আম খাওয়ার উপকারিতা - পাকা আমের পুষ্টিগুণ - আম খাওয়ার অপকারিতা
আম সবার প্রিয়ো, এমন একটি ফল। সারা প্রিথিবিতে এই ফল বিরাজমান।আম খাওয়ার উপকারিতা ও পাকা আমের পুষ্টিগুণ এবং আম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানবো।জেহুতু আমের মৌসুম চলছে তাই, বেশির ভাগ মানুষের জানার আগ্রহ থাকে আম খাওয়ার উপকারিতা ও পাকা আমের পুষ্টিগুণ এবং আম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে।এই পোষ্টে এ্যসগার্ড বিভিন্য তথ্যসূত্র অনুজায়ি আমের সম্পর্কে সমস্ত আদ্যপান্ত, আম খাওয়ার উপকারিতা ও পাকা আমের পুষ্টিগুণ এবং আম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছে।
আম একটি গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ফল। আমরা সকলেই চিনি এবং আমাদের অতি পছন্দের একটি
ফল। আম সারা বছর পাওয়া যায় না। এটি এককালীন ফল। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে এই ফল
উৎপাদন হয়ে থাকে। আম নিয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে। তাই আমরা আম
খাওয়ার উপকারিতা ও পাকা আমের পুষ্টিগুণ এবং আম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে
বিস্তারিত তথ্যসূত্র উপস্থাপন করেছি। যেহেতু আমের মৌসম চলছে তাই যারা আম
খাওয়ার উপকারিতা ও পাকা আমের পুষ্টিগুণ এবং আম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে
জানতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে চলুন জেনে নেওয়া যাক আম সম্পর্কে
বিস্তারিত।
পেইজ সূচিপত্রঃ- আম খাওয়ার উপকারিতা - পাকা আমের পুষ্টিগুণ - আম খাওয়ার অপকারিতা
আম সম্পর্কে কিছু তথ্য
আম খাওয়ার উপকারিতা ও পাকা আমের পুষ্টিগুণ এবং আম খাওয়ার অপকারিতা পোষ্টের এই
ধাপে আমরা আম সম্পর্কে সাধারণ কিছু আলোচনা করেছি। আম হচ্ছে ফলের রাজা। রসালো
মিষ্টি স্বাদে অনন্য সবার প্রিয় একটি ফল। ভারত বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের
উত্তরপূর্ব এলাকায় আদিকাল থেকে আম চাষ হচ্ছে। উপমহাদেশ গুলোতে প্রায়
৫ হাজার বছর আগে এই ফল চাষ করা শুরু হয়। ইতিহাসের তথ্যসূত্র অনুযায়ী জানা যায়
যে বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডার দি গ্রেট আমাদের উপমহাদেশে এসে আম খেয়ে আমের সুমিষ্ট
স্বাদে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। এবং পরে তিনি গ্রিসের উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়ার
সময় তার সাথে করে বিপুল সংখ্যক আম নিয়ে গিয়েছিলেন।
এদিকে হিউয়েন সাং (একজন চিনা পর্যটক) তিনি আনুমানিক ৬ শতকের
দিকে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে এখানকার আম খেয়ে নিয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সারা
বিশ্ব জুড়ে এখন নানা জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। আমের বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এক এক
প্রজাতির আমের স্বাদ এক এক রকম হয়ে থাকে। কোনোটির সাথে কোন টির মিল নেয়। আমাদের
দেশে প্রায় কয়েকশো প্রজাতির আম চাষ করা হয়ে থাকে।
আম হচ্ছে তিনটি দেশের জাতীয় ফল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে
ভারত, পাকিস্তান এবং ফিলিপাইন। বাংলাদেশ আম গাছকে জাতীয় গাছ হিসেবে ধরা
হয়। সারা পৃথিবীতে ভারতের সবথেকে বেশি আম উৎপাদন হয়। এই দেশের প্রতি বছর প্রায়
২৫ মিলিয়ন টন আম উৎপাদন হয়ে থাকে। এবং এই উৎপাদনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে
রয়েছে ইন্দোনেশিয়া এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে চীন।
জানা গেছে যে মধ্য ভারতের খান দেশ নামক এলাকায় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো একটি আম
গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেটি আনুমানিক ৩০০ বছর পুরনো বলে দাবি করা হয়েছে। এবং
এই গাছে এখনো আম ধরতে দেখা যায়। আমের মধ্যে কিছু রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা আমের
স্বাদের মধ্যে তারতম ঘটায়। এগুলো হচ্ছে টারপিন, ফিউরানোন, ল্যাকটোন ও
অ্যাস্টারের মতো রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি।
গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এর তথ্যসূত্র অনুযায়ী জানা যায় পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় আমটি ২০০৯ সালে ফিলিপাইনের এক বাগানে দৃষ্টিভূত হয়েছিল।
এটি ছিল একটি সাড়ে তিন কেজি ওজনের আম। এবং এর দৈর্ঘ্য ছিল এক ফুট লম্বা।
।তথ্যসূত্র অনুযায়ী জানা যায় গৌতম বুদ্ধ নাকি আম গাছের নিচে ধ্যানমগ্ন
হয়েছিলেন। তাই বৌদ্ধদের কাছে আম গাছ খুবই পবিত্র হিসেবে ধরা হয়। ভারত
দেশে এক ঝুড়ি ভর্তি আম উপঢৌকন দিয়ে ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটানো
হয়।
তথ্যসূত্র অনুযায়ী জানা গেছে মোগল সাম্রাজ্যে শুধুমাত্র রাজ পরিবারের বাগানে আম
চাষ করার অনুমতি ছিল। পরবর্তীতে সম্রাট শাহজাহান সর্বত্র আম চাষ করার অনুমতি
প্রদান করেছিলেন বলে জানা যায়।এ হিস্টোরিক্যাল ডিকশনারি অফ ইন্ডিয়ান ফুড এই বই অনুসারে পর্তুগিজরা প্রথম আমের চাষ শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা
ফিরে যাওয়ার সময় কিছু আমের বীজ সংগ্রহ করে নিয়ে গেছিলেন এবং তা বিভিন্ন
দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। আর এভাবেই দেশে-বিদেশে সর্বত্র আমের ফলন এবং আমের
বিস্তার ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের দক্ষিণ অঞ্চলে তামিল ভাষায় আমকে আমকাই নামে চিহ্নিত করা
হতো। এবং পরবর্তীতে তা মামকায় নামে পরিচিত হয়। এবং নাম রাখা হয় মেঙ্গা।
এবং তারপর শেষমেষ পর্তুগিজরা আমকে ম্যাংগো নামে অভিহিত করে যা পরবর্তীকালে সারা
পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়ে পড়ে।
আমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে ধারণা
আমরা জানি পৃথিবীর সব কিছুরই বৈপরীত্য রয়েছে। প্রতিটা জিনিসেরই ভাল খারাপ দুটোই
রয়েছে। সব থেকে ভালো জিনিসটিও অতিরিক্ত হয়ে গেলে সেটি বিপদগামী হতে পারে।
অতিরিক্ত কোন কিছুই ঠিক নয়। যেহেতু আমাদের আলোচনা হচ্ছে আম খাওয়ার
উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে। তাই বলতে হয় আম একটি সুস্বাদু ফল। এটি একসাথে
অনেকগুলো খেয়ে ফেলা যায়। এটি অনেক পুষ্টি গুনাগুন সম্পন্ন একটি ফল। আম খাওয়ার
উপকারিতা রয়েছে অনেক। পক্ষান্তরে কিছু অপকারিতাও রয়েছে।আম খাওয়ার উপকারিতা ও
পাকা আমের পুষ্টিগুণ এবং আম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা পেতে
নিজের ধাপ গুলি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
আমের উপকারিতা সম্পর্কে বলতে গেলে কিছু উপকারিতা না বললেই নয়। রাতকানা অথবা অন্ধত্ব প্রতিরোধের জন্য পাকা আম অথবা কাঁচা আম দুইটাই মহা ঔষধ। আম গাছের কচি পাতার রস দাঁত ব্যথা রোগের নিরাময়কারী ঔষধ। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা-পুরনো আমাশয় এবং প্রসাবে জ্বালা যন্ত্রণা রোগ নিরাময় করে ঔষধ। বহুমূত্র-জ্বর- বুকের ব্যথা রোগের জন্য আম পাতার চূর্ণ ব্যবহার হয়। এগুলো বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী পদ্ধতির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
পাকা আমের পুষ্টিগুণ
আম এমন একটি ফল যা সবাই পছন্দ করে। তবে কাঁচা আমের থেকে পাকা আম মানুষ বেশি
পছন্দ করে। পাকা আমের তুলনা কোন কিছুর সাথেই হয় না। গ্রীষ্মকালের গরমের প্রচন্ড
দাবদহ থেকে একটু আরাম পেতে মানুষ ঠান্ডা আমের রস খেয়ে শরীর জুড়িয়ে থাকেন। পাকা
আমের প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন মিনারেল খনিজ লবণ কার্বোহাইড্রেট ফাইবার এবং
কেরোটিন থাকে। পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা শরীরের রক্তস্বল্পতা
দূর করতে সাহায্য করে এবং হার্ট সুস্থ রাখে। আমে থাকা ক্যালসিয়াম হারের গঠনকে
মজবুত করে।
বিভিন্ন পুষ্টি গুণাগুনে ভরপুর একটি ফল হচ্ছে আম। আমের রয়েছে প্রচুর
পরিমাণে খনিজ লবণ এবং ভিটামিন। ভিটামিন এ, সি , ও ভিটামিন বি ৬ প্রচুর
পরিমাণে রয়েছে। এছাড়াও আমে আরো রয়েছে অ্যামাইনো এসিড পটাশিয়াম ও কপার। আমে
আরো রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, লুসিয়েন জিলাইক এসিড, আলফা ্ক্যারোটিন, পলি
পিথানল কিউরেচিন কাস্ফারল,ক্যফিক এসিড ইত্যাদি।
পাকা আমের উপকারিতা
যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি আমার অনেক উপকারিতা রয়েছে। পাকা আমের উপকারিতা
এভাবে আমরা শুধু আম খাওয়ার উপকারিতা গুলো সম্পর্কে আলোচনা করব।
যেহেতু চলছে আমের সময়। আর বছরে এই সময়টাতে মানুষ প্রচুর আম খায়।
আমের মৌসুমে মানুষ প্রায় প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় আম রাখে। যেহেতু আমের
মৌসুমে চারিদিকে আমের ছড়াছড়ি। সবাই প্রচুর আম খাচ্ছে, তাই এই আম নিয়ে
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে আমের পুষ্টি গুনাগুন সম্পর্কে এবং পাকা আমের
উপকারিতা সম্পর্কে। তাই আম খাওয়ার উপকারিতা এই ধাপে আমরা বিভিন্ন
তথ্যসূত্র অনুযায়ী বেশ কিছু উপকারিতা পেশ করেছি।
পাকা আমের উপকারিতা সংক্রান্ত পয়েন্ট গুলো এখানে ব্যাখ্যা সহ আলোচনা করা
হয়েছে। অতএব নিজের আলোচনা গুলো প্রত্যেকটা এক একটা পয়েন্ট যেগুলো
বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা রয়েছে। আম খাওয়ার যতগুলো উপকারিতা রয়েছে
সবগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে নিচের পয়েন্ট গুলো পড়তে হবে।
ত্বকের পরিচর্যায় আমরা অনেকেই হয়তো জানি না ত্বকের পরিচর্যায় আম
অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আম শুধু নিজের না খেয়ে আপনার ত্বককেও
আমের রস খাওয়াতে পারেন। কিভাবে চলুন জেনে নেওয়া যাক। ত্বকের পরিচর্যায় পাকা
আম খুব ভালো ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে পাকা আমের পেস্ট তৈরি করে সাথে অল্প
একটু মধু আর দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর আলতো করে আপনার শরীরে এই
পেষ্ট মেসেজ করতে হবে। এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।
পাকা আম ত্বকের সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বককে মসৃণ করতে সাহায্য করে।এটি
ত্বকের ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আমাদের ত্বকের উপরিভাগে
থাকা লোমের ঘোড়াগুলো পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং ব্রণের সমস্যা থেকে
মুক্তি দেয়
তথ্যসূত্র অনুযায়ী প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় ১০০ গ্রাম করে পাকা আম
খেলে চেহারায় থাকা কালো দাগ দূর হয়। আম লোমের গোড়াগুলো পরিষ্কার
রাখে যার দরুন মুখের উপরে এবং নাকের পরেছে সব ব্ল্যাক হেডস গুলো জমা হয়
এগুলো দূর করতে সাহায্য করে।
আমরা হয়তো জানি না পাকা আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে খনিজ লবণ রয়েছে। এটি
আমাদের শরীরের দাঁত নখ চুল রাখতে সাহায্য করে।
আমি রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা আমাদের শরীরে স্নায়ু কোষগুলোতে
অক্সিজেন সরবরাহ সচল করতে সাহায্য করে ও শরীরকে সতেজ রাখে।
আমরা অনেকেই হয়তো জানি না আমে প্রায় ২৫
ধরনের কেরোটিনাইডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। এটি আমাদের ইমিউন
সিস্টেমকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
আম মস্তিষ্ককে সচল রাখে।
আমি রয়েছে ক্যারোটিনয়েড যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।
আম হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচায়। আম শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং শরীরের
অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলোকে সতেজ রাখে।
বদ হজম ঠেকাতে আম বেশ উপকারী। আমি রয়েছে এনজাইম যেগুলো প্রোটিন জাতীয়
উপাদান গুলোকে সহজে ভেঙে ফেলতে পারে এবং এতে করে খাবার খুব ভালোভাবে দ্রুত হজম
হয়। এতে করে পাকস্থলীর অনেক রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
চোখের জন্য আম উপকারী। আমে রয়েছে ভিটামিন এ যা রাতকানা থেকে বাঁচতে সাহায্য
করে। আমের মৌসুমে চোখ ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন অন্ততপক্ষে আম খাওয়া
উচিত। আমরা সকলেই জানি ভিটামিন এ আমাদের চোখের জন্য অনেক উপকারী। আর পাকা আমের
হয়েছে ভিটামিন এ। খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন একটি করে আম খেলে তথ্যসূত্র
অনুযায়ী শরীরে 25 পার্সেন্ট ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরণ হয়। ভিটামিন এ চোখের
দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য
করে।
ওজন কমাতে আম খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে। আমে এতটা পুষ্টিগুণ আগুন
রয়েছে যে প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় আম খেলে সুষম খাবারের চাহিদা পূরণ হয়ে
যায়। আমে থাকা ফাইবার শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এবং শরীরের শক্তি বর্ধক
হিসেবে কাজ করে। তাই শরীরের ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট
ফুড না খেয়ে এগুলোর বিকল্প হিসেবে আমকে বেছে নিতে পারেন। আম আপনার
দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে যার কারণে আপনার অতিরিক্ত কোন
কিছু খাবার প্রয়োজন পড়বে না। অতএব আপনার ওজন কমাতে আম খাওয়ার উপকারিতা
রয়েছে।
আমে রয়েছে টারটারিক অ্যাসিড ও ম্যালিক এসিড এবং সাইট্রিক অ্যাসিড এগুলো আপনার
শরীরের অ্যালকালি নামক রাসায়নিকের তারতম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এগুলো
আমাদের শরীরের রক্তকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
আম ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বকের ভেতর থেকে পরিষ্কার
রাখতে আম খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে। তথ্যসূত্র অনুযায়ী ত্বকের উপর বিভিন্ন ধরনের
ফুসকুড়ি চর্ম দূর করতে আম খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে।
কলেস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখতে আম খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে। আমি রয়েছি
ভিটামিন সি ফাইবার ও প্রোটিন যার রক্তের উচ্চমাত্রায়
কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পাকা আম বেশ ভালো ভূমিকা পালন করে। আমি থাকা
কয়েরসেটিন,এ্যস্ট্রাগ্যালিন,গ্যালিক এসিড,আইসোকোয়েরসেটিন, ও মিথাইল গ্যালেট
নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট গুলো স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ,
প্রটেস্ট ক্যান্সার , এবং লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে খুব ভালো কাজ করে পাকা
আম।
আম শরীরের পয় নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখে। অর্থাৎ আম খেলে পেট খুব ভালো
পরিষ্কার থাকে। আম শরীরের পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। খাবার হজম করতে আম খুব
ভালো ভূমিকা রাখে। আমের মৌসুমে প্রতিদিন খাবারের পর আম খেলে খাবার খুব
ভালোভাবে হজম হয়। যাদের পেটের সমস্যা, পরিপূর্ণভাবে পেট পরিষ্কার হয় না
তাদেরকে বেশি বেশি আম খাওয়া উচিত।
কাঁচা আমের উপকারিতা
যেহুতু আমের মৌসুমে আমরা সব ধরনের আম খেয়ে থাকি।যদিও মানুষ কাচা আম বিভিন্য
আচার বানিয়ে, সরবত করে, চাটনী করে, মুখরোচক বিভিন্য মসলা দিয়ে ঝালানি
করে এবং আরও ইত্যাদি নানা রকম যাবে মানুষ কাঁচা আম খেয়ে থাকে।
কাঁচা আম একটি মুখরোচক খাবার। আমাদের দেশে কাঁচা অবস্থাতে আম বিক্রি করতে
দেখা যায়। আমরা ইতিপূর্বে পাকা আমের অনেক গুনাগুন সম্পর্কে জেনেছি। তবে পাকা
আমের পাশাপাশি কাঁচা আমেরও গুনাগুন ও উপকারিতা রয়েছে। এই ধাপে আমরা কাঁচা
আমের গুণাগুণ উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করবো।
- কাঁচা আম চোখ সুস্থ রাখতে ভালো ভূমিকা পালন করে।
- কাঁচা আমের রয়েছে লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চোখের রেটিনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
- কাঁচা আমে রয়েছি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা শরীরের নানা রকম ক্ষত সারতে সাহায্য করে। মুখের ভিতর স্কার্ভি ও মাড়ির রক্তপাত নামক সমস্যার সমাধান করে।
- কাঁচা আম পেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে থাকে। যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম ,গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা ইত্যাদি সমধান করে।
- কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই। এবং আরো রয়েছে অধিক পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এগুলো শরীরের শ্বেত রক্ত কণিকার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- কাঁচা আম শরীরের সোডিয়াম ক্লোরাইড ও আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে থাকে।
- তীব্র গরমের হাত থেকে শরীরকে বাঁচাতে কাঁচা আম খুব ভালো ভূমিকা পালন করে।
- কাঁচা আম হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়
আম খাওয়ার সঠিক নিয়ম
আম এমন একটি ফল যা ছোট বড় নির্বিশেষে সবার খুব পছন্দসই একটি ফল। আম খেতে সবাই
পছন্দ করে। আম কাঁচা এবং পাকা সর্ব অবস্থাতেই খেতে খুব ভালো একটি ফল। আমি থাকা
বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন-অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট- পটাশিয়াম- ভিটামিন এ- ভিটামিন সি
-বিটা ক্যারোটিন- বিটা ক্রিপ্টোক্সান্থিন- আলফা ক্যারোটিন সহ আরো নানান
ধরনের উপাদান। আম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে। আমাদের হার্টবিট
নিয়ন্ত্রণে রাকে। আমের থাকা ডায়েটরি ফাইবার খাবার হজমের জন্য খুব
ভালো কাজ করে।
যদিও বা সাধারণত আমরা আমের মৌসুমে সব সময় ইচ্ছা মত যখন তখন আম খেয়ে
থাকি। আম খাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত খুব বেশি রুটিন বা কোন ধরা বাধা নিয়ম
কানুন অনুসরণ করি না। এই হাজারো পুষ্টি গুনাগুন সম্পন্ন এই
ফল খাওয়ার কিছু সঠিক নিয়ম রয়েছে। কিভাবে খেলে আমের পুষ্টিগুণাগু
অক্ষুন্ন থাকবে এবং শরীর আমের পরিপূর্ণ উপকারিতা গ্রহণ করতে পারবে এইভাবে
আমরা সেটা নিয়ে আলোচনা করব।
- আমরা অনেকেই আমের জুস খেতে পছন্দ করি এবং আম বাসায় বিভিন্ন ধরনের আমের জুস বানিয়ে খায়। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আমের জুস তৈরি করে খাওয়া উচিত নয় কারণ আমের জুস করে খেলে নামে থাকা ফাইবারের গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং পুষ্টিগুণের মাত্রাও কমে যায়। তাই আম সব সময় কেটে খাওয়া উচিত।
- আমে চিনির মাত্রা রয়েছে অনেক। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আম খাওয়া উচিত। কারণ ডায়াবেটিস রোগী অতিরিক্ত আম খেয়ে ফেললে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি পূর্ণ হতে পারে।
- আম খেলে শরীরের ওজন বাড়ে। তাই রোগা পাতলা জীর্ণশীর্ণ স্বাস্থ্যের বিকাশ ঘটানোর জন্য আমের মৌসুমে বেশি বেশি আম খেতে পারেন। কিন্তু অপরদিকে যারা ডায়েট করে, যারা শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত এবং ওজন কমানোর জন্য বিভিন্ন নিয়ম কানুন মেনে চলে তাদের ক্ষেত্রে পরিমাণ মতো আম খেতে হবে। কারণ শরীরের ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
- আমের মৌসুমে প্রতিদিন সকালে ও বিকালের খাদ্য তালিকায় নাম রাখা উচিত। কারণ এই রুটিন পুরো এক সময়ের খাবারে পুষ্টির চাহিদা মেটায়
আম খাওয়ার অপকারিতা
যেহেতু আমরা সকলেই জানি যে সব কিছুর একটি বৈপরীত্য রয়েছে। হাজারো পোস্টে
গুনাগুন সম্পন্ন এই ফলটি বেশ কিছু অপকারিতা বহন করে। অনেকের মনে এরকম
প্রশ্ন জাগতে পারে যে আম খাওয়ার কোন অসুবিধা বা অপকারিতা রয়েছে কিনা। আমরা
অনেকেই আছে যারা আমের মৌসুমে মাত্রা অতিরিক্ত আম খেয়ে ফেলি। এবং আমরা
জানি অতিরিক্ত কোন কিছুই সঠিক নয়। বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী এবং
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই ধাপে আমরা আম খাবার বেশ কিছু
অপকারিতা তুলে ধরেছি।
- সর্বপ্রথম ধাপ হচ্ছে আমের মৌসুমে বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়রা অতিরিক্ত আম খেয়ে ফেলে অন্যান্য খাবারের তুলনায় মাত্র অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে পেটের গোলযোগ সৃষ্টি হয় এবং পেট খারাপ হতে পারে
- অনেকেই আছে এরকম বিভিন্ন খাবারের প্রতি এলার্জি থাকে ঠিক সে রকম ভাবে অনেকেই রয়েছে যাদের আমের প্রতি এলার্জি আছে। শরীর এরকম এলার্জির সমস্যা থাকলে আম খাওয়া ক্ষতিকারক প্রমাণিত হতে পারে। কারণ আমি প্রোটিন লেটেক্স এর মত উপাদান রয়েছে এলার্জিজনিত অসুবিধা তৈরি করতে পারে।
- আমে উচ্চ মাত্রায় প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে। আর যেহেতু আমরা জানি চিনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোন বিষের থেকে কম নয়। আর অতিরিক্ত আম খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে খুব দ্রুত চিনির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আম খেতে হবে। নইলে হিতে বিপরীত ঘটতে পারে।
- আর যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি আম ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। তাই যারা ডায়েটে থাকে অথবা বিভিন্ন ধরনের এক্সারসাইজ করে পরের কমাতে চায় তাদের জন্য অতিরিক্ত পরিমাণ আম খাওয়া মোটে উচিত নয়। আমি রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা-ফাইবার ও ক্যালরি যা শরীরের ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
আমের প্রকারভেদ
সারা পৃথিবী জুড়ে কয়েক হাজার রকমের আম রয়েছে। তবে আমাদের দেশে প্রচলিত
যেসব জনপ্রিয় আমগুলো রয়েছে সেগুলো হলো গোবিন্দভোগ-গোলাপ খাস-গোপালভোগ-রানী
পছন্দ-হিমসাগর-ক্ষীরসাপাত-ল্যাংড়া-লক্ষণ
ভোগ-হাড়িভাঙ্গা-আম্রপালি-ফজলি-দুধসর-আশ্বিনা এবং আরো ইত্যাদি। আমাদের
দেশে প্রচলিত এসব জনপ্রিয় আমগুলো এক একটির এক এক রকম স্বাদ হয়ে
থাকে। কোনটির স্বাদ কোনোটির সঙ্গে মিলবে না। প্রতিটি জাতের আম তার
নিজস্ব স্বাদ ও গুনে মানে অনন্য।
এগুলোর জাত এবং গুনমাণ অনুযায়ী এদের দামেও ভিন্যতা থাকে। তবে দামের ক্ষেত্রে
খুব একটা বেশি তারতম দেখা যায় না। দাম নির্ধারণ হয় মূলত আমের গুণমানের উপর
ভিত্তি করে।
আম নিয়ে শেষ কথা
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url