আমলকীর উপকারিতা - আমলকীর গুণাগুণ
এই পোষ্টে আমলকীর উপকারিতা ও আমলকীর গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন
করা হয়েছে।আমলকীর অনেক উপকারিতা রয়েছে।আমলকী আমাদের দৈনন্দিন জিবনে অনেক উপকারি
একটি ফল হিসেবে পরিচিত। আমলকীর উপকারিতা এবং আমলকীর গুণাগুণ সম্পর্কে সবার জেনে
রাখা উচিত।আমলকীর উপকারিতা এবং আমলকীর গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুরো
পোষ্ট পড়তে হবে।
আমলকি অনেক গুনাগুন সম্পন্ন একটি ফল।আমলকীর উপকারিতা রয়েছে। এই ফল ও পাতা
দুটি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি বিভিন্ন ভেষজ গুনাগুন সম্পন্ন অন্যান্য
একটি ফল। আমলকি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যেকোনো ধরনের
অসুখ কাটাছেঁড়া দ্রুত সারতে এবং আরগ্য লাভ করতে চিকিৎসকরা আমলকি খাওয়ার পরামর্শ
দিয়ে থাকেন।
পেইজ সূচিপত্রঃ- আমলকীর উপকারিতা - আমলকীর গুণাগুণ
আমলকীর পরিচিতি
আমলকি এমন একটা ফল যার অনেক ঔষধে গুনাগুন রয়েছে। আপাদমস্তক মানবদেহে আমলকির
গুনাগুনের ভূমিকা ওআমলকীর উপকারিতা রয়েছে। আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে চুলের
যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে এবং চুলকে সতেজ রাখতে আমলকির তুলনা হয় না।চুলের জন্য একটি
গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে পরিচিত এই আমলকি। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং
চুলকে দ্রুত বৃদ্ধি করে চুলের সৌন্দর্যতা বজায় রাখে চুলকে ঘন কালো করে তুলে এবং
পাকা চুল প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলসের মতন দুরারোগ্য সারতে আমলকির রস চমৎকার ভূমিকা পালন
করে থাকে। এছাড়াও আমলকি পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন বদহজম সহ আরো বিভিন্ন সমস্যার
সমাধান করে থাকে। যাদের খাবারের হজমের সমস্যা তাদেরকে আধা চূর্ণ শুষ্ক আমলকি এক
গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । এছাড়া আমলকির
আচার অনেক উপকারী। খাবার পরে একটু আমলকির আচার দৈনন্দিন খেলে খাবার হজমে অনেক
ভূমিকা রাখে । দৃষ্টি শক্তি বাড়াতেও আমলকি খুব ভালো ভূমিকা পালন করে।
চোখের বিভিন্ন সমস্যা চোখ চুলকানি চোখ থেকে পানি পড়া চোখের এলার্জি চোখের
প্রদাহ ইত্যাদি চোখের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় আমলকি খেলে। চোখ
সতেজ রাখার জন্য নিয়মিত আমলকি খাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আমলকিতে রয়েছে ফাইটো কেমিক্যাল এটি চোখের সাথে জড়িত ডিজেনারেশন প্রতিরোধ
করতে অনেক সাহায্য করে থাকে। অনেকের আছে এরকম শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে অনেক
দুর্গন্ধ বের হয় তারা যদি নিয়মিত আমলকির রস খায় তাহলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ
পাওয়া যাবে।
আমলকি দাঁতের জন্য দারুন কাজ করে দাতকে শক্ত ও মজবুত করতে আমলকীর ভূমিকা রয়েছে।
আমলকির তেতো এবং টকের মিশ্রণে স্বাদ মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। মুখের
রুচি এবং ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য চিকিৎসকরা দৈনন্দিন জীবনে আমলকি খাওয়ার পরামর্শ
দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে আমলকির গুড়োর সঙ্গে সামান্য মধু এবং মাখন মিশিয়ে
খাবারের আগে খেতে পারেন। এই মিশ্রণটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ
কমাতে সাহায্য করে।
শরীরের বিভিন্ন ব্যাথা অনিদ্রা, বমিভাব ইত্যাদি কাটাতে আমলকি অনেক উপকারী।
ব্রংকাইটিস এবং অ্যাজমা রোগের জন্য আমলকির জুস অনেক উপকারী হিসেবে প্রমাণিত এটি
শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে তোলে পেসি মজবুত
করে হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুস কে শক্তিশালী করে তুলে।
আমলকির বৈজ্ঞানিক নাম
আমলকির বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে (phyllanthus emblica) সংস্কৃত ভাষায় এটির নাম হচ্ছে
'আমলক' এর ইংরেজি নাম হচ্ছে amla বা Indian gooseberry ফাইলান্থাসি পরিবারের
ফাইলান্থুস জাতীয় একপ্রকার ভেষজ ফল।
আমলকির বর্ণনা
আমলকির গাছ সাধারণত ৮ থেকে ১৮ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত হতে পারে। এই
গাছের পাতা হালকা সবুজ।প্ত্ররাজি ঝিরি ঝিরি ছোট ছোট আকারে বিভক্ত। এই ফল হালকা
সবুজ এবং হালকা হলুদ রঙের হয়ে থাকে। এই ফল গোলাকৃতির
হয়ে থাকে এবং এর ব্যাস ১ থেকে ২ ইঞ্চির কম বেশি হয়। এই গাছের কাঠ
হালকা লাল বা বাদামি লাল রঙের হয়ে থাকে । বাংলাদেশ প্রায় সব
অঞ্চলেই এই ফলের গাছ পাওয়া যায়। এই গাছ চার থেকে পাঁচ বছর পর থেকে
ফল দেওয়া শুরু করে। আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। এই ফলের বীজ
থেকে এর বংশ বিস্তার করা হয়। বর্ষাকাল হচ্ছে এই চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়।
আমলকির ব্যবহার
আমলকি এমন একটা ফল যার অনেক ভেষজ গুনাগুন রয়েছে। এই গাছের ফল ও পাতা দুটি
ওষুধ ব্যবহার করা যায়। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে আমলকিতে পেয়ারার চেয়ে তিনগুণ এবং কাগজি লেবুর চেয়ে দশ
গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। আমলকিতে কমলার চেয়ে ২০ গুন বেশি ভিটামিন সি
থাকে। আমলকিতে আপেলের যে ১২০ গুন বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। আমের চেয়ে
.২৪ গুণ বেশি এবং কলার চেয়ে ৬০গুন বেশি ভিটামিন সি রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি প্রয়োজন হয়। এজন্য প্রতিদিন দিনে দুটি করে আমলকি খেলে এই অভাবটি
পূরণ হয়। যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে বলেছি আমলকীর অনেক পোস্টে গুনাগুন
রয়েছে। আমরা কি মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। স্কার্ভি বা দাঁতের
বিভিন্ন রোগ সারাতে টাটকা সতেজ আমলকি ফলের জুড়ি নেই। এছাড়া পেটের বিভিন্ন
সমস্যা যেমন বদহজম, পেট ফাঁপা এবং সর্দি-কাশি ও রক্তশূন্যতার পূরণের জন্য এই ফল
খুবই উপকারী হিসেবে প্রমাণিত।
লিভার ও জন্ডিস রোগের ক্ষেত্রে আমলকি বেশ উপকারী একটি ফল হিসেবে পরিচিত। আমলকি
হরিতকি ও বহেড়াকে একত্রে ত্রিফলা বলা হয়। আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসেবে এই ত্রিফলা
শরীরের জন্য বহুমাত্রিক উপকারী হিসেবে প্রমাণিত। উল্লিখিত এই
তিনটি শুকনো ফল একসাথে একটি পাত্রে রাতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং
সকালবেলা ছেকে নিয়ে খালি পেটে পুরো শরবতটুকু খেয়ে নিতে হবে, এতে করে
পেটের অনেক ধরনের অসুখের পরিসমাপ্তি ঘটে।
আমলকি বিভিন্ন ধরনের তেল তৈরির কাজের ব্যবহৃত হয়। উল্লিখিত যে কাঁচা অথবা
শুকনো আমলকি বেটে নিয়ে সাথে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে নাকি খুব
তাড়াতাড়ি ঘুম আসে।কাঁচা আমলকি মিহি করে বেটে এর রস প্রতিদিন চুলে লাগালে চুল
পড়া বন্ধ হবে, চুল সতেজ হবে , এবং চুল ঘন কালো ও চুল বৃদ্ধি পাবে। এই মিশ্রণটি
প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘন্টা মাথায় লাগিয়ে রাখতে হবে। এভাবে টানা একমাস
এটি সেবন করতে হবে।
আমলকির ঔষধি গুনাগুন
যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে জেনে এসেছি যে আমলকীর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ রয়েছে।
আমলকির ঔষধি গুনাগুন এই ধাপে আমরা এক নজরে আমলকির সব গুনাগুন সম্পর্কে অবগত হব।
আমলকি একটি ছোট ফল তবে এটি মানবদেহে অনেক বড় বড় উপকার করতে আমলকীর উপকারিতা
ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
- বমি বমি ভাব বন্ধ করতে আমলকীর উপকারিতা খুব ভালো ভূমিকা পালন করে
- দীর্ঘমেয়াদী সর্দি কাশি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমলকির নির্যাস অনেক উপকারী
- মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করতে আমলকীর উপকারিতা রয়েছে
- মানবদেহের দাঁত,চুল, এবং ত্বককে ভালো রাখতে আমলকীর উপকারিতা রয়েছে
- আমলকি খাবারের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে
- মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি দূর করতে আমলকীর উপকারিতা রয়েছে
- ঘন ঘন প্রস্রাব এই রোগে আমলকীর উপকারিতা রয়েছে
- চুল পড়া রোধ করতে আমলকীর উপকারিতা রয়েছে
- মাথার খুশকি দূর করতে আমলকীর উপকারিতা রয়েছে
- চোখ ওঠা রোগের ক্ষেত্রে আমলকির রস দিনে দুই ফোটা করে দুইবার দিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়
- আমলকি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে
- আমলকি শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে
- আমলকির মধ্যে ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে
- আমলকির মধ্যে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ করে
- আমলকি ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে
- প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস আমলকির জুস পেপটিক আলসার রোগ প্রতিরোধ করে
আমলকির গবেষণা
যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি, আমলকির উপকারিতা রয়েছে। আমলকি যেমন
মানবদেহে ভিটামিন ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে,
ঠিক তেমনি আমলকি বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে আমলকির উপকারিতা
রয়েছে। আর এই জন্যই আমলকিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণাও রয়েছে।
আমলকি নিয়ে প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে যে আমলকি শরীরের ভাইরাস ও
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। আমলকি নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা গবেষণা সম্পন্ন
হয়েছে। কয়েক ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আমলকীর কার্যকারিতা প্রমাণ পাওয়া
গেছে। ইঁদুরের ওপর চালিত গবেষণায় দেখা গেছে প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগে আমলকি
বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে।প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগে ক্ষতিগ্রস্থ
প্যানক্রিয়াস বা (অগ্ন্যাশয়) এর ক্ষত সারাতে আমলকি বেশি কার্যকরী
ভূমিকা পালন করেছে। আমলকি গাছের ফল পাতা ও ছাল থেকে তৈরি ওষুধে বেশ
কিছু রোগ নিরাময় করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ডায়াবেটিস ক্যান্সার কিডনি রোগ ইত্যাদি মানবদেহে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে এই ফল
নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। আমলকি রক্তে কোলেস্ট্রল এর মাত্রা কমাতে পারে।
ডায়াবেটিস ইঁদুরের উপরে চালানো গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে আমলকি রক্তে
ব্লাড সুগারের মাত্রা কমাতে পারে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url