গাপ্পি মাছের খাবার - গাপ্পি মাছ কি খায়
এই পোস্টে গাপ্পি মাছের খাবার এবং গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড সম্পর্কে রয়েছে বিস্তারিত আলোচনা। আপনারা যারা গাপ্পি মাছ চাষ করেন তাদের জন্য গাপ্পি মাছের খাবার ও গাপ্পি মাছের লাইভ ভুড সম্পর্কে জেনে রাখা অত্যান্ত জরুরী।কারন চাষবাদে সঠিক খোরাক না জোগালে লাভবান হওয়া যায় না।তাই এ্যসগার্ড বাসি আপনাদেরকে গাপ্পি মাছের খাবার এবং গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড সম্পর্কে সম্পুর্ণ ধারনা দিবে যাতে করে আপনারা অধিক লাভবান হতে পারেন।
গাপ্পি মাছের চাষের জন্য গাপ্পি মাছের খাবার সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞ্যান থাকা
দরকার।ঠিক সেই কারনেই বিভিন্য তথ্যসূত্র অনুযায়ি এ্যসগার্ড বাসি আপনাদের
জন্য এই রকম একটা আর্টিকেল তৈরি করেছে যার মাধ্যমে আপনারা গাপ্পি মাছের খাবার এবং গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড সম্পর্কে সম্পুর্ণ ধারণা পেয়ে
যাবেন।এজন্য পুরো আর্টিকেল পড়তে হবে এবং সে অনুযায়ি কাজ করতে হবে
ধন্যবাদ।
পেইজ সূচিপত্রঃ-গাপ্পি মাছের খাবার - গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড
গাপ্পি মাছ কি খায়
সর্বপ্রথম কথা হচ্ছে গাপ্পি মাছ একটি সর্বভূক্ত মাছ। অর্থাৎ জিবনধারনের জন্য
এরা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয়ের উপড় নির্ভরশিল থাকে। গাপ্পি মাছের খাবার সম্পর্কে
আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে গাপ্পি মাছ আসলে কি খায়। গাপ্পি
মাছের প্রকৃত খাবার কি। আসলে এই প্রসঙ্গে বলতে হয় গাপ্পি মাছের খাবারের মধ্যে
শাকসবজি থেকে শুরু করে জীবন্ত প্রাণির লার্ভা বা পোকামাকড় সবকিছুই
রয়েছে।গাপ্পি মাছের খাবার এবং গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত
জানবো।
আমরা সকলেই জানি গাপ্পি একটি ছোট জাতের মাছ। এই মাছটি মূলত এক ধরনের জংলি মাছ।
এদের উজ্জ্বল রং রূপ লাবণ্য ও দেখতে অপরূপ সৌন্দর্যতার কারণে এই মাছটি
মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমানে এই মাছটি সারা পৃথিবী জুড়ে
ব্যাপক জনপ্রিয় একটি সৌখিন মাছ। মানুষ শখের বসে এই মাছটিকে বাসায়
একুরিয়ামের মধ্যে সুসজ্জিত করে রাখে। এই মাছটির খাবার সম্পর্কে বলতে হলে
একাধারে এই মাছটি অনেক কিছুই খেয়ে থাকে। এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেতে
পুরো পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
গাপ্পি মাছের খাবার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা
গাপ্পি মাছের খাবার এবং গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড পোষ্টের প্রথম ধাপেই আমরা গাপ্পি
মাছের খাবার সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা নিব যাতে করে আমাদের গাপ্পি মাছের খাবার সম্পর্কে নিঃসঙ্কোচ হতে পারি। আমরা সকলেই জানি কোন জীবন্ত জিনিস
চাষাবাদ করলে জীবকে সবথেকে ভালো খাবারটি দিতে হয় যাতে করে আমাদের
ব্যবসায় ভালো ফলন হয়।যেহেতু আমাদের আজকের এই পোস্ট হচ্ছে গাপ্পে মাছের
খাবারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে। তাই গাপ্পি মাছ চাষ করতে হলে গাপ্পি মাছের খাবার
সম্পর্কে যথেষ্ট ধ্যান-ধারণা থাকা প্রয়োজন।
আমরা সকলেই জানি গাপ্পি একটি সৌন্দর্য বর্ধক সৌখিন মাছ। গাপ্পি মাছের
অসাধারণ রূপ রং এবং বৈচিত্রতা মানুষকে মুগ্ধ করে। এবং এই জন্যই এই মাছটি
মানুষের শখের বস্তু হিসেবে অভিহিত হয়েছে। অতএব যেহেতু মানুষ সৌন্দর্যের পূজারী
ঠিক সেই কারণেই গাপ্পি মাছের সৌন্দর্যতা মানুষকে মুখরিত করেছে এবং মানুষের মনে
এবং বাসার সর্বোচ্চ পরিষ্কার স্থানে (একুরিয়াম) এ জায়গা করে নিয়েছে।
এখন মূল প্রসঙ্গ হচ্ছে চাষাবাদে এই গাপ্পি মাছের সৌন্দর্যতা আনার
জন্য ও সৌন্দর্যতা ধরে রাখার জন্য গাপ্পি মাছকে পুষ্টিকর খাবার প্রদান
করতে হয়। কারণ আমরা জানি খাবারের মাধ্যমে শরীরের বাহ্যিক রূপ ফুটে ওঠে। ঠিক
সেই কারণেই শুধু গাপ্পিই নয় বরং যেকোনো রঙ্গিন মাছের ক্ষেত্রে মানসম্মত
খাবার প্রদান করা একটি জরুরী আলোচ্য বিষয়।
গাপ্পি মাছের খাবারের মধ্যে বেশ কয়েক ধরনের ভিন্ন ভিন্ন খাবার রয়েছে। বাজারে
বিক্রয়কৃত প্যাকেটজাত খাবারের সাথে সাথে এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো
গাপ্পি মাছকে প্রয়োগ করা হয় যাতে গাপ্পে মাছকে দ্রুত বৃদ্ধি করা
যায়, এবং দ্রুত বাজারজাত করা যায়। এই খাবার গুলো খাওয়ালে মাছের দ্রুত বৃদ্ধি
ঘটে এবং সাথে সাথে মাছের সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি পায়।গাপ্পি মাছের সেই
সকল খাবারগুলো সম্পর্কে জানতে পরের ধাপ গুলি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
গাপ্পি মাছের বিভিন্য খাবারের পরিচিতি
গাপ্পি মাছের খাবার ও গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড পোষ্টের এই ধাপে
আমরা গাপ্পে মাছের বিভিন্ন খাবারের সাথে পরিচিত হব। যেহেতু আমরা
ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি যে গাপ্পি মাছের খাবারের মধ্যে অনেক ধরণের খাবার
রয়েছে।মানুষের হাতে তৈরিকৃত প্যাকেট খাবার এবং প্রকৃতি থেকে পাওয়া জিবন্ত
খাবার।
গুগলের এবং চাষিদের তথ্যসূত্র অনুযায়ি গাপ্পি মাছের খাবারের আওতায় যে
খাবারগুলো রয়েছে সেগুলোকে আমরা তিনটি ভাগে বিভক্ত করতে
পারি।যেমনঃ
- বাজারের প্যাকেটজাত খাবার
- শাকশব্জি জাতীয় খাবার
- জিবন্ত খাবার অর্থাৎ লাইভ ফুড
বাজারের প্যাকেটজাত খাবার
বলতে বিভিন্য একোরিয়ামের দোকানে বিক্রয়কৃত খাবার গুলোকে বোঝানো হয়েছে।এক্ষেত্রে
মাছ চাষিদের জন্য বিভিন্য কম্পানীগুলো নিজস্বভাবে কিছু অর্গানিক খাবার প্রস্তুত
করে থাকেন। জেগুলো প্যাকেটজাত করণের মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়।ভালোভাবে বোঝার
জন্য নিচে গাপ্পি মাছের প্যাকেটজাত কিছু অর্গানিক খাবারের ছবি দেওয়া হলো
উপরের এই খাবারগুলি হচ্ছে গাপ্পি মাছের প্যাকেটজাতকৃত খাবার যেগুলো
বাজারে সব সময় পাওয়া যায়। এই খাবারগুলোর বিভিন্ন
কোম্পানি প্রোডাক্টের মানের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দাম হতে পারে।
বাজারে প্যাকেটজাতকৃত খাবার গুলোর মধ্যে বেশিরভাগ দানাদার খাবার লক্ষ্য করা
যায়। যা মাইক্রো প্যালেট নামে পরিচিত। এ্যসগার্ড বাসি চেনার উদ্দেশ্যে
কয়েকটা প্যাকেটজাত খাবারের ছবি প্রদান করেছে। আপনারা বাজারে আরও
ভ্যারাইটিস ধরনের গাপ্পি মাছের খাবার পাবেন।
শাকশব্জি জাতীয় খাবার
বলতে বোঝানো হয়েছে গাপ্পি মাছ অনেক সময় বিভিন্য সবুজ ঘাস পাতা ও শব্জি খেয়ে
থাকেে।এগুলোর মধ্যে রয়েছে পুইশাক,লেটুস পাতা,মটরশুটির পাতা,শশা,আলু, গাজর
ইত্যাদি।হ্যা তবে এরা এই খাবার গুলো অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি খেয়ে থাকে।একটা
কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে
গাপ্পি মাছ পুরোপুরি ভাবে শাকশব্জি জাতীয় খাবারের উপড় নির্ভরশীল নয়।
শাকশব্জি খাবার সরবরাহ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে খাবার
প্রয়োগ করতে হয়।যেমন উল্লিখিত শাকশব্জি গুলো ভালোভাবে ধুয়ে ছোট আকারে টুকরো
টুকরো করে কেটে সেদ্ধ করে তারপর প্রয়োগ করতে হয়। আর যেহেতু আমরা জানি যে
গাপ্পি মাছ শুধু শাকসবজি খাবারের উপরে নির্ভরশীল নয়। শাকসবজি এবং বিভিন্ন
উদ্ভিদ জাতীয় খাবার তারা তখন খেয়ে থাকে যখন তারা তাদের আশানুরূপ খাবার
পায় না। তখন তারা এগুলো খাবারের বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করে। তাই
গাপ্পি মাছের জন্য খাবারের পাশাপাশি শাকসবজি জাতীয় খাবার প্রয়োগ করতে হবে।
পুরোপুরিভাবে এটার উপর নির্ভরশীল হওয়া একেবারে উচিত নয়।
লাইভ ফুড অর্থাৎ জীবন্ত খাবার। গাপ্পি মাছের সব থেকে পছন্দের খাবার হচ্ছে লাইভ ফুড। কারণ প্রাকৃতিক পরিবেশে
এরা লাইভ ফুড খেয়েই জীবনধারণ করে থাকে। লাইভ ফুডের মধ্যে
রয়েছে বিভিন্ন ছোট ছোট প্রাকৃতিক পোকামাকড় এবং পোকামাকড়ের
লার্ভা ইত্যাদি। বিভিন্ন রকমের অনুজীব সহ মাছের পোনা এমনকি নিজেদের পোনাও এরা
খেয়ে ফেলে।
লাইফ ফুডের মধ্যে রয়েছে মশার লার্ভা, টাবিফ্লেক্স, ব্লাড ওয়ার্ম, মাইক্র
ওয়ার্ম, লাল কেচো, ইনফিউসোরিয়া, চিংড়ি পোনা, ডাফনিয়া, আর্টিমিয়া ইত্যাদি সহ
আরোও বিভিন্য ক্ষুদ্র অনুজীব।গাপ্পি মাছের খাবারের সম্পর্কে বলা যায় লাইভ ফুডের
বিকল্প নেয়। এগুলো এমন খাবার যা মাছের সবসময় পছন্দ এবং জীবন ধারণের জন্য মাছ এই
খাবার গুলো সবসময় গ্রহণ করে থাকে।একটি মাছকে তার আয়ুষ্কাল অর্থাৎ জতদিন বেচে
থাকে তত দিনই মাছকে এই লাইফ ফুড গুলো সরবরাহ করা যাবে।এতে মাছের পক্ষে অনেক
ভালো।
গাপ্পি মাছকে খাবার দেওয়ার নিয়ম
গাপ্পি মাছের খাবার ও গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড পোষ্টের এই ধাপে আমরা গাপ্পি মাছকে
খাবার দেওয়ার নিয়ম নীতি সম্পর্কে জানবো। গাপ্পি মাছকে খাবার প্রয়োগ করার কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে।যখন তখন খাবার
সর্বরাহ করা মোটেও উচিত নয়।সবকিছুর একটা নিদ্দিষ্ট সময় রয়েছে।আর কিছু কিছু
ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে কার্য সম্পাদন করতে হয়।আর গাপ্পি মাছ চাষের ক্ষেত্রে
মাছকে নিয়ম মেনে খাবার প্রয়োগ করতে হয়।খাবার প্রয়গের ক্ষেত্রে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
যখন তখন খাবার প্রয়োগ করলে সেটা মাছের জন্য উপযুক্ত হয় না।আর চাষ করার
ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হয়।আর শুধু চাষাবাদের ক্ষেত্রেই নয়
বরং বাসার একোরিয়ামের ক্ষেত্রেও বিষয়টা ঠিক একই।গাপ্পি মাছকে খাবার দেওয়ার
নিয়ম সম্পর্কে বিভিন্য তথ্য সূত্র অনুজায়ি গবেষণার ফলাফল এই যে একটি মাছকে
দিনে সর্বোচ্চ দুই বার খাবার দেওয়া যাবে।কারণ অধিক খাবার প্রয়োগ মাছের পক্ষে
ক্ষতিকারক হিসেবে প্রমানিত হয়েছে।
কনো প্রকার খাবারই অতিরিক্ত দেওয়া যাবে না।সেটা লাইফ ফুডের ক্ষেত্রেও একই
বিচার।অতিরিক্ত খাবার মাছের পানি দূষিত করে।অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করার ফলসরুপ
মাছ মারা যায়।অতিরিক্ত খাবার পানিতে অক্সিজেন কমিয়ে পানি গ্যাস করে ফেলে।কারণ
প্যাকেটজাত খাবার গুলো যেহুতু অর্গানিক ভাবে তৈরিকরা হয়ে থাকে তাই এই
খাবারগুলো পানি দূষিত করে বেশি।তাই মাছকে অতিরিক্ত খাবার কখনই দেয়া যাবে না।
চাষাবাদের ক্ষেত্রে গাপ্পি মাছকে দিনে সর্বোচ্চ দুবার খাবার প্রয়োগ করলে ভালো
ফলাফল পাওয়া যাবে।এক্ষেত্রে দিনে শুরুতে অর্থাৎ সকালের সময়টাতে একবার এবং দিন
শেষে অর্থাৎ পড়ন্ত বিকেলে সন্ধার আগে একবার খাবার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।কিন্তু
সৌখিনতার বসে বাসার একোরিয়ামের ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা।কারন একোরিয়ামে অতিরিক্ত
খাবার প্রয়োগ করলে পানি নষ্ট হয়ে মাছ খুব দ্রুত মারা যেতে পারে।এক্ষেত্রে
প্রতিদিন এক বার মাছের পরিমান অনুজায়ি খাবার প্রয়োগ করতে হবে।একবারের বেশি নয়।
গাপ্পি মাছের খাবারের সময়সূচি সম্পর্কে ধারণা
গাপ্পি মাছের খাবারের সময়সূচি সম্পর্কে বলতে গেলে বিষয়টা এরকম
দাঁড়ায় যে অনেকেই আছে যারা মনে করে গাপ্পি মাছকে খাবার দেওয়ার কোন
সময়সূচী নেই। অনেকেই জানতে চাই যে মাছকে খাবার দেওয়ার কোন নির্দিষ্ট
সময়সূচী রয়েছে কিনা। উত্তর হ্যা অবশ্যই মাছকে খাবার দেওয়ার একটা
নির্দিষ্ট সময়সূচি রয়েছে। এখন প্রশ্ন হল কখন কোন সময়টা মাছের খাবার
দেওয়ার উপযোগী? নির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে মাছকে খাবার প্রয়োগ করার কোন
ধরা বাধা নিয়ম নেই। হ্যাঁ তবে যে যার মত একটি রুটিন অনুযায়ী আজকে
খাবার প্রয়োগ করতে পারেন।
বিষয়টা খোলাখুলি ভাবে বলতে গেলে যদি আপনার বিষয়টা এরকম হয় যে আপনি শুধু
বিকেলে সময় পান তাহলে প্রতিদিন আপনাকে বিকেলের সময়টাতেই খাবার প্রয়োগ করতে
হবে। এখন প্রশ্ন হল এ্যসগার্ড বাসি বলছে যে দিনে অন্তত দুইবার খাবার
প্রয়োগ করার কথা। তাহলে একবারের বিষয়টা ভিত্তিহীন দাড়াচ্ছে তাই
না? এক্ষেত্রে যাদের বাসায় একুরিয়াম রয়েছে তাদেরকে প্রতিদিন একবার
করে খাবার প্রয়োগ করতে হবে একবারের বেশি নয়। আর যাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে
চাষাবাদ করে থাকেন তারা দিনে অন্ততপক্ষে দু'বার খাবার প্রয়োগ করা
অবশ্যাক।
এখন প্রশ্ন হলো আপনি যদি দিনে শুধু একবার সময় পেয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে
দ্বিতীয় সময়টি যেভাবে হোক ব্যবস্থা করতে হবে। হ্যাঁ যদি আপনি আপনার
চাষাবাদে ভালো ফলাফল পেতে চান শুধু তাহলেই। অনুচিত একবার খাবার প্রয়োগ
করায় কোন ক্ষতি নেই। আর দুইবার খাবার প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেহেতু উপরে
উল্লেখিত রয়েছে যে দিনের শুরুতে অর্থাৎ সকালে একবার আর দিনশেষে অর্থাৎ
সন্ধ্যার আগে একবার খাবার প্রয়োগ করতে হবে। প্রথমবারের পরে দ্বিতীয়বার
খাবার দেওয়ার সময় মাঝখানের সময়সীমাটা একটু বেশি ব্যবধান রাখা প্রয়োজন।
চাষাবাদের ক্ষেত্রে কেউ যদি রাতে খাবার দিতে চান তাহলে রাতে একবার এবং
দিনের মধ্যবর্তী সময় অর্থাৎ দুপুর বেলা আনুমানিক বেলা ১২ টার
আশেপাশে এরকম সময় দ্বিতীয়বার খাবার প্রয়োগ করতে হবে।
গাপ্পি মাছের বাচ্চার খাবার সম্পর্কে ধারণা
চাষাবাদের ক্ষেত্রে গাপ্পি মাছের বাচ্চাকে খাবার প্রয়োগের সময়
সীমা একই থাকে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও দিনে দুইবার খাবার প্রয়োগ করা সর্বোত্তম
হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খাবারের পরিমাণ খুব অল্প
হতে হবে। এক্ষেত্রে বাচ্চার পরিমাণ এর ওপর ভিত্তি করে খাবার প্রয়োগ করতে
হবে। কতটুকু জায়গায় কি পরিমান মাছের বাচ্চা ধারণ করা হয়েছে বা রাখা হয়েছে
সেই অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ কম বেশি করতেহবে।
তবে এখানে খাবারের কিছু ভিন্নতা রয়েছে। কারণ বাচ্চার খাবার আর বড়
মাছের খাবার আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। বড় মাছ যে খাবারগুলো খেতে পারবে
ছোট মাছ সে খাবারগুলো খেতে পারবে না। ছোট মাছের জন্য বিশেষভাবে যত্নশীল হতে
হয়। ছোট মাছের জন্য বিশেষ কিছু খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। বাচ্চা দ্রুত
বৃদ্ধি করার জন্য প্রথম ১০ থেকে ১৫ দিন বাচ্চাকে শুধু লাইভ ফুড খাওয়াতে হবে।
মাছের বাচ্চাদের খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে মাইক্রো ওয়ার্ম,
টাবিফ্লেক্স, ইনফিউসোরিয়া ইত্যদি খাবার গুলো খাওয়াতে হয়।
অন্যান্য খাবারের মধ্যে রয়েছে ডিমের কুসুম, শুকনো চিংড়ি মাছের
গুড়া, শুটকি মাছের মিহি গুড়া ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ডিমের কুসুম দেওয়ার জন্য
বেশ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। সর্বপ্রথম ডিমকে সিদ্ধ করে শুধু ডিমের
কুসুম ছাড়িয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে ডিমের বাকি সাদা অংশ বড় মাছের
খাদ্য হিসেবে সরবরাহ করা যেতে পারে। তবে বাচ্চার জন্য ডিমের কুসুম ছাড়া অন্য
কিছু নেওয়া যাবে না। এবার ডিমের কুসুমটি ভালোভাবে ভেঙ্গে থেতলে নিয়ে
ছোট ছোট টুকরো করে নিতে হবে। এবং প্রখর রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে
নিতে হবে। এরপর ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে এটি পাউডারের আকার ধারণ করবে এবং এখন
ডিমের কুসুম পরিমাণ মতো বাচ্চাকে খাওয়ানোর উপযুক্ত হয়েছে। ঠিক যেমনটা উপরের
ছবিতে দেখানো হয়েছে।
ডিমের কুসুমের এই পদ্ধতিতে খাবারটি বড় মাছ কেউ সরবরাহ করা যাবে। এটি মাছের জন্য খুবই পুষ্টিকর খাবার হিসেবে প্রমাণিত। শুটকি মাছের গুড়ো এবং
চিংড়ি মাছের গুড়ো সরাসরি মাছকে সরবরাহ করা যেতে পারে।
তবে আপনাদেরকে লাভবান করার ক্ষেত্রে এ্যসগার্ড বাসি মাছের বাচ্চাকে
জন্মের ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত শুধু লাইভ ফুড খাওয়ানোর পরামর্শ
দিচ্ছে। কারণ লাইভ ফুডের মধ্যে মাইক্রো ওয়ার্ম, টাবিফেক্স, ইনফিউসোরিয়া,
ডাফনিয়া ইত্যাদি খাবার গুলো মাছের বাচ্চা খুব সহজেই খেয়ে থাকে এবং
এগুলো তাদের অনেক পছন্দের খাবার।
লাইফ ফুড যেকোন মাছের হাই প্রোটিন সম্পন্ন খাবার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তো কোন কথাই নেই। বাচ্চাদেরকে শুরু থেকে লাইফ
ফূড সরবরাহ করতে পারলে বাচ্চা অল্প সময়ের মধ্যে খুব
দ্রুত বেড়ে উঠবে। এবং মাছের এক কথায় অসাধারণ কোয়ালিটি ও গুণমান লাভ করা যাবে।
গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড সম্পর্কে ধারণা
গাপ্পি মাছের লাইভ ফুড বলতে বোঝানো হয়েছে সেসব জীবন্ত খাবার
গুলো যেসব গাপ্পি মাছ খেয়ে থাকে। লাইভ ফুড যে কোন মাছের অনেক পছন্দের
খাবার। লাইফ ফুড অর্থাৎ তাদের জীবন্ত খাবার গুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রো ওয়ার্ম, টাবিফেক্স, ইনফিউসোরিয়া, ডাফনিয়া মশার লার্ভা, টাবিফ্লেক্স, ব্লাড ওয়ার্ম, মাইক্র ওয়ার্ম, লাল কেচো,
ইনফিউসোরিয়া, চিংড়ি পোনা, আর্টিমিয়া ইত্যাদি। মাছ চাষে লাইভ ফুডের বিকল্প কোন
খাবার হতে পারে না।
লাইভ ফুড এমন একটি খাবার যা মাছের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ এবং এই খাবারগুলো হচ্ছে
উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক পোকামাকড় গুলো ইত্যাদি যেগুলো প্রকৃতি
থেকে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।হ্যা ওপরে উল্লেখিত যেসব জীবন্ত খাবারের নাম
তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সেগুলো চাইলে আমাদের আশেপাশে প্রকৃতি থেকে আমরা সংগ্রহ
করতে পারি। শুধু জানতে হবে এগুলো কোথায় পাওয়া যায়। আমরা মাছকে লাইভ ফুড খাওয়ানোর বদৌলতে মাছের গুণমান অনেক হারে বৃদ্ধি ঘটাতে পারি। যা আমাদের
চাষাবাদে আরো উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে।
লাইভ ফুড এখন চাষীদের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার্ভে করে
দেখা গেছে অধিকাংশ মাছ চাষীরা মাছ চাষের পাশাপাশি এই জীবন্ত খাবার গুলো অর্থাৎ
লাইভ ফুড চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কারণ আমাদের দেশে লাইভ ফুডের
অনেক চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। । যেহেতু মাছ চাষীরা খুব ভালোভাবে জানে
লাইফের বিকল্প হিসেবে কোন কিছু হতে পারে না এবং তারা মাছকে লাইভ ফুড সরবরাহ
করার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে।
শুধুমাত্র লাইভ ফুড চাষ ্করার জন্য অনেকে এরকম নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছে।তারা
শুধু মাছের লাইভ ফুড উৎপাদন করবে এবং চাষীদের হাতে পৌঁছে দেবে।লাইভ ফুড চাষাবাদ
করার মাধ্যমে নতুন করে উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে এবং নিত্য নতুন ইনকামের মাধ্যম
বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গাপ্পি মাছের খাবার সম্পর্কে শেষকথা
আজকের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ার পরে আশা করছি আপনাদের খুব ভালোভাবে
ধারণা হয়ে গেছে যে গাপ্পি মাছ কি খায় এই মাছের খাবার সম্পর্কে এবং এই মাছকে
কখন কিভাবে খাবার দিতে হয় এক কথায় গাপ্পি মাছের খাবারের বিষয়বস্তু
সম্পর্কে আপনারা যা জানতে চান তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জেনে
গিয়েছেন।এ্যসগার্ড বাসি আপনাদের জন্য পুরো আদ্যোপান্ত বিষয়বস্তু
বর্ণনা করেছে। অনেকেই আছেন যারা মাছকে খাবার সরবরাহ সম্পর্কে সচেতন
না। একজন ভালো মাছ চাষী হওয়ার জন্য আপনাকে সকল বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা থাকা
প্রয়োজন নচেৎ আপনি লাভবান না হয়ে উল্টো লসের খাতায় পড়ে যেতে পারেন। আর
যারা গাপ্পি মাছ চাষ করে বেকারত্ব কাটাতে চাচ্ছেন তাদের জন্য আজকের এই
আর্টিকেল অনেক উপকারী প্রমাণিত হবে। আপনারা আরো কিছু জানতে চাইলে কমেন্ট
বক্সে আপনাদের মূল্যবান মতামত পোষণ করতে পারেন। পরবর্তীতে এ্যসগার্ড
বাসি সে অনুযায়ী আপনাদেরকে সঠিক তথ্য প্রদান করার জন্য সবসময় তৈরি
আছে। সমাপ্ত
Vain onek upokrito holam. Nice post