রঙ্গিন মাছ চাষ পধতি - সল্প খরচে অধিক আয় করার উপায়
আজকের এই পোষ্টের মধ্যে আমরা রঙ্গিন মাছ চাষ পধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।এবং কিভাবে সল্প খরচে অধিক আয় করা যায় তা নিয়ে থাকছে আজকের এই পোষ্ট।ঘর সাজাতে বিভিন্য আকৃতির কাচের পাত্রে রাখা হয় বিদেশি রঙ্গিন মাছগুলো।
সখের বসে নতুবা সৌন্দর্যতা বৃদ্ধির জন্য মানুষ রঙ্গিন মাছ পালন করে থাকে। তবে সখ এখন শুধু
সৌখিনতার মধ্যে সীমাবদ্ধতা নাই। কিভাবে খুব সামান্য কিছু টাকা খরচ করে খুব অল্প
সময়ে এই রঙ্গিন মাছ চাষ পদ্ধতি শিখে লাভবান হাওয়া যাই তা নিয়ে আজকের এই পোষ্টের মধ্যে
বিস্তারিত আলোচনা করবো
জেহুতু আজকের এই পোষ্টটি রঙ্গিন মাছ চাষ পধতি সপম্পর্কে ও কিভাবে ঘরে বসে
সল্প খরচে অধিক আয় করা যাই সেই বিষয়ে যথাযথ আলোচনা করা হবে। তাই আপনি যদি চান
আপনার কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করতে চান অথবা আপনার বেকারত্ব কাটিয়ে সাবলম্বী
হতে চান তাহলে আজকের এই পোষ্টটি আপনার জন্য উপকৃত হতে পারে।
পেইজ সূচিপত্রঃ রঙ্গিন মাছ চাষ পধতি - সল্প খরচে অধিক আয়।
- রঙ্গিন মাছ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা
- বিভিন্য জাতের মাছের পরিচিতি
- মাছ চাষের জন্য স্থান প্রস্তুতকরণ
- চাষ করার জন্য মাছ নির্বাচন
- মাছের খাদ্য সম্পর্কে ধারনা
- মাছের রোগ নির্নয় ও করনীয়
- বাণিজ্যিক পর্যায়ে মাছ বাজারজাত করণ
১ রঙ্গিন মাছ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা
মানব জাতি স্রিষ্টির সেরা জীব। প্রিথিবীতে মানুষ তার সখের বসে অনেক কিছুই করে থাকে।উল্লেক্ষ্য যে মানুষের সখের শেষ নাই।বিভিন্য মানুষের বিভিন্ন্য সখ রয়েছে।কারো গাছ লাগানো পছন্দ,কারো পশুপাখি পছন্দ,কারো আবার বিড়াল পছন্দ তো কারো কুকুর ভালো লাগে।
মানুষের একটি অন্যতম পছন্দের জিনিস হলো রঙ্গিন মাছ।অনেকেই সখের বসে বাসাই ঘর সাজাতে এই রঙ্গিন মাছ পালন করে থাকে।এক্ষেত্রে মূলত একটা স্বচ্ছ কাচের পাত্র যা স্কয়ার আকারের হয়,আবার গোলাক্রিতিও হতে পারে যেটাকে আমরা একুয়েরিয়াম নামে চিনে থাকি।
মৎস্য জগতে এমন কিছু মাছ রয়েছে যেগুলো দেখতে অনেক সুন্দর হয়ে থাকে। এই মাছগুলো
মানুষ খাওার পরিবর্তে পালন করে থাকে।আমরা অনেক এরকম দোকান দেখতে পাই যেখানে
দেখা যায় ছোট বড় বিভিন্য সাইজের কাচের পাত্রে বিভিন্য রকম রঙ্গিন মাছ ঘুরে
বেড়চ্ছে। এগুলো হলো একুয়েরিয়ামের মাছ অথবা (একুয়েরিয়াম ফিশ) হিসেবে
পরিচিত।সৌখিন মানুষদের জন্য এই মাছগুলো এনে বাসায় রাখা অনেক পছন্দের
কাজ।
স্বছ কাচের জার অথবা বিভিন্য আকারের কাচের পাত্র যেগুলোকে আমরা একুয়েরিয়াম
নামে চিনি।এই পাত্রগুলোকে সুন্দর রং বেরঙ্গের লাইট দিয়ে সাজিয়ে এর মধ্যে কিছু রঙ্গিন মাছ ছেরে দিলে সেই পাত্রটি যেখানে রাখা হবে
সেখানকার সৌন্দর্যতা কয়েকগুন বেরে যাবে।আর এই জন্যই মূলত বাসার সৌন্দর্যতা
বৃদ্ধির জন্য এ রঙ্গিন মাছের বিকল্প নাই।
তো এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই রঙ্গিন মাছগুলো কথা থেকে আসে? এগুলোকি শুধুই বিদেশ
থেকে আনা হয় নাকি এগুলো নিজে থেকেও চাষ করা যাই, কিভাবে চাষ করতে হয়?কি জন্য
করবেন?করে লাভ কতটুকু? নাকি লস আছে? এই সকল বিষয়বস্তু আজকের এই পোষ্টের মধ্যে
বিস্তারিত আলোচনা ধাপে ধাপে বর্ননা করা হবে। যেনো আপনিও এই মাছ সম্পর্কে একদম
শুরু থেকে ধারণা নিয়ে নিজেই বাণিজ্যিক পর্যায়ে চাষবাদ করে লাভবান হতে
পারেন।
২বিভিন্য জাতের মাছের পরিচিতি
একুয়েরিয়ামের মাছের মধ্যে অনেক জাতের মাছ আছে। এগুলো একেক জাতের মাছের আকার
আকৃতি,সৌন্দর্যতা একেক রকম হয়ে থাকে।এদের দামের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে।এখানে
দ্বীতিয় ধাপে বিগেনারদের জন্য কোন মাছগুলো চাষাবাদের জন্য সহজ হবে এবং কোন
মাছগুলো নিয়ে কাজ শুরু করলে ব্যার্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম ও লাভবান হওার সম্ভাবনা
বেশি তা বিস্তারিত বর্ননা করা হবে।
- গোল্ডফিশ
- কৈকার্প ফিশ
- শার্ক ফিশ
- টেট্রা ফিশ
- গাপ্পি ফিশ
- মলি ফিশ
- বেট্টা ফিশ
- প্লাটি ফিশ
- প্যারট ফিশ
- জেব্রা ফিশ
- সৌর্ডটেল ফিশ
- এঞ্জেলফিশ
গোল্ডফিশ হচ্ছে একোরিয়ামে পালনকৃত সবথেকে বহুল প্রচলিত একটি মাছ। ঘরে একোরিয়াম
থাকলে গোল্ডফিশের প্রাধান্যতা সবার প্রথম স্থানে।এই মাছটি বিভিন্য সাইজের ও
কালারের হয়ে থাকে। গোল্ডফিশ মাছের অনেক জাত রয়েছে। বিভিন্য গোল্ডফিশের দাম
বিভিন্য রকম হতে পারে।দাম নির্ধারণ হয় মূলত এদের সাইজ ,কালার, কোয়ালিটি
দেখে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে। এখানে গোল্ড ফিশের সাথে
আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক
কৈকার্পফিশ এটিও রঙ্গিন মাছের মধ্যে বেশ ভালো চাহিদা সম্পন্ন একটি মাছ।এই মাছটি আকারে
বেশ বড় হয়ে থাকে।তবে ছোট সাইজের পাওয়া যায়।এই মাছটিও অনেক সুন্দর একটি মাছ।যাদের
ছোট একোরিয়াম রয়েছে তাদের জন্য ছোট সাইজের কৈকার্প মাছগুলো অনেক পছন্দের একটি
মাছ।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।কৈকার্পের কয়েকটা জাত রয়েছে,এর মধ্যে
বাটারফ্লাই জাতের কৈকার্প বেশ চাহিদা সম্পন্ন।কারণ সাধারণ কৈকার্পগুলোর থেকে
বাটারফ্লাই কৈকার্প দেখতে অনেক সুন্দর হয়। সাধারন কৈকার্প মাছগুলো বাটারফ্লাইয়ের
তুলনায় কম দামে পাওা যায়। চলুন আপনাদেরকে কিছু বাটারফ্লাই কৈকার্পের সাথে পরিচয়
করিয়ে দেওয়া যাক
শার্ক ফিশ একোরিয়ামের আরো একটি মাছ।এটি খুব সাধারণ একটি মাছ। একে শার্কফিশ নাম
দেওয়ার কারণ হলো এই মাছটি হুবহু সমুদ্রে থাকা বড় বড় হাঙ্গর মাছের মতো
দেখায়।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে। এই মাছটিও বেশ বড় আকারের হয়ে
থাকে।কিন্তু ছোট সাইজেরও পাওয়া যায়। এই মাছটি আমাদের দেশে দুই রকম পাওয়া
যায়।মূলত একই মাছ কালার ভিন্য হওয়ার কারণে দুটি নামে চিনা যাই।এদের মধ্যে যেটা
কালো কালারের হয় সেটাকে ব্ল্যাক শার্ক বলে,আর সাদা রঙ্গেরটাকে হোয়াইট শার্ক বলে
চিনে থাকে সবাই। এখানে শার্কফিশের ছবি দেওয়া হলো
টেট্রাফিশ মূলত
প্লান্টেড একোরিয়ামের মাছ।প্লান্টেড একোরিয়াম বলা হয় সেইসব একোরিয়ামকে যেই
একোরিয়াম গুলো জিবন্ত গাছ দ্বারা সাজানো থাকে। প্লান্টেড একোরিয়ামের জন্য অতি ছোট
জাতের কিছু মাছের জনপ্রিয়োতা আছে। একশ্রেণীর মাছ আছে জেগুলো বড় হয় না।এরা দের
থেকে দুই ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এর বেসি বড় হয় না।এই টাইপের মাছের মধ্যে একটি
হলো টেট্রা।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।টেট্রা মাছের অনেক জাত রয়েছে
সবগুলই ছোট হয়,কিন্তু এদের রঙ, রুপ আকার আকৃতি ভিন্য হয়ে থাকে।যেমন নিওন
টেট্রা,গ্লোয়িং টেট্র ইত্যাদি।নিচে আপনাদের সাথে টেট্রা মাছের পরিচয় করিয়ে দেওয়া
যাক-
মলি ফিশ একোরিয়ামের
মাছের মধ্যে মলি মাছের গুরুত্ব আছে। এই মলি মাছটিও গাপ্পি মাছের মতই ছোট সাইজের
হয়।এরাও বাচ্চা দেয়,কিন্তু গাপ্পির তুলনায় কম বাচ্চা দেয়।এরা একসাথে ১৫ থেকে ২০
টা বা তার অধিক বাচ্চা দিয়ে থাকে। এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে।নিচে
কিছু মলি মাছের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক-
প্লাটিফিশ অটোব্রিডের মাছগুলোর মধ্যে আরও একটি মাছ হলো প্লাটি মাছ। এটিও গাপ্পি,
মলি, সেইম ক্যাটাগরির মাছ।এই মাছেরো সবকিছু সেইম।বিগেনারদের জন্য গাপ্পি মলির
পাশাপাশি প্লাটি নিয়েও কাজ করা উচিত।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে
থাকে। এই মাছটিরও বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে।নিচে আপনাদের সাথে কিছু প্লাটি মাছের
পরিচয় করিয়ে দেয়া যাক-

বেট্টাফিশ হচ্ছে একোরিয়াম জগতের সবথেকে দামি মাছ। বলা যায় সবথেকে সুন্দর মাছ
এটি। এর আরো একটি নাম রয়েছে ,লোকাল ভাষায় অনেকে একে ফাইটার ফিশ বলে
চিনে।এই মাছটি আমাদের দেশে চাষ করা হয়ে থাকে । এই বিশেষ নামটি দেওয়ার কারন রয়েছে। এই মাছটি মূলত খুব এগ্রেসিভ হয়ে
থাকে।দেখতে অশাধারন সুন্দর এই মাছটি একোরিয়ামে একটার বেশি রাখা যায় না।কারণ এই
মাছটি একজন আরেকজনের সামনা সামনি এসে পড়লে মারামারি করে ততক্ষন যতক্ষন না
প্রতিদন্দি মারা যায়। নিচে ফাইটার মাছের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া
যাক-

৩-মাছ চাষের জন্য স্থান প্রস্তুতকরণ
সর্বপ্রথম কথা হচ্ছে এই পোষ্টটি একদম বিগেনারদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। যারা
এই সম্পর্কে কিছুই জানে না এবং কনো ধারনাই নেই তারা যেনো নির্ভুল ভাবে
একদম শুরু থেকে শুরু করতে পারে আজকের এই পোষ্টটি তাদের জন্যই।
মাছ চাষের জন্য আপনাকে যে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় গুলো মাথাই রাখতে হবে তার মধ্যে
চাষের যাইগার ব্যেপারে বিষেশ সতর্ক থাকতে হবে।কোন যাইগাই কতটুকু যায়গায় কি কি
মাছ চাষ করা যাবে জানার জন্য শেষ পর্যন্ত পরুন।
রঙ্গিন মাছ চাষ করার জন্য বড় পরিসরে কনো পুকুর খনন করতে হয় না, কনো বিশাল
জায়গাজমির প্রয়োজন পরে না।অগভির অল্প জায়গার মধ্যেই এই সকল মাছগুলো চাষাবাদ
করা যায়।যেমন চাষের যায়গা হতে হবে এমন যেখানে কড়া তাপমাত্রার রৌদ্র যেনো
লম্বা সময় না থাকে। আবার একেবারে ছায়া অথবা আধার স্যাতস্যেতে যায়গাও নির্বাচন
করা যাবে না।
সুতারাং এমন একটা যায়গা বেছে নিতে হবে যেখানে দিনের আলো বাতাস
খুব ভালো ভাবে পড়ে। সূর্যের আলো যেনো পর্যাপ্ত পরিমানে পরে, না বেশি না কম।
কারণ সুর্যের আলো পানিতে বিভিন্য প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হতে সাহায্য করে যা
মাছের জন্য অনেক উপকারী।হ্যা তবে যদি এমন হয় যে সূর্যের প্রখর তাপ বেশ লম্বা
সময় ধরে একি যায়গায় পড়ে তাহলে এরকম যায়গা নির্বাচন করা যাবে কিন্তু তাপ
কমানোর জন্য ছায়ার ব্যাবস্থা করতে হবে।নইলে অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে পানি গরম
হয়ে জেতে পারে আর পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে গেলে মাছ মারা পড়তে পারে।
কারণ এই রঙ্গিন মাছগুলো অনেক লাজুক হয়ে থাকে।যদি কনো ব্যাপারে ডিসব্যালেন্স
হয়ে যায় তাহলে এরা মারা পড়তে পারে।এরপরের ধাপ হলো আপনি কি পরিমানে বা কেমন
পরিসরে চাষ করতে চাচ্ছেন? বিগেনারদের মতে শুরুতেই একেবারে বড় পরিসরে সেটাপ না
করে মাঝারি আকারে শুরু করা ভালো।
যেমন ৫ ফিট লম্বা ৫ ফিট চওড়া এরকম ১০ টি
হাউজ বানাতে পারেন।আর যদি হাউজ বনানোর মতো যায়গা আছে কিন্তু সামর্থ না থাকে
তাহলে ওন্তত ২ ফিট গভীর এবং ৫ ফিট লম্বা ৩ ফিট চওড়া করে হাউজ আকৃতির মাপে
মাটি কেটে নিতে হবে।তারপর পলিথিন কিনে গর্তগুলোকে মুড়ে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে
অনেক কম খরচের মধ্যেই হাউজ তৈরি করে ফেলা জাবে।
আর সামর্থ থাকলে ইট সিমেন্ট
বালি দিয়ে মজবুত করেও অনেকে হাউজ প্রস্তুত করে থাকে।আর একটা বিষয় হলো
আপনার যায়গা অনুযায়ী আপনি হাউজ নির্মান করতে পারেন বড় অথবা ছট। এক্ষেত্র কনো
ধরা বাধা নিয়ম নাই। তবে ৩/৫ ফিটের চেয়ে ছোট না হয়।নইলে আপনার মাছ চাষের বিঘ্ন
ঘটতে পারে। কারন মাছের বৃদ্ধির জন্য বেশি পানি আর জথেষ্ট যায়গার প্রয়োজন
পড়ে।
৪- চাষ করার জন্য মাছ নির্বাচন
বিগেনারদের জন্য পরামর্শ হবে যে উপরের বর্ণণাকৃত মাছগুলর মধ্যে যে মাছগুলো খুব
সহজেই চাষ করা যায় এমন কিছু মাছ নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে।এদের মধ্যে বেশ কিছু মাছ
আছে যেগুলো অটোব্রিড প্রকৃতির মাছ।এখন অটোব্রিড টা কি? অটোব্রিড হচ্ছে যে মাছগুলো
নর-মাদি অর্থাৎ মেল ফিমেল একসাথে রাখলে অটোম্যাটিক বাচ্চা দেয়।এরকম মাছের
ক্ষেত্রে এক্সট্রা কনো ঝামেলা পোহাতে হয় না।
যারা মাছ পালন শুরু করতে চায় তাদের জন্য অল্পতেই লাভবান হওয়ার জন্য গাপ্পি মাছের
বিকল্প নেই।এই মাছটি চাষের জন্য খু অল্প পরিমান যায়গার প্রয়োজন হয়।এরা একসাথে
৪০থেকে ৫০ টি বাচ্চা দিয়ে থাকে।বাচ্চার জন্য কনো আলাদা ঝামেলা পোহাতে হয় না। কনো
এক্সট্রা কেয়ার করা লাগে না।ঠিকমত খাবার আর প্রয়োজনমত যায়গা দিতে পারলে এদের ভালো
ফলন হয়ে থাকে। গাপ্পি মাছের জন্য মাত্র ৩ ফিট চওড়া ৫ ফিট লম্বা আর ২ ফিট গভীর
আকারের যেকোনো কিছুতে গাপ্পি পালনে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
এই মাছটিও গাপ্পি মাছের মতই বায়োকালারের হয়ে থাকে।বিগেনারদের জন্য গাপ্পি মাছের
সাথে সাথে মলি মাছ নিয়েও কাজ শুরু করা উচিত। এই মাছটিও একটি লাভজনক মাছ। এই
মাছটিও গাপ্পি মাছের মতই ঠিক একই পদ্ধতিতে চাষ করতে হয়।
অটোব্রিডের মাছগুলোর মধ্যে আরও একটি মাছ হলো প্লাটি মাছ। এটিও গাপ্পি, মলি,
সেইম ক্যাটাগরির মাছ।এই মাছেরো সবকিছু সেইম।বিগেনারদের জন্য গাপ্পি মলির
পাশাপাশি প্লাটি নিয়েও কাজ করা উচিত। এই মাছটিরও বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে।একোরিয়ামের সৌন্দর্য বর্ধনে প্লাটি মাছের বেশ ভালো চাহিদা
রয়েছে।
বেট্টাফিশ হচ্ছে একোরিয়াম জগতের সবথেকে দামি মাছ। বলা যায় সবথেকে সুন্দর মাছ
এটি।এর আরো একটি নাম রয়েছে ,লোকাল ভাষায় অনেকে একে ফাইটার ফিশ বলে চিনে। এই
বিশেষ নামটি দেওয়ার কারন রয়েছে। এই মাছটি মূলত খুব এগ্রেসিভ হয়ে থাকে।দেখতে
অশাধারন সুন্দর এই মাছটি একোরিয়ামে একটার বেশি রাখা যায় না।কারণ এই মাছটি
একজন আরেকজনের সামনা সামনি এসে পড়লে মারামারি করে ততক্ষন যতক্ষন না
প্রতিদন্দি মারা যায়।
যদিও এই মাছটির একটি বড় বদনাম হলো এই যে মাছটি একটার বেশি দুইটা রাখা যায়
না।নইলে হয় একটা মরবে অন্যথায় দুইটাই মারা পরবে।তবুও এই মাছটি জনপ্রিয়োতার
শীর্ষে রয়েছ নিজের অশাধারন রুপ রঙ সৌন্দর্যতার তুলনায়।বেট্টা ফিশ অনেক কম
পানিতেও অগভীর যায়গায় বেচে থাকতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো এই মাছটি উৎপাদন করার উপাই কি??? সবথেকে দামি ও চাহিদা সম্পন্ন এই মাছটি চাষ করার উপাই দেখতে
এখানে ক্লিক করুন
৫-মাছের খাদ্য সম্পর্কে ধারণা
মাছ চাষের জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় মাথাই রেখে কার্য পরিচালনা করতে হয়। আর
এসবের মধ্যে গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে মাছের খাবারের প্রতি বিষেশ সতর্কতা
অবলম্বন।কারণ মাছ চাষ করে লাভবান হতে হলে দরকার ভালো ফলন,আর ভালো ফলন তখনি
হবে যখন মাছ পর্যাপ্ত পরিমান ভালো খাবার পাবে।
আমাদের দেশে যে সকল রঙ্গিন মাছ চাষ হয়ে থাকে সেসব মাছগুলোকে ছোট হোক
বা বড় সব মাছকে প্রায় একই খাবার সরবরাহ করা হয়। রঙ্গিন মাছের জন্য বিষেশভাবে
কিছু প্যাকেটজাত অর্গানিক খাবার তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হয়। এক্ষেত্রে
বিভিন্য কম্পানির খাবারের বিভিন্য নাম হতে পারে।তবে শুধু তৈরিকৃত খাবারি নয় এসব বিদেশি মাছকে কিছু লাইভ ফুড অর্থাৎ জিবন্ত
খাবারও খাওানো হয়ে থাকে।
নিচে কিছু প্যাকেটজাত খাবারের নমুনা দেওয়া হচ্ছে
উপরের প্যাকেট খাবার গুলো বাজারে যেকোনো একোরিয়ামের দোকানে আপনি পেয়ে
যাবেন। হ্যা তবে দামের মধ্যে তারতম্য থাকতে পারে।এসব প্যাকেট খাবারের পাশাপাশি
মাছকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে প্রয়োজন পরে কিছু লাইভ ফুডের, অর্থাৎ জিবন্ত খাবারের।
এখানে আপনাদেরকে কিছু জিবন্ত খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক-
উপরের চিত্রে দেখানো কিছু জিবন্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে
ডাফনিয়া,ব্লাডওয়ার্ম,মসকিটোলার্ভা,
মাইক্রোওয়ার্ম ইত্যাদি। বলে রাখা ভালো রঙ্গিন মাছ চাষ করার জন্য লাইভ ফুডের
বিকল্প কনোকিছুই হতে পারে না।মাছকে দ্রুত বৃদ্ধি করে, মাছের কালার কোয়ালিটি
ভালো করে, মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।তাই পরিশেষে বলা যায় যে মাছের
জন্য লাইভ ফুড অত্যান্ত প্রয়োজনীয় একটি খাবার।
৬-মাছের রোগ নির্নয় ও করণীয়
রঙ্গিন মাছ চাষ করতে হলে মাছের রোগ নির্নয় ও রোগ হলে কী কী করণীয় সে সম্পর্কে
খুব ভালোভাবে অবগত থাকতে হবে।এসব মাছের বিভিন্য রোগ হয়ে থাকে।সচরাচর যে রোগ
গুলো দেখা যায় সেগুলো চেনার উপায় ও প্রতিকারের উপাই দেওয়া হলো যেমন-
- মাছের লেজ ও পাখনা পচা রোগ
- মাছের ট্যাংকে বা হাউজে ভাইরাসের আক্রমন
- মাছের শরিরে উকুনের আক্রমন
- মাছের পেট ফুলে মারা যাওয়া
- হাউজের পানি নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি
মাছের লেজ ও পাখনা পচা রোগ
মাছের লেজ ও পাখনাপচা এমন একটি রোগ যা সাধারনত যেকনো সময়ে হয়ে থাকে।এই রোগ হলে
মাছের লেজ,পাখনা গুটিয়ে যায়।মাছ চুপসে যায় এবং মাছের লেজ পাখনা পচে যায় এবং
শরির থেকে খসে খসে পরতে থাকে।এটি মূলত এক ধরনের ছত্রাকের আক্রমন।যেহুতু এই
মাছগুলো ছোট জাতের মাছ, আর অপরদিকে এই ছত্রাকটি একটি শক্তিশালী ছত্রাক।একবার
কনো মাছের শরিরে ধরলে খুব অল্পসময়ের মধ্যে যেমন ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে মাছ মারা
যাবে এবং সেই একটী মাছ থেকে পুরা হাউজে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পরবে।
এখন করণীয় হলো যদি আপনার হাউজে এরকম কনো মাছ দেখা যাচ্ছে তাহলে সাথে
সাথে সেই মাছটিকে আলাদা করে ফেলতে হবে।তার পর আলাদা মাছটিকে কিছু
ট্রিট্মেন্ট করতে হবে।এক্ষেত্রে এই রকম পরিস্থিতিতে দেরি হয়ে গেলে মাছ বাচানো
সম্ভব হয় না। তবুও যদি বেশি দেরি না অল্পতেই রোগ ধরা পরে যায় তাহলে কিছু
পদক্ষেপ আবলম্বন করে বাচানো যায়।
যেমন বাজারে (মিথাইলিন ব্লু) নামের এক ধরনের
ঔষধ পাওয়া যায়।এই ঔষধের সাথে অল্প লবন দিয়ে একত্রে মিশিয়ে একটি পাত্রে সেই
আক্রান্ত মাছটিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ছাড়তে হবে।তারপর আবার উঠিয়ে নিয়ে সাধারন
পানিতে রাখতে হবে।এভাবে দেখতে হবে যতদিন মাছ একেবারে সুস্থ না হয়ে যাচ্ছে ততদিন
এই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।আর পুরো হাউজে মিথাইলিন ব্লু ব্যাবহার করতে হবে।
মাছের ট্যাংকে বা হাউজে ভাইরাসের আক্রমন
মাছের ট্যাংকে ভাইরাসের আক্রমন হলে পানির জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে
যেমন পানিতে পর্যাপ্ত পরিমানে চুন প্রয়োগ করতে হবে, চুন প্রয়োগ করার ক্ষেত্র
খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।কারন এক্ষেত্রে সামান্য ভুলের কারনে পুরো হাউজের
মাছ মারা যেতে পারে।
চুনে ক্ষারত্বের মাত্রা অনেক।।তাই চুন প্রয়োগ করার সময় খুব সাবধান থাকতে
হবে।প্রথমে হাউজের সব মাছকে উঠিয়ে অন্যত্র রাখতে হবে তারপর হাউজে চুন প্রয়োগ
করতে হবে। এভাবে চুন দিয়ে কমপক্ষে এক থেকে দুই দিন রাখতে হবে।তারপরে
পুনরায় মাছ ছারতে হবে।আর এভাবেই হাউজে যেকনো রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
মাছের শরিরে উকুনের আক্রমন
মাছের শরিরে উকুনের প্রভাব খুব একটা দেখা যায় না।তবুও মাছের একটি কমন সমস্যা এই
উকুন। এটি একটি পরজীবী আক্রমন।এক্ষেত্রে হাউজের পানিতে বিভিন্য ক্যামিক্যাল ঔষধ
পাওয়া যায় সেগুলো ব্যাবহার করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
মাছের পেট ফুলে মারা যাওয়া
মাছের পেট ফুলে মাছ মারা যাওয়া এই সমস্যাটি প্রায়োসই দেখা যায়।এক্ষেত্রে কিছু
বোঝা যায় না।সব কিছু ঠিক থাকলেও দেখা যায় মাছের পেট ফুলে যাচ্ছে এবং মারা
যাচ্ছে। এমত অবস্থায় বুঝে নিতে হবে যে পানি যেকনো কারনে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি
কনো কারনে গ্যাস হয়ে গেলে মাছের এই সমস্যাটি দেখা যায়।এক্ষেত্রে পানি পরিষ্কার
করার জন্য অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে একে একে হাউজের সব মাছ মারা যেতে
পারে। এই সমস্যাটি হলে দেখতে হবে হাউজের পানিতে কনোভাবে বিষ্ক্রিয়া সৃষ্টি
হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ি ব্যাবস্থা নিতে হবে।প্রয়োজনে পুরো হাউজের পানি
বদলে ফেলতে হবে।
হাউজের পানি নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি
হাউজের পানি বিভিন্য কারণে নষ্ট হতে পারে কারণে অকারণে।সেক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে
হাউজ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলা। পুরনো পানি ফেলে দিয়ে হাউজ ভালোভাবে ক্লিন
করে পুনরায় নতুন করে হাউজ সেটাপ করতে হবে।
৭-বাণিজ্যিক পর্যায়ে মাছ বাজারজাত করণ
বাণিজ্যিক পর্যায়ে মাছ বাজারজাত করণ বলতে বোঝানো হয়েছে আপনার চাষকৃত মাছগুলো কথায় কিভাবে বিক্রয় করবেন। যেহুতু আমাদের দেশে রঙ্গিন মাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে তাই এই মাছগুলো বিক্রিয় করার জন্য খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হয় না।আমাদের দেশে এরকম অনেক একোরিয়ামের দোকান দেখা যায় এই দোকান গুলোতে পাইকারি হিসেবে বিক্রয় করতে পারেন।আবার আপনি নিজেই ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দার করাতে পারেন। অনলাইনের মাধ্যমেও এই মাছ সারাদেশে বিক্রয় করা যায়।
উপসংহারঃ পরিষেশে আমাদের শেষ কথা হছে আজকের এই পোষ্টটি এমন ভাবে সাজানো হয়েছে
যেনো কেও যদি অবসর সময়ে রঙ্গিন মাছ চাষ পদ্ধতি শিখতে চায় তাহলে এই পোষ্টের
মাধ্যমে প্রতিটা বিষয় ধাপে ধাপে শিখতে পারবে।শখের বশে হোক আর বেকারত্ব কাটাতে
হোক না কেনো সল্প খরচে অধিক আয় করার বেশ ভালো একটা উপায় হতে পারে এটি।
পোষ্ট পড়ে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়
comment url