচটি ভিটামিন মানব শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে
থাকলে ঘুমের সমস্যা দেখা দিবে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই পাঁচটি
ভিটামিন কি কি এবং এদের কাজগুলো সম্পর্কে।
ম্যাগনেসিয়ামঃ বিশেষজ্ঞদের মতে মানব শরীরে প্রায় তিনশোটি বিপাকীয় ক্রিয়া
কলাপ সহজ করতে সহায়ক এই ম্যাগনেসিয়াম। এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য
করে, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং এটি উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
ম্যাগনেসিয়াম হারের গঠনকে মজবুত করে এবং স্নায়ু ও পেশিকে শক্তিশালী গড়ে
তোলে। ম্যাগনেসিয়ামের উৎস হতে পারে মটরশুটি-সোয়া-এভোকাডো এবং আলুর মত উপাদান
গুলো।
ক্যালসিয়ামঃ বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত করতে
পারে। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার কে অন্তর্ভুক্ত করতে
হবে।
ভিটামিন ডিঃ ভিটামিন ডি এর অভাব ঘুম না হওয়ার অন্যতম কারণ গুলোর একটি। ভিটামিন ডি
এর অভাব ঘুমের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে ভিটামিন ডি সংগ্রহ করার জন্য
আমরা রোদকে কাজে লাগাতে পারি। ভিটামিন ডি এর সর্বোত্তম উৎস হিসেবে সূর্যের
আলোকে বিবেচিত করা হয়।
ভিটামিন বি১২ঃ ভিটামিন বি টুয়েলভ এর কারণেও শরীরে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে প্রপার ঘুম না হওয়ার কারণ এর পেছনে ভিটামিন বি টুয়েলভ এর
ভূমিকা রয়েছে।, তাই শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি টুয়েলভ সরবরাহ
করতে হবে। এক্ষেত্রে মুরগির মাংস মাছ ডিম এবং দুগ্ধ জাত খাবারের
মাধ্যমে এর ঘাটতি পূরণ করা যায়।
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডঃ বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের ঘাটতি থাকলে ঘুমের
মান খারাপ হতে শুরু করে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড শরীর এবং মন উভয়ের জন্যই
ভালো। এটি অনিদ্রা এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
অনিদ্রা দূর করার ব্যায়াম
অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে অনিদ্র দূর করার ক্ষেত্রে ব্যায়াম
কতটুকু কার্যকারী ভূমিকা পালন করতে পারে? এই প্রশ্নের
উত্তরে বলে রাখা হলো গবেষণায় দেখা গেছে সহনীয় মাত্রায় এরোবিক ব্যায়াম
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হতে সাহায্য করে।
এ্যরোবিক ব্যায়াম বলতে বোঝানো হয়েছে সেই ধরনের বায়োমগুলো যেগুলোর
ফলে দেহের হৃদস্পন্দন দ্রুত হয় এবং শরীর ঘামতে থাকে। এগুলর মধ্যে রয়েছে
জোরে জোরে হাটা-সাইক্লিং করা-জগিং করা-দড়িলাফ খেলা-দৌড়ানো সাতার কাটা
ইত্যাদি শারীরিক পরিশ্রমকে অ্যরোবিক ব্যায়াম বলা হয়।
গবেষকদের মতে একজন সুস্থ্য-সবল মানুষের দৈনিক ৩০ মিনিট অ্যরোবিক ব্যায়াম করা
উচিত।তবে শারিরীক সুস্থ্যতা এবং সক্ষমতার উপড় ভিত্তি করে কেও যদি চায় তাহলে এর
অধিক সময় ধরে করতে পারে।
তবে একজন সুস্থ্য ্মানুষের ক্ষেত্রে দৈনিক ৩০ মিনিট করে অ্যরোবিক ব্যায়াম
যথেষ্ট।অ্যরোবিক ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে এন্ড্রফিন নামক রাসায়নিক
পদার্থ নিঃসৃত হয়। এটি সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করে,মানসিক চাপ এবং মানসিক
উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। আর ফলসরুপ ভালো ঘুম হয়।
ভালো ঘুম পাওয়ার জন্য নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়ম করার পাশাপাশি মানসিক চাপমুক্ত
জীবন যাপন করুন।নিয়মিত ইয়োগা করুন। মনে রাখতে হবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ২
ঘন্টা আগে ব্যায়াম করা বন্ধ করে দিতে হবে।
প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্প মাত্রায় শুরু করতে হবে। সব ধরনের অ্যারোবিক
ব্যায়ামগুলো অল্প অল্প করে ট্রাই করতে হবে এবং ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে হবে।মনে
রাখতে হবে প্রথম প্রথম বেশিক্ষন ধরে ব্যায়ামের ফলে শরীর ব্যাথা হতে পারে।
আমরা আমাদের অজান্তেই প্রতিদিন হাটি। সুস্থ্য থাকার আরেকটি মূল চাবি-কাঠি হচ্ছে
নিয়মিত হাটা। দৈনিক হাটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হাটা শুধু ব্যায়াম নয় বরং জীবনের
একটি অংশ।একটি মানুষকে প্রতিদিন হাটা উচিত।
অনিদ্রা দূর করার ঘরোয়া উপায়
গবেষকরা বলছে লাল খেজুর দূর করবে অনিদ্রা। কারণ লাল খেজুরে রয়েছে এমন কিছু
উপাদান যা স্বাস্থের পক্ষে অনেক উপকারি। ঔষধি গুণাগুণে ভরপুর এই লাল খেজুরে
রয়েছে এ্যন্টি- অক্সিডেন্ট। ভিটামিন সি,ম্যাগনেসিয়াম,আয়রন এ আরও ইত্যাদি
উপাদান।
বিশেষজ্ঞদের মতে লাল খেজুরের তৈরি চা মানসিক চাপ কম করতে বেশ কার্যকর।লাল
খেজুর থেকে তৈরিকৃত চায়ের মধ্যে রয়েছে এ্যন্টি ডিপ্রেশন গুণ।এটি মানসিক চাপ
কমাতে কার্যকারি ভুমিকা পালন করে।
বিশেষ করে যারা মানসিক চাপে ভুগে তাদের ক্ষেত্রে এই চা অনেক উপকারী। দৈনিক
এই চা পান করার মাধ্যমে ঘুমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।এই চা
স্নায়ুতন্ত্রের উপড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রাতে ঘুম না এলে করনীয় কী
৩৪৫৬৩৫৭৪৩
অনিদ্রা দূর করার উপায়
অনেকেই অনিদ্রা রোগে ভুগে থাকেন। রাতের পর রাত শত চেষ্টা করেও ঘুম আসে না।
এরকম পরিস্থিতিতে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তবে
চিন্তার কোন কারণ নেই। অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অনিদ্রা দূর করার
উপায় এই ধাপে আমরা সে সম্পর্কেই অবগত হব।
অনিদ্রা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। এখানে আমরা অনিদ্রা দূর করার
উপায় বর্ণনা করেছি। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে সেই অনিদ্রা দূর করার
উপায় গুলো জেনে নেওয়া যাক
গবেষকদের মতে ঘুমানোর সময় অনেকেরই দুশ্চিন্তা মাথায় ভর করে। বিভিন্ন ধরনের
ডিপ্রেশন মাথায় ঘুরপাক খায়। এই সমস্যা টিকে বলা হয় ওরি টাইমস অথবা
দুশ্চিন্তার সময়। কারণ এই সময় বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তা মাথার ভিতর ঘুরপাক
খেতে থাকে।
রাতে সঠিকভাবে ঘুম আসার জন্য মস্তিষ্ক শান্ত করে রাখতে হবে। কোন প্রকার
হতাশগ্রস্ত বা দুশ্চিন্তা মাথায় আসতে দেওয়া যাবে না। এজন্য প্রতিদিন
রাতে ঘুমানোর পূর্বে আধা ঘন্টা থেকে 40 মিনিট মেডিটেশন করুন। কারণ মেডিটেশন এর
মাধ্যমে মস্তিষ্ক শান্ত হয়।
অনিদ্রা দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে একটি উপায় হচ্ছে ক্যফেইন জাতীয়
খাবার গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। চা- কফি -সফট ড্রিংকস- এনার্জি ড্রিংকস এগুলো
খেলে অনিদ্রা সমস্যা বেড়ে যায়। ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে চাঙ্গা করে
তোলে।
ভালো ঘুম আসার জন্য ঘুমের ছয় ঘন্টা আগে থেকে এই খাবারগুলো বর্জন করতে
হবে। কারণ ঘুমানোর পূর্বে ক্যাফেন জাতীয় খাবার খেলে ঘুম আসলেও তা
দীর্ঘ হবে না। রাতে ভালোমতো ঘুমানোর জন্য গরম দুধ পান করা যেতে পারে।
কারণ গরম দুধের মধ্যে ট্রিপ্টোফ্যান রয়েছে। গবেষকদের মতে এই
ট্রিপ্টোফ্যান ভালো এবং লম্বা সময় ধরে ঘুমানোর জন্য অনেক কার্যকরী ভূমিকা
পালন করে থাকে।
অনিদ্রাগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা "ওয়াইন্ড
ডাউন টাইম" নামক বিশেষ একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে
নিজের জন্য এক ঘন্টা সময় বরাদ্দ রাখা। এবং এই এক ঘন্টায় বই পড়া,
ডায়েরি লেখা, হালকা উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গোসল করা অথবা শ্রুতি মধুর
কিছু শোনা এগুলো মনকে প্রশান্তি এনে দেয়।
আর বাঞ্ছনীয় কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘুমানোর পূর্বে টিভি না দেখা, মোবাইল
ফোন ব্যবহার না করা, কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে
না থাকা। কারণ উক্ত যন্ত্রপাতি গুলোর স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে সজাগ
রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে ঘুম আসে না এবং ঘুম আসতে দেরি হয়।
বিছানায় শুয়ে থাকার পরও যাদের ঘুম আসে না তাদের উদ্দেশ্যে
"স্টিমুলাস কন্ট্রোল" নামক চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই চিকিৎসার
উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনার মস্তিষ্ক যেন শোবার ঘর অথবা বিছানা
দেখলেই ঘুমের চিন্তা মাথায় আসে।
জোর করে কখনো ঘুমানোর চেষ্টা করবেন না। যদি লক্ষ্য করেন 10 থেকে 20 মিনিট সময়
পরেও আপনার ঘুম আসছে না তবে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ুন এবং জায়গা
পরিবর্তন করুন। নিজেকে একটু রিল্যাক্স করার চেষ্টা করুন।।
এজন্য হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। বই পড়তে পারেন অথবা ডায়েরি লিখতে পারেন। এ সময়
বোরিং কোন কাজ করার চেষ্টা করুন যেন আপনার মস্তিষ্ক অলস হয়ে পড়ে এবং ঘুমানোর
কথা চিন্তা করে। কিন্তু এ সময় কোনোভাবেই ফোন হাতে নেবেন না। টিভি
দেখবেন না অথবা কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপের সাথে জড়াবেন না। এতে করে হীতে
বিপরীত হতে পারে।
ঘুম না আসার কারণে অনেকেই বারবার ঘড়ির দিকে তাকান। এবং প্রতি মুহুর্তে
দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে থাকেন। এটি ঘুমের ওপর আরো বাজে প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এই অবস্থায় ঘড়ির দিকে না তাকানোর পরামর্শ
দেওয়া হয়।
গবেষকদের মতে ঘুম নিয়ে কিছু মানুষের উল্টাপাল্টা ধারণা থাকতে পারে যা
ব্যক্তিকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে ঘুম নিয়ে
মানুষের এমন কিছু ধারণা রয়েছে যা মানুষের দুশ্চিন্তার বাড়িয়ে
দেয়।
উদাহরণস্বরূপ অনেকেই চিন্তা করেন প্রতিদিন ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে, অথবা রাতে
ভালোমতো ঘুমাতে না পারলে কালকে হয়তো সারাদিন খারাপ যাবে, আজকে হয়তো ভালো মতো
ঘুম না হলে কালকে পরীক্ষা খারাপ যাবে। এই ধরনের চিন্তা গুলো অনিদ্রার
সমস্যা আরো বাড়িয়ে তোলে।
রাতে ঘুমানোর পূর্বে কোন প্রকার এমন চিন্তা করা যাবে না যাতে করে প্যানিক
অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকতে পারে। রাতে প্যানিক অ্যাটাকের ফলে
অনিদ্রার সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে।
ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ অতিরিক্ত খাবার
খেলে ভালো ঘুম নাও হতে পারে। যাদের অনিদ্রার সমস্যা আছে চিকিৎসকদের
মতে তাদের উদ্দেশ্যে ঘুমানোর ৩ ৪ ঘন্টা পূর্বেই রাতের খাবার দাবার সেরে নেওয়ার
পরামর্শ দিয়ে থাকে।
অনিদ্রা কাটানোর জন্য ধূমপান করা এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ নিকোটিন
একটি উত্তেজক পদার্থ। যারা নিয়মিত ধূমপানের সাথে আসক্ত তাদের সহজে ঘুম
আসে না। আর ঘুমালেও ঘন ঘন ঘুম ভেঙ্গে যায় ঘুমের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটে। তাই
ঘুমানোর এক ঘন্টা পূর্বে থেকেই ধূমপান হতে বিরত থাকুন।
নিয়মিত শরীরচর্চার মধ্যে থাকলে অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়ে যায়। কারণ ব্যায়াম
করার মাধ্যমে শরীর সচল থাকে। আর শরীর সচল থাকলে রাতে ঘুম ভালো হয়। রাতে
ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘন্টা পূর্বে কিছু শারীরিক ব্যায়াম করা ভালোর ঘুমের
কারণ হতে পারে।
প্রতিদিন এক সময় ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে এবং এটি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
রুটিন অনুযায়ী চলাফেরা করতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে হবে এবং
নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে উঠতে হবে। এবং এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
যাদের রাতে ঘুম আসে না তাদেরকে কোনভাবে দিনের বেলা ঘুমানো যাবে না। অবশ্যই
দিনের বেলা ঘুম পরিহার করতে হবে। কারণ দিনের বেলা ঘুমালে রাতে ঘুম আসতে
অনেক সমস্যা হয়। ক্লান্তি ভর করলে কিছুক্ষণের জন্য রেস্ট নিতে পারেন তবে
দিনের বেলা কখনো ঘুমাবেন না।
কি খেলে ঘুম বেশি হয়
রাতের ঘুমানোর প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর মাধ্যমে পরের
দিনের কার্যক্ষমতা অর্জন হয়। দিনের বেলা সচল ভাবে চলাফেরা করার
জন্য রাতের ভালো ঘুম দরকার। কারণ ঘুম পরবর্তী কাজের জন্য শরীরকে তৈরি
করে।
বর্তমান যুগে অনিয়মিত চলাফেরা, রুটিনের বাইরে জীবন ধারণ করা, শরীরচর্চার
অভাব এবং প্রযুক্তি নির্ভর দৈনন্দিন জীবন কেড়ে নিয়েছে আমাদের রাতের আরামের
ঘুম। বর্তমান সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ অনিদ্রায় ভুগে থাকে।
অনিদ্রা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। কারণ ঘুম ঠিকমতো না হলে
শরীরে নানা রকম রোগ দেখা দিতে পারে। এবং সাথে সাথে মানসিক রোগ হতে পারে।
তাই অনিদ্রা দূর করার উপায় গুলো জেনে রাখতে হবে।
আধুনিক গবেষণা বলছে, রাতে আরামদায়ক ঘুম উপভোগ করার জন্য বেশ কিছু খাবার
রয়েছে। যে খাবারগুলো গ্রহণ করার মাধ্যমে আপনার শরীরে মেলাটোনিন ও ঙ্কার্টিসল
হরমোন নিঃসরণ হবে। যার ফলে আপনার রাতে ভালো ঘুম হবে।
আর কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ভালো
ঘুমের জন্য উপযুক্ত খাবার গুলোঃ-
রাতে প্রপার ঘুম আসার জন্য প্রতিদিন এক গ্লাস করে গরম দুধ
খেতে পারেন।এতে করে রাতে আপনার ভালো ঘুম হবে। কারণ দুধে রয়েছে অ্যামাইনো এসিড,
ট্রিপটোফ্যান যা ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক।
ভালো ঘুমের জন্য আরেকটি খাবার হচ্ছে ডিম। ডিমে রয়েছে ভিটামিন ডি। আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশের নিউরন
আমাদেরকে ঘুমাতে সাহায্য করে ডিমের পুষ্টি উপাদান সেই অংশে গিয়ে কাজ
করে। মনে রাখতে হবে শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাবে অনিদ্রার রোগ হতে
পারে।
ঘুমের জন্য আরেকটি খাবার হচ্ছে মিষ্টি আলু। প্রবাদ আছে মিষ্টি আলুকে "ঘুমের মাসি" বলা হয়। মিষ্টি আলোতে থাকা পটাশিয়াম
আমাদেরকে ঘুমাতে সাহায্য করে।
ঘুমের জন্য আরও একটি খাবার হচ্ছে কলা। কলায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রাতে আরামদায়ক ঘুমের জন্য কার্যকরী
ভূমিকা রাখে।
ঘুমের জন্য আরও একটি খাবার হচ্ছে মধু। মধু সেরেটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন তৈরি করে। নিয়মিত মধু খেলে অনিদ্রার
মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে লেটুস পাতা। লেটুস পাতায় রয়েছে ল্যাকটুক্যারিয়াম। এটি ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক। এই পাতা
সালাদ করে অথবা পানিতে ফুটিয়ে খেতে পারেন।
অনিদ্র দূর করতে আরও একটি খাবার হতে পারে আখরোট। আখরোটে রয়েছে ট্রিপটোফ্যান। এই ট্রিপটোফ্যান সেরেটোনিন ও মেলাটোনিন
উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। রাতে ভালোভাবে ঘুমানোর জন্য প্রতিদিন দুটি করে
আখরোট খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
রাতে ঘুম আসার জন্য আরেকটি খাবার হচ্ছে কাঠবাদাম। কাঠ বাদামে
রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও ট্রিপটোফ্যান। এটি স্নায়ু ও মাংস পেশীকে শান্ত
করে। আর মানব শরীরের এই দুটি শান্ত থাকলে খুব সুন্দর ঘুম হয়।
রাতে ভালোভাবে ঘুমানোর জন্য আপেল-বাদাম-কিসমিস-সবজির স্যুপসহ আরো
অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
ভালো ঘুম হওয়ার জন্য পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি সবথেকে বড় কাজ হচ্ছে
শারীরিক ব্যায়াম করা।
নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে। শরীরচর্চার ফলে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ থেকে
মুক্তি পাওয়া যায়। শরীর চর্চার মাধ্যমে শরীর সচল থাকে এবং রাতে
পরিষ্কার ঘুম হয়।
উপরে উল্লিখিত খাবারগুলো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকৃত খাবার। অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এবং রাতে ভালোভাবে ঘুমানোর জন্য
বিশেষজ্ঞরা উক্ত খাবার গুলোর পরামর্শ দিয়েছেন।
রাতে ঘুম না হলে কি কি সমস্যা হয়
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ঘুম একটি অন্যতম প্রয়োজনীয় জিনিস। শরীরকে সুস্থ
রাখার জন্য ঘুম কতটুকু প্রয়োজন তা আমরা এক রাত না ঘুমালেই বুঝতে পারবো।
ঘুম হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার দেওয়া নিয়ামত।
ভালো ঘুম শরীরকে সতেজ রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের মাধ্যমে শরীর
নিজস্ব জরুরি কার্যকলাপ গুলো সম্পন্ন করে নেয়। ঘুম এমন একটি ব্যাপার যার মধ্য
দিয়ে শরীর এবং মন দুটিই পুনরায় উজ্জিবীত হয়।
আমাদের সকলকে ঘুম সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত পরামর্শ দিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন ঘুম বিহীন শরীরে নানা রকম ভয়ংকর রোগ ব্যাধি বাসা বাঁধতে
পারে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক রাতে ঘুম না হলে কি কি
সমস্যা হয়ঃ-
মেজাজ খিটখিটে হওয়াঃ ঠিকমত ঘুম না হলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে
যাবে। মস্তিষ্কের রেস্ট দরকার হয়। কারণ ঘুমের মাধ্যমে মস্তিষ্ক আরাম করে এবং
পরবর্তী দিনের জন্য উজ্জিবীত হয়ে উঠে। কিন্তু ঠিকমত ঘুমাতে না পারলে মস্তিষ্ক
ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। রাতে ঘুম না হলে
একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
বিভ্রান্তিঃ আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় কোন না কোন চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমরা সারা
দিনে শারীরিকভাবে যা কাজকর্ম করে থাকি তার তুলনায় মস্তিষ্ক হাজার গুণ
বেশি ব্যস্ত থাকে। সারাদিন প্রচুর তথ্য মস্তিষ্কে প্রবেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য মতে ঘুমের মাধ্যমে মস্তিষ্ক কিছু তথ্য
সংরক্ষণ করে রেখে দেয় এবং কিছু তথ্য বহিষ্কার করে ফেলে। কিন্তু ঠিকমতো না
ঘুমাতে পারলে মস্তিষ্কের এমন ক্রিয়া কলাপে বাধা ভিন্ন ঘটে। এবং পরদিন
মস্তিষ্ক অনেক বিভ্রান্তির শিকার হতে পারে।
মাংসপেশীতে খিচুনীঃ সারাদিন শরীরের উপর দিয়ে অনেক ধকল যায়।সারাদিনের হাজারো রকমের
কাজ কর্মের পর ঘুমের মাধ্যমে শরীর নিজেকে পুনরায় উজ্জীবিত করে তোলে।
শরীরের সকল ব্যস্ত থাকা অঙ্গগুলো আরাম করে। কিন্তু ঘুম না হলে শরীরের এই
ক্রিয়া কলাপে বাধা পড়ে যায়। ফলে মাংস পেশিতে খিচুনি ধরতে
পারে।
শরীরের ওজন ডিজ ব্যালেন্স হওয়াঃ বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব
থাকলে শরীরে মেটাবলিজম ধীর গতি সম্পন্ন হয়ে যায়। যার ফলে ওজন বেড়ে
যায়।আবার অনেকের ক্ষেত্রে শরীর শুকিয়ে আসে।ঠিকমত ঘুম না হওয়ার কারনে শরীর
জীর্ণশীর্ণ হয়ে যায়।
ডায়াবেটিক্সঃ গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘদিন রাতে না ঘুমানোর ফলে শরীরে ইনসুলিন
উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার
ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে।
উচ্চ রক্তচাপঃ পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার ফলে শরীরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে
পারে। চিকিৎসকদের মতে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে শরীরে
"লিভিং অর্গানিজম" গুলো ঠিকঠাক ভাবে কাজ করতে পারে না। এতে করে শরীরের
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এবং দেখা দিতে পারে উচ্চ রক্তচাপসহ হাইপার
টেনশনের মত সমস্যা।
কোলেস্টেরলের সমস্যা দেখা দিতে পারেঃ বিশেষজ্ঞরা বলছেন কম ঘুমের ফলে শরীরে এইচডিএল কোলেস্টেরল অথবা গুড
কলেস্ট্রল বিপদজনকভাবে কমে যায়। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url