ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা
ভুমিকাঃ
আজকের এই পোষ্টে আমরা ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এবং ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা
সম্পর্কে আদ্যপান্ত ব্যাখ্যা করেছি। আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গু
রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এবং ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে
পারবো।তাই আপনি যদি ডেঙ্গু কি, এই রোগ কেনো হয় কিভাবে হয় এবং ডেঙ্গু রোগের
লক্ষণ ও প্রতিকার এবং ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে
আজকের এই পোষ্ট আপনার জন্য যথেষ্ট উপকৃত হবেন।
এক বাক্যে
আজকের এই পোষ্টে আমরা আপনাদের জন্য ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ডেঙ্গু
রোগের চিকিৎসা কিভাবে ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাবেন ডেঙ্গু হলে করণীয় কি এবং ডেঙ্গু
বিষয়ে আরও আদ্যপান্ত্য সকল তথ্য পেতে পুরো পোষ্টটি মনযোগ সহকারে পড়ুন
ধন্যবাদান্তে
এ্যসগার্ড বাসি।
পেইজ সূচিপত্রঃ- ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা
- ডেঙ্গু কি
- ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ
- ডেঙ্গু রোগের কারণ
- ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে
- ডেঙ্গু কি ছোয়াচে রোগ
- ডেঙ্গু কি ধরণের রোগ
- ডেঙ্গু হলে কি খাবারগুলো খেতে হবে
- ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার
- ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা
- ডেঙ্গু হলে কি গোসল করা যাবে
- ডেঙ্গু রোগের শ্রেণীবিভাগ
- ডেঙ্গু রোগের ইতিহাস
- ডেঙ্গু শব্দের ইতিহাস
- ডেঙ্গু রোগের চলমান গবেষণা
ডেঙ্গু কি
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই আমাদেরকে ডেঙ্গু কি সেই সম্পর্কে জানতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর যার সামর্থক শব্দ হচ্ছে ডেঙ্গি। ডেঙ্গু একটি ভাইরাস যা এডিস
মশা বাহিত রোগ। ডেঙ্গু এমন একটি ভাইরাস জ্বর যা বিষেশ এক ধরনের মশার কামড়ে
হয়ে থাকে।এই মশার নাম হচ্ছে এডিস মশা।এই মশার কামড়ে মানুষের শরিরে ডেঙ্গু
ভাইরাস আক্রমণ করে। আরো সহজ ভাষায় বলতে গেলে ইলিশ মশার কামড়ে
মানুষের দেহে এক ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে থাকে যে ভাইরাসটির নাম হচ্ছে
ডেঙ্গু। আর এই ডেঙ্গু ভাইরাসের ফলে মানুষের যে রোগটি হয় তার নাম ডেঙ্গু
রোগ অথবা ডেঙ্গু জ্বর। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস
প্রবেশ করলে সাধারণত ৩ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের
উপসর্গগুলো দেখা যায়।
বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষার ঋতুর সময়টাতে এ রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়ে
থাকে। আর এই সময়কাল হচ্ছে জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। প্রতিবছর এই
সময়টাতে ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ব্যাপক হারে বেড়ে যায়।
আর এর ফলস্বরূপ এই সময়টাতে প্রতিবছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়।
যেহেতু আমরা জেনেছি ডেঙ্গু এক ধরনের বিশেষ ভাইরাস যার বহনকারী হচ্ছে বিশেষ
এক ধরনের মশা। এই মশা সাধারণত রাতে মানুষকে কামড়ায় না। এই মশার আক্রমণ দিনের
বেলা ঘটে থাকে।
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে জানবো। যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি মানবদেহে ডেঙ্গু এক ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ
যারা এডিস মশার কামড়ের ফলে হয়ে থাকে। আর এটি একটি মারাত্মক রোগ। যেহেতু এটি
মানবদেহের রোগ সেহেতু স্বাভাবিকভাবে এর বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে যা
দেখে বোঝা যায় যে হ্যাঁ এটি ডেঙ্গু রোগ। ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ গুলো প্রকাশ
পেলে খুব সহজে ধারণা করা যায় যে কারো ডেঙ্গু হয়েছে কিনা। যেহেতু
ডেঙ্গু রোগের সুচিকিৎসা না পেলে এটি একটি মারাত্মক রোগে পরিণত হতে পারে।
তাই আমাদের সবারই ডেঙ্গুর রোগ শনাক্ত করার জন্য বা এই রোগের ব্যাপারে সতর্ক
হওয়ার জন্য ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ গুলো ভালোভাবে জেনে রাখতে হবে।
আমরা যথাযথ সম্ভব ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ গুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়ার চেষ্টা
করেছি। একটি মানুষের ডেঙ্গুর রোগ হলে কি কি লক্ষণ দেখা দিতে পারে তা
পরিপূর্ণভাবে জানার জন্য এই ধাপটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনি সুস্পষ্ট একটি
ধারণা পেতে পারেন ।
১- ডেঙ্গু এমন একটি রোগ যার সর্বপ্রথম এবং প্রধান লক্ষণ হচ্ছে শরীরের
অস্বাভাবিক রকমের জ্বর হওয়া। ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে রোগীর শরীরে কাঁপুনি দিয়ে
জ্বর আসে। ডেঙ্গু রোগীর শরীরের জ্বরের তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে তা বেড়ে
প্রায় ১০২-১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত
ব্যক্তির তিন থেকে চারদিন পর্যন্ত জ্বরের মাত্রা অধিক পরিমাণে থাকে। পরে এই তাপমাত্রা সময়ের ব্যবধানে কিছুটা কমে
আসলেও পুরোপুরিভাবে শরীর থেকে জ্বর নির্মূল হয় না।
২- ডেঙ্গু রোগীর শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায় যেমন প্রস্রাব
স্বাভাবিকের চেয়ে কম মাত্রায় হতে পারে।
৩- ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
৪- ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগের পেট ব্যথা মাথাব্যথা খাওয়া অরুচি এবং বমি বমি
ভাব দেখা দিতে পারে।
৫- ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ডায়রিয়া অথবা পাতলা পায়খানা হতে
পারে।
৬- ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা লালচে ভাব
ধারণ করে।
৭- ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি পুরো শরীরে ব্যথা বিশেষ করে হাতের কনুই,
হাটু ইত্যাদি শরীরের বিভিন্ন হারের জয়েন্ট গুলোর মধ্যে ব্যাথা
দেখা দিতে পারে।
৮- কিছু কিছু ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে এই রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষয়ী
রুপ নিতে পারে। যা ডেঙ্গুর রক্তক্ষয়ী জ্বর
(ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার) হিসেবে পরিচিত।যার ফলে রোগীর রক্তপাত
ঘটতে দেখা যায়।রোগীর শরীরের রক্তের অনুচক্রিকার মাত্রা কমে আসে। এবং রক্তে
প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে থাকে।
৯- কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর এক ধরনের সিনড্রোম দেখা যায় ।
যেটাকে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বলা হয়। এর ফলে রোগীর শরীরের রক্তচাপ
বিপদজনকভাবে কমে যায়।
১০-প্রচন্ড জ্বরের সাথে সাথে শরীরের সব জায়গায় বিশেষ করে হাড়ের জয়েন্টে
জয়েন্টে তীব্র ব্যাথা অনুভব করে। রোগীর রক্তে অনুচক্রিকা কমে যায়, শরীরের
বিভিন্ন স্থানে কালশিটে পড়ে যায়, রোগীর শরীরে বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তপাত
হতে দেখা যায়।
১১-ডেঙ্গু রোগের আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে রোগের লিভারে আক্রমণ ঘটা। কারণ লিভারে
আক্রমণ ঘটলে রোগী প্রচন্ড রকমের দুর্বল হয়ে যায়। কোন প্রকার খাওয়া-দাওয়া করতে
পারে না। সব সময় রোগীর বমি বমি ভাব এবং পেট ব্যথা সহ পেটের ভিতর বিভিন্ন অঙ্গ
প্রত্যঙ্গ ব্যথার উদ্ভব ঘটে। এটি হয়ে থাকে রোগের জ্বরের মাত্রা কমে যাওয়ার পর।
এই সমস্যার কারণে অনেক মানুষ মারা গেছে।
সাধারণত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৮০ শতাংশ মানুষের মধ্যেই সাধারণ জ্বর মাথাব্যথা ও
সামান্য সর্দি কাশি এ ধরনের সামান্য কিছু উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র .৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এ রোগের জটিলতা দেখা দিতে
পারে। এবং উপরে উল্লেখিত সব লক্ষণ গুলি দেখা দিতে পারে। এই রোগটি খুব কম আকারে
প্রাণঘাতী হয়ে থাকে। সময়ের সাথে সাথে সুচিকিৎসা পেলে নির্ভয়ে এ রোগ থেকে
মুক্তি পাওয়া যাবে। হ্যাঁ তবে আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ডেঙ্গু রোগটি
বিশেষ জটিল রূপ ধারণ করতে দেখা যায়। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে অবহেলা।
বাংলাদেশের প্রতিবছর প্রায় যতগুলো মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তাদের
বেশিরভাগ হচ্ছে ছোট বাচ্চা এবং বয়স্ক বৃদ্ধ। যেহেতু আমরা এতক্ষণে খুব
ভালোভাবে জেনে গেছি যে ডেঙ্গু রোগের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। যার কারণে এর আরেক
নাম হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর। তাই ওপরে উল্লেখিত লক্ষণ গুলোর মধ্যে যদি কারো জ্বরের
তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি মনে হয় তাহলে অবহেলা না করে
চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত । নচেৎ দেরী হয়ে গেলে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে
পারে।
ডেঙ্গু রোগের কারণ
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু রোগের কারণ গুলো সম্পর্কে জানবো। ডেঙ্গু রোগের একমাত্র কারণ হচ্ছে এডিস মশার কামড়। একমাত্র এডিস মশার কামড়ের
ফলে ডেঙ্গু রোগ হয়ে থাকে। ডেঙ্গু রোগ হওয়ার অন্য কোন কারণ নেই। এডিস নামের এক
ধরনের বিশেষ মশা রয়েছে যে কিনা ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে। বছরের একটি নির্দিষ্ট
সময়ে এই মশার উৎপাত বেড়ে যায়। আর এটি বৃদ্ধি পায় সাধারণত বর্ষা ঋতুতে। কারণ
আমরা জানি মশা বদ্ধ পানিতে ডিম পাড়ে। আর আমাদের দেশে বর্ষাকালে চারিদিকে মাঠ
ঘাট পানিতে ভরে যায় । এই সময় স্বাভাবিকের চেয়ে মশার উৎপাত বেড়ে যায় যার
মধ্যে এডিস মশাও রয়েছে। এই এডিস মশা দিনের বেলা মানুষকে কামড়ে থাকে। রাতের
আধারে মানুষকে আক্রমণ করে না।
আমরা আপনাদের বিশেষ ভাবে সতর্ক করার জন্য এবং ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা
সম্পর্কে বিশেষভাবে ধারণ দেওয়ার জন্য এখানে একটি ছবি উপস্থাপন করা হয়েছে যে
ছবির মাধ্যমে আপনাদের এডিস মশা চিনতে সুবিধা হবে
উপড়ের ছবিতে যেই মশাটিকে আমরা দেখতে পাচ্ছি ঠিক এই মশাটিই হচ্ছে এডিস মশা।
অন্যান্য যে কোন মশার চেয়ে এই মশাকে তুলনামূলকভাবে অনেকটা ছোট হয়। এডিস মশা
দেখলেই চেনা যায় । অন্যান্য মশার চেয়ে এই মশার রং অনেকটা উজ্জ্বল হয়ে থাকে। এই
মশার লালায় ডেঙ্গু ভাইরাস থাকে। এবং এই মশা যখন মানুষের শরীরে হুল ফোটায় তখন
সেই হুলের মাধ্যমে তার মুখের লালা মানুষের রক্তে গিয়ে মিশে যায়। এবং ধীরে ধীরে
এটি ডেঙ্গু সংক্রমণ রোগে পরিণত হয়।
ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এই পোষ্টে আমরা ডেঙ্গু কতদিন থাকে সে সম্পর্কে জানবো ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে জানার বিষয়ে মানুষের বিশেষ আগ্রহ
রয়েছে। যেহেতু আমাদের দেশে প্রতিবছর এই রোগ হয়ে থাকে তাই বিপুলসংখ্যক মানুষ এ
রোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অনেক কিছু জানার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। এর মধ্যে
আরও একটি জানার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর কতদিন পর্যন্ত
থাকে? ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল সম্পর্কে কোথাও কোন নির্দিষ্ট সময় সীমা উল্লেখ
করা বাঞ্ছনীয় হিসেবে প্রকাশ পাবে। কারণ ডেঙ্গু জ্বর এমন একটি রোগ যা স্থান,
কাল, পাত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করতে পারে।
যেহেতু আমাদের এই ধাপে আলচ্য বিষয় হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের স্থায়িত্ব কতদিন?এই
সম্পর্কে বিভিন্য তথ্যসূত্র অনুযায়ি এ্যসগার্ড বাসি আপনাদের জন্য যথাযথ ধারণা
দেওয়ার প্রয়াস করেছে।
একটি মানুষের শরীরে ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত তিনদিন থেকে পাঁচ দিন অথবা দুইদিন থেকে
সাত দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগের ধরন ও ব্যক্তি ভেদে এই
সময়কাল কিছু কম বেশি হতে পারে। একটি মানুষের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ গুলো প্রকাশ পেতে সাধারণত ৪ দিন থেকে .১২ দিন পর্যন্ত সময়
লেগে যেতে পারে। এক্ষেত্রে একটা দেখার বিষয় আছে যে তোমরা আগেই জেনেছি ডেঙ্গুর
প্রধান লক্ষণ হচ্ছে জ্বর, এর সাথে সাথে আরও বেশ কয়েকটি লক্ষণ দেখা দেয়। কিন্তু
এখানে আরেকটি আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ডেঙ্গু কারো কারো কাছে শুধু জ্বর নিয়ে হাজির
হয়। আবার কারো কারো কাছে জ্বরের সাথে সাথে আরো বিশেষ কিছু উপসর্গ নিয়ে
হাজির হয়। আর খুব কম সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গু জটিলতায় ভোগ। এক্ষেত্রে যাদের
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই কম তাদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জটিলভাবে প্রকাশ পেতে
পারে। যেমন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগ বেশি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
ডেঙ্গু কি ছোয়াচে রোগ
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু কি ছোয়াচে রোগ কিনা সে সম্পর্কে জানবো। ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে একটি বড় আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর কি ছোঁয়াচে রোগ?
অনেকের মধ্যে এরকম জাগতে পারে যে ডেঙ্গু কোন ছোঁয়াচে রোগ কি না? কারণ যেহেতু
আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি। ডেঙ্গু এক ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ, আর আমরা
জানি ভাইরাস এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ডেঙ্গু কোন
ছোঁয়াচে রোগ কি না এই প্রসঙ্গে উত্তর হচ্ছে
না ডেঙ্গু কোন
ছোঁয়াচে রোগ নয়। যদি এটি একটি ভাইরাস বাহি রোগ, কিন্তু এটি এমন কোন ভাইরাস নয়,
যা একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে প্রবেশ করবে।
যেহেতু ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে দ্বিতীয় ব্যক্তির ডেঙ্গু
হওয়ার সম্ভাবনা নাই তবে বলা যায় যে বিশেষ কিছু অসাবধানতার
কারণে ডেঙ্গু একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকতে
পারে । যদিও আমরা আগেই জেনেছি বিশেষ ধরনের মশার কামড়ে ডেঙ্গু নামক ভাইরাস
শরীরের বাসা বাঁধে। আর এই ভাইরাস কোন ছোঁয়াচে রোগ নয় কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্ত
ব্যক্তির থেকে যে সাবধানতা গুলো অবলম্বন করে চলা উচিত সেগুলো হলোঃ
- ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তদান করা থেকে বিরত থাকতে হবে
- ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করা থেকে বিরত থাকতে হবে
- ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে চুম্বন অথবা যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে
যেহেতু আমরা আগে জেনেছি এক ধরনের ভাইরাস যা মানব শরীরে সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে। ঠিক
এই কারণেই এই রোগ ছোঁয়াচে না হলেও ওপরের সতর্কতা গুলো না মেনে চললে ডেঙ্গু অপর
ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থেকে যায় তাই আমাদেরকে সতর্কতা গুলো মেনে
চলার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ডেঙ্গু কি ধরণের রোগ
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু কি ধরনের রোগ সে সম্পর্কে জানবো। সর্বপ্রথম কথা ডেঙ্গু হচ্ছে একটি ভাইরাসের নাম যার সমর্থক শব্দ ডেঙ্গি। এটি এমন
একটি ভাইরাস যা মানব শরীরের বাসা বাঁধে। আর এই ভাইরাসের বাহু করছে বিশেষ এক ধরনের
মশা। ডেঙ্গু হচ্ছে এমন একটি রোগ যা বিশেষ এক ধরনের মশার কামড়ে হয়ে থাকে। আমরা
প্রতিনিয়তই মশার কামড় খেয়ে থাকি তবে সব মশা ডেঙ্গু রোগের কারণ নয়।
ডেঙ্গু ভাইরাস বহন কারি মশার নাম হচ্ছে এডিস মশা। শুধুমাত্র এই এডিস
মশার কামড়ে্র কারণে ডেঙ্গু রোগ হয়ে থাকে।
এডিস মশার মুখের লালায় এই ডেঙ্গু ভাইরাস থাকে এবং যখন এই মশা কাওকে কামড়ায় তখন
সেই ব্যাক্তির শরীরে এই ভাইরাসটি প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে সংক্রমণ ঘটিয়ে
ডেঙ্গু রোগে পরিণত হয়। এতক্ষন আমরা খুব ভালোভাবে জেনে গেছি যে ডেঙ্গু কি ধরনের
রোগ।
এক কথায় ডেঙ্গু হচ্ছে মানব দেহে এক ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ
যা একটি বিশেষ মশার কামড়ে হয়ে থাকে এবং এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়।
ডেঙ্গু হলে কি খাবারগুলো খেতে হবে
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু হলে কোন খাবার গুলো খেতে হবে সে সম্পর্কে জানবো। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে ডেঙ্গু হলে রোগীকে কোন কোন খাবার গুলো সরবরাহ করা
যেতে পারে ডেঙ্গু একটি অসুখ, আর আমরা জানি রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে
সাধারণভাবেই তার খাদ্য তালিকায় বিশেষ কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। কারণ সুস্থ
মানুষের খাদ্য তালিকা আর অসুস্থ মানুষের খাদ্য তালিকা এক নয়। কারণ রোগ
আক্রান্ত মানুষকে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা বাদ রেখে সাধারণভাবেই বিশেষ
কিছু খাবার সরবরাহ করতে হয় যেন অসুস্থ ব্যক্তির দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।
এক্ষেত্রে ডেঙ্গু যেহেতু একটি রোগ আর অনেকের মনে এরকম প্রশ্ন রয়েছে যে ডেঙ্গু
হলে কি কি খাবার গুলো খেতে হবে তাই এসগার্ড বাসি বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী
ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কি কি খেতে হবে এই বিষয়ে একটি তালিকা
উপস্থাপন করেছে।
ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেসব খাবারগুলো দেওয়া যেতে পারে
সেগুলোর মধ্যে তরল জাতীয় খাবার গুলো বেশি সরবরাহ করতে হবে। এক্ষেত্রে যেহেতু
আমরা জানি যে কোন রোগে আক্রান্ত বা অসুস্থ ব্যক্তিকে রোগাক্রান্ত অবস্থায় অধিক
পুষ্টি সম্পন্ন খাবার গুলো সরবরাহ করতে হয়। যাতে রোগের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রোগী আরোগ্য লাভ করে।
এখন যদি প্রশ্ন আসে যে ডেঙ্গু রোগীর জন্য বিশেষভাবে কি কি খাবার গুলো
উপকারী হতে পারে? তাহলে বলা যায় এগুলোর মধ্যে কতগুলো খাবার রয়েছে যা চিকিৎসক
উপদেশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু নিজে থেকে ব্যক্তিগতভাবে যদি ডেঙ্গু
রোগীর খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হয় তাহলে নিচের খাবারগুলো দেওয়া যেতে
পারে
ডাবের পানি এটি এমন একটি প্রাকৃতিক পানি যার মধ্যে ব্যাপক গুনাগুন রয়েছে।
ডাবের পানি এমন একটি তরল খাবার যা সব ধরনের রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য
আশীর্বাদস্বরূপ। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের শক্ত খাবার খেতে অসুবিধা
হয় এজন্য তরল খাবার গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুনাগুন সম্পন্ন তরল খাবার হচ্ছে
ডাবের পানি। ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বেশি বেশি ডাবের পানি সরবরাহ
করতে হবে। কারণ ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে 102 ডিগ্রি জ্বর থাকে। আর এই
সময় রোগীর ডিহাইড্রেশন সহ রোগের শরীরে প্রচুর পানি স্বল্পতা দেখা দেয়। আর
যেহেতু ডাবের পানির মধ্যে ইলেকট্রোলাইটর নামক বিশেষ উপাদান রয়েছে যা রোগীর
শরীরে পানি স্বল্পতা দূর করতে এবং শরীরকে বল বর্ধক করতে সাহায্য করে
কমলা এর একটি ভালো উৎস। কমলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। আর
আমরা জানি ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি
করে। শরীরে কোথাও কাটা ছেঁড়া বা সেলাই করা হলে চিকিৎসক প্রচুর
পরিমাণে ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।কারণ ভিট্মিন সি ঘা শুকানো সহ
শরিরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে।তাই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত
ব্যক্তিকে কমলা , মালটা বিভিন্য লেবুর রস খাওয়ানো উপকারী হবে।
ডালিম
হচ্ছে এমন একটি ফল যার রস মানব দেহে নতুন রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে। গবেষণায়
দেখা গেছে ডালিমের রস শরীরে গিয়ে সবচেয়ে দ্রুত রক্ত তৈরি করতে সাহায্য
করে। যদি এমন কোন খাবার নির্বাচন করতে হয় যেটা শরীরে দ্রুত রক্ত তৈরি করতে
সাহায্য করে সে খাবার গুলোর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান স্থানে রয়েছে ডালিমের রস।
বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেলস ও পুষ্টি সম্পন্ন একটি ফল হচ্ছে ডালিম।
ডালিম শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীরের সুস্থতা ফিরিয়ে
আনে এবং শরীরের ব্লাড সার্কুলেশন সচল রাখে। শরীরের নতুন রক্তের
সৃষ্টি হয় যা শরীরকে সতেজ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এ জন্য
ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ডালিম হতে পারেএকটি সার্ব্জনীন খাবার।
ব্রকলি সকল প্রকার শাক সবজির মধ্যে ব্রকলি এমন একটি সবজি যার মধ্যে রয়েছে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান। ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন কে রয়েছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রক্তে
প্লাটিলেট বৃদ্ধি করে এই ব্রকলি।তাই ডেঙ্গু রোগিকে ব্রকলি খাওার উপদেশ
দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানবো ডেঙ্গু ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোন টিকা বা ভ্যাকসিন নেই। সুতরাং ডেঙ্গু রোগের
প্রতিরোধ নির্ভর করে ডেঙ্গু পরিবাহী মশা নিয়ন্ত্রণ করা বা এই মশার কামড় থেকে
সুরক্ষা পাওয়ার উপর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে পাঁচটি মৌলিক বিষয়ের
উপরে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে একমুখী একটি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী চালু করার সুপারিশ করেছে
সেগুলো হচ্ছেঃ
- সামাজিক সক্রিয়তা ও জনস্বাস্থ্যমূলক সংগঠন সম্প্রদায় গুলিকে শক্তিশালী করে তুলতে আইন প্রণয়ন
- স্বাস্থ্য বিষয়ক ও অন্যান্য বিভিন্ন বিভাগসমূহের মধ্যে সহযোগিতা করা হোক সেটা সরকারি অথবা বেসরকারি
- সরকারি সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা
- যেকোনো কাজ যা সঠিক লক্ষে জনসাধারণের স্বার্থে হয় তা সুনিশ্চিত করতে দলিল ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
- স্থানীয় অবস্থায় যথেষ্ট সাড়া পাওয়ার জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্য
ডেঙ্গুর রোগ প্রতিরোধ করার প্রাথমিক পদ্ধতি হচ্ছে ডেঙ্গু রোগের উৎপত্তিস্থল
ধ্বংস করে ফেলা। সকল প্রকার আবদ্ধ জলে খালি করে ফেলা অথবা বাড়ির আশেপাশের ডোবা
গুলোতে কীটনাশক প্রয়োগ করা। এক্ষেত্রে যদিও স্প্রেয়িং উইথ
অর্গ্যানোফসফেট বা পাইরেথ্রেয়েড স্প্রে করাকে
খুব একটা লাভজনক হিসাবে ধরা হয় না।
সচেতন নাগরিক হিসেবে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে আমরা একটাই কাজ করতে পারি সেটা হল
বাড়ির আশেপাশের জঙ্গল এবং জমে থাকা আবদ্ধ জল নিঃসরণ করা ।এমন কোন ব্যবস্থা
রাখা যাবে না যেখান থেকে মশার উৎপত্তি ঘটে।
ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে জানবো। ডেঙ্গু রোগের কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের কোন নির্দিষ্ট
ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। ডেঙ্গু রোগের লক্ষণের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা
নির্ভর করে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম ঘরোয়া চিকিৎসার
মাধ্যমে এ রোগের অপসারণ ঘটানো যায়। এক্ষেত্রে রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম
নিতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে
পানি পান করতে হবে। শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পেলে অনেক সময়
রোগীকে মাথায় জল পট্টি দিতে হয় অথবা রোগীকে গোসল করাতে হয়।
ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবশ্যই ওষুধ সেবন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে
প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসা রোগীকে বিভিন্ন কোম্পানির
প্যারাসিটামল প্রেসক্রাইব করে থাকে। হ্যাঁ তবে এটি দীর্ঘ সময় খাবার
উপযোগী নয়। রোগীর অবস্থা উন্নতি না ঘটলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে
নিতে হবে।
ডেঙ্গু হলে কি গোসল করা যাবে
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু রোগ হলে গোসল করা যাবে কিনা সে সম্পর্কে জানবো অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে ডেঙ্গু জ্বর হলে গোসল করা যাবে কিনা? এই
প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন তথ্য সূত্র অনুযায়ী বলা যেতে পারে শরীরের
তাপমাত্রা অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেলে রোগীকে অবশ্যই গোসল করতে হবে।
এক্ষেত্রে রোগীর গোসল না করার ইচ্ছা থাকলে রোগীকে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর
মোছন করতে হবে। রোগের মাথা ধুয়ে দিতে হবে। রোগীকে জলপট্টি দিতে হবে। কারণ
শরীরের অধিকারের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে রোগের কমায় চলে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই রোগীর শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য এই পদক্ষেপ গুলো গ্রহণ করতে হবে।
ডেঙ্গু রোগের শ্রেণীবিভাগ
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু রোগের শ্রেণীবিভাগ সম্পর্কে জানবো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতামত অনুযায়ী ডেঙ্গু জ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা
হয়েছে। একটি হচ্ছে স্বাভাবিক পর্যায়ে জটিলতা বিহীন। অন্যটি হচ্ছে গুরুতর
পর্যায় অর্থাৎ প্রবল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯৭ সালে এই জ্বরকে দুই
শ্রেণীতে বিভক্ত করেছিল।.১৯৯৭ সালে ডেঙ্গু জ্বরকে দুই ধরনের জ্বর হিসেবে
আখ্যায়িত করা হয়।এর একটি হচ্ছে অবিচ্ছিন্ন জ্বর,আরেকটি হলো ডেঙ্গু হেমোরেজিক
ফিভার।
অবিচ্ছিন্নজ্বর-অবিচ্ছিন্ন জ্বরের ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা খুব একটা খারাপ পর্যায়ে যায়
না।রোগী আরোগ্য লাভ করে।অবিচ্ছিন্ন জ্বরে হচ্ছে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে তবে
জতিলতার প্রকাশ পায় নি।রোগীর সাধারন লক্ষণ গুলো প্রকাশ পেয়েছে যেমন জ্বরের সাথে
কিছু উপসর্গ অর্থাৎ মাথা ব্যাথা শরির ব্যাথা, বমি ভাব,খাওয়া অরুচি ইত্যাদি।
এক্ষেত্রে ভয়ের কনো কারন নায়।
ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার-এক্ষেত্রে ডেঙ্গু হেমরোজিক ফিভারকে আবার ৪ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
- সাধারণ জ্বরের কালশিটে বা টেস্ট ডেঙ্গু পজেটিভ
- এই পর্যায়ের রোগের ত্বক এবং শরিরের যেকোনো জায়গা থেকে রক্তপাত ঘটে
- ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত ডেঙ্গু শক ডেঙ্গু শক একটি মারাত্মক পর্যায়। এইসব এতটাই মারাত্মক পর্যায়ে হয় যার কারণে রোগীর রক্তচাপ এবং পালস শনাক্ত করা মুশকিল হয়ে পড়ে
- এটি হচ্ছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম নামে পরিচিত
ডেঙ্গু রোগের ইতিহাস
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু রোগের ইতিহাস সম্পর্কে জানবো। ডেঙ্গু জ্বরের ঘটনার প্রথম বিবরণ পাওয়া যায় (২৬৫-৪২০) খ্রিষ্টাব্দে চীনা একটি
মেডিকেল এনসাইক্লোপিডিয়ায়। যেখানে উড়ন্ত কীট পতঙ্গের সাথে সম্পর্কযুক্ত
জলীয় বিশ এর কথা বলা হয়। ১৭৭৯ ও .১৭৮০ তে ডেঙ্গু মহামারীর সবচেয়ে
নির্ভরযোগ্য বিবরণ প্রথমবারের মতো পাওয়া যায়। এ সময় মহামারীর কবলে পড়েছিল
এশিয়া আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকা। সেই সময় থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত অনিয়মিত
অবস্থায় এই মহামারি ছিল।
১৯০৬ সালের দিকে প্রথম এডিস ইজিপ্তাই মশার পরিবাহক সম্পর্কে সবার নিশ্চিত
ধারণা হয়। ১৯০৭ সালে ইয়োলো ফিভারের পরে এই ডেঙ্গু ভাইরাস ঘটিত রোগের
মধ্যে হয়ে ওঠে দ্বিতীয়।জোসেফ ফ্র্যাঙ্কলিন সিলার এবং
জন বার্টন ক্লেল্যান্ড পরবর্তীতে আরো গবেষণার মাধ্যমে ডেঙ্গু পরিবাহিতার মূল প্রতিপাদ্য
সম্পন্ন করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডেঙ্গুর লক্ষণীয় আকারে বিস্তার লাভ করতে থাকে।
এজন্য ডেঙ্গু ভাইরাস নিরোধকরণের জন্য পরিবেশগত ধ্বংসের কথা বলা হয়। ধীরে ধীরে
এ রোগের প্রবণতা এতই বেড়ে গেছিল যে নতুন নতুন এলাকায় এই রোগ বিস্তার লাভ করে
এবং ডেঙ্গু হেমিরোজিক ফিভারের উৎপত্তি দেখা যায়। ১৯৫৩ সালে
প্রথম ফিলিপাইনে এই ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহ পরিণামের বিবরণ পাওয়া যায়।
এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৭০ সালে প্রথম একটি শিশুর মৃত্যু হয় এবং আমেরিকার
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রাদুরভাব দেখা যায়। । ১৯৮১ সালের
মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরোজিক ফিভার ও ডেঙ্গু সক সিনড্রোম দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথম
পরিলক্ষিত হয়।
ডেঙ্গু শব্দের ইতিহাস
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু শব্দের ইতিহাস সম্পর্কে জানবো। ডেঙ্গু শব্দের উৎপত্তি নিয়ে পরিষ্কার কোন ধারনা পাওয়া যায়নি। তবে একটা মতবাদ
রয়েছে যে Swahili শব্দদবন্ধ
কা-ডিঙ্গা পেপো যার অর্থ হচ্ছে দুষ্টু আত্মার কারণে ঘটা অসুখ।সোয়াহিলি শব্দ
ডিঙ্গা শব্দটি সম্ভবত স্পেনীয় শব্দ। ডেঙ্গু শব্দের
অর্থ হচ্ছে খুঁতখুতে বা সাবধানীয়। যা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির
হাড়ের ব্যথায় ব্যক্তির চলনকে বর্ণনা করে। তবে বিভিন্ন তথ্য
সূত্রে যা দেওয়া আছে তা হল সম্ভবত কারণ এটাও হতে পারে যে এই স্পেনীয় শব্দের
ব্যবহার একই শব্দের উচ্চারণের শব্দ সোয়াহিলি শব্দ থেকে এসেছে।
ইতিহাসে পাওয়া যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রীতদাসদের মধ্যে যাদের ডেঙ্গু জ্বর
হতো তাদের চলনভঙ্গি ডান্ডি(নৌকা) মত হয়ে
যেত। যার কারনে সেই দেশটিতে এই রোগটি ডান্ডি জ্বর নামে পরিচিত
ছিল।বেঞ্জামিন রাশ জিনি একজন পদার্থবিদ ও
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।তিনি প্রথম
ব্রেক বোন ফিভার শব্দটি প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন.১৭৮০ সালে
ফিলাডেলফিয়ার একটি মহামারীর উপড় ১৭৮৯ সালের লিখিত একটি
রিপোর্টে।এই রিপোর্টে তিনি বিলিয়াস রেমিটিং ফিভার শব্দটি
ব্যবহার করেছিলেন।পরে ১৮২৮ এর পর থেকে ডেঙ্গু জর শব্দটির ব্যবহার শুরু
হয়।
অন্যান্য ঐতিহাসিক শব্দ গুলোর মধ্যে রয়েছে
ব্রেকহার্ট ফিভার, লা ডেঙ্গু ইত্যাদি।রোগের প্রবলতার শব্দাবলির মধ্যে রয়েছে ইনফেকচুয়াস থ্রম্বোসাইটোপেনিক পার্পারা
এবং ফিলিপাইন থাই বা সিঙ্গাপুর
হেমোরজিক ফিভার ।
ডেঙ্গু রোগের চলমান গবেষণা
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পোষ্টের এই ধাপে আমরা ডেঙ্গু রোগের চলমান গবেষণা সম্পর্কে জানবো। ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে এবং ডেঙ্গু রোগ নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের
প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে আছে এডিস ্মশার নিয়ন্ত্রণের নানান
ধরনের উপায় এবং ভ্যাকসিন এর উন্নতি ঘটানো এবং এন্টিভাইরাল ড্রাগ এর
উন্নতি। ভাইরাস পরিবাহক এর নিয়ন্ত্রণ এর ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া গেছে যেমন
বদ্ধ আবদ্ধ পানিতে গাপ্পি মাছের চাষ করে। যারা মশার লার্ভা খেয়ে
ফেলে।Wolbachia প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা মশাকে আক্রান্ত করে আংশিক রূপে ডেঙ্গু ভাইরাস
প্রতিরোধ করে তোলার চেষ্টা চলমান রয়েছে।
ডেঙ্গু ভ্যাকসিন এর উপর অনেক গুলি চলমান গবেষণা চলছে। এডিস মশার বিস্তার
নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের উন্নতির কাজ চলমান রয়েছে
এছাড়াও অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ এর উন্নয়নের প্রচেষ্টাও চলমান
রয়েছে যা ডেঙ্গু জ্বরের আক্রমণের চিকিৎসা এবং প্রবল জটিলতা প্রতিরোধে
ব্যবহার করা যাবে।
শেষ কথাঃ- পরিশেষে একটা কথা বলতে হয় যে ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এবং ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা এই পোষ্টে আমরা ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য পেয়ে গেছি। ডেঙ্গু এমন কোন রোগ
নয় যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। ডেঙ্গু একটি সাধারন রোগ
যা আমাদের দেশে প্রতিবছর হয়ে থাকে। ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা রয়েছে। এটি
একটি সাধারণ মশাবাহিত রোগ। যা ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমেও মুক্তি
পাওয়া যায়। হ্যাঁ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগ জটিলতার
সৃষ্টি করতে পারে। তবে সেটা সবার ক্ষেত্রে নয়।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url