গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড - গাপ্পি মাছের খাবার

গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড ও গাপ্পি মাছের খাবার এই পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারবো কিভাবে কোথায় থেকে আমরা একদম ফ্রিতে গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড সংগ্রহ করতে পারব। সৌখিন মাছের মধ্যে গাপ্পি একটি অন্যতম সুন্দর মাছ। এবং এর সৌন্দর্যতা ধরে রাখতে গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরী। কিভাবে বাসায় নিজে থেকে এই লাইভ ফুড তৈরি করবেন এবং কোথায় থেকে ফ্রিতে এই লাইভ ফুড গুলো পাওয়া যাবে তা জানার জন্য পুরো পোস্টটি ভালোভাবে পড়ুন।
গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড - গাপ্পি মাছের খাবার
যেহেতু গাপ্পি আমাদের অত্যন্ত শখের একটি মাছ।গাপ্পি মাছের অপরূপ সৌন্দর্যতা মাছ প্রেমিকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। সুতরাং এই মাছের সৌন্দর্যতা বজায় রাখার জন্য ও সুস্থ সতেজ রাখার জন্য মাছ চাষীদের থেকে শুরু করে সৌখিনতার বসে বাসায় পালিত একুরিয়ামের মাছ পর্যন্ত সর্বদা এই লাইভ ফুডের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। গাপ্পি মাছ প্রেমিকদের এবং চাষীদের জন্য গাপ্পি মাছের খাবার সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন থাকা প্রয়োজন। এই পোস্টটা আপনার জন্য অনেক উপকৃত হতে চলেছে

পেইজ সূচিপত্রঃ- গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড - গাপ্পি মাছের খাবার 

  • গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড সম্পর্কে কিছু তথ্য
  • গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড মশার লার্ভা
  • গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড ডাফনিয়া
  • গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড ইনফিউসোরিয়া
  • গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড লাল কেচো
  • গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড মাইক্রোওয়ার্ম
  • গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড চিংড়ি পোনা
  • গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড ব্লাড ওয়ার্ম
  • গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড সম্পর্কে শেষ কথা

গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড সম্পর্কে কিছু তথ্য

লাইভ ফুড মাছের জন্য হচ্ছে খুব হাইলি প্রোটিন একটা খাবার। লাইভ ফুড মানে আমরা সকলেই জানি জীবন্ত খাবার গুলো অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট পোকামাকড় জু প্লাংটন-ফাইটো প্লাংটন যেগুলো মাছ খেয়ে জীবনধারণ করে থাকে। লাইভ ফুড মাছের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। কারণ অর্গানিকভাবে তৈরিকৃত প্যাকেটজাত খাবারের থেকে প্রকৃতি থেকে পাওয়া ভক্ষযোগ্য বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকামাকড় গুলো মাছের জন্য অধিকতর উপকারী এবং মাছের কাছে এগুলো অনেক পছন্দের খাবার। কারণ প্রকৃতিতে থাকা অবস্থায় মাছ তার নিজস্ব খাবার নিজে থেকে খুজে নেয়।

আমরা মাছ চাষাবাদ করার ক্ষেত্রে অথবা বাসায় সাজিয়ে রাখার ক্ষেত্রে মাছকে দেখা যায় প্রায় সবসময় অর্গানিক খাবার গুলো সরবরাহ করে থাকি। বিভিন্ন কোম্পানির তৈরিকৃত প্যাকেটজাত অর্গানিক খাবার গুলোতেও সব ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান দিয়ে তৈরি করা থাকে। হাইলি প্রোটিন সমৃদ্ধ বিভিন্ন উচ্চমানের প্যাকেটজাত খাবার গুলো বাজারে পাওয়া যায় যা মাছের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। কিন্তু তবুও মানুষের তৈরি কোন খাবারের সাথে লাইভ ফুডের অর্থাৎ প্রকৃতি থেকে পাওয়া জীবন্ত পোকামাকড়ের সাথে তুলনা করা যায় না।

পাখি যেমন স্বর্ণের খাঁচায় থাকতে চায়না। সে রোদ ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে হলেও প্রকৃতিতে থাকতে চায় মুক্ত আকাশে পাখা মেলতে চায়। ঠিক তেমনি ভাবেই আমরা যে মাছগুলোকে শখের বসে বাসায় পালন করে থাকে থাকি এবং এই মাছগুলোকে যারা চাষাবাদ করে থাকে তারা ই উভয়েই অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমানা অথবা জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে এই মাছগুলোকে লালন পালন করে থাকে। এখন প্রসঙ্গ হল যেহেতু নিজস্বভাবে এই মাছগুলোর দায়িত্ব নিয়ে লালন পালন করা হচ্ছে নিজের আওতাধীন অবস্থায় অতএব এখানে প্রকৃতি থেকে নিজস্বভাবে কোন কিছুই হবে না। সম্পূর্ণ পরিচালনা ব্যবস্থার দায়িত্ব পুরোটাই আমাদের উপরে।

চাষাবাদের ক্ষেত্রে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পর থেকে শুরু করে মাছ বিক্রি হওয়া পর্যন্ত আর সৌখিন মানুষদের ক্ষেত্রে বাজার থেকে মাছ কিনে এনে একুরিয়ামে থেকে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ দায়িত্ব এবং পরিচালনা ব্যবস্থা নিজে থেকেই পরিচালনা করতে হয়। সুতরাং এক কথায় বলতে গেলে যেহেতু এই মাছগুলো অনেক সৌখিন এবং দামী হয়ে থাকে তাই এই মাছগুলোকে সুস্থ সবল এবং এদের সৌন্দর্যতা ধরে রাখতে এদেরকে খাবার সরবরাহের বিষয়বস্তুটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাবজেক্ট।

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বস্তুর উপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। আমাদের আজকের এই আর্টিকেল মূলত গাপ্পি মাছের খাবার সংক্রান্ত লেখনি। আর যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে বলেছি গাপ্পি মাছকে খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে একটু সচেতন থাকতে হবে। আপনার সামান্য ভুলের কারণে আপনার শখের মাছটি মারা যেতে পারে। আপনার শখের মাছটিকে কিভাবে কোন উপায়ে কি খাবার দিলে দীর্ঘদিন মাছ সুস্থ থাকবে এবং মাছের গুণগত মান অক্ষুন্ন থাকবে তা নিয়ে থাকছে বিস্তারিত আলোচনা। অতএব পুরো পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং আপনার প্রয়োজনীয় লাইভ ফুড গুলো নিজেই বাসায় তৈরি করে ফেলুন অথবা বিনামূল্যে পেয়ে যান।

মশার লার্ভা কালচার পদ্ধতি

মশার লার্ভা মাছের জন্য এমন একটি লাইভ  ফুড যা খুব সহজেই কালচার করা যায়। কোন প্রকার টাকা খরচ করা ছাড়া এটি তৈরি করতে পারবেন। এটি দুই রকম ভাবে সংগ্রহ করা যায়। একটি হচ্ছে বিনামূল্যে নিজে থেকে উৎপাদন করা যায় এবং আরেকটি হচ্ছে প্রকৃতি থেকে বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যায়। মশার লার্ভা মাছের জন্য অত্যন্ত পছন্দের একটি জীবন্ত খাবার। আমাদের সকলের অতি পরিচিত মশা যা পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই মশা পানিতে ডিম পাড়ে এবং সেখান থেকে যে লার্ভা গুলো তৈরি হয় সেগুলো মাছের জন্য অনেক পছন্দের খাবার এবং মাছ চাষীদের জন্য অমূল্য রত্ন। অতএব আমরা মূল প্রসঙ্গে চলে যায়। নিজের ধাপগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড - গাপ্পি মাছের খাবার
নিজে থেকে উৎপাদন নিজে থেকে উৎপাদন করার ক্ষেত্রে আপনাকে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই কোন প্রকার পয়সা খরচ করা ছাড়াই আপনারা অতি সহজে এই মশার লার্ভা উৎপাদন করতে পারবেন। কিভাবে চলেন জেনে নেওয়া যাক। সর্বপ্রথম আপনাকে ঠিক করতে হবে যে কি পরিমাণ আপনার কাছে মাছ রয়েছে। এবং আপনার মজুদকৃত মাছকে খাওয়ানোর জন্য কি পরিমান আপনার মশার লার্ভা প্রয়োজন পড়বে সেই অনুযায়ী আপনাকে সর্বপ্রথম এমন একটা জায়গা নির্বাচন করতে হবে যে জায়গাটি সব সময় ফাঁকা থাকে। অর্থাৎ মানুষের আনাগোনা খুব কম থাকে।

এটি যে কোন জায়গায় হতে পারে তবে শর্ত হলো জায়গাটি নির্জন জায়গা হতে হবে। আলো বাতাসের ক্ষেত্রে তেমন কোন বাধা নেই। জায়গাটি যদি একটু গাছপালা পূর্ণ ছায়ায় ঘেরা এবং আশেপাশে ঝোপঝার সংলগ্ন হয় তাহলে ভালো। এরকম যায়গাতে আপনাকে একটি পাত্র, ( যেকনো রকমের পাত্র ) হলেই হবে। 

পাত্রের ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো সর্ব প্রথম আপনাকে ঠিক করতে হবে যে আপনার কি পরিমান ফুড লাগবে। অর্থাৎ আপনার কি পরিমান মাছ মজুদ রয়েছে।সেই অনুজায়ি আপনাকে পাত্র নির্বাচন করতে হবে।এবং সেই পাত্রটি সেই যায়গায় রাখতে হবে যেই যায়গাটি আপনি নির্বাচন করেছিলেন।তারপরে পরিষ্কার পানি সেই পাত্রে পরিমাণ মত দিতে হবে।বলে রাখা ভালো আপনার নির্বাচন কৃত পাত্রটি যদি বালতি আকারের হয় তাহলে অর্ধেক বালতি পানি দেয়া লাগবে আর যদি চারি বা গোলাকৃতির হয় তাহলেও কনো বাচবিচার নেই সর্ব প্রকার পাত্রে অর্ধেক পরিমাণ পানি দিলেই হবে।

এবার সেই পাত্রে কিছু শুকনো পাতা ( যেকনো গাছের ) পানির ওপড় ছিটিয়ে  দিতে হবে।এতে করে মশা বুঝবে সেটা মনে হয় অনেক দিনের দূষিত জল। এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সেখানে মশার লার্ভা দেখতে পাওয়া যাবে। এবার আপনার স্থাপনাটি সেখান থেকে সরানোর কোন প্রয়োজন নেই আপনি প্রতিদিন সেইখান থেকে মশার লার্ভা গুলো সংগ্রহ করুন এবং প্রতিদিন আপনার ্মাছ কে সরবরাহ করুন। হ্যাঁ তবে এখানে পানি শুকিয়ে গেলে অথবা পানি কমে গেলে আপনি প্রতিবার সেখানে নতুন পানি যোগ করতে পারেন। হ্যাঁ তবে পানি পরিষ্কার দেওয়া উচিত এতে করে মাছের জন্য কোন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হবে না।

আর একবার এরকম একটি স্থাপনা  তৈরি করতে পারলে সেখান থেকে আপনার যতদিন ইচ্ছা আপনি মশার লার্ভা পেতে থাকবেন। এই রকম একটি সোর্স তৈরি করতে পারলে আপনার মাছের জন্য লাইভ ফুডের একটি ভালো ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

বিনা খরচে প্রকৃতি থেকে পাওয়া অর্থাৎ আমরা অনেক সময় দেখে থাকি বর্ষাকালে আমাদের বাড়ির আশেপাশে নিচু জমিগুলো পানিতে ভরে যায়। এবং বেশ লম্বা সময় ধরে এই পানিগুলো আবদ্ধ অবস্থায় থেকে যায়। এই জায়গাগুলোতে মশা প্রচুর পরিমাণে ডিম পাড়ে এবং প্রচুর পরিমাণে মশার লার্ভা দেখতে পাওয়া যায়। এইরকম জায়গা থেকে আপনি মশার লার্ভা সংগ্রহ করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে জায়গাটি যেন পরিষ্কার হয়। কারণ অপরিচ্ছন্ন জায়গায় আবদ্ধ জল থেকে যেকোনো প্রকার লাইভ ফুড সংগ্রহ করলে সেগুলোর সাথে বিভিন্ন ধরনের প্যারাসাইড চলে আসতে পারে।

অপরিষ্কার জায়গা থেকে লাইভ ফুড সংগ্রহ করলে মাছের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। কারণ এগুলোর সাথে বিভিন্ন ধরনের প্যারাসাইড ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস চলে আসে। যেগুলো মাছকে সরবরাহ করলে ট্যাংকের অথবা হাউজের পানিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সব মাছ একসাথে মারা যেতে পারে অতএব প্রকৃতি থেকে যেকোনো লাইফ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে অনেক সচেতন থাকতে হবে।

প্রাকৃতিক থেকে লাইভ ফুড সংগ্রহ করার একটি ভালো উপায় আমরা আপনাদেরকে বলে দেব। আর সেটা হচ্ছে আপনার বাড়ির আশেপাশের ঝোল জঙ্গলে আপনাকে ছোটখাটো গোলাকৃতির অথবা যে কোন আকৃতির একটি গর্ত খুঁড়তে হবে। এই গর্তের গভীরতা খুব কম হতে হবে। বড়জোর পাঁচ থেকে ১০ ইঞ্চি। এবং এই গর্তটির উপর পলিথিন দিয়ে তারপর পরিষ্কার পানি ঢেলে দিন। এবার এটি দেখতে ছোট্ট একটি পুকুরের মতো দেখাবে। খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন কোন দিক থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে। এবং এর উপরে কিছু শুকনো গাছের পাতা ডালপালা ছড়িয়ে দিন। ব্যাস আপনার কাজ শেষ এবার দেখবেন দুই দিনের মধ্যে সেখানে মশার লার্ভা দেখা যাবে।

বাড়ির আশেপাশের ঝোপ জঙ্গলে এরকম একটি ছোটখাটো আবদ্ধ ভাবে জল রাখার ব্যবস্থা করতে পারলে সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে মসলার লার্ভা সংগ্রহ করতে পারবেন। এটার জন্য খুব বেশি পরিশ্রম এবং টাকা পয়সার দরকার পড়ে না। যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে বলেছি মশা পৃথিবীর সর্বত্র বিরাজমান। এবং মশার লার্ভা মাছের পছন্দের একটি খাবার। এটা যদি আপনার কাছে ঝামেলা মনে হয় তাহলে বাড়ির আশেপাশের ঝোপ জঙ্গলে আপনি যেকোনো একটি পানি ভর্তি পাত্র শুধু রেখে দিন। তাহলে দেখবেন কয়েকদিন পরে সেখানে মশার দেখা যাবে।

ডাফনিয়া কালচার পদ্ধতি

ডাফনিয়া এমন একটি জিনিস যেটি কালচার করার জন্য বিশেষ কোনো ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় না। আমরা অনেক সময় আমাদের আশেপাশে পুকুরে দেখতে পায় পানি অধিক পরিমাণের গাড় সবুজ অথবা বাদামি রঙের হয়ে থাকে। এইসব পুকুরে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় পানির মধ্যে ছোট্ট ছোট্ট গোল গোল আকৃতির এক ধরনের ক্ষুদি পকা দেখা যায়। এইগুলো হচ্ছে ডাপনীয়া।
গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড - গাপ্পি মাছের খাবার
ডাফনিয়া কালচার পদ্ধতিতে আপনাকে সর্বপ্রথম একটি পাত্র সংগ্রহ করতে হবে। ডাফনিয়া কালচার এর ক্ষেত্রে বড় জায়গার প্রয়োজন তাই ডাফনিয়া কালচারের জন্য বড় পাত্রের প্রয়োজন।এই জন্য এখানে চারীর ব্যাবহার করতে হবে। অথবা চৌবাচ্চা ব্যাবহার করতে হবে।পাত্র নির্বাচন করা হয়ে গেলে পানি যোগ করতে হবে। ডাফনিয়া কালচারের জন্য পরিষ্কার পানি সংগ্রহ করা যাবে না। এখানে পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুকুরের সবুজ পানে অথবা আপনার একুরিয়ামের পুরনো পানি অথবা আপনার  মাছ চাষের হাউজের পুরনো পানি ব্যবহার করতে হবে।

ডাপনীয়া কালচারের পূর্ব শর্ত হচ্ছে সবুজ পানি সংগ্রহ করতে হবে। কারণ সবুজ পানিতে অনেক ধরনের ফাইটোপ্লাংটন জু প্লাংটন থাকে এ্যলগী থাকে যেগুলো আবার ডাফনিয়ারা খেয়ে জীবন ধারন করে থাকে।

এক্ষেত্রে পুকুরের পানি ব্যবহার করা সব থেকে ভালো হবে। কারণ এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পানি এবং এই পানিতে মাছের জন্য অনেক প্রয়োজনীয় গুণাগুণ থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে সেটি যেন পচা পুকুরের পানি না হয়। সে ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। প্রয়োজনীয় গুনাগুনের বিপরীতে বিপজ্জনক ভাইরাস থাকতে পারে। তাই এখানে পানি সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে একটু সচেতন থাকতে হবে। পানি দিয়ে আপনার চারি অথবা চৌবাচ্চাটি পরিপূর্ণ করার পর সর্বপ্রথম এখানে এলগি উৎপন্ন হওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ ডাফনিয়া প্রধান খাদ্য হচ্ছে অ্যালগি। । অ্যালগি না থাকলে অধিক পরিমাণ ডাফনিয়া উৎপন্ন করা যাবে না।

যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে বলেছি ডাফনিয়া কালচারের জন্য বড় জায়গার প্রয়োজন পড়ে। তাই বড় পাত্র সংগ্রহ করার জন্য, আমরা অনেক সময় দেখতে পাই বাজারে বিভিন্ন আকারের গোলাকৃতি মাটির  চারি পাওয়া যায়। সব থেকে বড় সাইজের চারিটি  সংগ্রহ করতে হবে। এই মাটির চারিটি অনেক সময় সিমেন্টের ও পাওয়া যায়। এই চারিগুলো লাইভ ফুড তৈরি করার জন্য অনেক উপকারে আসে। এবার এরকম একটি চারি সংগ্রহ করে এমন একটি জায়গায় স্থাপন করুন যেখানে দিনে অন্তত দুই থেকে তিন ঘন্টা সূর্যের আলো পড়ে।

ডাফনিয়া কালচারের জন্য আপনি যে চৌবাচ্চাটি নির্বাচন করবেন সেটিকে এমন যায়গায় স্থাপন করতে হবে যেখানে দিনে অন্ততপক্ষে দুই থেকে তিন ঘন্টা রৌদ্র পরে। কারণ সূর্যের আলো পানিতে না পড়লে ডাফনিয়া কালচার হবে না। তাই ডাফনিয়া কালচারের জন্য এমন জায়গায় বেছে নিন যেখানে অন্ততপক্ষে দুই থেকে তিন ঘন্টা সূর্যের আলো পড়ে। এবার চৌবাচ্চাতে পানি দেওয়া হয়ে গেলে সেই পানিতে কলা গাছের কাঁচা খোসা কেটে টুকরো টুকরো করে চৌবাচ্চার মধ্যে দিতে হবে। এখানে যে কোন প্রকার শাকসবজিও টুকরো টুকরো করে কেটে দেওয়া যেতে পারে। এবং এর সাথে সরিষার খৈল পরিমাণ মতো পানিতে মেশাতে হবে।

এবং প্রতিদিন একবার করে হলেও চৌবাচ্চার পানিটি নাড়াচাড়া করে দিতে হবে যেন পানির উপর কোন প্রকার স্তর না জমে। এর মধ্যে শুকনো পচা গোবর যোগ করতে হবে।এই পদ্ধতি অবলম্বন করার পর দুই থেকে তিন সপ্তাহ রেখে দিতে হবে।তিন সপ্তাহ পর পানিতে গারো সবুজ রং ধারণ করবে। এবং এর মধ্যে ডাফনিয়া জন্মাবে এবং এখান থেকে আপনি ডাফনিয়া সংগ্রহ করে আপনার মাছকে সরাসরি খেতে দেওয়াতে পারবেন।

মনে রাখতে হবে ডাফনিয়া কিন্তু অতিরিক্ত তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে না। অতএব ডাফনিয়া কালচারের জন্য যেরকম সূর্যের আলো প্রয়োজন ঠিক তেমনি ভাবে অতিরিক্ত সূর্যের তাপে পানি গরম হলে ডাফনিয়া মারা যেতে পারে।

ইনফিউসোরিয়া কালচার পদ্ধতি

ইনফিউসোরিয়া হচ্ছে এমন একটি পোকা যা অতিরিক্ত ক্ষুদ্র যা খালি চোখে দেখা যায় না। ইনফিউসোরিয়া খুব অল্প জায়গার মধ্যে উৎপাদন করা যায়। সদ্য ডিম ফুটে বের হওয়া বাচ্চার জন্য এই ইনফিউসোরিয়া একটি ভালো লাইভ ফুড। ইনফিউসোরিয়া বড় মাছের জন্য নয়। কারণ এগুলো এতটাই ক্ষুদ্র হয়ে থাকে যে এগুলো শুধু ছোট কয়েকদিনের বাচ্চা মাছের জন্য। কারণ মাছের একেবারেই দুই-একদিনের বাচ্চা গুলো অনেক ছোট হয়ে থাকে। তারা যখন খাবার খাওয়া শুরু করে তখন বেশিরভাগ বাচ্চা খাবার খেতে না পারার কারণে মারা যায়। কারণ তাদের মুখ এতটাই ছোট হয়ে থাকে যে তারা যে কোন খাবার গ্রহণ করতে পারে না। তাই এই ধরনের বাচ্চাগুলোর জন্য ইনফিউসোরিয়া একটি চমৎকার খাবার হিসেবে প্রমাণিত।
গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড - গাপ্পি মাছের খাবার
যেহেতু আমরা ইতিপূর্বেই বলেছি ইনফিউসোরিয়া এতটাই ছোট যা, খালি চোখে ঠিকমতো দেখা যায় না। তাই এটিকে চাষ করার জন্য ছোট পাত্রের প্রয়োজন হয়। সব থেকে ভালো হয় কোন চকলেট অথবা বিস্কিটের জার ব্যবহার করলে। এরকম একটি পাত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং এরমধ্যে একুরিয়ামের পানি অথবা মাছের হাউজের পানি এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ দিতে হবে। এই দুই পানি যদি আপনার কাছে না থেকে থাকে তাহলে পুকুরের জল ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেটা পরিষ্কার পুকুরের জল হতে হবে।

এরপর সেই জারের মধ্যে একটি পাকা কলার সম্পূর্ণ খোসা ফেলেদিন। এবং ছোট এক কাপ পরিমাণ দুধ সেই জারের মধ্যে ঢেলে দিন। এখানে দুধ এরকম পরিমাণ দিতে হবে যেন জারের সম্পূর্ণ পানি সাদা হয়ে যায়। তারপর জারের মুখ এমন কিছু দিয়ে বেঁধে দিতে হবে যেন বাতাস চলাচল করতে পারে কিন্তু কোন প্রকার মাছি মশা এর মধ্যে ঢুকতে না পারে। এক্ষেত্রে নেট দিয়ে জারের মুখ আটকে দেওয়া যায়। এরপর সেই জারটি এমন জায়গায় রেখে দিন যেখানে সূর্যের আলো পড়ে।

এরপর প্রতিদিন এই জারটি একবার করে ঝাকিয়ে দিতে হবে যেন পানির উপরে আস্তরণ না পড়ে। এই পদ্ধতি অবলম্বন করার পর ১০ থেকে ১২ দিন পর এর মধ্যে ইনফিউসোরিয়া পাওয়া যাবে। এখন প্রশ্ন হল এই ইনফিরিয়া কিভাবে এর মধ্যে থেকে সংগ্রহ করবেন। যেহেতু ইনফরিয়া এতটাই ছোট হয় যে এগুলো আলাদা করে ধরার কোন উপায় নেই তাই জারের পানি ছোট কোন কিছু দিয়ে অথবা সিরিজ দিয়ে তুলে সেই পানিটি আপনার মাছের বাচ্চার ব্যাংকে অথবা যেখানে ছোট বাচ্চাগুলো সংরক্ষণ করেছেন সেখানে সরাসরি দিতে পারেন।

লাল কেচো কালচার পদ্ধতি

কিছু এমন একটি প্রাণী যা প্রতিটা মাছের খুব পছন্দের একটি খাবার। কিছু চাষ করতে হলে প্রয়োজন শুধু জায়গা এবং মাটি। এক্ষেত্রে এমন একটি স্থান নির্বাচন করতে হবে যেখানে সূর্যের আলো পড়ে না। ছায়া ঘেরা ঠান্ডা জায়গা কিছু চাষের জন্য খুব ভালো স্থান। তবে এরকম জায়গার ব্যবস্থা না থাকলে যে কোন জায়গায় করা যা...। কিন্তু কিছু চাষের জন্য মাটি কে শুকনো  হতে দেওয়া যাবে না। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো
গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড - গাপ্পি মাছের খাবার
কেঁচো চাষের পূর্ব শর্ত হচ্ছে কিছু লাল রঙের হতে হবে। কারণ শুধুমাত্র লাল কিছুই মাছকে খাওয়ানোর উপযোগী। বাকি অন্যগুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকারক। কিছু অনেক ধরনের হয়ে থা...। লাল কিছুগুলো মাছকে খাওয়ানো যায় বাকি অন্যগুলো মাছকে খাওয়ালে মাছ মারা যাবে।

কেঁচো চাষের জন্য আপনাকে পরিষ্কার মাটি সংগ্রহ করতে হবে। যেকোনো মাটি হতে পারে। তবে বিষাক্ত মাটি হওয়া যাবে না। পরিষ্কার-ফ্রেশ মাটি হতে হ...। এই মাটির  সঙ্গে বিনামূল্যে প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া যায় এমন একটি জিনিস আর সেটা হচ্ছে গোবর ভালোভাবে মেশাতে হবে। সাথে সাথে সরিষার খোল মেশাতে পারলে ভালো হয়। আর মাটিকে উর্বর করার জন্য এর অভ্যন্তরে নেই নষ্ট শাকসবজি অথবা মাছের উৎৃষ্ট অথবা হাঁস মোরগের উচ্ছিষ্ট দিতে হবে।

এভাবে মাটি প্রস্তুত হয়ে গেলে কয়েকটি লাল কেচো সংগ্রহ করে সেখানে ছেরে দিতে হবে।এবং প্রতিদিন সেখানে পানি দিতে হবে।যেনো মাটি শুকিয়ে না যায়।কারন শুকনো মাটিতে  কেচো মারা যাবে ।এভাবে এক সপ্তাহের মধ্যে সেখান থেকে মাটি কিছুটা তুললে দেখা যাবে এর মধ্যে অনেক লাল লাল কেচোর বাচ্চা দেখা যাবে। এখানে এগুলো দিন দনি বৃদ্ধি পেতে থাকবে।এবং আপনার প্রয়োজন মত এখান থেকে লাল কেচো সংগ্রহ করে মাছকে সরাসরি খাওয়াতে পারেন।

সব থেকে একটি বড় সুবিধা হচ্ছে এখান থেকে আপনি যে কোন সাইজের লাল কাছে সংগ্রহ করতে পারবেন। দুটো মাছের জন্য বাচ্চা কেঁচো সংগ্রহ করে খাওয়াতে পারবেন। এবং বড় কিছুগুলো সংগ্রহ করে কেটে টুকরো টুকরো করে বড় মাছগুলোকে খেতে দিতে পারবেন। এটি সম্পূর্ণ বিনা খরচে মাছের খুব পুষ্টিকর এবং পছন্দের একটি খাবারের মাধ্যম।

মাইক্রোওয়ার্ম কালচার পদ্ধতি

 চিংড়ি পোনা কালচার পদ্ধতি

 ব্লাড ওয়ার্ম কালচার পদ্ধতি

গাপ্পি মাছের খাবার সম্পর্কে শেষ কথা



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়

comment url