দুধ খাওয়ার উপকারিতা - দুধের গুণাগুণ - দুধের পুষ্টিগুণ
দুধ খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের সকলেরই অবগত হওয়া জরুরী। দুধ এমন একটি খাবার যা পুষ্টিগুণাগুণে ভরপুর।দুধ একটি সুষম খাবার।আমরা অনেকেই দুধ খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানিনা।সবারই উচিত প্রতিদিন দুধ পান করা। আসুন আমরা দুধ খাওয়ার উপকারিতা ও দুধের গুণাগুণ এবং দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অবগত হই।পড়া চালিয়ে যান 👇👇👇👇👇👇
দুধ খাওয়ার উপকারিতা ব্লগ পোষ্ট । ছবিঃ সংগৃহীত 👆👆👆👆👆👆👆👆👆
প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ আপনার শরীরে কি পরিমান উপকার করতে পারে তা জানলে আপনিও
হয়তো দুধ খাওয়া শুরু করবেন।আজকে আলচনা করবো দুধ খাওয়ার উপকারিতা ও দুধের
গুণাগুণ সম্পর্কে।নিজেকে ফিট রাখতে প্রতিদিন দুধ পান করুন।আর দুধ খাওয়ার
উপকারিতা ও দুধের গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।পড়া চালিয়ে যান 👇👇👇👇👇
পেইজ সূচিপত্রঃ- দুধ খাওয়ার উপকারিতা - দুধের গুণাগুণ - দুধের পুষ্টিগুণ
দুধ খাওয়ার উপকারিতা - দুধের গুনাগুণ - দুধের পুষ্টিগুণ
দুধ খাওয়ার উপকারিতা অনেক।দুধে রয়েছে ভিটামিন
ডি-প্রোটিন-কার্বোহাইড্রেট-চর্বি-ওমেগা ৩-ওমেগা ৬ এবং দুধ
ক্যালসিয়ামের উৎস।এছাড়াও দুধে আরও পুষ্টি গুণাগুণে ভরপুর রয়েছে যেমন
ফসফরাস-আয়রন-জিংক-কপার-মাঙ্গানিজ ইত্যাদি।
দুধ খেয়ে একটি মানুষ সারা জীবন বেচে থাকতে পারবে। দুধ একটি সুষম খাদ্য। সুষম
খাদ্য কাকে বলে আমরা সকলেই জানি।(যে খাবারে পরিমিত পরিমানে
ভিটামিন-আমিষ-সর্করা-স্নেহ-খনিজ লবন এবং পানি এই ছয়টি উপদান রয়েছে তাকেই সুষম
খাদ্য বলা হয়)।আর এসব কিছুই রয়েছে দুধের মধ্যে।
এছাড়াও দুধে আছে ভিটামিন বি১২। দুধের এসব প্রোয়জনীয় উপাদান গুলো আমাদের
শরীরে পা থেকে মাথা পর্যন্ত অনেক কার্যকারি ভূমিকা পালন করে থাকে।শরীরের
কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।শরীরের প্রোয়জনীয় টিস্যু এবং কোষ গঠন করে।।
ছাগলের দুধের উপকারিতা
ছাগলের দুধ পাওয়া অত্যান্ত দুষ্কর।আমাদের দেশে সচরাচর ছাগলের দুধ বিক্রয় হয়
না।তাই ছাগলের দুধ তেমন একটা পাওয়া যায় না। ছাগলের দুধ পেতে হলে হয় ছাগল
পালতে হয় নইলে যারা ছাগল পালন করে তাদের সাথে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করতে হয়। তবে
ছাগলের দুধের উপকারিতা সম্পর্কে জানলে আপনিও হয়তো ছাগলের দুধ পান করতে উদ্বুদ্ধ
হবেন।এখানে ছাগলের দুধের উপকারিতা সম্পর্কে দেওয়া হয়েছে👇👇👇👇👇
ছাগলের দুধ মানবদেহের হার্ট সচল রাখে,হার্ট সুস্থ্য রাখে। ছাগলের দুধ হাড়কে
শক্তিশালী করে এবং হাড়ের গঠন প্রণালী শক্ত করে। ছগলের দুধ উচ্চ ক্যালসিয়াম
সমৃদ্ধ। ছাগলের দুধে কোলেস্ট্রলের মাত্রা কম তাই সহজেই ছাগলের দুধ হজম করা
যায়।ছাগলের দুধে এ্যলার্জির প্রবণতা কম রয়েছে।গবেষণা বলছে ছাগলের দুধের পুষ্টিগুণ
মায়ের দুধের কাছাকাছি, এবং ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু। এজন্য ছাগলের দুধ বাড়ন্ত শিশুদের
জন্য অনেক উপকারী। ত্বকের যত্ন নিতে ছাগলের দুধ পান ক্রুন।
গরুর দুধের উপকারিতা
গরুর দুধ কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রনে রাখে।যাদের ঘুমের সমস্যা,গরুর দুধ পান করুণ ঙহুম
ভালো হবে।গরুর দুধ হাড়ের গঠণ করে এবং হাড়কে মজবুত রাখে।সারাদিনে খরচ হওয়া শক্তি
পূরণ করে দুধ। দুধ আমাদের ত্বককে সুন্দর রাখে।
প্রতিদিন দুধ খাওয়ার উপকারিতা
দুধ এমন একটি খাবার যা একটি মানুষের প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।একটি
মানুষের দিনে অন্তত এক গ্লাস দুধ পান করা দরকার। দুধ শরীরের নিত্যদিনের
কর্মক্ষমতা বজায় রাখে।প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা মেটায়।ছোট বড় সকলের ক্ষেত্রেই
দুধ পান করার ্প্রোয়জনীয়তা অপরিসীম। এই ধাপে প্রতিদিন দুধ ক্ষাওয়ার
উপকারিতা বর্ননা করা হয়েছে।👇👇👇👇👇👇
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে দুধ। ক্যালসিয়ামের একটি অন্যতম উৎস হচ্ছে দুধ। মানব দেহে হাড়ের গঠন এবং হাড়কে শক্ত করতে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন
হয়। আর এই ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস হচ্ছে দুধ। প্রতিদিন দুগ্ধ পান করলে
মাইগ্রেনের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। নিয়মিত দুগ্ধ পান
করলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। ছোটবেলা থেকে নিয়মিত দুগ্ধ পান
করলে বৃদ্ধ বয়সে অস্ট্রিও আর্থারাইটিসের মত সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
নিয়মিত দুগ্ধ পান এর মাধ্যমে শরীরের হাড়ের মধ্যে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয়
উপাদান গুলো পৌঁছায়। যার দরুণ শরীরের হাড় শক্ত থাকে এবং দন্ত
(দাঁত) মজবুত থাকে। সময়ের সাথে সাথে আমাদের দাঁতের এনামেল স্তর ক্ষয় হয়ে যায়।
যার ফলে কোন ঠান্ডা বা গরম কোন কিছু খেলে তীব্র শিরশিরানি অনুভূতি হয়।
নিয়মিত দুগ্ধ পান এই এনামেলকে রক্ষা করে।
দুধ একটি তরল খাবার। দুধ শরীরকে আর্দ্র রাখে। কারণ দুধ একটি পানীয়
খাদ্য। দুধের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি রয়েছে। বাড়ন্ত বাচ্চাদের
ক্ষেত্রে নিয়মিত দুগ্ধ পান করা অত্যন্ত জরুরী। কারণ এই সময় প্রতিনিয়ত শরীরের
গঠন প্রক্রিয়া চালু থাকে।
প্রতিদিন দুগ্ধ পান করলে শরীর সুস্থ সবল এবং রোগ মুক্ত থাকে। দুধের
মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় উপাদান গুলো শরীরকে সুস্থ রাখে। শরীরের সব ধরনের পুষ্টি
চাহিদা পূরণ করে থাকে। দুধের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ও
মিনারেল যা দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। দুধ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বাড়িয়ে দেয়। অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে দুগ্ধপানের গুরুত্ব অপরিসীম।
দুধ খাওয়ার নিয়ম
সর্বোচ্চ পুষ্টি উপাদান সম্পন্ন শ্রেষ্ঠ খাবার হচ্ছে দুধ। বাচ্চা থেকে শুরু
করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এবং সকলে
অনায়াসেই খেতে পারে এমন একটি খাবার। হাজারও ররকম সমস্যা থেকে মুক্তি
দিতে পারে দৈনিক এক গ্লাস দুধ।এ সুপার ফুডটি খাবারের সঠিক নিয়ম
রয়েছে।এখানে আমরা দুধ খাওয়ার ্নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছি👇👇👇👇👇
সর্বপ্রথম খেয়াল রাখতে হবে দুধ খাওয়ার আগে বা পরে কোন প্রকার টক জাতীয় খাবার
গ্রহণ করা যাবে না। নোনতা জাতীয় যেকোন খাবার অথবা ফাস্ট ফূড এগুলো খাওয়া উচিত
নয়। নচেৎ ক্যামিক্যাল রি-এ্যকাশন দেখ দিতে পারে।পেট খারাপ হতে পারে।
বাসি দুগ্ধ পান করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। সবসময় টাটকা দুধ পান করার
চেষ্টা করুন।বাসি দুধের কার্যক্ষমতা কমে যায়।বাসি দুধ পান করলে নানাবিধ
সমস্যা দেখা দিতে পারে।বাসি দুধ পান করতে হলে ভালোভাবে ফুটিয়ে পান
ক্রুন। আর টাটকা দুগ্ধ পান করার ক্ষেত্রে এক বলক ফুটিয়ে নিন। সাবধান দুধ
অতিরিক ফোটালে দুধের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
গবেষণা বলছে দুগ্ধ পান করার সবথেকে উপযুক্ত সময় হচ্ছে বিকেল।দুপুরের খাবার
এবং রাতের খাবারের মধ্যবর্তী সময়।এ সময় দুগ্ধ ভালোভাবে হজম করা যায়। রাতে
দুগ্ধ পান না করায় ভালো।এতে দুগ্ধ হজম করতে বাধাবিঘ্ন ঘটতে পারে।
ভরা পেটে দুগ্ধ পান করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ দুধ নিজেই একটি ভারি খাবার।
দুগ্ধ হজম করতে সময় লাগে। দুধ সবাই হজম করতে পারে না। হঠাৎ করে অনেকগুলো দুধ একসাথে পান করলে নিশ্চিত পেট খারাপ হবে।ভরা পেটে
দুগ্ধ পান করলে দুই রকম খাবার একসাথে হজম করতে পেটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পেট
খারাপ হতে পারে।
খালি পেটে দুধ পান করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার যদি হজমের সমস্যা থাকে পেট দূর্বল হয় অথবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা
থাকে তাহলে আপনি কখনও খালি পেটে দুগ্ধ হজম করতে পারবেন না।
কাচা দুধের অপকারিতা
শরীরকে সুস্থ্য রাখতে যে খাবার গুলো প্রতিনিয়ত খেতে হবে সেগুলোর মধ্যে
একটি হচ্ছে দুধ। নানান পুষ্টিগুনে ভরপুর এই খাবারের কথা আমরা সকলেই
জানি। আমরা অনেকেই মনে করি কাচা দুধ খেলে হয়তো বেশি পুষ্টি পাওয়া
যাবে।আসলেই কি অধিক পুষ্টি পাওয়ার আশায় কাচা দুধ পান করা উচিত?? কাচা দুধ
খেলে উপকারিতা পাওয়া যাবে নাকি অপকারিতা বেশি চলুন জেনে নেওয়া যাক
আমরা অনেকেই মনে করি কাচা দুধে হয়ত বেশি পুষ্টী পাওয়া যাবে।আর এই ভুল ধারণা
করে অনেকেই কাচা দুগ্ধ পান করা থাকি। নিঃসন্দেহে দুধে অনেক পুষ্টি গুণাগুণ
রয়েছে। কিন্তু দুধে কিছু জীবাণু ও ব্যাক্টেরিয়াও রয়েছে যেগুলো পেটে গেলে পেট
খারাপ হতে পারে। তাই দুগ্ধ ফুটিয়ে খাওয়া উচিত।
দুধ সবাই একভাবে খেতে পছন্দ করে না। অনেকেই দোয়ানোর পর সরাসরি দুধ খেয়ে
থাকে। কেও কেও আবার গরম দুধ খেতে পছন্দ করে। অনেকেই কাচা দুধকে সবচেয়ে বেশি
পুষ্টিকর মনে করে থাকে।এখন প্রশ্ন হলো আসলেই কি কাচা দুধ খাওয়া উপকার নাকি
ক্ষতি???
গবেষণা বলছে কাচা দুধ খাওয়া ঝুকিপূর্ণ হতে পারে। নিঃসন্দেহে দুধে অনেক পুষ্টি
গুণাগুণ থাকলেও কাচা দুধে রয়েছে অনেক জীবাণু অ ব্যাকটোরিয়া। যেগুলো পেতে গেলে
হজম ক্রিয়া নষ্ট হয়, বমি বমি ভাব হতে পারে, পেট খারাপ হয়ে পাতলা পায়খানা হতে
পারে।
গরম দুধ খাওয়ার উপকারিতা
কাচা দুধ খাওয়া উপেক্ষা গরম দুধ খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। গরম দুধ
কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।এক গ্লাস গরম দুধ হজম প্রক্রিয়ার
উন্নতি ঘটাতে দারুন ভূমিকা পালন করে।গবেষকদের মতে প্রতিদিন এক গ্লাস গরম দুধ
পান করার পরামর্শ দিইয়ে থাকেন।উষ্ণ গরম দুধ শরীর কে সতেজ রাখে। শরীরের কোষ
গঠন এবং পেশির বিকাশ ঘটায়।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে দুধ গরম করে খাওয়ানো অবশ্যাক। শিশুদের হজম শক্তি
বড়দের তুলনায় কম হয়ে থাকে। আর আমরা জানি দুধে অনেক অনুজীব জীবাণু ও
ব্যাক্টেরিয়া থাকে।কাচা দুধ শিশুকে কোনভাবেই দেওয়া ঠিক না। এতে শিশুর
স্বাস্থ্যঝুকি থেকে যায়।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url