জিলহজ মাসের আমল - জিলহজ মাসের ফজিলত - জিলহজ মাস সম্পর্কে বিস্তারিত

জিলহজ মাসের আমল সম্পর্কে আজকের আলোচনা। জিলহজ মাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস।পবিত্র কুরআন শরিফের মধ্যে বর্ণিত চারটি হারাম মাস তথা সন্মানিত মাসের মধ্যে অন্যতম একটি হলো "জিলহজ''।জিলহজ মাসের আমল সম্পর্কে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনে এমন কিছু আমল রয়েছে যেগুলোর গুরুত্ব জানলে আপনিও চাইবেন প্রতিটি আমলগুলো পালন করতে। জিলহজ মাসের আমল এবং জিলহজ মাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুরো লেখনি পড়ুন।

জিলহজ মাসের আমল - জিলহজ মাসের ফজিলত - জিলহজ মাস সম্পর্কে বিস্তারিত
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন মাজিদের মধ্যে এরশাদ করেছেন (নিশ্চয় মাস সমূহের গণনায় আল্লাহর কাছে বারো মাস আল্লাহ কিতাব রয়েছে সেই দিন থেকে যেদিন তিনি আসমান ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন। আর এই বারোটি মাসের মধ্যে চারটি মাস হচ্ছে সন্মানিত মাস।এটাই প্রতষ্ঠিত দ্বীন)

পেইজ সূচিপত্রঃ- জিলহজ মাসের আমল - জিলহজ মাস সম্পর্কে বিস্তারিত

সর্বপ্রথম জিলহজ মাস সম্পর্কে কিছু কথা

হজ আরবি শব্দ।এর আভিধানিক শব্দ হচ্ছে 'সংকল্প' করা অথবা 'ইচ্ছা' করা। নির্দিষ্ট দিন সমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র কাবাঘর ও সংশ্লিষ্ট স্থান সমুহে বিশেষ কার্যাদি সম্পন্ন করকে হজ বলে। হজ একটু গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।হজ সম্পর্কে আল্লাহতালা বলেছেন-
"মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই গৃহে হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য" ( সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ৯৭ )

হজের অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে।হজের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন -
''যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ জিয়ারত করে এসে কোন অশ্লীল কাজ করলো না আল্লাহর অপছন্দনীয় কোন কাজে লিপ্ত হলো না এবং সে গুনাহ থেকে এমন ভাবে পবিত্র হয়ে ফিরল যেমন সে পবিত্র ছিল সেদিন যেদিন সে তার মায়ের পেট থেকে জন্মগ্রহণ করেছিল।'' ( বুখারী ও মুসলিম )

তিনি আরো বলেছেন ''তোমরা হজ ও ওমরাহ্‌ পর পর করতে থাকো। কারণ এই দুটি ইবাদত দারিদ্রতা ও অভাব এবং গুণাগুলোকে এমন ভাবে দূর করে দেয় যেমন ভাবে আগুনের ভাটি লোহা, সর্ণ, রূপার ময়লা গুলো যেভাবে দূর করে দেয় এবং বিশুদ্ধ করে দেয়। হজে মাবরুরের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত।"

আর  এই পবিত্র জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত মক্কা-মিনা-আরাফা এবং মুজদালিফায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করে এই পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়।হজ এমন একটি ইবাদত যার ফলে মানুষ ফুলের মত নিষ্পাপ হয়ে যায়। পূর্ব শর্ত হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের দরবারে হজ কবুল হতে হবে।

জিলহজ মাসের গুরুত্ব

জিলহজ মাসের আমল সম্পর্কে অবগত হতে হলে আগে আমাদেরকে জিলহজ মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে হবে।জিলহজ মাসের গুরুত্ব অনেক। এটি এমন একটি মাস যার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সওয়াবের ঝুলি ভর্তি করে নেকি কামানোর সুবর্ণ সুজোগ। ১২ মাসে এক বছর। এই বারোটি মাসের মধ্যে কয়েকটি মাস রয়েছে যা আল্লাহ তাআলার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআন মাজিদের মধ্যে এসেছে '' নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ তালার নিকট আল্লাহর কিতাবের মধ্যে মাসের সংখ্যা রয়েছে ১২'' ( সূরা আরাফাহ, আয়াত ৩৬ )

এই বারটি মাসের মধ্যে সর্বশেষ মাস হচ্ছে জিলহজ মাস। এই মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত সম্পর্কে কুরআন এবং হাদীস শরীফের মধ্যে গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত করা আছে। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেছেন ''ফজরের শপথ এবং ১০ রাতের শপথ।''  (সূরা ফজর, আয়াত ১ - ২)

হযরত ইবনে আব্বাস (রহ) এবং মুজাহিদ ও ইকরামা (রহ)-এর মতে এই দশ রাতের শপথ বলতে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ রাতের কথা বলা হয়েছে। জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন সম্পর্কে পবিত্র কোরআন শরীফে আরো ইঙ্গিত পূর্ণ আয়াত রয়েছে। এরশাদ রয়েছে ''তারা যেন নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে'' (সূরা হজ্জ- আয়াত ২৮) প্রায় সব মুফাসসির মুহাদ্দিসদের অভিমত হচ্ছে এই দিনগুলি হল জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন।

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের নেক আমল গুলি আল্লাহ তায়ালার কাছে খুব বেশি পছন্দনীয়। মানবী (সাঃ) বলেছেন, জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল করা আল্লাহতালার কাছে এতটাই প্রিয় যে অন্যকোনো দিনের আমল তার কাছে ততটা প্রিয় নয়। সাহাবীরা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করাও কি এর মত প্রিয় নয়? উত্তরের তিনি বলেন না, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জান মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বেরিয়েছেন এবং আর কোন কিছুই নিয়ে ফিরে আসতে পারেন নি। ( অর্থাৎ যে শহীদ হলো ), ( বুখার.১/৩২৯ )।

আরেকটি হাদিসে বর্ণিত আছে যে ''দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদা পূর্ণ দিন হচ্ছে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন''( মাজমাউজ জাওয়ায়িদ, হায়সামিঃ ৩/২২৫ ) হাই স্বামী আরেকটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন '' জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের থেকে আল্লাহতালার কাছে বেশি মর্যাদাপূর্ণ আর কোনদিন নেই এবং নেক আমল করার জন্য এর থেকে বেশি প্রিয় অন্য কোন দিনও নেই। জন্য এই দিনগুলোতে বেশি বেশি সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার এই তাসবি গুলো পাঠ করো। অন্য বর্ণনায় এসেছে তাকবির তাহলীল ও আল্লাহর জিকির করো( মাজমাউজ জওয়া্যিদঃ২/৩৯ )

জিলহজ মাসের ১১ ১২ ১৩ তারিখে জিকির সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ''তোমরা নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে আল্লাহকে স্মরণ করো তবে যেই ব্যক্তির দু'দিনে তড়িঘড়ি করে তার জন্য এবং যে বিলম্ব করে তার জন্য উভয় অবস্থায় কোনো পাপ নেই, তার জন্য যে ্তাকওয়া অবলম্বন করলো।'' ( সূরা বাকারা- আয়াতঃ ২০৩ )

জিলহজ মাসের আরাফা দিবস হিজরতের দশম বছরে মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন ইসলামের পূর্ণতা ঘোষণা করেন, ''আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দিনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার আমার নিয়ামত পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম''। ( সুরা মাইয়িদা, আয়াত-৩ ) জুমার দিনে আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতের পাদদেশে এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর আর কোন বিধি-বিধানের আয়াত নাজিল হয়নি।

যেহেতু জিলহজ্জ মাসে হজ অনুষ্ঠিত হয় এইজন্য জিলহজ্ব মাসের গুরুত্ব অনেক। হজ হচ্ছে ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ। মহান আল্লাহ পাক বলেন, ''এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও ওমরা পূর্ণ কর'' ( সুরা বাকারা, আয়াত-১৯৬ ) হজ এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান হচ্ছে সরাসরি জান্নাত। ( বুখারী হাদিস- ১৭৭৩, মুসলিম হাদিস- ১৩৪৫ ) আর এই জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলিমদের জন্য ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদুল আযহার দিনে যাদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব হয়েছে তাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহ পথে পশু কোরবানি করতে হবে। মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন উম্মতে মুহাম্মাদির উপর কোরবানির বিধান দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন ''নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি, তাই আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন'' ( সূরা কাওসার, আয়াতঃ ১-২ )

আল্লাহ বলেন ''প্রত্যেক জাতির জন্য আমি কোরবানি নির্ধারণ করে দিয়েছি যাতে তা জবাই করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে''  ( সূরা হজ্জ, আয়াত- ৩৪ ) কোরবানি করার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আল্লাহতালা সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহতালা এরশাদ করেন, '' কোরবানির পশুর রক্ত মাংস কোন কিছু আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না বরং তোমাদের তাকওয়াই তোমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের রবের কাছে পৌঁছায়। এভাবে পশু গুলো তোমাদের বশ করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করো এই কারণে যে তিনি হেদায়েত দিয়েছেন। আর সৎকর্মশীলদের জন্য সুসংবাদ জানিয়ে দিন'' ( সূরা হজ, আয়াতঃ ৩৭ )

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেছেন, ''আল্লাহ তোমাদের আকৃতি ও বাহ্যিক সুন্দরের দিকে দেখেন না বরং তোমাদের হৃদয় ও আমলকে  প্রাধান্য দেন''  ( মুসলিম হাদিস- ৬৭০৮ )

জিলহজ মাসের ফজিলত 

জিলহজ মাসের আমল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই মাসের ফজিলত সম্পর্কে কিছু ব্যাখ্যা না দিলেই নয়। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের কাছে চারটি সম্মানিত মাসের মধ্যে জিলহজ মাস একটি। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা কিছু মাসকে, কিছু দিন কে এবং কিছু রাত্রিকে অনেক ফজিলতপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছেন। ঠিক যেমন অন্য সকল মাস গুলোর উপরে রমজান মাস কে আল্লাহতালা মহিমান্বিত করেছেন। ঠিক যেমন  শবে কদরের রাত্রিকে অন্যান্য রাত্রির চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ করেছেন। আরাফাতের দিবস ও ঈদের দিবসকে অন্যান্য যেকোনো দিনের ওপর বেশি প্রাধান্যতা দিয়েছেন।

জিলহজ মাস হচ্ছে একটু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাস। এই মাসে হজ ও কুরবানী অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই মাসের অনেক ফজিলত রয়েছে। যেহেতু আমরা আখেরি নবীর উম্মত উম্মতে মোহাম্মদী। আর আমাদের আয়ুষ্কাল বড়জোর ৬০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত। কিন্তু পূর্বের নবী রাসূলদের সময়ে মানুষের আয়ুষ্কাল এত কম ছিল না। তারা হাজার বছর বাঁচতেন। 

ঠিক এই কারণেই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য অল্প সময়ে অধিক সওয়াব হাসিল করার বিশেষ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বেশ কিছু মাস কে, দিনকে এবং রাত্রিকে অনেক ফজিলত পূর্ণ করেছেন। এই বিশেষ ফজিলত পূর্ণ দিবসগুলোতে আমল করলে হাজার বছর আমল করার নেকি পাওয়া যায়। আর এইরকমই একটি ফজিলতপূর্ণ মাস হচ্ছে জিলহজ মাস। মহান আল্লাহ পাকের কাছে বারটি মাসের মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস রয়েছে তার মধ্যে একটি হল জিলহজ মাস। সকল মুসলমানদের এই মাসের ফজিলত সম্পর্কে জানা উচিত এবং তদ্রুপ আমল করা উচিত।

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল এর মহান আল্লাহপাকের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য। জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন ও রাতের আমল আল্লাহ পাকের কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে অন্য কোন দিনের আমল এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে জিলহজ মাসের ফজিলত গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

জিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের এক একটি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদত করার সমান। এবং একদিন রোজা করা এক বছর রোজা রাখার সমান সুবহানাল্লাহ্‌

হুজুরপাক (সাঃ) বলেছেন তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি কুরবানি করতে চায় সে যেন জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর নখ এবং চুল না কাটে।

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা সূরা ফজরের মধ্যে শপথ করে বলেছেন ''ওয়াল ফজরী ফজরের কসম ওয়াল ইয়ালীন আসরি আর দশ রাত্রির কসম (এখানে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন এবং দশ রাত্রি কে বোঝানো হয়েছে)

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত  নবীজি (সাঃ) বলেছেন আল্লাহ পাক রব্বুল আলামিনের কাছে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল এতো বেশি প্রিয়ো যে অন্য কনো দিনের আমল এতো বেশি প্রিয়ো না।এখানে সাহাবীরা নবিজী কে প্রশ্ন করলেন হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) আল্লাহ্‌র পথে জ্জিহাদও কি নয়? উত্তরে নবিজী (সাঃ) বললেন না আল্লাহ্‌র পথের জিহাদও নয়।
তবে ওই ব্যাক্তির কথে ভিন্য যে কিনা তার জান এবং মাল নিয়ে আল্লাহ্‌র পথে বেরিয়ে গেলো এবং আর কনো কিছুই নিয়ে ফিরলো না অর্থাৎ (শহীদ) হলো। (সহীহ্‌ বুখারী)

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী করীম (সাঃ) বলেছেন যে দিন সমূহের মধ্যে এমন কোন দিন নাই যেই দিনের ইবাদত আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে  জিলহজ মাসের দশ দিনের ইবাদতের চেয়ে বেশি প্রিয়ো।

এই দশ দিনের প্রতিটা দিনে রোজা রাখা এক বছর রোজা রাখার সমান।অর্থাৎ প্রতি এক  দিন রোজা রখার জন্য এক বছরের রোজা রাখার সওয়াব। এবং এই দশ রাতের  একেক টি রাতের  কিয়াম লাইলাতুল কদরের কিয়ামের সমান। যেখানে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা বলেছেন লাইলাতুল কদরের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চাইতে উত্তম। সুবহানাল্লাহ্‌

জিলহজ মাসের প্রথম দশকের রাতের প্রতিটা নেক আমল দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। (বাইহাকীর বর্ণনা)

হজরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণীত জিলহজ মাসের প্রথম দশকের প্রতিটাদিন হচ্ছে এক হাজার দিনের সমান অর্থাৎ প্রতিদিনের আমলগুলো এক হাজার দিন আমল করার সমান ।আর শুধু আরাফার দিনের মর্যদা হচ্ছে দশ হাজার দিনের সমান। আরাফার দিনে যে ব্যাক্তি ইবাদত করবে সে দশ হাজার দিন ইবাদত করার সওয়াব হাসিল করবে।

উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী কারীম (সাঃ) বলেছেন ''জিলহজ মাসের চাঁদ যে ব্যাক্তি দেখবে সে যেন কুরবানি না করা পর্যন্ত তার নখ এবং চুল আর না কাটে।'' এখানে যদি কেও কুরবানি না করতে পারে তার ক্ষেত্রেও এই আমল করলে সে একটি কুরবানি করার সওয়াব পাবে।আর মাকবুল কুরবানির নেকী সরূপ কুরবানির পশুর গায়ে যতগুলো লোমকূপ রয়েছে ততগুলো সওয়াব তার আমল নামায় যোগ করা হয়।সুবহান আল্লাহ্‌।

আমরা জিলহজ মাসের ফজিলত সম্পর্কে যে কয়েকটি হাদিস সম্পর্কে অবগত হলাম এবং সম্পূর্ণ আলোচনা পড়ে জানতে পারলাম যে এই মাসের ফজিলত কতোটুকু। আমরা যদি জিলহজ মাস পেয়ে থাকি তাহলে এর ফজিলত গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর আমাদের অবশ্যই উচিত হবে এই সময়টাকে যথযথ ভাবে কাজে লাগানো।অর্থাৎ এই মাসের প্রথম দশ দিন মুসলিম দের জন্য মহান আল্লাহ্‌ পাক রব্বুল আলামিনের পক্ষ হতে প্রেরিত বিশেষ সুজোগ বা উপুহার বলা যায়।

বি-দ্রঃ আমরা যদি এতো বড় নিয়ামত পূর্ণ ও বরকত পূর্ণ সময় পেয়েও কাজে লাগাতে না পারি তাহলে মুসলমান হিসেবে কত বড় ক্ষতি হবে তা আমরা উপরের আলচ্য ফজিলত গুলো সম্পর্কে অবগত হলেই বুঝতে পারবো।ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা বেচে থাকা অবস্থায় জীবনে যতগুলো জিলহজ মাস পাবো এবং জিলহজ মাসের মত যতগুলো ফজিলতপূর্ণ মাস, দিন এবং রাত্রি পাবো আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা যেন আমাদেরকে সে সকল ফজিলতপূর্ণ দিবসগুলোতে নেক আমল করার তৌফিক দান করেন। আমিন। আর জিলহজ্জ মাসের আমল সম্পর্কে জানতে হলে নিচের ধাপটি ভালোভাবে পড়ুন।

জিলহজ মাসের আমল

জিলহজ মাসের আমল সম্পর্কে বলতে গেলে জিলহজ মাসে বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। তবে এই জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন আমাদের জন্য হতে পারে সারা জীবন পরিবর্তন করার একটা মাধ্যম। অর্থাৎ জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত সম্পর্কে জেনে যদি আমরা আমল করার জন্য অনুপ্রেরিত হয় তাহলে জিলহজ মাসের এই প্রথম ১০ দিন আমাদের জন্য হতে পারে জীবন পরিবর্তনের একটি সুবর্ণ সুযোগ।

এখানে জীবন পরিবর্তনের মাধ্যম বলার কারণ হলো এই দশ দিনকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা যদি আমল করার চেষ্টা করি তাহলে হতে পারে এই ১০ দিনের জন্য বিশেষভাবে আমল করার উসিলায়  মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ এবং আমরা পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের পথে ফিরে আসতে পারি। বদলে ফেলতে পারি নিজেকে সারা জীবনের জন্য।

যেহেতু জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন নেক আমল করার উৎকৃষ্ট উৎস। এই দশ দিনের নেক আমল মহান আল্লাহ পাকের কাছে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা পূর্বের আলোচনা থেকে খুব ভালোভাবে অবগত হয়েছি। তাই জিলহজ মাসের আমল এই ধাপে নেক আমল করার পদ্ধতি গুলো আমরা এমনভাবে উল্লেখ করেছে এবং জীবন পরিচালনা করার মাধ্যম বলে দেব যে পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে আপনি এই দশ দিন কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারবেন এবং অনেক বেশি নেক আমল করতে পারবেন।

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর প্রথম দিন থেকে শুরু হোক আপনার জীবনের একটি নতুন সূচনা। প্রথম দিন থেকেই একটু একটু করে বদলাতে থাকেন নিজেকে। এবং শুরুটা হোক এইভাবে যেমনঃ- 

সর্বপ্রথম দিনের আমল করার জন্য আপনি আগের দিন অর্থাৎ চাঁদ দেখতে পাওয়ার পর তারাতারি ঘুমিয়ে যান, যেন পরের দিনের ফজরের ওয়াক্ত থেকে আপনি শুরুটা করতে পারেন ইনশাআল্লাহ্‌।(প্রয়োজনে এ্যলার্ম দিন)

যদি আপনার ফজরের নামাজ পরার অভ্যাস নাথাকে তাহলে  ফজরের নামাজের আধা ঘন্টা আগে উঠে যান।(প্রয়োজনে এ্যলার্ম দিন)

তারপর পাক পবিত্র হয়ে অন্ততপক্ষে দুই থেকে চার রাকাত নফল নামাজ পড়ুন।কারণ এই সময়টা হচ্ছে দোয়া কবুল করার একটা মক্ষম সময়।প্রতিটা শেষ রাতে্র এই সময়ে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা নেমে আসেন প্রথম আসমানে এবং ফজর পর্যন্ত আল্লাহ্‌পাক আহ্বান করতে থাকেন এভাবে যে হে বান্দা বলো তোমার কি চাওয়া আছে আমি পূরণ করে দিবো।সুবহানআল্লাহ্‌

তারপর মসজিতে গিয়ে আগে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পরে, জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করেন।

তারপর ফরজ নামাজ শেষ করে কিছু তাসবিহ্‌ পাঠ করতে থাকুন।যেমন আয়াতুল কুরসি এক বার, সুরা ফালাক সুরা নাস তিন বার করে পড়া, ৩৩ বার সুবহান আল্লাহ্‌ ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্‌ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আক্‌বার পড়া, আস্তাগফিরুল্লাহ্‌ পড়া। দুরুদ শরিফ দশ বার  এরকম আরো বেশ কিছু জিকির ও তাসবিহ্‌ তাহ্‌লিল রয়েছে সেগুলো পড়তে পারেন।ইত্যাদি

তারপর কিছু সময় কোরআন শরীফ তিলাওয়াত করার চেষ্টা করবেন।

তারপর মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে দুই রাকাত এশরাকের নামাজ আদায় করে নিন।নবিজী (সাঃ) বলেছেন যে ব্যাক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়ল অতঃপর চলে না গিয়ে সেই যায়গায় বসে থেকে জিকির আজগার করলো এবং সূর্য উদয় হওয়ার পরে সে যদি দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তাহলে সেই ফিরে যাওয়ার সময় একটা কবুল হজ্জ এবং একটা কবুল ওমরাহে্‌র সওয়াব নিয়ে ফিরে যাবে।

তারপর সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে বিশেষ ফজিলত পূর্ণ একটা নামাজ রয়েছে যেটাকে বলা হয় সলাতুত্‌ দোহা্‌।অর্থাত চাশ্তের নামাজ। এই চাশ্তের নামাজ নিয়মিত পড়লে বিশেষ দুইটা ফজিলত হচ্ছে সে ব্যাক্তি ইল্‌ম ক্ষমতা অর্জন করতে পারবে এবং সে ব্যাক্তির দারিদ্রতা দূর হয়ে যাবে  ইনশাআল্লাহ্‌।  বিদ্রঃ প্রতিদিন রাতে সূরা ওয়াকিয়াহ্‌ তিলাওয়াত করলে আল্লাহপাক দারিদ্রতা দূর করে দিবেন ইনশাআল্লাহ্‌।

তারপর সারাদিনের বাকি ওয়াক্তের নামাজ গুলো মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করার চেষ্টা করবেন।

একটা কথা মনে দৃরভাবে শপথ করতে হবে যে এই দশ দিন পাচ ওয়াক্ত নামাজ কনোভাবেই ছাড়া যাবে না ইনশাআল্লাহ্‌।মসজিদে যেতে না পারলে বাসায় পরতে হবে।ওয়াক্ত ছুটে গেলে কাজা করতে হবে।

এই দশ দিনের জিলহজ মাসের আমলের মধ্যে আরেকটি বিশেষ আমল হচ্ছে সবসময় পাক-পবিত্র থাকা এবং ওজু অবস্থায় থাকা।এবং ওজু ছুটে গেলে সাথে সাথে ওজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা।এটাকে বলা হয় ত্যাহিয়াতুল ওজু।একদা হুজুরপাক (সাঃ) হজরত বেলাল (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন হে বেলাল তুমি কি এমন আমল করো যার বিনিময়ে আমি দেখি তুমি জান্নাতে আমার সামনে সামনে হাটছো? জবাবে হজরত বেলাল (রাঃ) বলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমি বিশেষ  কনো আমল করি না আপনারা যা করেন আমিও তাই করি তবে আমার যখন ওজু ছুটে যায় ্তখন আমি ওজু করে নেই এবং সেই ওজু দিয়ে দুই রাকাত নামজ আদায় করি। সুবহানাল্লাহ।
বিদ্রঃ প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে মসজিদে ঢুকেই সাথে সাথে দুই রাকাত (ত্যাহিয়াতুল মাসজিদ) আদায় করা।এটা মসজিদের হক।মসজিদের ঢুকেই বসে পড়তে হয় না।মসজিদে গিয়ে সর্বপ্রথম দুই রাকাত নামাজ পরে বসা সুন্নত।

এই দশ দিন বেশি বেশি তাকবীর্‌ দেওয়া। আল্লাহু আকবার- আল্লাহু আকবার- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু- আল্লাহু আকবার- আল্লাহু আকবার- ওয়া লিল্লাহিল হামদ। সাহাবিরা এই দশ দিন বেশি বেশি তাকবীর দিতেন।

এই দশ দিন বেশি বেশি তওবা করতে হবে।তওবা করতে হবে খালেস দিলে।বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে হবে।কারো হক নষ্ট করলে কারো সাথে খারাপ ব্যাবহার করলে মোট কথা মানুষের সাথে সম্পৃক্ত পাপের জন্য মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আল্লাহ্‌তায়ালার সাথে নাফরমানির জন্য আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

আস্তাগফিরুল্লা হাল্লাযি্‌ লা ইলাহা ইল্লাহু ওয়াল হায়্যুল কয়্যুম ওয়াতুব ইলাইহি্‌ এই ইস্তেগফার টি প্রতিদিন সওর থেকে একশো বার পাঠ করার চেষ্টা করবেন।

এই দশ দিন বেশি বেশি রোজা রাখা। যদি দশ দিন রোজা রাখা কষ্টকর হয় তাহলে ৩ টা অথবা ৪ টা রোজা রাখা। এক্ষেত্রে কোন ভাবেই আরাফার দিনের রোজা ছাড়া যাবে না।এই দিনের রোজার ফজিলত এই যে এই দিন রোজা রাখলে পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহ্‌ মাফ হওয়ার কারণ।

ইবলিস আরাফার দিনে সবথেকে বেশি অনুতপ্ত হয় সবথেকে বেশি হতাশায় ভোগে আরাফার দিনে। কারণ এই দিনে আল্লাহপাক যত মানুষকে মাফ করে দেন তা অন্য কোন দিন করেন না।এই জন্য এই দিন রোজা রাখা অবশ্যাক।আর এই দশ দিন একটা রোজা এক বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে।

২০২৩ সালে জিলহজ মাস কোন মাসের কত তারিখে

জিলহজ মাসের আমল গুলো যথাযথ ভাবে পালন করতে হলে আগে জানতে হবে যে এই বছর জিলহজ মাস কবে থেকে শুরু হবে।  অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে ২০২৩ সালের জিলহজ মাস ইংরেজি কোন মাসের কত তারিখে পড়বে?  জিলহজ মাস সম্পর্কে অনেকেই জানতে আগ্রহী। কারণ জিলহজ মাস হচ্ছে আল্লাহর মনোনীত আরবি বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ মাস।
জিলহজ মাসের আমল - জিলহজ মাসের ফজিলত - জিলহজ মাস সম্পর্কে বিস্তারিত
যেহেতু এই মাসের ফজিলত এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা উপরের আলোচনা থেকে যথেষ্ট ধারণা পেয়েছি। আমরা জানতে পেরেছি কেন এই মাস মহান আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে মূলত ইসলামের বড় একটি স্তম্ভ হজ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং এই মাসেই কুরবানী ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।

মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের কাছে চারটি সম্মানিত মাসের মধ্যে জিলহজ্জ মাসের মত একটি মহা গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলত সম্পন্ন মাস ২০২৩ সালে ইংরেজি মাসের জুন মাসের ২০ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ্‌। আর ২০২৩ সালের জুন মাসের ২০ তারিখের দিনটি হচ্ছে মঙ্গলবার। [বিদ্রঃ-***চাদ দেখার উপড় নির্ভরশীল***]

বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিবছর জিলহজ মাস কত তারিখ থেকে শুরু হবে এবং কোন দিন কি বার থেকে শুরু হবে এগুলো জানার জন্য খোঁজাখুঁজি করে থাকেন। কারণ জিলহজ মাসের আমল প্রথম দিন থেকেই অনেকে শুরু করতে চায়। তাই তাদের জন্য এই বিষয়টি জানা অত্যান্ত জরুরী। প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরেও ২০২৩ সালের কোন মাসের কোন দিন থেকে জিলহজ মাস শুরু হতে যাচ্ছে তা নিয়ে অনেকেই হয়তো খোঁজাখুঁজি করছেন। জিলহজ মাস হচ্ছে আরবি বর্ষপঞ্জির সবশেষ মাস অর্থাৎ ১২তম মাস।

২০২৩ সালে এই মাসটি ইংরেজি মাসের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জুন মাসের ২০ তারিখ রোজ মঙ্গলবার এই মহামান্বিত ফজিলতপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মাস শুরু হওয়ার প্রথম দিন হতে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ  [বিদ্রঃ-***চাদ দেখার উপড় নির্ভরশীল***]

জিলহজ মাস নিয়ে শেষ আলোচনা

জিলহজ মাসের আমল এবং জিলহজ মাস সম্পর্কে বিস্তারিত এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা আশা করছি যথেষ্ট উপকৃত হতে পেরেছি।  আমরা যদি অপরের আলোচিত পুরো লেখনী পড়ে থাকি তাহলে এতক্ষণে অবশ্যই জেনে গেছি যে জিলহজ মাস কি কেন এই মাসের এত গুরুত্ব এবং কেনই বা এই মহান আল্লাহ পাকের কাছে এতটা সম্মানিত। এই মাসের ফজিলত এবং গুরুত্ব সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়েছি। এই মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল এবং এই দশদিনের গুরুত্ব এবং ফজিলত সম্পর্কে আমরা যথাযথ অবগত হয়েছি। এই মাসের ফজিলত এবং গুরুত্ব সম্পর্কে জেনে আমাদের তদনুযায়ি আমল করার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এই মাসের গুরুত্ব বোঝার তৌফিক দান করুক এবং তদ্রুপ আমল করার তৌফিক দান করুক আমীন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
1 জন কমেন্ট করেছেন ইতোমধ্যে
  • Moznu
    Moznu June 20, 2023 at 4:10 AM

    Such a great post man.i have read this post and thankful to you

মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়

comment url