গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি - বেকারত্ব কাটানোর উপাই

আসসালামু আলাইকুম!!গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি নিয়ে সবারই কমবেশি জানার আগ্রহ আছে।গাপ্পি সারা প্রিথিবিতে পাওয়া যায় এমন একটি রঙিন মাছ এটি।এ্যসগার্ডের পক্ষ থেকে গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা হবে।অশাধারন দেখতে মিষ্টি পানির এই মাছটি রঙিন মাছের জগতে অনেক বড় ভুমিকা রাখে।অশাধারন কালার কম্বিনেশনে গড়া সাতরঙা শরির নিয়ে সারা বিশ্বে এই মাছটির জনপ্রিয়োতা রয়েছে। আজকের এই পৌষ্টের মধ্যমে আমরা গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।
গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি - বেকারত্ব কাটাতে গাপ্পি চাষ
প্রিথিবিতে যত রঙিন মাছ রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম একটি মাছ হলো গাপ্পি মাছ ।এটা এমন একটি মাছ যা সারা বিশ্বে এর পরিচিতি ও চাহিদা রয়েছে। আকারে ছোট হয় এবং একসাথে অনেকগুলো বাচ্চা দেয়। মাছ চাষীদের কাছে অন্যতম পছন্দের একটি মাছ। 
এই মাছটি পালনে কনো ঝামেলা নেই বললেই চলে।খুব সহযেই এরা বংশবৃদ্ধি করে থাকে। ছট বড় যেকনো একোরিয়াম শুধু আলাদা আলাদা বেশ কয়েক জাতের গাপ্পি মাছ দিয়ে অশাধারন ভাবে সাজানো সম্ভব। একোরিয়াম প্রেমিকদের কাছে গাপ্পি মাছের জনপ্রিয়োতা অনেক।

এইজন্য আপনি যদি এই জনপ্রিয়ো মাছটি চাষ করে লাভবান হতে চান আপনার বেকারত্ব কাটাতে গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি হাতে কলমে শিখতে চান তাহলে এ্যাসগার্ড বাসি আজকের এই পৌষ্টটি আপনার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করেছে। তাই গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি শিখতে পুরো পোষ্টটি ধর্যসহকারে পড়ুন ধন্যবাদ।

পেইজ সূচিপত্রঃ-গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি - বেকারত্ব কাটাতে গাপ্পি চাষ

গাপ্পি মাছ পরিচিতি

গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি শিখার প্রথম ধাপে আমরা গাপ্পি মাছ সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে পরিচিত হয়ে নিবো। গাপ্পি মাছ ছোট শরীর অসাধারণ কালার কম্বিনেশন আর অসাধারণ সৌন্দর্যতা নিয়ে এই মাছটি সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত। মূলত রঙ্গিন মাছের জগতে গাপ্পে মাছ সারা পৃথিবীতে পরিচিত লাভ করেছে। বলা যায় সৌখিন মাছ হিসেবে ব্যবহৃত এই মাছটির আবির্ভাব ঘটে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকা থেকে।
ধারণা করা যায় গাপ্পি মাছ প্রায় 300 টির মত জাত রয়েছে এবং এদের প্রত্যেকটি এক একটি থেকে আলাদা। একেক জাতের গাপে মাছ একেক রকম দেখতে হয়ে থাকে। এক এক জাতের গাপ্পে মাছের লেজ পাখনা রং একেক রকম হয়ে থাকে। জাতের ভিন্নতা ও অপরূপ সৌন্দর্যতার জন্য এই মাছটি সারা পৃথিবীতে অনেক জনপ্রিয় একটি মাছ। এই মাছটি সাধারণত দুই বছর বাঁচে তবে বসবাসরত ঠিকঠাক জায়গা পেলে এরা তিন বছর পর্যন্ত বাঁচে।

গাপ্পি মাছের নামকরণ

ভেনেজুয়েলার জার্মান প্রকৃতিবিদ যার নাম হচ্ছে Wilhelm Peters তিনে ১৮৫৯ সালে এই গাপ্পি মাছকে poecilia reticulata নামে প্রথম তিনি অভিহিত করেন।পরে ১৮৬১ সালের দিকে  বার্বাডোসের ইতালিয়ান ডাক্তার ও প্রাণিবিজ্ঞানী Dr:(De filippi) এই গাপ্পি মাছকে Lebistes poecilioides এই নামে অভিহিত করেছিলেন।
এরপর জার্মানের এক ব্রিটিশ প্রাণিবিজ্ঞানী যিনি ইকথিয়োলজিস্ট এবং হারপিটোলোজিস্ট ছিলেন তার নাম হচ্ছে Albert Gunther তিনি গাপ্পি মাছকে ব্রিটিশ বংশভূত  প্রকৃতিবিদ জনাব Robert John Lechmere Guppy এর নামে অনুসারে Girardinus guppii নাম হিসেবে ঘষণা দিয়েছিলেন। কারণ হলো মূলত এই Robert John Lechmere Guppy এই মানুষটি ছিলেন  প্রথম ব্যাক্তি যিনি দক্ষিন আমেরিকার ত্রিনিদাদে সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেছিলেন।এবং এর নমুনা তিনি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্টরি মিউজিয়ামে পাঠিয়েছিলেন।পরবর্তিতে এই মাছটির বিভিন্য বৈজ্ঞানিক নামের পরিবর্তন ঘটলেও জনাব Albert Gunther এর দেয়া গাপ্পি নামটি এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে।

 গাপ্পি মাছের জাতসমূহ

গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতির এই ধাপে আমরা গাপ্পি মাছের কিছু জাতসমূহ সম্পর্কে অবগত হবো।উল্লেক্ষ্য যে সারা প্রিথিবিজুড়ে এই গাপ্পি মাছ প্রায় ৩০০ টির মত জাত পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। হ্যা তবে ক্রসব্রিডিং এর ফলে প্রতিনিয়তই এর জাত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে। আমাদের দেশে যে গাপিগুলো সবসময় পাওয়া যায় সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নিচে করা হলো-
 
১-ব্ল্যাকমসকো গাপ্পি  এই মাছটি দেখতে সম্পুর্ণ কালো বর্ণের হয়ে থাকে। তবে ফিমেল গুলোর শুধু লেজের অংশ কালো হয়।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে। এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এর বর্তমান বাজারমূল্য ১৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

২-এ্যালবিনো কই গাপ্পি এই মাছটির শরীর সাদা। মাথা এবং লেজের অংশ লাল হয়ে থাকে। এই মাছটির চোখ গুলো লাল হয়ে থাকে।বাজারে এই মাছটির ভালো চাহিদা রয়েছে।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এর বর্তমান বাজারমূল্য ২০০টাকা থেকে শুরু করে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৩-ডাম্বো মোজাইক গাপ্পি এই মাছটি বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচুর চাষ হচ্ছে। এই মাছটি নীলাভ শরীরের পুরো লেজ জুড়ে মোজাইক করা কালো বিন্দু রয়েছে।এর পাখনা দুটি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয় যা মাছটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে।এই মাছটি একোরিয়ামের সৈন্দর্যতা কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে।বর্তমানে এই মাছটি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৪-হোয়াইট প্লাটিনাম গাপ্পি এই মাছটি সম্পুর্ন সাদা রঙের হয়। এটি দামি গাপ্পি মাছগুলোর মধ্যে  একটি।আমাদের দেশে এই মাছটির চাহিদা অনেক। এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে। বর্তমানে এই মাছটির দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হতে পারে তবে এক জোড়া এ গ্রেডের কোয়ালিটিফুল হোয়াইট প্লাটিনাম ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৫-এ্যালবিনো ফুলরেড গাপ্পি  এই মাছটি অতি পরিচিত একটি মাছ।পুরো শরীর লাল বর্ণের এই মাছটি সহজেই সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়।এই মাছটি বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচুর চাষ হচ্ছে।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে। এই মাছটি আমাদের দেশে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

৬-ব্ল্যাক মেটাল গাপ্পি  এই মাছটির পুরো শরীর কালো শুধু পেটের কিছু অংশ মেটালিক সিল্ভার টাইপের হয়, যার জন্য একে ব্ল্যাক মেটাল গাপ্পি বলা হয়। এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে।আমাদের দেশে এই মাছটি চাহিদা রয়েছে।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৭-রেড মেটাল লেস গাপ্পি  এই মাছটি প্রায় ব্ল্যাক মেটাল গাপ্পি মাছের মতই দেখতে।কিন্তু এর শরীর লাল রঙের হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে।আমাদের দেশে এই মাছটি চাহিদা রয়েছে।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৮-রেড টেল প্লাটিনাম ডাম্বোইয়ার গাপ্পি গাপ্পি মাছের মধ্যে অন্নতম সুন্দর একটি মাছ। অসাধারণ কালার কম্বিনেশনের ফুলবডি প্লাটিনাম ব্লুইস্ট, লাল রঙের লেজ ও পাখনাযুক্ত শরিরে বিশাল দুইটি কানকো যা মাছটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলে ।একোরিয়ামে রাখলে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতোদেখাই এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে।আমাদের দেশে এই মাছটি ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।


৯-ব্লুগ্রাস গাপ্পি  এই মাছটির শরীর নীল রঙের এবং লেজের অংশ দেখেতে ঘাসের মত। এই মাছটি সারা বিশ্বে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।তবে সবাই এই মাছটি চাষ করে সফল হতে পারে না। এই মাছটির কালার কোয়ালিটি ধরে রাখা কঠিন।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

১০-টক্সিডো কই গাপ্পি  এই মাছটি দেখতে ইউনিক।কালো শরীরে্র মুখে ও লেজের অংশ লাল রঙের হয়ে থাকে।এই মাছটি সারা বিশ্বে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।তবে সবাই এই মাছটি চাষ করে সফল হতে পারে না। এই মাছটির কালার কোয়ালিটি ধরে রাখা কঠিন।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

১১-ভায়োলেট স্নেকস্কিন  এই মাছটিকে এই নাম দেয়ার কারণ হলো এই মাছটির গায়ে ডোরাকাটা বেশ নকশা দেখা যায়। এই মাছের শরীর বিভিন্য রঙের হয়ে থাকে তবে লেজের অংশ কালো হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই মাছটির দাম উঠানামা করে একেক সময় একেক দাম থাকে এই মাছটির।

১২-স্যান্টাক্লস গাপ্পি  এক সময়কার সারা বিশ্বে জনপ্রিয়োতা লাভ করা এই গাপ্পি মাছটি দেখতে অনেক সুন্দর।এই মাছটি দেখতে কিছুটা রেডটেল প্লাটিনামের মতই।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে এখনও চাহিদা সম্পন্ন একটি মাছ।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ২০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

১৩-ব্লু টপেজ গাপ্পি এই গাপ্পি মাছটি সারা বিশ্বে পরিচিত ও জনপ্রিয়ো একটি মাছ।যদি সবথেকে সুন্দর  ১০ টি গাপ্পি মাছকে লিপিবদ্ধ করা হয় তাহলে এই মাছটি তাদের মধ্যে একটি।অশাধারন সুন্দর দেখতে এই মাছটির  ফিনগুলো নীলাভ রঙের হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে এখনও চাহিদা সম্পন্ন একটি মাছ।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

১৪-ব্লু হেড সামুরাই এই মাছটির সম্পুর্ণ শরীর নীলাভ কালো এবং মাথার দিকে নীলচে রঙের হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে এখনও চাহিদা সম্পন্ন একটি মাছ।তবে সবাই এই মাছটি চাষ করতে পারে না কারণ এই মাছটির কালার কোয়ালিটি ধরে রাখা মুশকিল।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

১৫-কোবরা গাপ্পি এই মাছটি গাপ্পি মাছের মধ্যে অতি পরিচিত ও সাধারন একটি গাপ্পি মাছ। এই মাছটির  এমন কনো চাহিদা নেই।হ্যা তবে এই মাছটি দেখতে সুন্দর।ঠিকভাবে পালন করে কোয়ালিটিফুল করতে পারলে এই মাছটি একোরিয়ামে অনেক সুন্দর লাগে।অতি সাধারণ এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে। এই মাছটি আপনারা বাজারে ৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

১৬-রেড টক্সিডো গাপ্পি  মাছটির শরীরের অংশ ব্লু ব্ল্যাকের কম্বিনেশনে লেজের অংশ লাল রঙের হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে এখনও চাহিদা সম্পন্ন একটি মাছ।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে।বর্তমানে এর বাজারমূল্য ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

১৭-মিক্সড গাপ্পি  এই মিক্সড গাপ্পি মূলত এখানে হাজার রকমের বিভিন্য রঙের ও  বিভিন্য আকারের হয়ে থাকে।লোকাল ভাষায় একে  হাজারি গাপ্পি বলে অনেকে চিনে থাকে।মিক্সড গাপ্পি মাছের কনো জাত থাকে না।প্রতিটা আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। বলা যায় রঙধনুর সাত রঙের মত।এই মাছটি সবখানে পাওয়া যায়।খুব সাধারন গাপ্পি এটি।এই গাপ্পি গুলো ৫০ টাকা থেকে ২০ টাকা জোরা হয়ে থাকে।

১৮-হোয়াইট টক্সিডো গাপ্পি  এই মাছটি ব্লুইষ্ট শরীরের লেজ ও পাখনা গুলো পুরা সাদা হয়ে থাকে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে। এই মাছটি আমাদের দেশে  চাহিদা সম্পন্ন একটি মাছ। আমাদের দেশে প্রায় সবসময় পাওয়া যায় এই মাছটি। বাইরের দেশগুলোতে এই মাছটির দামের তারতম্য হতে পারে।তবে আমাদের দেশে এটি ৩৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

১৯-গ্রীন মস্কো গাপ্পি  এমন একটি মাছ সবাই চাষ করে থাকলেও এই মাছের কালার কোয়ালিটি সবাই ঠিকঠাকভাবে বজায় রাখতে পারে না।দেখতে অশাধারন একটি মাছ।পুরো শরীর সবুজ রঙের হয়ে থাকে।এটি একটি প্রিমিয়াম সেগমেন্টের মাছ। বর্তমানে এই মাছটির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।এই মাছটি আমাদের দেশে  চাহিদা সম্পন্ন একটি মাছ। যদি কালার কোয়ালিটি ঠিকঠাক থাকে তাহলে এই মাছটির দাম ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

২০-নিওন ব্লু গাপ্পি  এই মাছটির পুরো শরীর নীলাভ রঙের হয়ে থাকে।আমাদের দেশে প্রায় সবসময় পাওয়া যায় এই মাছটি। এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।এই মাছটি একসাথে ২০ থেকে ৩০ টি ও এর অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে। এই মাছটি আমাদের দেশে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

গাপ্পি মাছ চেনার উপায়

গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি শিখতে প্রথমেই গাপ্পি মাছকে খুব ভালোভাবে চিনতে হবে।গাপ্পি মাছ কেমন হয় কত রকমের হয় এগুলো আমরা ইতিপূর্বেই জেনেছি।এখন এই ধাপে আমরা গাপ্পি মাছ চেনার উপাই জানবো। গাপ্পি মাছ মূলত ছোট জাতের মাছ। এরা বড়জোর ১ ইঞ্চি থকে সর্বোচ্চ ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে।এই মাছের ছেলে ও মেয়ে চেনার উপায় খুব সহজ। 

আদিকাল থেকেই গাপ্পি মাছের ছেলে মাছ গুলোর লেজ পাখনা ওভার অল ফিন গুলো অনেক বেশি ও বড় হয়ে থাকে।ছেলে গাপ্পি মাছের পুরো শরীর রঙে আবৃত থাকে।পক্ষান্তরে মেয়ে গাপ্পি মাছের শুধু লেজের অংশে রঙ থাকে।আবার ছেলে গাপ্পি মেয়ে গাপ্পির তুলনায় ছোট হয়ে থাকে।মেয়ে গাপ্পি গুলো সাভাবিকের চেয়ে একটু বড় হয়।এরা অনেকটা ধূসর রঙের হয়ে থাকে।এদের লেজ পাখনা গুলও ছটো হয়।

 গাপ্পি চাষের জন্য স্থান প্রস্তুতকরণ

গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি শিখার জন্য স্থান প্রস্তুতকরণ একটি গুরুত্বপূর্ন ধাপ।এই ধাপে আমরা কিভাবে কোথাই কি রকম যায়গায় গাপ্পি মাছ চাষ করেত হয় সে সম্পর্কে জানবো। ইতিপূর্বেই আমরা গাপ্পি সমপর্কে বেশ ভালো ধারনা পেয়ে গেছি।এখন আসা যাক বেকারত্ব কাটাতে গাপ্পি চাষ এর যায়গা নির্ধারন সমপর্কে আলোচনায়।যেহুতু গাপ্পি এইকটি ক্ষুদ্র মাছ তাই এই গাপ্পি মাছ চাষাবাদের জন্য খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন পড়ে না। গাপ্পি চাষে মূলত ৫ ফিট লম্বা এবং ৩ ফিট চওড়া এবং .২ফিট উচ্চতা বিশিষ্ট হাউজ বা চৌবাচ্চা  দরকার পড়ে ।


 এখন কারো যদি হাউজ বা চৌবাচ্চা না থাকে তাহলে এই একই মাপে মাটিতে গর্ত করে তারপর হাউজ বানানো যাবে। এরকম সাইজের এক একটি হাউজে ২০০ থেকে ৫০০ পিচ মাছ পালন করা যাবে। যেহেতু এটা বাচ্চা এবং তার থেকে কিছু বড় মানে মাঝ বয়সের গাপ্পি মাছ রাখার জন্য একটা গড় হিসাব।তবে বড় গুলোর জন্য এর থেকে সামান্য বড় যায়গা নির্ধারন করলে ভালো হয়।এরকম ৫/৩ ফিটের হাউজেও বড় গুলো রাখা যাবে তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে সংখ্যায় যেনো অনেক বেশি না হয়ে যায়। 


এরকম ৫ফিট লম্বা ৩ ফিট চওড়া এবং ২ ফিট উচ্চতা বিশিষ্ট হাউজে বড় গাপ্পি রাখতে চাইলে ২০০ থেকে ৩০০ পিচ রাখলে ভালো হয়।কারণ অল্প যায়গায় বেশি মাছ ধারণ করলে পরে বিভিন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকে আবার গোলাকৃতির চারিতে গাপ্পি এবং এই টাইপের ছোট জাতের মাছ গুলো পালন করে থাকে।এক্ষেত্রে চারি গুলো মূলত খুব একটা বড় হয় না তাই এই চারিতে মাছ পালন ভালো হয় না। বড় পরিসরে মাছ চাষ করতে হলে আপনাকে হাউজ বানাতেই হবে বিকল্প কনো উপাই নাই। হ্যা তবে ছটখাটো ভাবে প্র্যাক্টিস করার জন্য এই চারি গুলো হতে পারে ভালো মাধ্যম।


বাজারে এই গোলাকৃতির চারি গুলো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পার পিচ পাওয়া যায়। এই চারি গুলো মাছের পোনা কিছুদিনের জন্য রাখার জন্য ব্যাবহার করা জেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে মাছের বাচ্চা বড় হওয়ার জন্য বড় যায়গার এবং বেশি পানির প্রয়োজন পড়ে। তাই চারি কিছু ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা গেলেও চারি ব্যাবসার ক্ষেত্রে চলবে না, আপনাকে হাউজ বা হাউজ আকৃতির যায়গাতেই মাছ চাষ করতে হবে।

গাপ্পি মাছের খাবার

গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি শিখতে হলে গাপ্পি মাছের খাবার সম্পর্কে খুব ভালোভাবে পরিচিত হতে হবে। গাপ্পি মাছের পছন্দের খাদ্য তালিকায়  রয়েছে মশার লার্ভা,লাল কেচো,মাইক্রো ওয়ার্ম, ব্লাড ওয়ার্ম,টাবিফ্লেক্স, ডাফনিয়া ব্রাইন শ্রিম্প ইত্যাদি।এই খাবার গুলো হলো মাছের লাইভ ফুড  অর্থাৎ মাছের জীবন্ত খাবার হিসেবে পরিচিত। প্রকৃতিতে থাকা অবস্থায় গাপ্পি মাছ বিভিন্য ছোটখাট পোকা মাকড় খেয়ে জীবন ধারন করে থাকে।তবে চাষাবাদ করার ক্ষেত্রে এদেরকে প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহ করা হয়।
প্যাকেট খাবারের মধ্যে অনেক রকম ভিন্যতা রয়েছে। একেকটা কম্পানির খাবারে মান ও দাম একেক রকম হয়ে থাকে। তবে মাছকে দ্রুত বৃদ্ধি করার জন্য লাইভ ফুডের বিকল্প কিছু হতে পারে না।যেকনো খাবারের পাশাপাশি মাছকে লাইভ ফুড দেওয়া জরুরি।মজার ব্যাপার হলো গাপ্পি এমন একটি মাছ এরা বেশ কয়েকটি সব্জি ও খেয়ে থাকে। এসবের মধ্যে রয়েছে আলু,মটরশুটি, পুঁইশাক পাতা, লেটুস পাতা, শসা, গাজর ইত্যাদি খেয়ে থাকে। এদের খাদ্য তালিকায় আরো রয়েছে মুরগির কলিজা, কাঁচা চিংড়ি , শুটকি চিংড়ি মাছের গুঁড়ো , ইত্যাদি।

গাপ্পি মাছের রোগসমূহ

যথাযথ ভাবে গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি শিখতে হলে গাপ্পি মাছের রোগসমূহ সম্পর্কে অনেক সতর্ক থাকতে হয়।রোগ  একুরিয়ামে পালনকৃত অন্যান্য যে কোন রঙ্গিন মাছের তুলনায় ঘাটে মাছ অনেক রোগ প্রতিরোধক হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় এদের লেজ ও পাখনা বড় হওয়ায় এরা বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার শিকার হতে পারে। 


এক্ষেত্রে মাছের রোগের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগ উল্লেখ্য রয়েছে যেমন-ছত্রাক জনিত রোগ , মাউথ ফাঙ্গাস, ড্রপ্সি,ইচ,লেজ-পাখনা পচা, ভেলভেট , ফাঙ্গাস, মাউথ ফাঙ্গাস, প্রোটোজোয়ান, টিউবারকলেসিস , পপড আই, ফুলকা ফুলে যাওয়া , ফুলকা পৌঁছে যাওয়া , রেড ব্লাড স্পট , পেট ফুলে যাওয়া , ভি এইচ সি রোগ , স্কুলেওসিস বা মেরুদন্ড বাকা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
আরো পড়ুনঃ গাপ্পি মাছের রোগের লক্ষণগুলো জানতে এখানে ক্লিক করুন।

গাপ্পি মাছের চিকিৎসা

গাপ্পে মাছ চাষ পদ্ধতি শিখতে হলে গাপ্পি মাছের রোগের চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কে খুব ভালোভাবে ধারণা থাকতে হবে। মাছ চাষের সবথেকে বড় সমস্যার বিষয় হল মাছের রোগ। যেহেতু রোগ প্রতিকার করার চেয়ে প্রতিরোধ করা ্ভালো। অনেক সময় রোগাক্রান্ত মাছকে বাঁচানোর দুঃসাধ্যকর ব্যাপার হয়ে ওঠে। মাছের রোগ হওয়ার পরে চিকিৎসা করার চেয়ে উত্তম হবে রোগ কিভাবে না হওয়ার ব্যাপার লক্ষ্য  করা যায়। তাই যে কোন মাছ চাষের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে মাছ যেন রোগাক্রান্ত না হয়ে পড়ে।  


এক্ষেত্রে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করে রাখতে হয়। যদিও গাপ্পি মাছ একটি রোগ প্রতিরোধক মাছ হিসেবে পরিচিত । এই এই মাছটি সহজ রোগ আক্রান্ত হয় না । তবুও কিছু ক্ষেত্রে এই মাছটিকে অনেক ধরনের রোগ আক্রমণ করে ফেলে । এক্ষেত্রে ্কিছু পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকলে এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই জন্য অবশ্যই আপনার হাউজের পরিবেশ অনুকূলে থাকতে হবে। 


যথাযথ স্থানে মাছ চাষ করতে হবে । নোংরাতে অন্ধকার জায়গায় মাছ চাষের কোন প্রশ্নই আসে না ।কারণ  পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় রোগ বালাই কম হয়ে থাকে।গাপ্পি মাছের রোগ ও চিকিৎসার বিষয়বস্তু মাথায় রেখে আমরা আরো পড়ুন অপশনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি । এ অপশনে গিয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নিন মাছের চিকিৎসা সম্পর্কে।

গাপ্পি মাছ বাজারজাতকরণ

গাপটি মাছ বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে তেমন একটা ঝামেলা পোহাতে হয় না। বর্তমানে মানুষের সৌখিনতা বাড়ছে। স্বপ্নের ঘরবাড়ি সাজাতে এবং অফিস সাজাতে সবাই একুরিয়ামের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এখন বেশিরভাগ বাড়িতে একটি অ্যাকোরিয়াম অবশ্যই চোখে পড়ে। বর্তমানে মানুষ রঙ্গিন মাছের দিকে ঝুঁকে পড়ায় রঙ্গিন মাছের ব্যাপক চাহিদা বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে চাষীরা বিভিন্ন একুরিয়ামের দোকানগুলোতে পাইকারি মাছ বিক্রি করে থাকেন।


বর্তমান সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে এই রঙ্গিন মাছ সারাদেশে কেনা বেচা চলছে। মানুষ ঘরে বসে থেকে অর্ডার করে আনিয়ে নিচ্ছে রঙ্গিন মাছ। অতএব চাষিরা অনলাইনের মাধ্যমে তাদের চাষকৃত মাছগুলো ক্রেতার কাছে ছে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে পারছে। রঙ্গিন মাছ বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে খুব একটা অসুবিধা বা ভোগান্তির শিকার হতে হয় না।


এক্ষেত্রে ক্রেতারা নিজেরাই খুঁজে নেয় রঙ্গিন মাছ বিক্রেতাদেরকে। অনেক সময় ক্রেতারা ফার্মে এসে দেখেশুনে মাছ কিনে নিয়ে যায় । মাছের কালার কোয়ালিটি মাছের গুণমান যদি ভালো হয়ে থাকে তাহলে এই রঙিন মাছ ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা ভালো মার্কেটপ্লেস ধরে রাখা যায় ।


উপসংহারঃ এ্যাসগার্ড বাসি আজকের এই পোস্টটি এমনভাবে সাজিয়েছে যেন যারা বেকারত্ব কাটাতে গাপ্পি মাছ চাষ করতে চাচ্ছে এবং যারা কিছুই জানে না এই ব্যাপারে এবং একদম নতুন শুরু থেকে শুরু করতে চাচ্ছে তাদের জন্য গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি পরিপূর্ণভাবে শেখানোর জন্য বিশেষভাবে আজকের এই পোস্ট সাজানো হয়েছে।

অনেকে আছে যারা নতুন কোন ধারণা ছাড়াই কোন পূর্ব প্রস্তুতি কোন জ্ঞান অর্জন ছাড়াই রঙিন মাছ চাষ শুরু করে দেন । এক্ষেত্রে অনেক ঝামেলা অনেক অসুবিধার শিকার হতে হয় । লাভের আশায় মাছ চাষ শুরু করে পরে লসের মুখ দেখতে হয় । কিভাবে লস না করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে গাপ্পি মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রপারলি ভাবে জানা যায় তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট যথাযথভাবে উপকৃত হতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়

comment url