দাদ কিভাবে ভালো হয় - দাদ রোগের চিকিৎসা

দাদের জীবন অতিষ্টকারী চুলকানি থেকে বাচতে দাদ কিভাবে ভালো হয় তা অবশ্যই জানতে হবে। দাদ এমন একটি চর্মরোগ,যা একবার হলে রেহাই পাওয়া মুশকিল।এই জীবন অতিষ্টকারী দাদ কিভাবে ভালো হয় তা নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা। এজন্য দাদ কিভাবে ভালো হয় এবং কিভাবে দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তা জানতে পুরো পোষ্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
   দাদ কিভাবে ভালো হয় - দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা
দাদ একটি সাধারন রোগ, কিন্তু  এটি এমন একটি রোগ যা একবার শরিরে প্রবেশ করলে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে।পরিবারের একজনের হলে পুরো পরিবারের হওয়ার সম্ভবনা থাকে।এটি একটি ছত্রাকজনিত সংক্রমন যা খুব সহজেই বিস্তার লাভ করতে পারে। জীবন অতিষ্টকারি চুলকানির সৃষ্টি করে।দাদ মানুষের শারিরিক ও মানসিক শান্তি নষ্ট করে দেয়।তাই আর কথা না বাড়িয়ে আমরা মুল আলোচনা অর্থাৎ দাদ কিভাবে ভালো হয় এবং দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।-

পেইজ সূচিপত্রঃ-দাদ কিভাবে ভালো হয় - দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা  

দাদ রোগ কি 

দাদ যার ইংরেজি নাম হচ্ছে (dermatophytosis) এর আরেকটি নামহচ্ছে (রিং ওয়ার্ম) বা টিনিয়া।এটি একটি ছত্রাক জনিত সংক্রমন রোগ। ওয়ার্ম শব্দটির দ্বারা এখানে কনো ক্রিমি জাতীয় কিছুকে বোঝানো হয়নি।এটা তকের উপড়ে এক ধরনের suoerficially ছত্রাকের আক্রমণ।দাদ হচ্ছে এমন একটি রোগ যা মানুষ এবং পশুপাখি উভয়ের হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। এটি ত্বকের উপরিভাগে হয়ে থাকে।

দাদ রোগের লক্ষণগুলো

প্রাথমিক অবস্থায় শরীরের উপর লাল বর্ণের গোলাকার একটি চাকার মত প্রকাশ পায়। মাঝখানে ফাঁকা এবং চারদিকে উঁচু হয়ে থাকে। প্রচন্ড চুলকানি হয় । দিনে দিনে এর আকার বাড়তে থাকে। গোলকের চার ধারে ছোট ছোট ফুসরী আকারে দানা দেখা যায় এবং এগুলো থেকে পানি ঝরতে থাকে। আক্রান্ত স্থানটি কিছুটা ফুলে যায়। আক্রান্ত স্থানে তীব্র চুলকানি হয়। আক্রান্ত স্থানের সকল লোম বা চুল ঝরে পড়ে । প্রাথমিক পর্যায়ে যখন দাদ কাঁচা অবস্থায় থাকে তখন আক্রান্ত স্থান ভেজা ও স্যাতসেতে হয়ে থাকে।
ধীরে ধীরে আক্রান্ত স্থান বাদামি রং ধারণ করে। এবং গোলাকৃতি বড় হতে থাকে। আক্রান্ত স্থান থেকে আঠালো রস বের হতে থাকে । দিনে দিনে গোলাকৃতি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে কেন্দ্রবিন্দু পরিষ্কার হতে থাকে। আক্রান্ত স্থান থেকে খুশকির মতন চামড়া খসে যায়। সময় বাড়ার সাথে সাথে ক্ষতস্থানে পুজভর্তি ফোড়া দেখা দিতে পারে। ক্ষত স্থানের আকার বাড়ার সাথে সাথে ছোট ছোট ফুসকুড়ি গুলো শরীরে অনেক বড় আকার জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

শরীরের উপর এক ধরনের ছত্রাক বা ফাঙ্গাস বাসা বাঁধে। পরবর্তীতে সেটা ইনফেকশন এর মাধ্যমে ঘায়ের রূপ ধারণ করে, যেটাকে আমরা দাদ হিসেবে চিনি।

দাদ কি ছোয়াচে

হ্যাঁ দাদ অবশ্যই একটি ছোঁয়াচে রোগ। দাদ হচ্ছে ফাঙ্গাস নামক একটি ছত্রাকের সংক্রমণ। পরিবারের একজনের হলে যদি সাবধানতা অবলম্বন না করা হয় তাহলে সবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি মানুষ থেকে পশুর শরীরে এবং পশুর থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে । এটি এমন একটি রোগ যা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমিত ব্যক্তির জামাকাপড়, গামছা বা তোয়ালে, অথবা সংক্রমিত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি থাকলে দ্বিতীয় ব্যক্তির দাদা সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি দাদে আক্রান্ত স্থান অন্য কোন ব্যক্তির শরীরে স্পর্শ হয় তাহলেও বিপরীত ব্যক্তির দাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দাদ একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। বাসায় বা পরিবারে কারো দাদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে এবং অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। দাদা আক্রান্ত ব্যক্তি যে জায়গায় ঘুমায় সে জায়গায় অন্য কেউ ঘুমালে তার দাদ সম্ভাবনা রয়েছে। মাথায় দাদা আক্রান্ত ব্যক্তির বালিশ অথবা টুপি ব্যবহার করলে অপর ব্যাক্তির দাদ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। হাতে দাগ আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে হাত মিলানোর মাধ্যমে অপর ব্যক্তির দাদ হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। এই ফাঙ্গস খুব দ্রুত একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

কি কারণে দাদ হয়

দাদ হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। মূলত ফাঙ্গাস নামক এক ধরনের ছাত্রকে আক্রমণে দাদ হয়ে থাকে। ছত্রাক শরীরের সেইসব স্থানে বাসা বাঁধে যে স্থানগুলো সবসময় ভেজা স্যাতসেতে বা ঘর্মাক্ত হয়ে থাকে। অন্যের জামা কাপড় বা দোয়ালে গামছা ইত্যাদি ব্যবহারের ফলে দাদ  হয়ে থাকে। অপরিষ্কার জামাকাপড় এবং অপরিষ্কার অন্তর্বাস দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে দাদ হতে পারে। কারণ ব্যবহৃত জামাকাপড় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখলে অন্য ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া বাসা বাধে।
দাদ রোগ হবার বিশেষ কোনো কারণ নেই। আমাদের প্রত্যহিক জীবনে যেকোনো সময় যে কারো এই রোগটি হতে পারে। যেহেতু এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ কখন কার মাধ্যমে আপনার শরীরের প্রবেশ করবে তা আপনি বুঝতেও পারবেন না। অপরিষ্কার জায়গায় ঘুমালে অপরিচ্ছন্ন কাপড়-চোপড় ব্যবহার করলে দাদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেহেতু এটি একটি ছত্রাক জনিত সংক্রমণ। আর ছত্রাক অপরিচ্ছন্ন ভেজা স্যাঁতসেতে পরিবেশে বিস্তার লাভ করে থাকে। আর যেহেতু ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে দাদ একটি ছোঁয়াচে রোগ। সেজন্য দাদ আক্রান্ত যেকোনো পশুভা ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে দাদ সম্ভাবনা থাকে
আমাদের আশেপাশে এরকম অনেক দাদ আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছে অথচ আমরা জানি না। আমাদের অজান্তেই এরকম দাদ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আমরা চলে আসি এবং অচিরেই আমাদের শরীরে এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। একবার দাদ শরীরে ছড়িয়ে পড়লে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এবং পুরোপুরিভাবে এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে বেশ কিছু পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যা অনেকটাই ভোগান্তির সৃষ্টি করে। এজন্য আমাদেরকে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম তারা  শুধু দাদ নয় বরং যে কোন রোগের সহজে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। যারা বেশি বেশি ঘামে তাদেরকে নিয়মিত পরিষ্কার থাকতে হবে নইলে দাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাড়িতে বিভিন্ন পোষা প্রাণীর মাধ্যমে দাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরনো মোজা ব্যবহারের ফলে পায়ে দাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবহারের কাপড়চোপড় না ধুয়ে পরিধান করলে দাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শরীরের কোথায় দাদ হয়

দাদ এমন একটি ত্বকের রোগ যা শরীরের উপরি ভাগের যে কোন স্থানে হতে পারে। বিশেষ করে দাগ শরী্রের সেসব স্থানগুলোতে বেশি হয় যেসব স্থানগুলো বেশিরভাগ সময় ভেজা ও স্যাতস্যাতে ও ঘর্মাক্ত অবস্থায় থাকে। পায়ের নখ থেকে মাথার ত্বক পর্যন্ত যে কোন স্থানে দাদ খুব সহজেই বাসা বাধতে পারে। যেহেতু দাদ সারা শরীরে বিভিন্ন স্থানে হয়ে থাকে সেই জন্য বিভিন্ন জায়গার নাম অনুসারে দাদের বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে।
শরীরের কোন স্থানে্র দাদ?? এটা সহজে বোঝার জন্য বৈজ্ঞানীরা স্থানভেদে আলাদা আলাদা কিছু নামকরণ করেছে। এই নাম গুলো হচ্ছে-
  • টিনিয়া ক্যাপিটিস
  • টিনিয়া পেডিস
  • টিনিয়া ম্যানুম
  • টিনিয়া আঙ্গুইয়াম
  • টিনিয়া করুরিস
  • টিনিয়া কর্পোরিস
টিনিয়া ক্যাপিটিস যদি মাথার তালুতে দাদ হয় তাহলে এটাকে বিজ্ঞানিক ভাষায় টিনিয়া ক্যাপিটিস বলা হয়। টিনিয়া ক্যাপিটিস মনে হল মাথার দাদ। 

টিনিয়া পেডিস অর্থাৎ যদি পায়ের আঙ্গুলের ভাজে অথবা পায়ের তালুতে অথবা পায়ের আশেপাশে দাদ হয় তাহলে সেটাকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় টিনিয়া পেডিস বলা হয়। অর্থাৎ পায়ের  ছত্রাক আক্রমণ।
টিনিয়া ম্যানুম অর্থাৎ হাতের যে কোন স্থানে ছত্রাকের সংক্রমণ। হাতের  যে কোন স্থানের দাদ শর্টকাটে বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে টিনিয়া ম্যানুম বলা হয়েছে।

টিনিয়া আঙ্গুইয়াম অর্থাৎ যদি হাতের আঙ্গুলের ভাজে ভাজে অথবা নখের  আশেপাশে ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে তাহলে সেটাকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় টিনিয়া আঙ্গুইয়াম বলা হয়।
টিনিয়া করুরিস অর্থাৎ যদি কুঁচকিতে ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে তাহলে সেটাকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় টিনিয়া করুরিস বলা হয়।

টিনিয়া কর্পোরিস অর্থাৎ শরীরের যেকোন স্থানে ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটলে সেটাকে সহজে বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় টিনিয়া কর্পোরিস বলা হয়ে থাকে।টিনিয়া কর্পোরিস এর অর্থ হচ্ছে যে কোন স্থানে ছত্রাকের সংক্রমণ।

কোন সময় দাদ হয়

দাদ এমন একটি সংক্রমণ যা হওয়ার কোন নির্দিষ্ট সময় অথবা নির্দিষ্ট কোন মৌসুম নেই। হ্যাঁ তবে যেহেতু ্দাদ একটি ছত্রাক জনিত সংক্রমণ আর আমরা জানি ছত্রাক ভেজা স্যাতস্যেতে পরিবেশে বিস্তার লাভ করে থাকে সেজন্য গবেষণায় দেখা গেছে যে গরমকালের দিকে এই রোগটি ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করে থাকে। কারণ গরম কালে অধিকাংশ মানুষ ঘর্মাক্ত অবস্থায় থাকে। আর অতিরিক্ত ঘাম ফাঙ্গাস জনিত ছত্রাকের জন্ম দেয়।
শীতকালে শরীরে দাদ সাধারণত খুব বেশি ছড়াতে পারে না। কারণ শীতকালে শরীরে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা শুকনো ও খসখসে হয়ে থাকে। আর খসখসে শুকনো শরীরে দাদ খুব বেশি ছড়াতে পারে না। দাদ স্যাঁতস্যাতে ও ভেজা অবস্থায় বেশি ছড়ায়। আর মানুষের শরীর সবসময় ভেজা অবস্থায় থাকে গরম কালে। এই জন্য গরমকালে দাদ বেশি ছড়ায়। আর অপরদিকে শীত মৌসুমে শরীরে দাদ থাকলেও তা শুকিয়ে আসে।অনেকটা মুরছে যায়।

দাদ হলে কি খাওয়া নিষেধ

শরীরে ফাঙ্গাসের আক্রমণ দেখা দিলে অথবা দাদ হলে বেশ কিছু খাবারের নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়।যেমন উল্লেক্ষ্য যে দাদ হলে যে খাবারগুলো খাওয়া যাবেনা সেগুলো হলোঃ-
  • বেগুন
  • মাংস 
  • শুটকী মাছ
  • যেকনো কচু
  • ফুলকপি
এছড়াও কারো এল্যার্জি থাকলে বিভিন্ন্য খাবার বর্জন করে চলতে হয়। অন্যজনের বিভিন্ন খাবারের প্রতি এলার্জি থাকতে পারে। যার যে খাবারের উপরে এলার্জি রয়েছে তাকে সেই খাবারটি বর্জন করে বা এড়িয়ে চলাই উচিত। যদিও বা এলার্জির সাথে দাদের কোন সম্পর্ক নেই।

দাদ কিভাবে ভালো হয়

দাদ রোগ অবশ্যই ভালো হয়। বেশ কিছু চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। দাদ পুরোপুরিভাবে শরীর থেকে নির্মূল করা যায়। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে দাদ কিভাবে ভালো হয়??দাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেক চিকিৎসা রয়েছে। এক্ষেত্রে দাদের চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে দাদ আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। দাদা এমন একটি রোগ যার ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
দাদ কিভাবে ভালো হয় এবং কিভাবে ্দাদ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি পাওয়া যায় তা জানার জন্য ্দাদ রোগের চিকিৎসার অপশন গুলো ভালোভাবে পড়ুন।

দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা 

দাদ রোগের বিভিন্ন ঘরোয়া চিকিৎসা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দাদ আক্রান্ত স্থান সবসময় শুকনো রাখা। কারণ ভেজা অবস্থায় দাদ আরও বৃদ্ধি পায়। কারণ আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে ভেজা স্যাতস্যাতে স্থানে ফাঙ্গাস বেশি বৃদ্ধি পায়। ক্ষতস্থানে ভুল করেও সাবান ব্যবহার করা যাবে না। অনেকেই মনে করেন যে আক্রান্ত স্থানে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেললে হয়তো ক্ষত সেরে যাবে। কিন্তু চর্ম রোগের ক্ষেত্রে এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। শুধু দাদ নয় বরং যে কোন চুলকানি খোস পাচড়া ইত্যাদি সমস্যায় সাবানের ব্যবহার হিতে বিপরীত করতে পারে।
দাদ রোগের ক্ষেত্রে দাদের জন্য বিভিন্ন অ্যান্টিফাঙ্গাল সাবান শ্যাম্পু ইত্যাদি রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করা যায়। হ্যাঁ তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। সংক্রমিত স্থানটি প্রতিনিয়ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এবং বাতাসের সংস্পর্শে রাখতে হবে। এবং শুকনো রাখতে হবে। দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা গুলোর মধ্যে রয়েছে ঘৃতকুমারীর ব্যবহার। আরও আছে কাঁচা হলুদের ব্যবহার। এবং আমাদের আরো একটি পরিচিত জিনিস হচ্ছে জয়ফল। হ্যাঁ তাদের চিকিৎসায় জয়ফলেরও ভূমিকা রয়েছে। এই জিনিসগুলো কিভাবে ব্যবহার করবেন নিচে তা বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলঃ-
ঘৃতকুমারী অনেকেই এটাকে এলোভেরা হিসেবে চিনে। এই দ্রুত কুমারের অনেক ঔষধি গুনাগুন রয়েছে। এই ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার মধ্যে ত্বকের জন্য বিশেষ কিছু উপকারী উপাদান রয়েছে। ত্বককে মসৃণ করার জন্য এবং ত্বকের অপরিভাগের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য এর রস অথবা নির্জাস যায় বলি না কেন বিশেষ কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। দাদের ক্ষেত্রে যেটা করতে হবে ঘৃতকুমারীর নরম পিচ্ছিল জেলীর মত স্বাসটি সংগ্রহ করতে হবে এবং ক্ষতস্থানে এর প্রলেপ দিতে হবে।
কাঁচা হলুদ কাঁচা হলুদ এমন একটি জিনিস যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শুধু খাবার কাজে লাগে না বরং কাঁচা হলুদের বেশ কিছু ওষুধে গুনাগুন রয়েছে। কাঁচা হল ত্বকের উপরের বিভিন্ন ছত্রাক ব্যাকটেরিয়া দূর করতে বেশ ভালো ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে নিয়মিত কাঁচা হলুদ বেটে পেস্ট করে নিতে হবে এবং দাদের উপরে এটাকে ভালোভাবে লাগিয়ে দিতে হবে।
জয়ফল এই ফলটির মধ্যে রয়েছে কিছু অ্যান্টিসেপটিক গুনাগুন। দাদ রোগের ক্ষেত্রে এই ফলটিকে চূর্ণ করে সরাসরি ক্ষতস্থানের উপরে ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে ক্ষতস্থানটি ভালোভাবে প্রথমে চুলকে নিতে হবে। যদিও এই ফলটি সব সময় শুকনো অবস্থায় পাওয়া যায়। তাই এটা করলে পাউডার অবস্থায় পাওয়া যাবে। এই পাউডার সরাসরি ক্ষতস্থানের উপরে ব্যবহার করা যাবে।
নিমপাতা বন্ধুরা আমরা ছোট থেকে একটা গাছের কথা জেনে আসছি যে গাছ হচ্ছে প্রাকৃতিক ঔষধ  গুনগুনে ভরপুর একটি বৃক্ষ। আর সেটি হলো নিমগাছ। দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা গুলোর মধ্যে রয়েছে নিম পাতার গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও বা বলে রাখা ভালো নিমপাতা যে কোন প্রকার খোশ পাচরা বা এই জাতীয় বিভিন্ন চর্ম রোগের ঔষধি হিসেবে কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে নিম পাতা কে মিহি করে পিষে অথবা থেতলে নিয়ে সরাসরি ক্ষতির উপরে প্রয়োগ করা যায়। তাদের ক্ষেত্রে ঠিক একই ভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

দাদের স্থায়ী চিকিৎসা কি

আমাদের আজকের এই আলোচনা ছিল দাদ কিভাবে ভালো হয় এবং দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে। এই ধাপে এসে আমরা দাদ রোগের স্থায়ী চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। ্দাদ কিভাবে ভালো হয় তা জানার জন্য আমাদেরকে ্দাদের চিকিৎসা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবগত হতে হবে।দাদের স্থায়ী চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু আমরা সবকিছুর জন্য একটি স্থায়ী সমাধান চাই। ঠিক তেমনি ভাবে এখানেও দাদ রোগের জন্য স্থায়ী চিকিৎসা কি এবং কোনগুলো হতে পারে তা যথাযথ ভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি।
দাদের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়। যেমনঃ-ক্রিম আকারে, জেল আকারে , লোশন আকারে , পাউডার আকারে , ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল আকারে। সাধারণত যেসব ঔষধ গুলো খাবারের জন্য দেওয়া হয় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খাবারের পরিবর্তে সরাসরি ক্ষতস্থানের উপরে প্রয়োগ করার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা খুব জরুরী। আমরা প্রায় একটি ভুল করে থাকি আর সেটি হল ডাক্তারের প্রেসক্রাইবকৃত ঔষধ গুলি কিছুদিন সেবনের মাধ্যমে দেখতে পাই যে সমস্যা অনেকাংশে কমে গেছে এবং ঔষধ সেবন করা বাদ দিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে যা হয় সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হয় না।
দাদ রোগের স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতিতে আমরা বেশ কিছু ধাপ সংগ্রহ করেছি। নিচে সেগুলো উপস্থাপন করা হলোঃ-
  • প্রথমত দাদ  আক্রান্ত স্থান সব সময় শুকনো রাখতে হবে
  • পরিষ্কার জামা কাপড় ব্যবহার করতে হবে এবং ঢিলেঢালা পোশাক পড়তে হবে
  • নিজস্ব নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্যের সাথে শেয়ার করা যাবে না।
  • সংক্রমিত জায়গা সবসময় খোলামেলা রাখা উচিত যেন ঠিকমতো আলো বাতাস লাগতে পারে
  • আক্রান্ত স্থানে চুলকানির পরে বা স্পর্শ করার পরে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে
  • শরীরে দাঁত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করতে হবে
  • যেহেতু দাঁত নিজে থেকে সেরে উঠে না সেহেতু দাদ হলে দূরত্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়
  • শরীর সব সময় শুকনো ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
  • প্রতিদিনের মোজা এবং অন্তর্বাস গুলো প্রতিদিন পরিবর্তন করতে হবে
  • এমন কিছু খেলাধুলার মাধ্যমে দাদ রোগের ঝুঁকি থাকে যেগুলো হচ্ছে কুস্তি, হাডুড , এই জাতীয় খেলার মাধ্যমে দাদ ু ছড়াতে পারে
  • ব্যবহৃত হেলমেট খেলাধুলার সরঞ্জাম সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে

দাদ রোগে সাবধানতা

দাদ রোগের কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে চলতে হয়। যেমন ্দাদের ভুল চিকিৎসার জন্য বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। দাদ রোগের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়েড মলম বা ক্রিম পাওয়া যায়। এই ধরনের মলম বা ক্রিমগুলো সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য আরাম দিয়ে থাকে। যেমন তীব্র চুলকানি হলে তা কমিয়ে দেয়। কিন্তু কখনোই এগুলো সমস্যা সারিয়ে তোলার জন্য কাজ করে থাকে না। অল্প সময়ে আরামের জন্য অনেকেই এই মলম বা ক্রিমগুলো ব্যবহার করে থাকেন এবং একটি বড় ভুল করে থাকেন। কারণ এই ধরনের মলম ব্যবহারের ফলে রোগ অন্য ধরনের রূপ ধারণ করতে পারে।
এই ধরনের মলম বা ক্রিম ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনাকে দুর্বল করে দেয়। এই মলম গুলো রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে ধ্বংস করতে পারে না। এ ধরনের মলম বা ক্রিম ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। এ ধরনের ওষুধ গুলো শুধু তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া ভাব অল্প সময়ের জন্য কমিয়ে দেয় যাতে করে আমরা মনে করি হয়তো সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু আদতেও এটা হিতে বিপরীত ঘটিয়ে থাকে। এসব মলম বা ক্রিম ব্যবহারের ফলে যেহেতু সমস্যা পুরোপুরিভাবে সমাধান হয় না তাই ত্বকে বিভিন্ন ইনফেকশন দেখা দিতে পারে।
স্টেরয়েড জাতীয় মলম গুলো দাদের ধরন ও আকার আকৃতি পাল্টে দেয়। পরে চিকিৎসকের জন্য সঠিকভাবে দাদ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। দাদ হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করতে হবে। শরীর সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেকোনো পশু পাখির সংস্পর্শে আসলে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে।
উপসংহার আমরা সম্পূর্ণ আলোচনা থেকে একটি কথা খুব ভালোভাবে বুঝে গেছি যে দাদ রোগ কি এবং কেন কোথায় কিভাবে হয়ে থাকে। আজকের পুরো পোষ্টের মাধ্যমে আমরা জেনেছি দাদ হলে কি কি করণীয়। দাদ থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় । দাদ রোগের সাবধানতা সম্পর্কে জেনেছি । পরিশেষে বলা যায় দাস সম্পর্কে আমরা পুরো আদ্যোপান্ত জানতে পেরেছি। অতএব ভয় নয় জানতে হবে সমস্যা থাকলে সমাধান রয়েছে । ঠিক তেমনিভাবে রোগ থাকলে চিকিৎসা রয়েছে। সমাপ্ত

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়

comment url